বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৮ পি.এম
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল মন্তব্য করেছেন, ‘পূজা সারা বাংলাদেশের একটি উৎসব। বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিস্টান কোনো ভেদাভেদ নেই। আমরা চাই যে সবাই বাংলাদেশি হিসেবে পরিচিত পাবে। আমরা জনগণের কাছে এমন অঙ্গীকার করে এসেছিলাম আর সেই দিকেই আমাদের সরকার এগোচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বাগাতিপাড়া উপজেলায় পূজা মণ্ডপে ডিও প্রদান ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ফারজানা শারমিন পুতুল আরও জানান, ‘বিগত দিনে বিভিন্ন সময় যখন আমরা সরকারে ছিলাম না, তখনো আমরা চেষ্টা করেছি এই পূজাগুলোকে সবচেয়ে বেশি আনন্দময় করার জন্য। এবারও সরকারের পক্ষ থেকে করার জন্য সরকারের যেমন পরিকল্পনা রয়েছে, আমাদেরও পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘পূজা উৎসবে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় নেই। কেউ কোনো ধরনের ক্রাইসিস তৈরি করার চেষ্টা করলে তা শক্ত হাতে দমন করা হবে। সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এবং দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা রয়েছে।’
এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামসুল ইসলাম, লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান বাবুসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৩ চীনা এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই সংঘবদ্ধ চক্রটি বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ, বিশেষ করে ক্যানসারসহ জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার করে আসছিল।
এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন চীনা নারী লি ফেন (৩৪), বকুল নাহার বীথি (২৪), ইউনুস আলী (২৬) ও সজীব হাওলাদার (২৮)। গ্রেপ্তারকালে তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থসহ প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা বাজারমূল্যের বাংলাদেশি ওষুধও জব্দ করা হয়েছে।
এসআরবি-৩ জানায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে ওষুধ পাচার করে আসছিল। বাংলাদেশে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় এমন বিভিন্ন ওষুধ, বিশেষ করে ক্যানসারসহ জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ বিদেশে পাঠানো হতো। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ২৪ থেকে ২৫ কেজি ওজনের কার্টনে এসব ওষুধ পাঠানো হতো।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চীনা নাগরিক লি ফেন ২০২৪ সালের আগস্টে পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই-তিন দিন আগে তিনি চীনে ফিরে গিয়ে আবারও পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে আসতেন। গ্রেপ্তার হওয়া বকুল নাহার বীথি ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চীনের হুনান নরমাল ইউনিভার্সিটিতে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশোনা করেন। এ সময় তিনি চীনা ভাষা শেখেন এবং পরে বাংলাদেশে ফিরে বিভিন্ন চীনা নাগরিকের দোভাষী হিসেবে কাজ করেন।
এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর লাওসের শুল্ক কর্তৃপক্ষ বৈধ কাগজপত্র না থাকায় কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানো ১০০ কেজি ওজনের একটি ওষুধের চালান জব্দ করে। এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট চক্রের কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কিছু অসাধু কর্মচারী অধিক মুনাফার আশায় এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। তাদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি জব্দ করা ওষুধের ধরন ও পরিমাণ, পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট ওষুধ কোম্পানির কর্মীদের ভূমিকাও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেঘ পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসে। চারপাশে সবুজের বিস্তার। দূরে নীল সমুদ্রের হাতছানি। মারাইংতং পাহাড় চূড়ায় পাহাড়, মেঘ আর সাগরের এই মেলবন্ধন দেখা যায়।
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় অবস্থিত মারাইংতং পাহাড়ের পাশে এই স্থানটি দ্বিতীয় সাজেক নামেও পরিচিত। এই পাহাড়টি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দেড় হাজার ফুট উচ্চতায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করলে চারপাশের পাহাড়, বনভূমি এবং দূরের বঙ্গোপসাগরের জলরাশি দেখা যায়। ভোরে মেঘের চাদর এবং বিকেলের সূর্যাস্ত— এই দুই সময়ে মিরিঞ্জার রূপ ভিন্ন হয়ে ওঠে।
মারাইংতং পাহাড়ে যা দেখা যাবে
আলীকদম মারাইংতং পাহাড়ের প্রধান আকর্ষণ হলো পাহাড়ের চূড়া থেকে দৃশ্যমান বিস্তৃত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। যখন মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ায়, তখন পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে মনে হয়, আপনি মেঘের রাজ্যে রয়েছেন।
এখান থেকে আশপাশের পাহাড়ি বন, মাতামুহুরী নদী এবং আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে দূরের সমুদ্রও দেখা যায়। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য এই স্থানটি বেশ উপযোগী। মারাইংতং পাহাড়ে ভ্রমণের সময় কাছাকাছি আলীর গুহা, ডিম পাহাড়, মায়া লেক, সীমান্ত ঘেঁষা সড়ক এবং মাতামূহুরী রির্জাভ ফরেস্ট ঘুরে দেখা যায়।
ঢাকা থেকে যেভাবে যাওয়া যাবে
ঢাকা থেকে মারাইংতং পাহাড়ে যাওয়ার সহজ উপায় হলো কক্সবাজার বা আলীকদমগামী বাস। কক্সবাজারগামী বাসে উঠলে চকরিয়া বাস টার্মিনালে নামতে হবে। এরপর চকরিয়া থেকে লামা-আলীকদম সড়ক ধরে স্থানীয় বাস, জিপ, চাঁদের গাড়ি অথবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মিরিঞ্জার পাহাড়ের দিকে যাওয়া সম্ভব।
চকরিয়া থেকে মারাইংতং পাহাড়ের দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার। স্থানীয় যানবাহনে যেতে সাধারণত দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। আবাসিক এলাকায় নেমে এক-দুই ঘণ্টা হাঁটলেই মারাইংতং পাহাড়ের কাছে পৌঁছানো যায়। ঢাকা থেকে আলীকদম বাসের যানজট এবং বাসের ধরন অনুযায়ী পুরো যাত্রায় ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা সময় হাতে রাখা ভালো।
কত টাকা খরচ হবে
ঢাকা থেকে কক্সবাজার বা চকরিয়াগামী বাসের ভাড়া বাসের ধরন এবং আসনের মান অনুযায়ী ভিন্ন হয়। চকরিয়া থেকে আলীকদম আবাসিক সড়কের মাথা পর্যন্ত স্থানীয় বাস বা জিপে চেপে যাওয়া যায়; খরচ জনপ্রতি আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ টাকা। এরপর পাহাড়ের চূড়ায় জনপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।
আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য চকরিয়া থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি বা চাঁদের গাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। দল বড় হলে পুরো গাড়ি ভাড়া নিয়ে যাওয়া তুলনামূলক সুবিধাজনক।
ট্র্যাকিং করতে চাইলে
আবাসিক সড়কে নেমে পায়ে হেঁটে মারাইংতং পাহাড়ের চূড়ায় যেতে খুব কঠিন ট্র্যাকিংয়ের প্রয়োজন হয় না। আলীকদম মূল সড়ক থেকে চাঁদের গাড়িতে মুরুংপাড়া পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে প্রায় ৩০ মিনিট পাহাড়ি পথে হাঁটলেই পাহাড় চূড়ায় পৌঁছানো সম্ভব। পাহাড়ি পথ হওয়ায় সঙ্গে ভালো গ্রিপের জুতা রাখা জরুরি। বর্ষার সময় পথ পিচ্ছিল হয়ে যেতে পারে।
থাকা যাবে যেখানে
একদিনে ঘুরে ফিরে আসা সম্ভব হলেও মারাইংতং পাহাড়ের চূড়ায় প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে রাতে থাকা যেতে পারে। পাহাড়ের ওপর টাবু টানিয়ে থাকা যায়; চাইলে জুমঘরসহ বিভিন্ন আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে।
কখন যাওয়া ভালো
মেঘ দেখতে চাইলে বর্ষার শেষ থেকে শীতের শুরুর সময় মারাইংতং পাহাড়ে ভ্রমণ বেশ আকর্ষণীয়। তবে বর্ষায় পাহাড়ি সড়ক পিচ্ছিল থাকে। নভেম্বরে আবহাওয়া তুলনামূলক পরিষ্কার থাকায় পাহাড় এবং দূরের সমুদ্র দেখার সুযোগ ভালো থাকে।
যাওয়ার আগে যা মনে রাখতে হবে
পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা, পর্যাপ্ত পানি ও শুকনো খাবার নেওয়া এবং দলবদ্ধভাবে চলা ভালো। পাহাড়ে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে স্থানীয় পরিবেশ এবং বাসিন্দাদের প্রতি সম্মান দেখানোও ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিওনেল মেসি ফুটবল মাঠে কিংবদন্তি হয়ে ওঠার পর, এবার তিনি মাঠের বাইরেও নিজের ফুটবল সাম্রাজ্য গড়ে তুলছেন। তবে, তাঁর সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি ক্লাবের মালিকানার ধরন ভিন্ন। কিছু ক্লাবে তিনি সরাসরি মালিক, কিছুতে যৌথ উদ্যোগের অংশীদার, আবার কিছুতে ভবিষ্যতে মালিকানা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই, মেসির বর্তমান ফুটবল-সম্পৃক্ততাকে মালিকানা ও অংশীদারত্ব—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যেসব ক্লাবের মালিক মেসি
স্পেনের পঞ্চম স্তরের ক্লাব ইউই কর্নেয়া মেসির সরাসরি মালিকানাধীন ক্লাব। এপ্রিল মাসে কাতালোনিয়ার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির পূর্ণ মালিকানা তিনি গ্রহণ করেন। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত কর্নেয়া দীর্ঘকাল ধরে তরুণ খেলোয়াড় তৈরির জন্য পরিচিত। মেসির কাতালোনিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক থাকায়, ক্লাবটির মালিকানা তাঁর ফুটবল-ব্যবসায়িক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব সিডি এলদেন্সও মেসির মালিকানাধীন। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ক্লাবটি তাঁকে নতুন মালিক হিসেবে ঘোষণা করে। এলদেন্সের নতুন মালিকানা প্রকল্পে ক্লাবটির ক্রীড়া, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দলটির ক্রীড়া প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ব সাবেক ভিয়ারিয়াল কোচ হাভি কায়েহাকে দেওয়া হয়েছে।
যেখানে মেসি অংশীদার
উরুগুয়ের দেপোর্তিভো এলএসএমের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। ক্লাবটি ২০২৫ সালে লুইস সুয়ারেজের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মেসি পরে তাঁর সাবেক বার্সেলোনা ও বর্তমান ইন্টার মায়ামি সতীর্থের এই প্রকল্পে যৌথ উদ্যোগে যুক্ত হন। অর্থাৎ, এটিকে মেসির একক মালিকানাধীন ক্লাব হিসেবে দেখা সম্ভব নয়।
সিউদাদ দে লা কোস্তায় অবস্থিত দেপোর্তিভো এলএসএম বর্তমানে উরুগুয়ের তৃতীয় স্তরের ফুটবলে খেলছে। ক্লাবটির ভিত্তি হিসেবে রয়েছে প্রায় ২০ একরের একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং ১,৪০০ দর্শক ধারণক্ষমতার কৃত্রিম টার্ফের স্টেডিয়াম। সুয়ারেজের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পে মেসির অংশগ্রহণ মূলত যৌথ ফুটবল-ব্যবসায়িক উদ্যোগের অংশ।
ইন্টার মায়ামিতে এখনো মালিক নন
ইন্টার মায়ামির ক্ষেত্রে মেসিকে বর্তমান মালিক হিসেবে উল্লেখ করা যাবে না। তিনি এখনো ক্লাবটির খেলোয়াড় এবং তাঁর চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তবে, তাঁর চুক্তিতে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পর ক্লাবটির সংখ্যালঘু মালিক হওয়ার একটি অপশন রয়েছে। অর্থাৎ, এটি বর্তমান মালিকানা নয়, ভবিষ্যৎ মালিকানায় যাওয়ার সম্ভাবনা।
ইন্টার মায়ামিতে মেসির প্রভাব অবশ্য শুধু মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর আগমনের পর ক্লাবটির ক্রীড়া ও বাণিজ্যিক পরিচিতি আন্তর্জাতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে, বর্তমান সময়ে ক্লাবটির মালিকানা কাঠামোর অংশ হিসেবে মেসিকে দেখানো এবং ভবিষ্যতে সংখ্যালঘু মালিক হওয়ার সম্ভাবনাকে এক বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা তথ্যগতভাবে সঠিক হবে না।
সব মিলিয়ে, মেসির ফুটবল-ব্যবসায়িক অবস্থানকে তিনভাবে দেখা যায়—ইউই কর্নেয়া ও সিডি এলদেন্সে সরাসরি মালিকানা, দেপোর্তিভো এলএসএমে যৌথ অংশীদারত্ব এবং ইন্টার মায়ামিতে ভবিষ্যৎ সংখ্যালঘু মালিক হওয়ার সম্ভাবনা। ফলে, খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শেষ হলেও ফুটবলের সঙ্গে মেসির সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার পথ ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরে এক গার্মেন্টসকর্মী (২০) কে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে তার স্বামীকে পাশের ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। অভিযুক্তদের হুমকির কারণে দুই দিন ঘরবন্দি থাকার পর বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্বজনদের সহায়তায় থানায় গিয়ে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর ছদ্মনাম লিলি। তিনি শেরপুর জেলার বাসিন্দা। শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের হানু মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের কাজ করেন। তিনি স্বামীসহ সেখানে বসবাস করতেন।
লিলি জানিয়েছেন, গত ছয় মাস ধরে তারা হানু মার্কেট এলাকার হারুনের বাসায় ভাড়া রয়েছেন। সম্প্রতি এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্বামীর সঙ্গে আলোচনা করে গত সোমবার বাসা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। বাড়ির মালিক হারুন অর রশিদকে তিন মাসের অগ্রিম ভাড়া পরিশোধ করে মালামাল সরানোর কাজ শুরু করেন তারা।
এ সময় স্থানীয় দুই যুবক ফারুক ও নয়ন এসে তার স্বামীকে জোর করে ডেকে নিয়ে যান। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পরও স্বামী ফিরে না আসায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সন্ধ্যার পর স্বামী বাড়ি ফেরেন।
লিলির অভিযোগ, রাত সাড়ে ৮টার কিছুক্ষণ পর ফারুক ও নয়ন আরও দুজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে তাদের ঘরে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর তাদের আচরণ বদলে যায়। তারা তার স্বামীকে মারধর করে পাশের একটি ঘরে আটকে রাখেন।
লিলি বলেন, ফারুক তাকে জানান, তার স্বামীর কাছে টাকা পাওনা থাকায় তাকে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর তার কথামতো কাজ করলে দুজনকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন ফারুক। এতে রাজি না হওয়ায় ফারুক, নয়ন ও অপর এক ব্যক্তি তার হাত বেঁধে ফেলেন। গলায় ধারালো ছুরি ধরে এবং দুই পা দুই দিকে বেঁধে রেখে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী জানান, তিনি বারবার তাদের কাছে বাবা ও ভাই বলে আকুতি-মিনতি করলেও তারা শোনেননি। চারজন মিলে তার ওপর নির্যাতন চালান। তাদের ভয়ে আশপাশের কেউ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেননি।
লিলির অভিযোগ, ঘটনার পরও অভিযুক্তরা তাদের বাড়ির আশপাশে নজরদারি করছিলেন। তাদের ভয়ে তিনি থানায় যাওয়ার সাহস পাননি। পরে স্বজনদের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাদের সহযোগিতায় থানায় এসে বিচার চাইতে পেরেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, তাকে পাশের ঘরে আটকে রেখে মারধর করা হয়। এ সময় তাকে বলা হয়, তার স্ত্রী টাকা আনতে গেছেন। অভিযুক্তরা পালাক্রমে তাকে নির্যাতন করেন। তবে তার স্ত্রীকে নির্যাতন করা হচ্ছে, তা তাকে জানানো হয়নি।
তিনি জানান, সবকিছু শেষ হওয়ার পর তাকে স্ত্রীর কাছে যেতে দেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের বিষয়টি বুঝতে পারেন। বিচার চাইতে বের হতে চাইলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। ভয়ে তারা বের হতে পারেননি। পরে কৌশলে বের হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে আত্মীয়স্বজনকে খবর দিলে তাদের সহযোগিতায় থানায় আসেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই থানার পুলিশ পরিদর্শককে (তদন্ত) প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ