রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:১১ পি.এম
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টা করা একটি মার্কিন নৌ ড্রোনে তারা হামলা চালিয়েছে। এ দাবি রোববার করা হয়, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিতে সম্প্রচারিত একটি বিবৃতিতে রেভল্যুশনারি গার্ড জানায়, ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের বীর নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীর সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা একটি মার্কিন সামরিক মানববিহীন নৌযানে বা নৌ ড্রোনে হামলা চালিয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র শনিবার জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করা হয়েছে। অপরদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলার দাবি করেছে।
এএফপি সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরু হওয়ার পর এই সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধ বর্তমানে অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ইরান নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা অবরোধ আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে।
সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে ওয়াশিংটন উদ্যোগ নিয়েছে। ইরানের সঙ্গে আর্থিকভাবে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটিকে নতি স্বীকারে বাধ্য করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরানের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী এই শাখা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপের উপকূলে এমটি ডাউনি এবং জাস্কের কাছে এমটি স্টার্ক-১ নামের দুটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে যে সেগুলো আর ব্যবহার করা সম্ভব নয়।
এছাড়া, ওমান উপসাগরে এমটি কাইলো নামের একটি খালি তেলবাহী জাহাজও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। জাহাজটির কর্মীদের সেটি পরিত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়ার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয়।
সেন্টকমের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, জাহাজগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর বড় বড় আগুনের গোলা ও ধোঁয়া দেখা যায়। সেন্টকমের দাবি, তিনটি জাহাজই ‘বহু বিলিয়ন ডলারের একটি গোপন নেটওয়ার্কের’ অংশ ছিল, যা আইআরজিসি এবং ইরানের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য অর্থের জোগান দিত।
হামলার পর সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেছেন, “আপনারা যদি আমাদের দুটি জাহাজে হামলা করেন, তাহলে আমরা আপনাদের তিনটি জাহাজ ধ্বংস করে আরও বড় অর্থনৈতিক মূল্য চাপিয়ে দেব।”
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও একটি ডেস্ট্রয়ারে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ওই দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে পিছু হটতে হয়েছে। তবে সেন্টকম বলছে, জাহাজ দুটি সফলভাবে ইরানের হামলা এড়িয়ে গেছে।
লাইফবোটে তীরে নেওয়া হয় নাবিকদের
মার্কিন হামলার পর আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীর অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং অন্যান্য এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
এ সময় অন্য জাহাজগুলোকে অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম না করার সতর্কবার্তা দেয় আইআরজিসি।
আইআরজিসির এই দাবির বিষয়ে এএফপির প্রশ্নের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি সেন্টকম। হরমুজ প্রণালীতে বেসামরিক তেলবাহী জাহাজে হামলার বিষয়ে ব্রিটিশ নৌ নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘অবৈধ ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছে।
দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের জাস্ক থেকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন, হামলার শিকার একটি ট্যাংকার খালি ছিল এবং অন্যটিতে তেল ছিল। লাইফবোটে করে জাহাজগুলোর নাবিকদের তীরে নিয়ে যাওয়া হয়।
খার্গ দ্বীপ থেকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের আরেক প্রতিবেদক জানান, সেখানে চালানো হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড খাতাম-আল-আনবিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে তেহরানের পাল্টা হামলা আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ হবে এবং এর পরিধি আরও বাড়তে পারে।
ট্রাম্পের কাছে ইরান যুদ্ধ ‘ছোটখাটো বিষয়’
ছয় মাস ধরে চলা এই সংঘাতের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধটির জনপ্রিয়তা ক্রমেই কমছে এবং সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এমনকি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, তিনি এই সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ বলবেন না।
শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভ্যান্সের মন্তব্যের সমর্থন করে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ছোটখাটো বিষয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই চলতি সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান ‘নতুন কৌশল’ গ্রহণ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তি নড়িয়ে দেবে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা
হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের অবরোধের কারণে তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
জুলাই মাসে কৌশলগত এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প বারবার হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার হুমকি দিয়েছেন। এমনকি তিনি একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে প্রণালীটিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো হয়।
ভ্যান্সও বলেছেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করবে না।
তবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় প্রশাসন এখন এমন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফিরে আসছে।
বৃহস্পতিবার ভ্যান্স বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ কার্যত শেষ হয়ে গেছে।’
সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ
সর্বশেষ সংঘাত শুরু হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানের বদলে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছিল বলে মনে করা হচ্ছিল।
শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় একটি তুর্কি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে আইআরজিসির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে একটি বড় মিসরীয় ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের কার্যক্রমকে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ নেয় ওয়াশিংটন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের ওপর ‘অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ’ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ প্রয়োগের অভিযানে অংশ নেবে না, তাদের জন্যও গুরুতর পরিণতি হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হরমুজ প্রণালির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান কার্যত বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানিতে একটি বড় ধস দেখা দিয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার আগের সময়ের তুলনায় গত আগস্টে অঞ্চলটি থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ৩৯ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের সূচনা হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।
তেলবাহী জাহাজের চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ট্যাংকারট্র্যাকার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হচ্ছিল। তবে মে মাসে এই রপ্তানি ৬৭ শতাংশ কমে যায়, যা সবচেয়ে বেশি। আগস্টে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও মাসজুড়ে দৈনিক ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৭২ লাখ ব্যারেল। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকার কারণে কয়েক দশকের মধ্যে সমুদ্রপথে সবচেয়ে বড় পণ্য পরিবহন সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গত এক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৬ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছেছে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯১ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তেলের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানির মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় খুচরা দাম গ্যালনপ্রতি ৫ দশমিক ৮৫ ডলারে পৌঁছে নতুন রেকর্ড গড়েছে। মার্কিন সংস্থা এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ডিজেল সরবরাহে জটিলতা সৃষ্টি করেছে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।
রিস্ট্যাড এনার্জির প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্লদিও গালিমবার্তি মন্তব্য করেছেন, "অর্থনীতির প্রায় সব খাতই ডিজেলের ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল।" তিনি আরও বলেন, জ্বালানি মূল্যের এই বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক হতে বিলম্ব হওয়ায় সিটি গ্রুপ চলতি প্রান্তিকে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দামের পূর্বাভাস বৃদ্ধি করে ৮৬ ডলার করেছে। এএনজেডের বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তবে স্বল্পমেয়াদে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৯৫ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক জামিন লাভ করেছেন। রবিবার, হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করে।
বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।
বিদিশার পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন আইনজীবী মো. মাসুদ মিয়া। তিনি জানান, "এর ফলে বিদিশা সিদ্দিকের মুক্তিতে আইনি বাধা নেই।"
রাজধানী ঢাকার গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সম্প্রসারিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখার জন্য বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামা করছে।
বাজারে চাহিদা অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার জোগান থাকা সত্ত্বেও, গত মাসে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়নের জন্য ধাপে ধাপে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি এবং টাকার মান হ্রাস করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ডলারের দাম পূর্বের অবস্থানে ফিরে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসের শুরুতে আন্ত ব্যাংকে ডলারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দাম ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। এরপর সেটি বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় পৌঁছেছিল।
তবে আজ ডলারের দাম ১২২ টাকা ৭৮ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুসারে, আজকের (০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সর্বনিম্ন মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—
মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা
ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৭৮ পয়সা
ইউরো : ১৪২ টাকা ৫৮ পয়সা
পাউন্ড : ১৬৬ টাকা
কানাডিয়ান ডলার : ৮৮ টাকা ৭০ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৭ টাকা ৪২ পয়সা
চায়নিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ৩০ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৬ টাকা ৮৯ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৯ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ৩৯ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৯৭ পয়সা
কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৭১ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৬ টাকা ৯৪ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৪৬ পয়সা
*মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাস আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিসিয়াল রেটের মধ্যে ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
যদিও আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নের ফলে সম্প্রতি ডলারের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছিল।
তবে বর্তমানে সেটি পূর্বের অবস্থানে ফিরে এসেছে। আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তিদায়ক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ