রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১২ পি.এম
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া ১৫ হাজার মেট্রিক টন চাল দিয়েছে। এই চালের সঙ্গে ১৫০ মেট্রিক টন ফর্টিফাইড রাইস কার্নেলও দেওয়া হয়েছে, যা পুষ্টিসমৃদ্ধ এবং এতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সাগরিকা গুদামে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খাদ্য সহায়তা হস্তান্তর করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি, খাদ্য ও গ্রামীণবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (এমএএফআরএ) মাধ্যমে এই চাল কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে ডব্লিউএফপির খাদ্য সহায়তা কর্মসূচীতে সরাসরি ব্যবহৃত হবে।
২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ১৫ হাজার মেট্রিক টন এবং ২০২৫ সালে ২০ হাজার ২৬৫ মেট্রিক টন চাল রোহিঙ্গা সহায়তায় প্রদান করেছিল।
সহায়তা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম শফিকুল হায়দার বলেন, "রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই দক্ষিণ কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে পাশে রয়েছে।"
এই চালের হস্তান্তর দুই দেশের শক্তিশালী অংশীদারির একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন উল্লেখ করেন, "চাল ও ফর্টিফাইড রাইস কার্নেলের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সিউলের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।" তিনি আরও বলেন, "এই সহায়তা শুধু খাদ্যসংকটই মেটাবে না, বরং পুষ্টির অবস্থার সার্বিক উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখবে।"
ডব্লিউএফপির বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা তহবিল সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, "বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তার প্রয়োজন বাড়ছে, অথচ এই খাতে তহবিলের পরিমাণ দিন দিন কমছে।"
এই কঠিন সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার এই চাল প্রদান রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা রাখবে।
সংস্থাটি জানায়, সাধারণ চালের সঙ্গে ফর্টিফাইড রাইস কার্নেল মিশিয়ে বিতরণ করা হবে, যা শিশু ও গর্ভবতী নারীসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাবে।
এছাড়া, কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে থাকা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা সম্পূর্ণ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মতো পরিবেশ এখনো তৈরি না হওয়ায়, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তার ওপর জোর দিয়েছে ডব্লিউএফপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পৃথক অভিযানে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে নগরীর বিভিন্ন থানা ও ডিবি পুলিশের অভিযানে তাদের আটক করা হয়। এরমধ্যে ওয়ারেন্টভুক্ত ১ জন, মাদক মামলায় ৮ জন ও অন্যান্য মামলায় ৬ জন রয়েছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বাসসকে বলেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটনের থানা ও ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চকলেটের প্রলোভনে দুই শিশুকে শ্যালো ঘরে ডেকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ স্থানীয়দের হাতে আটক বৃদ্ধকে পুলিশের কাছে সোপর্দ, আদালতে পাঠানো হয়েছে
লালমনিরহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের খোঁচাবাড়ী (মাস্টারপাড়া) এলাকায় ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই নাবালিকা শিশুকে শ্যালো মেশিনের ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে আদালতে পাঠিয়েছে।
এ ঘটনায় শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে লালমনিরহাট থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তবে শিশুদের নিরাপত্তা ও পরিচয় গোপন রাখার স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এজাহার থেকে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে খোঁচাবাড়ী এলাকার রেললাইনের পাশে কয়েকজন শিশুর সঙ্গে দুই নাবালিকা খেলাধুলা করছিল। এ সময় অভিযুক্ত বৃদ্ধ চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের রেললাইনের দক্ষিণ পাশে থাকা একটি শ্যালো মেশিনের ঘরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে একটি চৌকিতে বসিয়ে দুই শিশুর পোশাক খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় ঘটনাটি দেখতে পাওয়া দুই অজ্ঞাত যুবক শ্যালো ঘরের ভাঙা বেড়া দিয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে শিশুদের স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন এবং কথিত ভিডিওটি দেখেন। পরে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে তারা অভিযুক্ত বৃদ্ধকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
এ ঘটনায় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে সাক্ষী করা হয়েছে। তারা ঘটনাটি দেখেছেন ও শুনেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে লালমনিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ অভিযুক্ত বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবালকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে তাসের আসরে টাকা নিয়ে বসার ছবি প্রকাশ, খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গড়িমসি, শ্রমিক নিয়োগে বিলম্ব, বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে কাজে না লাগানো এবং সরকারি টি/আর (সাধারণ) কর্মসূচির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে চেয়ারম্যান ইকবালকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বসে তাস খেলতে দেখা যায়। ছবিতে টাকার উপস্থিতিও রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ছবিটি কোথায়, কখন এবং কী প্রেক্ষাপটে তোলা হয়েছে—তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছবিটি নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
প্রশ্ন উঠেছে, একজন জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকাণ্ড কতটা গ্রহণযোগ্য? ছবিটি যদি সত্যিই জুয়ার আসরের হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
চেয়ারম্যান ইকবালের বিরুদ্ধে খাল খনন কর্মসূচির কাজ বাস্তবায়নে গড়িমসি, শ্রমিক নিয়োগে বিলম্ব এবং বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া খাল খনন কর্মসূচির কমিটি অনুমোদনকে কেন্দ্র করে ৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের ভিডিও ফুটেজ ও কল রেকর্ড রয়েছে—এমন দাবিও করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির বরাদ্দের অর্থ সংসদ সদস্য রোকন উদ্দীন বাবুলের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও অর্থ ফেরতের প্রকৃত কারণ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সরকারি টি/আর (সাধারণ) কর্মসূচির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও চেয়ারম্যান ইকবালের বিরুদ্ধে উঠেছে। পাশাপাশি তাকে ঘিরে জুয়া ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে থাকা নথি, ভিডিও, কল রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্যের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
চেয়ারম্যান ইকবাল নিজেকে বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দাড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করেছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।
সব মিলিয়ে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগ মিথ্যা হলে যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে তদন্ত হবে কবে—এখন সেটিই স্থানীয়দের প্রধান প্রশ্ন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মো. হোসেন আলী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার বুকের মানিকরে এক মাস ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছি, কোথাও পাইনি। তোমরা আমার সন্তানরে ফিরাইয়া দাও।” তিনি ২৯ জুলাই ঝিনাইদহ সদরের খাজুরা গ্রাম থেকে নিখোঁজ হওয়া নিজের সন্তানকে এখনও খুঁজে পাননি।
হোসেন আলীর মতো নিখোঁজ ৪০ শিশুর পরিবারের সদস্যরা রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শীর্ষক এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের সদস্যরা এবং ‘জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশন’ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত নিখোঁজ ঘটনাগুলোর কার্যকর তদন্ত ও শিশুদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে সারা দেশে মোট ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন শিশুকে ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে অথবা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ অর্থাৎ ২ হাজার ৩৮ জন শিশুর সন্ধান এখনও মেলেনি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ০ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের হারিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো ঠিকানা বা রাস্তা হারিয়ে ফেলা।
১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুরা পারিবারিক কলহ, পড়াশোনার চাপ কিংবা অভিমান করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
তবে ডিআরইউতে উপস্থিত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, সাধারণ অভিমান বা পথ হারানো নয়, বরং তাদের সন্তানরা অপহরণের শিকার হয়েছে। তারা সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন, যাতে দ্রুত ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদের সন্তানদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ