০৩:৫২ পি.এম
ইংলিশ চ্যানেলে ব্রিটিশ নৌবাহিনী একটি নিষিদ্ধ জাহাজ আটক করেছে, যা রাশিয়ার। তেলবাহী ওই জাহাজটি রাশিয়ার ‘ভূতুড়ে’ জাহাজগুলোর একটি বলে ব্রিটেনের দাবি। ইউরোপীয় দেশগুলো এই ধরনের পতাকাবিহীন জাহাজগুলোকে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বলে অভিহিত করে। তেমনই গত ১৪ জুন ‘এমভি স্মিরটোস’ নামে একটি তেলবাহী নিষিদ্ধ রুশ জাহাজ আটক করা হয় ব্রিটেনের পক্ষ থেকে। ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন ছিলেন একজন ভারতীয়, যিকে ব্রিটিশ বাহিনীও আটক করেছে।
আটককৃত ভারতীয় ওই ক্যাপ্টেনের নাম অজয় পান্থ, যিনি ভারতের উত্তরাখণ্ডের নৈনিতালের বাসিন্দা। তাকে ১৬ জুন ব্রিটিশ আদালতে পেশ করা হয়েছে। পান্থের বিরুদ্ধে নিয়মবিরুদ্ধভাবে রুশ তেলের সরবরাহের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া, ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তাদের জলসীমায় প্রবেশ করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
আদালতে পান্থের আইনজীবী জেমস ডায়মন্ড বলেছেন, ‘‘পান্থ শুধু নির্দেশ অনুসরণ করে কাজ করেছেন। এখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি তার হাতে ছিল না। জাহাজের ক্যাপ্টেন হিসেবে তিনি একজন কর্মী মাত্র। মালিকপক্ষের নির্দেশ পালন করতে গিয়ে এখন তিনি বিপদে পড়েছেন।’’ জানা গেছে, এই ধরনের অপরাধের জন্য ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে ওই ভারতীয় ক্যাপ্টেনের।
আরও পড়ুন: জামায়াতের উদ্বেগ, সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার লাশ উদ্ধারে শাস্তির দাবি
এদিকে, অজয় পান্থের পরিবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তার ফিরে আসার জন্য আবেদন করেছে। পরিবার দাবি করেছে, তাকে যাতে সুরক্ষিত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
উত্তরাখণ্ডের স্বরাষ্ট্রসচিব শৈলেশ বাগাউলি জানিয়েছেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে উল্লেখ করা হয়েছে। তার কথায়, ‘‘পান্থকে নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’’
এছাড়া, ব্রিটেনে ভারতীয় হাইকমিশনকে পান্থের সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তেলবাহী ওই জাহাজে ২৪ জন নাবিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ভারত এবং জর্জিয়ার নাগরিকও রয়েছে।
পান্থের স্ত্রী ঋতু জানিয়েছেন, স্বামীর গ্রেফতারির খবর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জানেন। এরপর থেকেই গোটা পরিবার গভীর দুশ্চিন্তার মধ্যে কাটাচ্ছে।
আরও পড়ুন: পাঞ্জাবে শিখ-হিন্দু-মুসলিমের সহযোগিতায় মসজিদ পুনর্নির্মাণ
ঋতুর কথায়, ‘‘পান্থ ১৫ বছর ধরে এই কাজ করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে কখনও কোনও অভিযোগ ওঠেনি। তিনি শুধুমাত্র নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেছেন। এখানে তার দোষ কোথায়?’’
প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য, এমভি স্মিরটোস জাহাজটিকে ২০২৫ সালে নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ব্রিটেন। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, এটি রাশিয়ার নিষিদ্ধ জাহাজগুলোর মধ্যে একটি। নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর জন্য রাশিয়া এই ধরনের ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ করছে। এ রকম ৭০০টি ‘ভূতুড়ে জাহাজ’ রয়েছে রাশিয়ার, যাদের মাধ্যমে ৭৫ শতাংশ তেল গোপনে মস্কো সরবরাহ করছে। আর এভাবেই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে অর্থ জোগাচ্ছে তারা। সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন