রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১৪ পি.এম
রাজশাহী, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পৃথক অভিযানে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে নগরীর বিভিন্ন থানা ও ডিবি পুলিশের অভিযানে তাদের আটক করা হয়। এরমধ্যে ওয়ারেন্টভুক্ত ১ জন, মাদক মামলায় ৮ জন ও অন্যান্য মামলায় ৬ জন রয়েছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বাসসকে বলেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটনের থানা ও ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চকলেটের প্রলোভনে দুই শিশুকে শ্যালো ঘরে ডেকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ স্থানীয়দের হাতে আটক বৃদ্ধকে পুলিশের কাছে সোপর্দ, আদালতে পাঠানো হয়েছে
লালমনিরহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের খোঁচাবাড়ী (মাস্টারপাড়া) এলাকায় ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই নাবালিকা শিশুকে শ্যালো মেশিনের ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে আদালতে পাঠিয়েছে।
এ ঘটনায় শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে লালমনিরহাট থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তবে শিশুদের নিরাপত্তা ও পরিচয় গোপন রাখার স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এজাহার থেকে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে খোঁচাবাড়ী এলাকার রেললাইনের পাশে কয়েকজন শিশুর সঙ্গে দুই নাবালিকা খেলাধুলা করছিল। এ সময় অভিযুক্ত বৃদ্ধ চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের রেললাইনের দক্ষিণ পাশে থাকা একটি শ্যালো মেশিনের ঘরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে একটি চৌকিতে বসিয়ে দুই শিশুর পোশাক খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় ঘটনাটি দেখতে পাওয়া দুই অজ্ঞাত যুবক শ্যালো ঘরের ভাঙা বেড়া দিয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে শিশুদের স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন এবং কথিত ভিডিওটি দেখেন। পরে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে তারা অভিযুক্ত বৃদ্ধকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
এ ঘটনায় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে সাক্ষী করা হয়েছে। তারা ঘটনাটি দেখেছেন ও শুনেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে লালমনিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ অভিযুক্ত বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবালকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে তাসের আসরে টাকা নিয়ে বসার ছবি প্রকাশ, খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গড়িমসি, শ্রমিক নিয়োগে বিলম্ব, বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে কাজে না লাগানো এবং সরকারি টি/আর (সাধারণ) কর্মসূচির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে চেয়ারম্যান ইকবালকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বসে তাস খেলতে দেখা যায়। ছবিতে টাকার উপস্থিতিও রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ছবিটি কোথায়, কখন এবং কী প্রেক্ষাপটে তোলা হয়েছে—তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছবিটি নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
প্রশ্ন উঠেছে, একজন জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকাণ্ড কতটা গ্রহণযোগ্য? ছবিটি যদি সত্যিই জুয়ার আসরের হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
চেয়ারম্যান ইকবালের বিরুদ্ধে খাল খনন কর্মসূচির কাজ বাস্তবায়নে গড়িমসি, শ্রমিক নিয়োগে বিলম্ব এবং বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া খাল খনন কর্মসূচির কমিটি অনুমোদনকে কেন্দ্র করে ৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের ভিডিও ফুটেজ ও কল রেকর্ড রয়েছে—এমন দাবিও করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির বরাদ্দের অর্থ সংসদ সদস্য রোকন উদ্দীন বাবুলের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও অর্থ ফেরতের প্রকৃত কারণ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সরকারি টি/আর (সাধারণ) কর্মসূচির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও চেয়ারম্যান ইকবালের বিরুদ্ধে উঠেছে। পাশাপাশি তাকে ঘিরে জুয়া ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে থাকা নথি, ভিডিও, কল রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্যের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
চেয়ারম্যান ইকবাল নিজেকে বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দাড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করেছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।
সব মিলিয়ে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগ মিথ্যা হলে যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে তদন্ত হবে কবে—এখন সেটিই স্থানীয়দের প্রধান প্রশ্ন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মো. হোসেন আলী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার বুকের মানিকরে এক মাস ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছি, কোথাও পাইনি। তোমরা আমার সন্তানরে ফিরাইয়া দাও।” তিনি ২৯ জুলাই ঝিনাইদহ সদরের খাজুরা গ্রাম থেকে নিখোঁজ হওয়া নিজের সন্তানকে এখনও খুঁজে পাননি।
হোসেন আলীর মতো নিখোঁজ ৪০ শিশুর পরিবারের সদস্যরা রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শীর্ষক এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের সদস্যরা এবং ‘জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশন’ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত নিখোঁজ ঘটনাগুলোর কার্যকর তদন্ত ও শিশুদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে সারা দেশে মোট ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন শিশুকে ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে অথবা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ অর্থাৎ ২ হাজার ৩৮ জন শিশুর সন্ধান এখনও মেলেনি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ০ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের হারিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো ঠিকানা বা রাস্তা হারিয়ে ফেলা।
১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুরা পারিবারিক কলহ, পড়াশোনার চাপ কিংবা অভিমান করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
তবে ডিআরইউতে উপস্থিত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, সাধারণ অভিমান বা পথ হারানো নয়, বরং তাদের সন্তানরা অপহরণের শিকার হয়েছে। তারা সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন, যাতে দ্রুত ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদের সন্তানদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানিয়েছেন, রাজধানীর যানজট সমস্যা সমাধানের জন্য গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান—এই চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া এবং বিদ্যমান ডিপো ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এর পাশাপাশি গাবতলী টার্মিনালের বিকল্প টার্মিনাল সম্প্রসারণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সিটি কর্পোরেশনের টার্মিনাল উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বৃহত্তর ঢাকার যানজট নিরসনের জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির সভা শেষে তিনি বাসসকে এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনের জন্য যে নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন কতদূর অগ্রসর হয়েছে এবং কোন কোন কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, সভায় মূলত এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যানজট নিরসনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সড়ক প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে শহরের ভেতরে বাস ও গণপরিবহনের অতিরিক্ত চাপ। এই চাপ কমাতে বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প স্থানে টার্মিনাল ও ডিপো ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘যানজট নিরসনের জন্য আমাদের যে টার্মিনালগুলো রয়েছে, সেগুলোর কিছু অংশ আপাতত আমাদের যে ডিপোগুলো রয়েছে, সেগুলোতে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা কাচপুর, এরপর পূর্বাচল—এসব জায়গা ব্যবহার করার বিষয়টি দেখছি।’
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, গাবতলী বাস টার্মিনালকে আরো সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। গাবতলীর পাশের নতুন জায়গাগুলো কীভাবে দ্রুত কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথে গণপরিবহনের চাপ কমাতে এসব বিকল্প অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ঢাকার আশপাশের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলোও যানজটের অন্যতম কারণ। এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে সড়কগুলো যান চলাচলের উপযোগী করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু রাজধানীর ভেতরে যানজট নিরসনের উদ্যোগ নিলে হবে না। বৃহত্তর ঢাকার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং গণপরিবহনের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় মূলত চারটি বাস টার্মিনালকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এসব টার্মিনালের বর্তমান ব্যবস্থাপনা, বিকল্প জায়গায় স্থানান্তরের সম্ভাবনা, ডিপো ব্যবহারের সুযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় থাকা টার্মিনালগুলোও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব টার্মিনালে বাস পরিচালনার জন্য কাউন্টার স্থাপন, যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বিশেষ করে এসি বাসগুলোকে নির্দিষ্ট টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। বাস কাউন্টার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা কোথায় এবং কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে শুধু সড়ক প্রশস্ত করা বা নতুন সড়ক নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। গণপরিবহনের টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, বাসের চলাচল, পার্কিং, কাউন্টার ব্যবস্থাপনা এবং রাজধানীর প্রবেশ ও বহির্গমনপথে যানবাহনের চাপ, সবগুলো বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে কাজ ধীরগতিতে চলছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, যানজট নিরসন নীতির মধ্যে যে ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোর অগ্রগতি কতটুকু এবং বাস্তবায়নের দিকে কতটা অগ্রসর হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এগুলো যাতে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে এবং উপযুক্ত সময়ের মধ্যে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, যানজট নিরসনে সরকার যে উদ্যোগগুলো নিয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে এখন আরো গতি আনা প্রয়োজন। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, পরিবহন সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সড়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, যানজট নিরসনের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা না করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য। টার্মিনাল স্থানান্তর, বিকল্প ডিপো ব্যবহার, গাবতলী সম্প্রসারণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সিটি কর্পোরেশনের টার্মিনাল উন্নয়নের কাজগুলো সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।
এর মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সড়কে যানবাহনের চাপ কমানোর পাশাপাশি বৃহত্তর ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা ধীরে ধীরে নিরসন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকবৃন্দ এবং সড়ক মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ