০৭:৫৭ পি.এম
দেশের চামড়া শিল্প, যা দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত, আরও গতিশীল করে প্রতি বছরে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে রপ্তানি আয় বাড়ানোর জন্য সরকার ২০২৬ সালের জুলাই মাসের মধ্যে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে, এমনটি জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আজ জাতীয় সংসদে।
বিরোধী দলের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪)-এর এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের চামড়া শিল্পকে গতিশীল করতে এবং এর আয় ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে সরকার ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ গ্রহণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
সাভার চামড়া শিল্পনগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, খাতটিকে পরিবেশসম্মত এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম শিল্পে রূপান্তরিত করতে সরকার আধুনিক প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘এনসিপিকে জামায়াত জোট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে’ রাশেদ খানের মন্তব্য
মন্ত্রী জানান, সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি)-এর কারিগরি মূল্যায়ন ইতোমধ্যে ইতালীয় প্রতিষ্ঠান ইতালপ্রোজেত্তি সম্পন্ন করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, পরিকল্পনার অনুযায়ী সিইটিপি’র বর্জ্য শোধন সক্ষমতা জরুরি ভিত্তিতে ২৫ হাজার ঘনমিটার পর্যন্ত উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখেও এই সক্ষমতা ৪০ হাজার এবং পরে ৫০ হাজার ঘনমিটারে উন্নীত করতে পৃথক নকশা ও ডিজাইন প্রস্তুত করা হবে।
কেন্দ্রীয় শোধনাগারের ওপর চাপ কমানোর জন্য সরকার ছয়টি ট্যানারিকে নিজস্ব বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে, আর এর মধ্যে দু’টি ইতোমধ্যে কার্যকর করেছে। এছাড়া, আরও ২০ থেকে ২৫টি তুলনামূলক বড় ট্যানারিকে নিজের ইটিপি স্থাপনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ট্যানারির বর্জ্যকে মূল্যসংযোজিত শিল্পপণ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে সরকার সার্কুলার ইকোনমি বা পুনর্ব্যবহারভিত্তিক অর্থনীতির ধারণা বাস্তবায়ন করছে।
আরও পড়ুন: জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াডে সেরা ১০-এর মধ্যে বেরোবির ৫ শিক্ষার্থী
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ জে-ডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোম্পানি লিমিটেড ক্রোম শেভিং ডাস্ট থেকে শিল্প ব্যবহারের জন্য প্রোটিন পাউডার উৎপাদনের কাজ শুরু করেছে। এছাড়া, ফ্লেশিং বর্জ্য থেকে ট্যালো ও জৈব সার উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং কাঁচা কাটিং বর্জ্য থেকে জেলাটিন উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমও সফলভাবে চলমান রয়েছে।
চামড়া শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ ও নগদ সহায়তা সহজ করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সমন্বিত রোডম্যাপ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক এবং পরিবেশসম্মত শিল্পে পরিণত হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মান অর্জন এবং লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজির) সনদ অর্জনের জন্য ট্যানারি মালিক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি, সভা, সেমিনার, কর্মশালা এবং সক্ষমতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিপথগামী যুবসমাজকে আলোর পথে ফেরাতে ইসলামি অনুশাসন জরুরি: ড. খন্দকার মারুফ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন