রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১১ পি.এম
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে ৩৬ ঘণ্টার একটি অভিযানে কৌশলগত বন্দরনগরী মোচা এবং বাব আল-মানদাব প্রণালির প্রবেশমুখের পরিম দ্বীপ দখল করেছে ইরান-সমর্থিত হুতিরা। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তা ও সামরিক পরামর্শ থাকা সত্ত্বেও ইয়েমেনি বাহিনীর প্রতিরক্ষা ভেঙে পড়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দিতে ১০০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক পরামর্শক কাজ করছিলেন। একই সময়ে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা হুতিদের বড় ধরনের হামলার বিষয়ে বারবার সতর্ক করে আসছিলেন।
মার্কিন সহায়তা বন্ধ ও দ্বীপ দখল
বৃহস্পতিবার সকালে মোচা অভিমুখে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে হুতিরা। ইয়েমেনি সামরিক সূত্রের বরাতে গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্রের সহায়তায় দফায় দফায় যোদ্ধা পাঠায় হুতিরা।
যখন পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তখন ইয়েমেনি সামরিক সূত্রটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেন্টকম তাদের জানায়, ওয়াশিংটন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সৌদি বিমান সহায়তা আসছে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই বিমান সহায়তা আর আসেনি।
এরপর মোচা দখলের পরদিন পরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয় হুতি বাহিনী। এই দ্বীপটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি লোহিত সাগরের বাব আল-মানদাব প্রণালিকে দুটি নৌপথে ভাগ করেছে এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্যিক করিডরের কাছাকাছি অবস্থিত।
মার্কিন সহায়তার অনুরোধ সৌদির
এক প্রতিবেদনে সিএনএন জানাচ্ছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দুবার কথা বলে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন হামলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প এতে সম্মতি দেননি।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতাসহ যুক্তরাষ্ট্রের মূল জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় ওয়াশিংটন কাজ করছে এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।
শতাধিক মার্কিন উপদেষ্টা নিয়োগ
এর আগে সৌদি আরবে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানে গোয়েন্দা ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তার জন্য ১০০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক পরামর্শক পাঠানোর তথ্য প্রকাশ হয়েছিল।
সব মিলিয়ে এ প্রচেষ্টার সঙ্গে প্রায় ২০০ মার্কিন সামরিক সদস্য যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত সমন্বয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও।
দুর্বল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ফাঁকি
তবে সিএনএন বলছে, শুধু গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরামর্শক দিয়ে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। ইয়েমেনি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাও এতে ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিবেদনে পশ্চিমা সূত্রের দাবি, বাহিনীর তালিকায় এমন অনেক ‘ভুয়া’ সদস্যের নাম ছিল, যারা বেতন পেলেও যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে কাগজে থাকা জনবলের মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ বাস্তবে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
এ ছাড়া হুতিবিরোধী বাহিনীগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য ও একক কমান্ড কাঠামোর অভাবও বড় দুর্বলতা হিসেবে উঠে এসেছে।
১৮ ঘণ্টায় লোহিত সাগর উপকূল হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। পরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের জন্য বাব আল-মানদাব প্রণালিতে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা তৈরি করেছে। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই নৌপথটি ইরান যুদ্ধের মধ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে কিছু তেল রপ্তানি লোহিত সাগরমুখী হওয়ায় ওই নৌপথে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের অগ্রযাত্রা এখানেই থেমে নাও যেতে পারে। স্যাটেলাইট ছবি ও উন্মুক্ত গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, হুতি বাহিনী আরও পূর্বদিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেশের ৩৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসকরা এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন, যেখানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্থানীয় সরকার গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলের রেখে যাওয়া দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আপনাদের সক্রিয় এবং সজাগ থেকে কাজ করতে হবে।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি তাদের আশ্বস্ত করে জানান, এই সরকার জনগণের সরকার, সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, সরকার ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন, যারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘকাল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন।
এছাড়া, জেলা পরিষদগুলোর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রতিষ্ঠায় হযরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার (র.) অবদানকে অনস্বীকার্য বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, "নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন এই রেনেসাঁপুরুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার কাছে অশেষ ঋণে আবদ্ধ।"
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘হযরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)-এর শিক্ষা ও অধ্যাত্মচেতনার সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা’। এ সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউট।
উপাচার্য আরও বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে বাঙালি মুসলমানের জাগরণের পর্বে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা রেনেসাঁপুরুষ হিসেবে আবির্ভূত হন। ব্রিটিশ-ভারতে তিনি প্রথম ভারতীয় আইসিএস অফিসার ছিলেন, শিক্ষা বিভাগের একমাত্র ভারতীয় সহকারী পরিচালক এবং বাংলা একাডেমির প্রথম ফেলো।
বঙ্গীয় মুসলিম রেনেসাঁয় তার অবদানের কথা স্মরণ করে উপাচার্য বলেন, "বৃহৎ বাংলার মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আধুনিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার ভূমিকা ছিল উত্তর ভারতের স্যার সৈয়দ আহমদ খানের মতোই।" স্যার সৈয়দ আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যে ভূমিকা রেখেছিলেন, ঠিক তেমনি পূর্ব বাংলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার খসড়া বিলের স্পেশাল কমিটির সদস্য হিসেবে বিরোধীদের যুক্তি খণ্ডন করে আহ্ছানউল্লা অনুরূপ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
সমাজ সংস্কার ও শিক্ষায় অনন্য অবদানের জন্য খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লাকে ‘বাংলার স্যার সৈয়দ’ হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন উপাচার্য।
ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুমিত আল রশিদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি এইচ এম মাহফুজুল হক, ইউনাইটেড গ্রুপের উপদেষ্টা আলহাজ্জ আতাউর মাহমুদ রানা এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. একরাম হোসেন। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন নর্থ আমেরিকান মুসলিম অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট এবং আমেরিকার স্ট্যামফোর্ড রাহমাতুল্লিল আলামীন জামে মসজিদের খতিব শাইখ মুহাম্মদ সাইফুল আজম আজহারী।
নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ ডা. মো. নজরুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সেমিনারে আরো আলোচনায় অংশ নেন ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল হাদী এবং খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এমএফএম এনামুল হক। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ফারসি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুস সবুর খান।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার রচিত ‘খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার চিন্তন ও রচনায় ফারসি ভাব-দর্শনের প্রভাব’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পদ্মায় পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে নাটোরের লালপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ চর এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। অনেক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিপদ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত করিম জানান, রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির স্তর ১৩ দশমিক ০৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমানে লালপুরে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নতুন করে পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে উজানের ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে পদ্মায় পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে উপজেলার ঈশ্বরদী, লালপুর ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি চর এবং নদী তীরবর্তী নিচু এলাকা দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে। নদীর পানি বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, গবাদি পশুর খাদ্য সংকটের কারণে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক এই পানি বৃদ্ধির ফলে চরের প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৩৫ হেক্টর আখক্ষেত, সাত হেক্টর সবজি এবং ৬০ হেক্টর ফলের বাগান। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ১৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
শনিবার সরজমিনে পদ্মার চর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ফসলি জমিগুলো সম্পূর্ণরূপে পানিতে ডুবে গেছে। বাঁশের মাচা বা খুঁটি দিয়ে আগলে রাখা সবজি ক্ষেতগুলোর শুধু ওপরের অংশ পানির ওপর জেগে আছে। অনেক স্থানে নতুন রোপণ করা মূলা ও বেগুন গাছও পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা নৌকা বা ভেলায় করে তাদের ডুবে যাওয়া ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন, তবে পানির তীব্রতায় এটি প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পানির বৃদ্ধির সাথে সাথে নদীভাঙনও তীব্র হয়েছে। উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নওসারা সুলতানপুরে পদ্মার চরের প্রায় ৫০টি বসতঘর এবং বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের দিয়ারশংকরপুর চরের কৃষক মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘হঠাৎ অস্বাভাবিক পানিবৃদ্ধিতে আমার দুই বিঘা জমির মূলা ও বেগুন পুরোপুরি পানির নিচে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আমার আরো চার বিঘার মূলা ও বেগুন ক্ষেত তলিয়ে যাবে।’
ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কাইগিমারি চরের মহিষের খামারি খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপদে আছি। বন্যার পানিতে চরের জমি ডুবে গেছে, কোথাও ঘাস নেই। মহিষকে এখন শুধু শুকনো খড় আর পানি খাওয়াচ্ছি।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, ‘চর এলাকা পরিদর্শন করেছি। পদ্মায় পানিবৃদ্ধির কারণে চর এলাকার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি কমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।’
এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবীর হোসেন জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদ্মার পানিবৃদ্ধি এবং চরের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিলমাড়িয়ার নওসারা সুলতানপুর চরে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারের মধ্যে ৩০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবি বর্তমানে সাত দফায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই দাবিগুলো নিয়ে তারা আবারও লংমার্চের আয়োজন করছে; তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জোটের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এসব তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জমায়েত হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর লংমার্চ শুরু হবে। পথে পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লংমার্চ গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা হয়ে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে গিয়ে শেষ হবে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ছয় দফা দাবি এখন সাত দফায় রূপান্তরিত হয়েছে। দেশে দুর্নীতি প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে চলছে এবং দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই কারণে নতুন করে এ দাবি যুক্ত করা হয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়ক আরও বলেন, সরকার বিভিন্ন সংকটের ক্ষেত্রে যেভাবে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে, তা জাতির কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ছয় মাস সরকারের জন্য খুব বেশি সময় নয়, কিন্তু বিকল্প পরিকল্পনা ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে অপেক্ষা করার সুযোগও বেশি নেই।
তিনি আরও জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর ইতোমধ্যে ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ে জনগণের দাবি, জনস্বার্থ, জনগণের অধিকার, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ১১ দলীয় ঐক্য ভূমিকা পালন করে আসছে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম ছিল গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন। জুলাই আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি ও চেতনা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার ও বিচারের যে দাবি উঠেছিল, সংসদে ১১ দলের প্রতিনিধিরা শুরু থেকেই সে বিষয়ে ভূমিকা রেখে আসছেন। সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে জনগণের মতামত জানতে গণভোট হয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে। জনগণের এই রায় সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে।
গ্যাস সংকটের বিষয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রায় ১২০০ বেকারি বন্ধ হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর এসেছে। বিজিএমইএ সভাপতির সঙ্গেও তারা দেখা করেছেন। গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানা চালানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পও এর প্রভাবের মধ্যে পড়ছে। অর্ডার বাতিল হয়ে গেলে তা পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যেতে পারে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নেজামে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জাগপার প্রধান মুখপাত্র ও সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, এবি পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিডিপির মহাসচিব নাঈম নিজামুদ্দিন নাঈম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এসএম ইউসুফ আলীসহ বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ