শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১৩ পি.এম
১৯৬৫ সালের এক শনিবারের দুপুর। বিলেতের বিখ্যাত কেমব্রিজ শহরের একটি পরিচিত গ্রিক রেস্তোরাঁ ‘ভার্সিটি’ ছিল সোনিয়ার পছন্দের জায়গা। আঠারো বছর বয়সী ইতালীয় তরুণী সোনিয়া সেখানে নিজের পছন্দের খাবার খেতে গিয়েছিলেন। নতুন দেশে এসে তার মনটা বেশ খারাপ ছিল। কিন্তু তিনি কখনো ভাবেননি, সেই সাধারণ শনিবারের দুপুরটি তার জীবনকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দেবে!
যখন সোনিয়া খাবার খাওয়ার জন্য রেস্তোরাঁর দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই রেস্তোরাঁর ১১ নম্বর টেবিলে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন তরুণ রাজীব গান্ধী। সোনিয়া যখন পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেন, রাজীবের বন্ধুদের আড্ডা যেন নিমেষেই থেমে গেল। রাজীব তো প্রথম দেখাতেই একেবারে মুগ্ধ হয়ে গেলেন! তিনি কোনো কথা না বলে একটি কাগজের নেপকিন আর কলম তুলে নিয়ে সোনিয়ার জন্য কবিতা লিখতে শুরু করলেন।
এরপর রাজীব রেস্তোরাঁর মালিককে ডেকে পাঠালেন সেরা ওয়াইনের বোতল আনতে। রাজীবের অনুরোধে রেস্তোরাঁর মালিক নিজে গিয়ে সোনিয়ার টেবিলে সেই ওয়াইন এবং কবিতা লেখা নেপকিনটি পৌঁছে দিলেন।
সোনিয়া এবং রাজীব—দুজনেই প্রথম দেখাতেই একে অপরের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন। সোনিয়া পরে তার এক বইয়ে লিখেছেন, "খুব কাছ থেকে আমাদের চোখ যখন প্রথম মুখোমুখি হলো, আমি নিজের বুকের ধুকপুকানি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিলাম। আমাদের দুজনের জন্যই সেটা ছিল প্রথম দেখাতেই প্রেম।"
এর পরের দিনগুলো তাদের জন্য বেশ আনন্দময় ছিল। পুরনো একটি গাড়িতে ঘুরে বেড়ানো, নদীতে নৌকা চালানো এবং সিনেমা দেখতে যাওয়া—সব মিলিয়ে দুর্দান্ত এক সময় কাটছিল তাদের।
তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, প্রেমে পড়ার পরও সোনিয়া জানতেন না যে রাজীব ভারতের এত বড় রাজনৈতিক পরিবারের ছেলে! কিছুদিন পর এক বন্ধু ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেখালে সোনিয়া প্রথম বুঝতে পারেন, তার মনের মানুষটি আসলে ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান।
সূত্র: নিউজ ১৮
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন মন্তব্য করেছেন, রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠন, পরিবর্তন, টেকসই গণতন্ত্র ও উন্নয়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সকলের আন্তরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বের বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার সেই স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে অনাহুত বিরোধিতা না করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সহযোগিতা করার জন্য।
আজ শনিবার কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মুগারচর কেরামত আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবীণ শিক্ষক মো. রোকনুজ্জামানের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খন্দকার মারুফ বলেছেন, বিপর্যস্ত ও ধ্বংসাত্মক অবস্থা থেকে প্রতিবারই রাষ্ট্রকে উত্তরণ ঘটিয়েছে বিএনপি সরকার। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার দেশে টেকসই উন্নয়ন, আইনের শাসন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। অন্যদিকে, আরেকটি দল বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাক স্বাধীনতা হরণ, মানবাধিকার ভুলুন্ঠিত ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনার রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তুপের উপর দাঁড়িয়ে সুস্থ ধারার রাজনীতি, টেকসই উন্নয়ন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরন্তর কাজ করছেন।
সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান এমপি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের হাতেগড়া মেঘনার বিভিন্ন উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে প্রধান অতিথি ড. খন্দকার মারুফ বলেন, ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মেঘনা উপজেলার উন্নয়নে কোনো কাজই করেনি। নদীবেষ্টিত এই উপজেলাবাসীর জীবনমান উন্নয়নে আমরা বিরামহীন কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ, পর্যায়ক্রমে জনগণের সকল মৌলিক চাহিদা পূরণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে বর্তমান সরকার অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। বিএনপিতে অপরাধীর কোনো স্থান হবে না। দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্থ ও নতুন ধারার রাজনীতিকে জনগণ বিপুল সমর্থন জানাচ্ছে। দেশকে এগিয়ে নিতে প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর সূচিত সুস্থ ধারার উন্নয়নের রাজনীতি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যার পরও আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সাধ মিটেনি, তাদের অপতৎপরতা থেমে নেই। বর্তমানে বিদেশে বসে ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগসহ নানা সহিংসতার মাধ্যমে দেশে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অশান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে।
তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও সহিংস কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় একসাথে কাজ করার জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সীট দখল, অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শনী ও রাহাজানি হয় না। লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন হয়। বিএনপি সরকার সব পাবলিক পরীক্ষা নকলমুক্ত করে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিহাস গড়েছে।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার শিক্ষাঙ্গণে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং ঢালাওভাবে পাশের হার বাড়িয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমূলে ধ্বংস করেছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মেঘনা উপজেলা বিএনপি নেতা মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনী, এস.এম সালাহউদ্দিন সরকার, এম.এম মিজানুর রহমান, প্রফেসর শহীদ উল্লাহ, আবু ইউসুব নয়ন, দিলারা শিরীন এবং যুবদল নেতা আতাউর রহমান চেয়ারম্যান প্রমুখ।
বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মারুফ হোসেন মেঘনা উপজেলার রাধানগর এলাকার রাস্তা পাকাকরণের লক্ষ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং রাস্তার বর্তমান অবস্থা ও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কাজের খোঁজখবর নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি দেশের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যানবাহন ও পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে রাস্তার দুই পাশে এবং অনিরাপদ ও নির্জন স্থানে গাড়ি পার্কিং না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ঢাকাসহ সারাদেশে চলাচলকারী সকল ধরনের যানবাহন ও পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, "যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতিসাধন বা ভাঙচুর এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।" তিনি আরও জানান, কোনো অবস্থাতেই পরিবহনগুলো রাস্তার দুই পাশে অথবা অনিরাপদ ও নির্জন স্থানে পার্কিং করা যাবে না।
এছাড়া, যানবাহনের দৈনিক চলাচল শেষে বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ ডিপো, নির্ধারিত গ্যারেজ অথবা টার্মিনালে নিরাপদে রাখার জন্য দেশের সকল স্তরের মালিক ও শ্রমিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, যানবাহনের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌসুমের প্রথম মাদ্রিদ ডার্বিতে রোববার রাতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও রিয়াল মাদ্রিদ। লা লিগায় এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুসের বিপরীতে ডেভিড-লুকম্যানদের লড়াইয়ে উত্তাপ ছড়াবে।
রিয়ালের বিপক্ষে ঘরের মাঠে শেষ চার ডার্বির তিনটিতে জয়লাভ করেছে অ্যাটলেটিকো। বিশেষ করে রিয়াল সোসিয়েদাদ ও ওসাসুনার বিপক্ষে টানা দুই জয়ের পর তারা আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে, রিয়াল তিন ম্যাচ জিতে গেলেও এখনও সেরা সমন্বয় খুঁজে পেতে সংগ্রাম করছে।
অ্যাটলেটিকোর আক্রমণে বড় ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে জুভেন্টাস থেকে আসা জোনাথন ডেভিডকে। কানাডিয়ান ফরোয়ার্ড ওসাসুনার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন। তাঁর সঙ্গে শুরুতে থাকতে পারেন আদেমোলা লুকম্যান। আক্রমণভাগে আরও উপস্থিত থাকবেন আলেক্স বায়েনা ও লি কাং-ইন। ছয় ম্যাচে অ্যাটলেটিকো ১৪ গোল করেছে।
রিয়ালের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি ফরোয়ার্ড ছয় লিগ ম্যাচে সাত গোল করেছেন। সৃজনশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন আরদা গুলের, যিনি দলের অন্য খেলোয়াড়দের তুলনায় বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও আক্রমণে বড় অস্ত্র হিসেবে কাজ করছেন।
দুই দলের রক্ষণেও কিছু বড় প্রশ্ন রয়েছে। অ্যাটলেটিকোর জুলিয়ান আলভারেজের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। চোটের কারণে পাবলো বারিওস ও আলেক্সান্ডার সোরলথও থাকছেন না। রিয়ালের রদ্রিগো দীর্ঘমেয়াদি চোটে বাইরে। ফারলঁ মঁদি ও এদের মিলিতাও দলের বাইরে থাকছেন।
রোববারের এই ডার্বিতে দুই দলের লড়াইয়ের কেন্দ্রে থাকবে আক্রমণভাগের তারকারা—এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস ও গুলেরের বিপরীতে ডেভিড, লুকম্যান ও লি কাং-ইন।
ম্যাচটি শুরু হবে আগামীকাল (রোববার) রাত ৮ টা ১৫ মিনিটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান জনগণের অর্থের অপচয় বন্ধ করে উন্নয়ন প্রকল্পে কম ব্যয়ে সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি এলজিইডির প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ১০ কোটি টাকার কাজকে সাত থেকে আট কোটি টাকার মধ্যে সম্পন্ন করার চেষ্টা করতে হবে। প্রকল্পের যথাযথ পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনের মিলনায়তনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের সম্পদের রক্ষক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জনগণ যে দায়িত্ব দিয়েছে, তার অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। দেশের সম্পদ সীমিত, তাই প্রয়োজন ও সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় করে উন্নয়নকাজ করতে হবে। প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করার সময় জনগণের প্রয়োজন ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, পরিকল্পনার চেয়ে বাস্তবায়ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাস্তবায়ন না হলে কাগজে-কলমে যত কিছুই লেখা হোক না কেন, কোনো ফল পাওয়া যাবে না।’ সভায় উঠে আসা বিষয়গুলো নোট করে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, যেন তারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সেগুলো বাস্তবায়ন করেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনপদের উন্নয়নের চাবিকাঠি এলজিইডির প্রায় পাঁচ হাজার ৬০০ কর্মকর্তার হাতে রয়েছে। তবে, চাবি হাতে থাকলেই হবে না, সেটি সঠিক দিকে ঘোরাতে হবে। সঠিক সিদ্ধান্ত দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, অন্যথায় ভুল সিদ্ধান্ত উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করবে।
কর্মকর্তাদের কাজে প্রেরণার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের সেবা করার জন্য কাজ করছেন—এ বিশ্বাস থাকলে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হবে। দেশের কোটি কোটি মানুষ এখনো কষ্টে আছে। তাদের কথা এবং দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সকলকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এলজিইডি ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রায় ৩৫ বছর আগে খালেদা জিয়া এলজিইডির গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন। ওই সময় নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ফলে দেশের গ্রামীণ অবকাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।
ড. আবদুল মঈন খান আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমানে নেওয়া উন্নয়ন পরিকল্পনার সুফল আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর দেশের মানুষ পাবে। তিনি সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৃণমূলের মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গ্রামের ছয় থেকে নয় ফুট প্রশস্ত ছোট সড়ক নির্মাণে ইটের পরিবর্তে ইউনি ব্লক ও সিসি ব্লক ব্যবহারের নির্দেশনা দেন। উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এবং হাটবাজার উন্নয়ন তহবিলের আওতায় নির্মিত ছোট সড়কের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে চিঠি দিতে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। পাশাপাশি কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার করায় জমির উর্বরতা ও উৎপাদনক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বিবেচনায় ইটের ব্যবহার কমিয়ে ইউনি ব্লক, সিসি ব্লক ও পাথরের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
ভারী যানবাহন চলাচলকারী সড়কে ইউনি ব্লক ব্যবহারের আগে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের সড়কে প্রয়োজন অনুযায়ী পাথর ঢালাই, আরসিসি অথবা কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।
নদীতীরবর্তী ও বন্যাপ্রবণ সড়কের মাটি ক্ষয় রোধে ‘বিন্না ঘাস’ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, যেসব সড়কে পানির ঢেউ অথবা বন্যার পানিতে মাটি ক্ষয়ের আশঙ্কা রয়েছে, সেসব স্থানে এই ঘাস ব্যবহার করতে হবে। তবে সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি থাকায় সব জায়গায় ব্যাপকভাবে বিন্না ঘাস ব্যবহার করা যাবে না।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোরও নির্দেশ দেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও হাটবাজারে সৌর প্যানেল স্থাপন করতে হবে। নিজস্ব চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা গেলে বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় বাড়বে।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এক ঘণ্টার ব্যাকআপসহ ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ লাখ ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা ব্যয় হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি কমপ্লেক্সের জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও নেট মিটারিংয়ের সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডির চলমান প্রকল্পগুলোর প্রকল্প পরিচালক এবং ৫০৩ উপজেলার প্রকৌশলীরা সভায় অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ