ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রথম ধাপে ৮০০ ইউপিতে ভোট, বিশৃঙ্খলা ও প্রভাব বিস্তারে কঠোর শাস্তি


প্রথম ধাপে ৮০০ ইউপিতে ভোট, বিশৃঙ্খলা ও প্রভাব বিস্তারে কঠোর শাস্তি

আগামী বছরের ২৭ মের মধ্যে পাঁচ ধাপে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপে আগামী ২১ জানুয়ারি প্রায় ৮০০ ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

তবে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার, পেশিশক্তির ব্যবহার এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে কমিশন তাৎক্ষণিক শাস্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে জুডিসিয়াল ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কোনো প্রার্থী নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘন করলে তার প্রার্থিতা বাতিলের বিধানও রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, পাঁচ ধাপে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধাপভিত্তিক নির্বাচনি এলাকা নির্ধারণ করা হবে। প্রথমে জেলা সদরসংলগ্ন এবং পরে উপজেলা সদরের কাছাকাছি ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো সহজ হবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা যাবে।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে মানদণ্ড, সেই আলোকে অবশ্যই ভালো নির্বাচন করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে। আমাদের নিজস্ব কোনো মোটিভ নেই। আমরা ভালো নির্বাচন করার জন্যই দায়িত্ব নিয়েছি। ভালো নির্বাচন করার জন্য যা যা প্রয়োজন, সবই আমরা করব। আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা থাকবে।’

তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। দলগুলোর সহযোগিতা চাওয়া হবে, যাতে সবাই মিলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে।

ইউপি নির্বাচনে যেকোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার প্রতিরোধে কমিশনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্বাচনে জুডিসিয়াল ও এক্সিকিউটিভ—দুই ধরনের ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। কেউ নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পক্ষের প্রতি বিশেষ বিবেচনা না করে অপরাধে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে মারামারি, বিশৃঙ্খলা বা পেশিশক্তির ব্যবহার বরদাশত করা হবে না। কোনো প্রার্থী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে শোকজ

তবে কমিশনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র শাস্তি দেওয়া বা নির্বাচন বন্ধ করা নয় উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, মানুষ যাতে অপরাধ থেকে বিরত থাকে এবং আইন মেনে চলে, সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করাই কমিশনের লক্ষ্য।

গত সোমবার কমিশন সভা শেষে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা। সাধারণত ভোটগ্রহণের প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নীত করবে: জহির উদ্দিন স্বপন

নির্বাচনি অপরাধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন, বলপ্রয়োগ ও ভোটারদের বাধা দেওয়ার মতো অপরাধ প্রতিরোধে সংশোধিত নির্বাচনি বিধিমালায় শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) সংশোধিত নির্বাচন বিধিমালার ৮০(ক) বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিকে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, আঘাত বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বাধা দেওয়া কিংবা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা অপরাধ। একইভাবে কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যম প্রতিনিধি বা পর্যবেক্ষকের কাজে বাধা দেওয়া, তাদের শারীরিক ক্ষতি করা কিংবা দায়িত্ব পালনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম নষ্ট করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ ছাড়া কোনো ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা, কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে বিরত রাখা কিংবা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ডও এ বিধির আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

সংশোধিত বিধিমালায় প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো উৎস থেকে পাওয়া রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে যে চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী কিংবা তার নির্বাচনি এজেন্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন, কমিশন তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে।

আরও পড়ুন: দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চাকরি দেবেন এ্যানি

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন যদি সন্তুষ্ট হয় যে কোনো প্রার্থী, তার নির্বাচনি এজেন্ট অথবা তার নির্দেশে কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিতে অন্য কেউ বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন, তাহলে লিখিত আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।

অনিয়ম হলে ফল স্থগিত, পুনরায় ভোটের সুযোগ

নির্বাচনি অনিয়মের কারণে কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে তা স্থগিত করার ক্ষমতাও কমিশনের রয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অপকর্মের মাধ্যমে কোনো ভোটকেন্দ্র বা একাধিক কেন্দ্রের ফলাফল প্রভাবিত হয়েছে বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ফলাফল স্থগিত করা যাবে।

এ ক্ষেত্রে কমিশন প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালিয়ে ফলাফল প্রকাশের নির্দেশ দিতে পারবে। আর অনুসন্ধানে ন্যায়সংগত মনে হলে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দিতে পারবে।

আরও পড়ুন: কোনো অবস্থাতেই আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান হবে না: বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণে মনিটরিং কমিটি গঠনের বিধানও রয়েছে সংশোধিত নির্বাচনি বিধিমালায়। তফসিল ঘোষণার পর কমিশন নির্ধারিত সংখ্যক উপযুক্ত কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে। এসব কমিটি নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করবে।

সব মিলিয়ে, পাঁচ ধাপে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। প্রভাব বিস্তার ও পেশিশক্তির ব্যবহার ঠেকাতে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, অপরাধের তাৎক্ষণিক বিচার, প্রার্থিতা বাতিল এবং অনিয়মপূর্ণ কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের বিধান কার্যকরভাবে প্রয়োগের ওপরই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়টি নির্ভর করবে। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২ বছরে ৭ মামলায় ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৯ এম


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২ বছরে ৭ মামলায় ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

আজ ১৪ অক্টোবর, পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে সাতটি মামলার রায়ে ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। বর্তমানে বিচারাধীন ৭০টি মামলায় আসামি ৪৮৮ জন। প্রসিকিউশনে জমা পড়েছে প্রায় ৬০০টি অভিযোগ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, একই বছরের ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং বিগত বছরগুলোর গুম-খুনের অভিযোগের বিচার শুরু হয়।

ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এর সাতটি মামলার রায়ে মোট ৬৮ জন দণ্ডিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন এবং ৩৩ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশনের সূত্রে জানা গেছে, একজনকে ক্ষমা করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডের একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-২। দণ্ডিতদের মধ্যে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং পুলিশের কয়েকজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই বিদেশে অবস্থান করছেন।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬৮ জন দণ্ডিতের মধ্যে ৪৭ জন পলাতক রয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৩ জনের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন মাত্র চারজন। বিদেশে অবস্থানরত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং চূড়ান্ত সাজা কার্যকর করা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামীম বলেন, "বিচার শেষে রায় ঘোষণা ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব। আপিল হলে তা নিষ্পত্তি করে উচ্চ আদালত। চূড়ান্ত সাজা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কর্তৃপক্ষের।" তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের দুই বছরের কার্যক্রমে তাঁরা সন্তুষ্ট এবং সরকার বিচারপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আইনে আপিল নিষ্পত্তির জন্য ৬০ দিনের বিধান রয়েছে। তবে মামলার চাপের কারণে নির্ধারিত সময়ে সব আপিল নিষ্পত্তি করা কঠিন হচ্ছে। আপিলসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায় না।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, "ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করছে। বিদেশে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোল ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতায় আইনি উদ্যোগ চলছে।"

বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল-১-এ ৪৩টি এবং ট্রাইব্যুনাল-২-এ ২৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় মূল ও বিবিধ অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ২০০৯ সাল থেকে সংঘটিত গুম-খুনের অভিযোগও বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে। নতুন অভিযোগের তদন্ত, অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণের চাপ বাড়ছে। জনবলসংকট এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচারে কাজ করছে। ওই ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায় আসে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি। পরবর্তী সময়ে আবদুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মতিউর রহমান নিজামী, মীর কাসেম আলী এবং সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

বর্তমান ট্রাইব্যুনালে অপরাধের ধরন ও আসামির ভূমিকা বিবেচনায় বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামীম। চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার মামলায় কনস্টেবল সুজন হোসেনের সাজা বাড়াতে আপিল করেছে প্রসিকিউশন। কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সাজা বাড়ানোর আবেদনও করা হয়েছে।

বিচারকাজের গতি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শাফিক উদ্দিন আহনাফের মা সাফাত সিদ্দিকী পারভীন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন আহনাফ। তাঁর মা বলেন, "পরিবার ছেলের হত্যার বিচার দেখতে চায়।" তিনি অভিযোগ করেছেন, বিলম্বের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোয়নি। আহনাফ হত্যা মামলাটি এখনো অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেছেন, "অপরাধ প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার ও সাজা কার্যকর দেখতে চান।" একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার আত্মহত্যা, শোকের ছায়া সান ফ্রান্সিসকো বিভাগে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৯ এম


স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার আত্মহত্যা, শোকের ছায়া সান ফ্রান্সিসকো বিভাগে

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা তার স্ত্রী ও মেয়েকে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন। নিহত স্ত্রী অ্যান ম্যানিক্স ছিলেন পুলিশের সাবেক উপপ্রধান (ডেপুটি চিফ) এবং কর্মজীবনে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এই ঘটনার ফলে সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে শহরের উত্তরে মেরিন কাউন্টির একটি আবাসিক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কেভিন ম্যানিক্স, ৬৮, তার স্ত্রী অ্যান ম্যানিক্স, ৬৪, এবং তাদের ২৪ বছর বয়সী মেয়ে ক্যাথরিন এলিজাবেথ ম্যানিক্স।

মেরিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, কেভিন প্রথমে তার স্ত্রী ও মেয়েকে গুলি করেন এবং পরে নিজেও গুলি করে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জরুরি নম্বরে ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফোনকারী নিরাপদে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন।

তবে কেন কেভিন এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা তদন্তকারীরা এখনো জানতে পারেননি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তিনজনেরই ময়নাতদন্ত করার কথা ছিল। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

এদিকে, সহকর্মীদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ কর্মকর্তা সমিতি। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, সাবেক উপপ্রধান অ্যান ম্যানিক্স, তার মেয়ে কেটি এবং সাবেক সার্জেন্ট কেভিন ম্যানিক্সের মৃত্যু পুরো পুলিশ পরিবারকে গভীর শোকে আচ্ছন্ন করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার কষ্ট ও প্রশ্নের সহজ কোনো উত্তর নেই বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

কেভিন ম্যানিক্স সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগে ২৭ বছর কাজ করেছেন। তিনি ২০১৮ সালে সার্জেন্ট পদে থাকা অবস্থায় অবসরে যান। তবে পুলিশ বিভাগে অ্যান ম্যানিক্সের অবদান ছিল আরও বিস্তৃত।

অ্যান ম্যানিক্স সান ফ্রান্সিসকোতে জন্ম নেওয়া চতুর্থ প্রজন্মের বাসিন্দা ছিলেন। তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও আগে পুলিশে কাজ করেছেন। ১৯৮৬ সালে তিনি সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। সে সময় নারীদের টহল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কার্যক্রম শুরুর এক দশকের কিছু বেশি সময় পেরিয়েছে।

কর্মজীবনে ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে ২০০৩ সালে লেফটেন্যান্ট, ২০১৫ সালে কমান্ডার এবং ২০১৮ সালে উপপ্রধান হন অ্যান। ২০২১ সালে অবসরে যাওয়ার আগে তিনি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও বিশেষ অভিযান বিভাগ পরিচালনা করেন।

পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান ছিলেন বিভাগের বিশেষ অস্ত্র ও কৌশল দলের প্রথম নারী সদস্য। পরবর্তী সময়ে তিনি দলটির নেতৃত্বও দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তার এই অর্জন তাকে বিভাগের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে দিয়েছে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিগামী ৮৬ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ১৩ হাজার ৪৯০ যাত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৯ এম


সৌদিগামী ৮৬ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ১৩ হাজার ৪৯০ যাত্রী

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সাময়িক বিধিনিষেধ ও ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্নের কারণে ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে ১৩ হাজার ৪৯০ জন প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাতিল ও স্থগিত হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে ৩৬টি সরাসরি সৌদি আরবগামী এবং ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি এবং সৌদিয়া এয়ারলাইনসের পাঁচটি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ২২টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ছয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, সালাম এয়ারের চারটি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে আকস্মিক বিধিনিষেধের কারণে অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে এসে আটকা পড়েছেন। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছানোর অপেক্ষায় থাকা প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ফ্লাইটের নতুন সময়সূচি, টিকিটের তারিখ পরিবর্তন ও পরবর্তী যাত্রার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৫৩০ জন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩০ এম


রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৫৩০ জন আটক

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে ৪২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আটককৃতদের মধ্যে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ২৭ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৫৬ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৬৬ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৫৯ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৬৩ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ১৭৫ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৩৬ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৪৫ জন এবং সিটিটিসি থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে ৯ কেজি গাঁজা, ৬২২০ পিস ইয়াবা, ৪ গ্রাম হেরোইন, ২ বোতল বিদেশি মদ, বিস্ফোরিত ককটেলের টুকরা ও প্যারেক, ১৪টি মোবাইল ফোন, নগদ ১৬ হাজার ২৮০ টাকা এবং ১ জন ভুক্তভোগী উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%