ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২ বাংলাদেশির একজন বগুড়ার শাহেদ


সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২ বাংলাদেশির একজন বগুড়ার শাহেদ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির একজন হলেন মো. শাহেদ আহম্মেদ (৩৬)। শাহেদের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে অবস্থিত। তিনি গত চার বছর ধরে সৌদি আরবে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি ছুটি কাটিয়ে সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার পর তিনি এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শাহেদ প্রায় এক মাস আগে দুই মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। ছুটি শেষ হওয়ার আগেই কাজের প্রয়োজনে গত ৯ অক্টোবর সৌদি আরবে ফিরে যান তিনি। শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেলে স্ত্রী কোহিনুর আক্তার কাকলীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার পর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের আর যোগাযোগ হয়নি। বারবার ফোন করেও সাড়া না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনেরা।

এরপর ১১ অক্টোবর সাংবাদিকদের মাধ্যমে শাহেদের মৃত্যুর খবর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন। খবর পাওয়ার পর শাজাহানপুর উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৪, পুলিশের জিম্মায় গাড়ি

শাহেদের বাবা রফিকুল ইসলাম এবং মা ছাহেরা বেগম। তার বাবা প্রায় ৪০ বছর ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। দুই মাস আগে তার মা-ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে গেছেন। শাহেদের স্ত্রী কাকলী ও তাদের দুই সন্তান বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন।

বগুড়া পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুহুল কুদ্দুস ডিলু বলেন, শাহেদের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, সৌদি আরবে যাওয়ার পর শনিবার বিকেল থেকে শাহেদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান বলেন, নিহত শাহেদ আহম্মেদের বাড়ি উপজেলার মাদলা গ্রামে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানও তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

ইউএনও আরো জানান, শাহেদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মিশন কাজ করছে।

আরও পড়ুন: পাঁচ শিক্ষকেই ৫ শত ৫০ শিক্ষার্থীর পাঠদান, শিক্ষক সংকটে ভুগছে ভাণ্ডারিয়ার একমাত্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিপাইনের কাছে ৩-০ গোলে হেরে বাংলাদেশের মেয়েদের বিদায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৩ পি.এম


ফিলিপাইনের কাছে ৩-০ গোলে হেরে বাংলাদেশের মেয়েদের বিদায়

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে বাংলাদেশ ফিলিপাইনকে ৭২ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারা আর পারল না। ৩-০ গোলে পরাজিত হয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিল।

ম্যাচের ২৩ মিনিটে গোলকিপার মেঘলা রানি রায় বাংলাদেশকে রক্ষা করেন। ফিলিপাইনের কাছের পোস্টের দিকে আসা একটি শট তিনি ফেরান। পাঁচ মিনিট পর আরিনা সোফিয়ার শট দূরের পোস্টের কাছে গিয়ে বেরিয়ে যায়।

হাইড্রেশন ব্রেকের পর বাংলাদেশের খেলার গতি কিছুটা ফিরে আসে। দলটি বলের নিয়ন্ত্রণে মনোযোগী হয়ে ওঠে। ৪৩ মিনিটে সতীর্থের ক্রসে মৌসুমীর হেড পোস্টের অল্প একটু বাইরে দিয়ে চলে যায়। এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণ।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দুর্ভাগ্য বাংলাদেশকে আঘাত করে। বক্সের বাইরে থেকে আলপি আক্তারের বাঁ পায়ের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে হতাশা দেখা দেয়।

বাংলাদেশের প্রতিরোধ ৭৩ মিনিটে ভেঙে যায়। বাঁ দিক থেকে আসা ক্রসটি পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি এক ডিফেন্ডার। ফলে বলটি গিয়ে পড়ে মায়া রোজ বাসকারার পায়ে। তিনি দ্রুত শটে গোল করেন।

শেষ দিকে নোয়েল্লে গ্রানজার দুটি গোল করেন। ৯০ মিনিটে বক্সের ভেতরে ডান দিক থেকে কোনাকুনি শটে গোল করেন এবং যোগ করা সময়ে আবারও জাল কাঁপান।

ফিলিপাইন টানা দুই জয় নিয়ে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপসেরা হয়ে মূল পর্বে প্রবেশ করেছে। তারা ২০২৭ সালে চীনে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপে খেলার সুযোগ পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইবির ৩৬ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন ‘ডিন’স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৪ পি.এম


ইবির ৩৬ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন ‘ডিন’স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের ৩৬ শিক্ষার্থী ‘ডিন’স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন, যা অনুষদভিত্তিক অবস্থানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে। এ পুরস্কার আগামী ১৪ অক্টোবর তাদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত তালিকায় আটটি অনুষদের ৩৬ শিক্ষার্থীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের নয় শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মোহাম্মদ আল-ফাইদ ও আলি আহসান মোহাম্মদ জুবায়ের। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নাজমুল ইসলাম। তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আব্দুল্লাহ ইহসান ভুঁইয়া, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মো. দেলওয়ার হোসেন, মো. শরিফুল ইসলাম ও নাইমুর রহমান এবং দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নোমান আল হাদি।

কলা অনুষদের তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের মোসা. তানজিলা খাতুন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন একই বিভাগের মো. হাফিজুল ইসলাম এবং তৃতীয় স্থানে আছেন জেবা রহমান।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের চার শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের মো. মুনতাকিম রহমান। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের মো. টগর আলী ও জেসিয়া খাতুন এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছেন মোসা. সিরাজুম মুনিরা।

আইন অনুষদের তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সাদিয়া। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন একই বিভাগের রাফিয়া খাতুন এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছেন মোসা. হাফসা খানম সন্ধানী।

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ছয় শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সুমি খাতুন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রত্যয় সানা। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মো. সিরাজুল ইসলাম ও অনিন্দ সাহা, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ফয়সাল আহমেদ ফাহিম এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের মেহেদী হাসান শিকদার।

বিজ্ঞান অনুষদের তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন পরিসংখ্যান বিভাগের মো. মেহেদী হাসান লিমন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন একই বিভাগের মো. মাহমুদুল হাসান এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছেন গণিত বিভাগের আরিফুল ইসলাম।

প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মোসা. মহুয়া রহমান নাইস ও জান্নাতুন নাইম এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. আহসান হাবিব। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের মো. মাহফুজুর রহমান এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছেন নাফিজ রহমান সায়িম।

জীববিজ্ঞান অনুষদের তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন ফার্মেসি বিভাগের আব্দুল্লাহ আল মামুন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন একই বিভাগের মো. আব্দুল বাশার এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. মেহেদী হাসান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বলেন, "ডিন’স অ্যাওয়ার্ডে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন এবং তাদের আগামীর জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি। এ পুরস্কার জুনিয়রদের কাছে অনুপ্রেরণা জোগায়। যথাসময়ে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরস্কার প্রদান করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের সাংস্কৃতিক চর্চা সংকুচিত, বিশিষ্টজনদের উদ্বেগ প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৫ পি.এম


দেশের সাংস্কৃতিক চর্চা সংকুচিত, বিশিষ্টজনদের উদ্বেগ প্রকাশ

দেশের সাংস্কৃতিক চর্চায় ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিকীকরণের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, সংস্কৃতির চর্চা সংকুচিত হয়ে পড়ছে এবং সংস্কৃতির সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। সমাজের অস্থিরতা দূর করা এবং সংস্কৃতির বিকাশ নিশ্চিত করার জন্য এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ অত্যন্ত জরুরি।

নাট্যসংগঠন ‘নাট্যকেন্দ্র’-এর তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তৌকীর আহমেদ। প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন সংগীতা চৌধুরী। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন নাট্যকেন্দ্রের সদস্য ইকবাল বাবু।

আলোচনায় নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ মন্তব্য করেন, সরকারের অবস্থানে সংস্কৃতির বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে; এমনকি কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীদের সঙ্গেও নয়। সমাজ ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে, অথচ সেখানে সংস্কৃতির আলো পৌঁছাচ্ছে না। নাচ, গান ও কবিতার প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ জরুরি।

মোহাম্মদ বারী বলেন, দেশ বর্তমানে ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের মুখে কালিমা লেপনের ঘটনাও তাদের প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষদের অনেক ক্ষেত্রে শুধু ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকতে হচ্ছে।

নাট্যকার মাসুম রেজা বলেন, ইউনূসের সময়েও মবের বিরুদ্ধে থিয়েটারের মানুষেরা প্রতিবাদ করেছেন। রবীন্দ্রনাথের মুখে কালিমা লেপন করা হয়েছে, কিন্তু আরেকজন রিকশাচালক পানি এনে সেই মুখ পরিষ্কার করেছেন। কুষ্টিয়ায় হারমোনিয়াম বাজছে, গানও হচ্ছে; তবে এখন অনেক ক্ষেত্রে তা গোপনে করতে হচ্ছে। ফলে সংস্কৃতি থেকে মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে কিংবা সাংস্কৃতিক চর্চা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—এমনটা বলা যায় না।

বাবুল বিশ্বাস বলেন, প্রথমে রাষ্ট্র ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে। এরপর করপোরেট ও এনজিও সংস্কৃতি মানুষকে নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে। এর ফলে মানুষের সঙ্গে সংস্কৃতির সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে।

কচি খন্দকার বলেন, সংস্কৃতি যখন রাজনীতির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তখন বিপর্যয় ঘটে। এর ফলে মানুষের সঙ্গে সংস্কৃতির বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। রবীন্দ্রনাথের মুখে কালিমা লেপনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এই দাগ আমাদের গায়েও এসে লেগেছে।’

আলোচনায় আখতারুজ্জামান বলেন, তারা এখন সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন। কী লেখা যাবে আর কী লেখা যাবে না, তা ভাবতেই অনেক সময় চলে যায়। আগে প্রতিদিন সন্ধ্যায় নাটক নিয়ে আড্ডা হতো। কিন্তু অনিশ্চয়তার কারণে এখন সেই পরিবেশও আর আগের মতো নেই। তার ভাষায়, ‘পাগল হয়ে যাওয়া কেবল বাকি আছে।’

মূল প্রবন্ধে তৌকীর আহমেদ দেশের সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার নানা দিক তুলে ধরেন। সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা এবং সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ফজলুল কবির তুহিন, আশীষ খন্দকার, ঠাণ্ডু রায়হান, আলোক বসু, অধ্যাপক ইউসুফ হাসান অর্ক, অপূর্ব কুমার কুণ্ডু ও ড. ইসলাম শফিকসহ নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা মোশাররফ করিম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুক নয়: হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৬ পি.এম


ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুক নয়: হাইকোর্ট

স্বামীর বিরুদ্ধে ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ করা হয়েছিল যে, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় স্ত্রীকে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করেন তিনি। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিম্ন আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ডও দিয়েছিল। তবে আপিলের শুনানিতে সাক্ষ্য ও চিকিৎসা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, ব্যবসার জন্য টাকা চাওয়াকে যৌতুক দাবি হিসেবে প্রমাণ করা যায়নি। পাশাপাশি নির্যাতনের অভিযোগে গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি পাওয়া গেছে।

এ পরিস্থিতিতে নিম্ন আদালতের দেওয়া দণ্ড বাতিল করে মো. রাসেল উদ্দিন নামের ওই ব্যক্তিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত মামলাটিকে সাজানো ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন।

রবিবার (১১ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. সেলিমের একক বেঞ্চ এ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মুসলিম আইন অনুযায়ী মো. রাসেল উদ্দিন ও ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় সাড়ে তিন বছর পর, ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের বাইতুশ শরফ মসজিদ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন স্ত্রী।

বাদীপক্ষের অভিযোগ ছিল, ওই দিন রাসেল উদ্দিন ব্যবসার কাজে ব্যবহারের জন্য স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা চান। স্ত্রী টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাকে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা করেন ইসমত আরা বেগম।

মামলাটির বিচার শেষে ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ রাসেল উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন রাসেল উদ্দিন।

আপিলের শুনানিতে মামলার সাক্ষ্য, নথিপত্র ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেন হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, টাকা চাওয়ার কারণ হিসেবে বাদী ও সাক্ষীরা ব্যবসার কথা বলেছেন। অর্থাৎ বিয়ের শর্ত হিসেবে কিংবা বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিনিময়ে ওই অর্থ দাবি করা হয়েছিল, এমন প্রমাণ মামলার নথিতে পাওয়া যায়নি।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ২(ঞ) ধারায় যৌতুকের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে আদালত বলেন, শুধু টাকা চাওয়ার ঘটনা দিয়ে সেটিকে যৌতুক দাবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। অভিযোগের ক্ষেত্রে অর্থ দাবির উদ্দেশ্য ও প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।

এই মামলায় ব্যবসার প্রয়োজনে টাকা চাওয়ার বিষয়টি সাক্ষীদের বক্তব্যে উঠে এলেও তা বিয়ের শর্ত বা বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিনিময়ে দাবি করা হয়েছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে যৌতুক দাবির অভিযোগ আইনগতভাবে প্রমাণ করতে প্রসিকিউশন ব্যর্থ হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন হাইকোর্ট।

শুধু যৌতুক দাবির অভিযোগ নয়, স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রেও সাক্ষ্য-প্রমাণে অসংগতি খুঁজে পান আদালত। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বাদী তার জবানবন্দিতে লাঠির আঘাতে ডান কাঁধ ও পিঠে আঘাত পাওয়ার কথা বলেন। অন্যদিকে, চিকিৎসকের সাক্ষ্য ও হাসপাতালের মেডিক্যাল সনদে বাঁ কাঁধে আঘাতের কথা উল্লেখ ছিল।

আঘাতের স্থান নিয়ে বাদীর বক্তব্য ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথির এই পার্থক্যকে গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি হিসেবে বিবেচনা করেন হাইকোর্ট। আদালতের মতে, মৌখিক সাক্ষ্য ও চিকিৎসা-প্রমাণের মধ্যে এমন বৈপরীত্য থাকলে নির্যাতনের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণের বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়ে।

মামলার সামগ্রিক সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র ও চিকিৎসা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল করেন। একই সঙ্গে মো. রাসেল উদ্দিনকে খালাস দেন।

এ রায়ে আদালতের মূল বিবেচ্য বিষয় ছিল, ব্যবসার প্রয়োজনে অর্থ দাবি করাকে যৌতুক হিসেবে গণ্য করার মতো প্রমাণ রয়েছে কি না এবং নির্যাতনের অভিযোগ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না।

অর্থাৎ স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়ার ঘটনা থাকলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যৌতুকের অভিযোগে পরিণত হয় না। আইনের নির্ধারিত সংজ্ঞা, অর্থ দাবির প্রেক্ষাপট এবং মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই বিষয়টি বিচার করতে হবে—এ মামলার রায়ে সেই পার্থক্যটি গুরুত্ব পেয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%