বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:০৫ এম
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের অভিযান চলাকালীন, মাদকসহ গ্রেপ্তার হওয়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক অ্যাসেন্ট রায়কে জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দরা সাংগঠনিক পদ থেকে বহিস্কার করেছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক তৌফিকুল ইসলাম ইমরান এবং সদস্য সচিব মো. আল আমিন মৃধা তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তাদের দুইজনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ছাত্রদলের গঠণতন্ত্র ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অ্যাসেন্ট রায়ের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. আল আমিন মৃধা অ্যাসেন্ট রায়ের বহিস্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদক সংক্রান্ত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে, গত রবিবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ জোবারপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ পিস ইয়াবাসহ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক অ্যাসেন্ট রায়কে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উপসহকারি প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেও ৬ বছরের অধিক সময় ধরে দপ্তর প্রধানের চেয়ারে বসে আছেন মাকসুদ এম.এ হান্নান, (পটুয়াখালী -দুমকি) মো. মাকসুদুর রহমান। পটুয়াখালীর বাউফলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে তিনি কর্মরত রয়েছেন। সহকারী প্রকৌশলীর পদ শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন। তবে, তার দায়িত্ব পালন করার সময়কাল দুই এক বছর নয়, বরং প্রায় ৬ বছর ধরে তিনি কর্তার চেয়ারে বসে আছেন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী তিন বছরের বেশি সময় একই কর্মস্থলে থাকতে পারেন না। কিন্তু জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে তাকে বারবার অন্যত্র বদলি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও অদৃশ্য ক্ষমতার প্রভাবে তিনি একই কর্মস্থলে অবস্থান করছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও একাধিক সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের শুরুতে বাউফলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে যোগদান করেন মাকসুদুর রহমান। সহকারী প্রকৌশলীর পদ শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পান। উপসহকারী হয়ে তিনি কার্যালয়ের প্রধান বনে গিয়ে হয়ে উঠেছেন বেপরোয়া।
নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য আ.স.ম ফিরোজ, উপজেলা চেয়ারম্যান মোসরেফ হোসেন খান সহ শীর্ষ নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। ফলে, মাকসুদ একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠেন। তার একক নিয়ন্ত্রণে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিন বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকতে না পারলেও তিনি প্রায় ৬ বছর ধরে একই কর্মস্থলে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের আমলে তাকে একাধিক বার বদলি আদেশ দেওয়া হলেও সাবেক সংসদ সদস্য আ.স.ম ফিরোজের মাধ্যমে বদলি আদেশ বাতিল করা হয়।
২৪,র ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতন হলে মাকসুদ নতুন করে ইউটান নিয়ে স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নেতাদের সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় করেন। এর ফলে, তিনি আবারও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন সময় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমের শিরোনাম হলেও, অদৃশ্য ক্ষমতার অধিকারী এই উপসহকারী প্রকৌশলী বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
মাকসুদের যত অনিয়ম
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেছেন। নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না মাকসুদ। তার বিরুদ্ধে গভীর নলকূপ স্থাপন ও পানি সরবরাহ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সারাদেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার কালাইয়া ও কালিশুরী বন্দরে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। নির্মাণ কাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, শিডিউল অনুযায়ী কাজ না করা, বৃষ্টির মধ্যে পানির ট্যাঙ্কির ঢালাই এবং রাতের আঁধারে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। কাজের তথ্য জানতে একাধিক বার কার্যালয়ে গিয়েও সাংবাদিকদের তথ্য দেননি তিনি। এমনকি অভিযোগের বিষয়ে জানানো সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানাচ্ছে, দুটি কাজের তদারকের দায়িত্বে রয়েছেন উপ-সহকারি প্রকৌশলী মাকসুদ। সাব ঠিকাদার হিসেবে একই ব্যক্তি কাজ দুটি করছেন। তাকে (মাকসুদ) ম্যানেজ করেই নির্মাণ কাজে অনিয়ম করছেন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
এদিকে, প্রতিবছর স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুকূলে বিশেষ বরাদ্দ, এডিপি ও রাজস্ব প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিপর্যায়ে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। যার অধিকাংশ নলকূপের প্ল্যাটফর্ম (চাতাল) নির্মাণ না করে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।
দাশপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল হক বলেন, ‘২০২৪ সালে সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও এখন পর্যন্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেওয়া হয়নি। একাধিক বার বলার পরেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কার্যালয়ের সাবেক এক কর্মচারী জানান, গভীর নলকূপ স্থাপনের পর অধিকাংশ টিউবওয়েলে পাকা প্ল্যাটফর্ম (চাতাল) নির্মাণ না করে বরাদ্দের টাকা ঠিকাদারের সাথে সমঝোতা করে আত্মসাৎ করেন মাকসুদ। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপসহকারী প্রকৌশলী মাকসুদুর রহমানের দপ্তরে গেলে তিনি বলেন, ‘নিউজ করার দরকার নেই, তথ্যও নেওয়ার দরকার নেই। আমি এমনিতেই চলে যাব।’ এরপর আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি এবং ব্যস্ততার অজুহাতে কথা বলা বন্ধ করে দেন।
বিষয়টি পটুয়াখালী জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ৭ মাস আগে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। পরে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে তা স্থগিত করা হয়। যেহেতু তিনি ৫ বছরেরও বেশি সময় একই কর্মস্থলে রয়েছেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, গভীর নলকূপের বিষয়ে বাউফল নিয়ে প্রায় অভিযোগ আসে। বর্তমানে অভিযোগ অনেকটা কমেছে। যে কারণে ফাইন বিল চূড়ান্ত করার আগে আমি কিছু টিউবওয়েল চেক করিয়ে নেই। আবার যারা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, তাদের টিউবওয়েলের প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে যদি কোনো অভিযোগ আসে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানি সরবরাহ প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, বৃষ্টির মধ্যে নির্মাণ কাজ করার যে ভিডিও গণমাধ্যমে এসেছে তা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যদি কাজে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে গিয়ে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রকে মারধর করার পর কানধরে ওঠবস করানোর। বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে আটক করে তার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নাঠৈ রিজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত লিপন শরীফ নাঠৈ গ্রামের বাসিন্দা বাদশা শরীফের ছেলে এবং জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে লিপন শরীফকে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। গৌরনদী উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রট মো. মেহেদী হাসান ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মো. শাহিন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লিপন শরীফ দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিল।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্কুলের বিরতীকালীন সময়ে লিপন শরীফ অহেতুক দশম শ্রেণীর এক ছাত্রকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে স্কুলের মাঠে এনে কানধরে ওঠবস করানো হয়। এসময় বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা লিপনের প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লিপন শরীফ শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। প্রধান শিক্ষক আরও জানান, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
এসময় লিপন শরীফ লাঠি হাতে স্কুলে প্রবেশ করলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে স্কুলের একটি কক্ষে আটক করে রাখে। পরিস্থিতি চরম উত্তেজনায় পৌঁছালে তিনি (প্রধান শিক্ষক) বিষয়টি স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীমকে অবহিত করেন।
সূত্রমতে, ইউএনওর নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান থানা পুলিশসহ ঘটনাস্থলে আসেন। এসময় স্কুলের শিক্ষার্থীরা লিপন শরীফের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে লিপন শরীফকে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রীদের উপর শ্লীলতাহানিকর কথা বলা, ছাত্রদের উপর অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ এবং শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে লিপন শরীফকে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দণ্ডিত করা হয়েছে। গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন, দণ্ডপ্রাপ্তকে ওইদিন দুপুরে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত যুবদল নেতা লিপন শরীফ জানিয়েছেন, "প্রায়দিনই স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করে আসছিলো। বিষয়টি শিক্ষকদের জানিয়েও কোন প্রতিকার মেলেনি। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে নিজের সন্তানের মতো ভেবে শিক্ষার্থীদের শাসন করতে গিয়ে আমি নিজেই দণ্ডিত হয়েছি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জন্মদাতা পিতাকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পুত্রকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে। বরিশালের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ১৬ বছর পর এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।
একই মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে। দন্ডিত পুত্র পলাশ হাওলাদার পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, দন্ডিত পুত্র পলাশ হাওলাদার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পরমানন্দ সাহা গ্রামের মৃত আলী আকবর হাওলাদারের ছেলে। মামলার অপর আসামি কাওসার হাওলাদার ও মিজান হাওলাদারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরও বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার বাদি নিহত আলী আকবর হাওলাদারের অপর পুত্র মো. শহিদ হাওলাদার এজাহারে উল্লেখ করেছেন যে, তাদের মা দীর্ঘদিন পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের পিতা একজন দিনমজুর ছিলেন। শহিদ জানান, তার মেঝ ভাই পলাশ সাকরাল গ্রামের ইসমাইল হোসেনের কন্যা জোছনা আক্তারকে বিয়ে করে প্রায় একবছর সংসার করে। পরে সে (পলাশ) পরিবারের সকলের অমতে ভদ্রসা গ্রামের শাহ আলম রাঢ়ীর কন্যা সুইটি বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করে শশুর বাড়িতে বসবাস শুরু করে।
শহিদ আরও উল্লেখ করেন, প্রায়ই পলাশ তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে উঠতে চাইলে তার বাবা বাঁধা প্রদান করতেন। এতে পলাশের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে পলাশের প্রথম স্ত্রী জোছনা বেগমকে কোনো প্রকার ভরণপোষণ না দেওয়ায় তিনি (জোছনা) পলাশের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পলাশ কিছুদিন কারাভোগ করে জামিনে বের হয়ে আসে।
বাদি বলেন, ওই মামলা দায়েরের জন্য পলাশ তার বাবা আলী আকবরের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। ফলে কারাভোগের প্রতিশোধ নিতে পলাশ মরিয়া হয়ে ওঠে। ২০১০ সালের ২ মে সন্ধ্যার পর পলাশের সাথে তাদের পিতার তুমুল বাগবিতন্ডা হয়। ওইদিন দিবাগত মধ্যরাতে পলাশসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন ব্যক্তি তার ঘুমন্ত পিতাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরের দিন (৩ মে) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে প্রতিবেশী আলমগীর হাওলাদার তাদের পিতাকে পাশ্ববর্তী একটি ধান ক্ষেতে হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা এবং চোখমুখ গামছা দিয়ে বাঁধাসহ রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং তাদের (শহিদ) বাড়িতে খবর দেন।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুমূর্ষ অবস্থায় তাদের বাবা আলী আকবর হাওলাদারকে উদ্ধার করে প্রথমে উজিরপুর উপজেলা হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার (আলী আকবর) মৃত্যু হয়। এরপর নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয়।
এহাজারে উল্লেখ রয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সযোগে আলী আকবরকে বরিশালে নেয়ার সময় পলাশ অ্যাম্বুলেন্সে উঠে তার বাবার গায়ে হাত দিতে গেলে তার বাবা পলাশের হাত সরিয়ে দেন। তবে সেসময় তিনি (আলী আকবর) মুখে কোনো কথা বলতে পারেননি। এতে বাদির সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে বাদির ছোট ভাই সবুজের কাছ থেকে ওইদিন রাতে পলাশ ও তার সহযোগিরা বাবাকে ডেকে নিয়ে যাবার ঘটনা শুনে থানায় এসে তিনি হত্যা মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর এ মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৫ মার্চ উজিরপুর মডেল থানার ওসি সুকুমার রায় আদালতে তিনজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করেন। মামলায় একাধিক স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার বিচারক উল্লেখিত রায় ঘোষণা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ধানখালী এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ক্লাশ চলাকালীন সময়ে প্রথমে আনুমানিক একটার দিকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে বিদ্যালয়ের সিড়িতে অবস্থানকালে অসুস্থ হয়ে যায়, এবং তার প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। এর পরপরই অন্তত ২০-৩০ শিক্ষার্থী একে একে অসুস্থ হতে শুরু করে।
হাইস্কুল সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান সোহাগ জানান, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অসুস্থদের কয়েকজনকে স্কুল থেকে ৩-৪ কিলোমিটার দূরে কলেজ বাজারের চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যান। এরপর সেখান থেকে দ্রুত কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত অন্তত ২৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে ২৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী হঠাৎ করে অচেতন হয়ে যায়। সন্তানের হঠাৎ অসুস্থতার দৃশ্য দেখে অভিভাবকরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নানা শঙ্কায় অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন। সহপাঠিরা জানান, অসুস্থ হয়ে পড়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী নবম ও দশম শ্রেণির।
একাধিক শিক্ষক জানান, স্কুলের ক্লাশের মাঝখানে (লেইজার) দুপুরের বিশ্রাম চলছিল। তখন থেকেই এক এক করে ছাত্রীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। এর মধ্যে ওই স্কুলের শরীরচর্চা শিক্ষক ইকবাল হোসেনও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে কলাপাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: টেন মং জানান, মেডিকেল সাইন্সে এটিকে ‘মাস সাইকোজেনিক ইলনেস’ বলা হয়। একজনের অসুস্থতা দেখে অন্যজনও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। মানসিক প্রভাবের কারণে এমনটি ঘটে। তবে ভয় পাওয়ার তেমন কিছু নয়। সবাইকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি আশা করছেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবাই সুস্থ হয়ে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ