ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সকাল ৯টার মধ্যে ৬ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস


সকাল ৯টার মধ্যে ৬ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

দেশের কিছু অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রদত্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য উঠে এসেছে।

পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

আরও পড়ুন: সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা কমতে পারে: আবহাওয়ার পূর্বাভাস

এইসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৮ এম


কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের স্থান থেকে বের হওয়া গ্যাসের আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে ইনানীর ছোটখাল সংলগ্ন সিকদারবাজার এলাকার একটি বাড়ির আঙিনায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। বিকেল ৫টার পর আগুনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। আগুনের শিখা দেখতে মেরিন ড্রাইভ ও ছোট ব্রিজ এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি দল কাজ করছে। কিন্তু উচ্চচাপে গ্যাস নির্গত হওয়ায় আগুন নেভানোর চেষ্টা সফল হয়নি। পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ঢাকায় থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল রাত ১০টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ভূগর্ভ থেকে উচ্চচাপে গ্যাস বেরিয়ে আসার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। গ্যাসের প্রকৃত উপাদান ও বৈশিষ্ট্য পরীক্ষার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে, আগুন বিদ্যুতের তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

উচ্চচাপে গ্যাস নির্গমনের আশঙ্কা

বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের দলনেতা এস এম নাফিকুন আরহাম বলেন, ইনানীতে গ্যাস উদ্গিরণ ও আগুনের ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে উচ্চচাপের গ্যাসের অনিয়ন্ত্রিত নির্গমন বা ‘ব্লোআউট’-এর মতো মনে হচ্ছে। প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে নলকূপ খননের সময় গ্যাসের স্তরের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর ভূগর্ভের উচ্চচাপের গ্যাস বিভিন্ন ফাটল বা দুর্বল স্তর দিয়ে ভূপৃষ্ঠে উঠে এসে থাকতে পারে। পরে কোনো উৎস থেকে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের সংস্পর্শে এসে গ্যাসে আগুন ধরে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আগুনের শিখা ও ধোঁয়ার ধরন দেখে গ্যাসে উচ্চতর হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। তবে গ্যাসের প্রকৃত উপাদান ও বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেয়া হবে।

এস এম নাফিকুন আরহাম আরও বলেন, গ্যাসের চাপ বেশি থাকায় জোর করে এর প্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এতে গ্যাস অন্য কোনো ফাটল বা দুর্বল স্তর দিয়ে বেরিয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আপাতত মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দুর্ঘটনা এড়াতে আগুনের চারপাশে অন্তত ২০০ মিটার, সম্ভব হলে আরও বেশি এলাকাজুড়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে। গ্যাসের চাপ ও নির্গমনের মাত্রা বিশ্লেষণ না করে আগুন কত দিন জ্বলবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

বালু ও পানি দিয়েও নেভানো যায়নি আগুন। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, পাইপলাইনের গ্যাস হলে ভালভ বন্ধ করে নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো। কিন্তু এখানে প্রাকৃতিকভাবে উচ্চচাপে গ্যাস বের হচ্ছে, যার প্রবাহ স্বাভাবিক গ্যাসলাইনের তুলনায় অনেক বেশি।

তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বালু ও বালুভর্তি সিমেন্টের বস্তা ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি চারদিক থেকে পানি ছিটিয়েও আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর একটি দল এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং নিরাপত্তার বিষয়টি দেখেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন আগে ওই বাড়ির আঙিনায় নলকূপ বসানোর জন্য খননকাজ শুরু হয়। প্রায় এক হাজার ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করেও পানি পাওয়া যায়নি। পরে তিন দিন আগে খননকাজ অন্য স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। মঙ্গলবার ভোরে আগের খনন করা স্থান থেকে হঠাৎ গ্যাস বের হতে শুরু করে। একপর্যায়ে গ্যাসে আগুন ধরে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সকাল ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে সেখানে বালু আনা হয়। তবে বালু ও বস্তা ফেলার পর আগুনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়।

আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা

বাড়ির মালিক মো. আবদুল্লাহ বলেন, দুই বছর আগে ২০ শতক জমি কিনে সেখানে কয়েকটি রিসোর্ট নির্মাণ করেছি। পরিবার নিয়ে ওই এলাকায় বসবাস করি। প্রায় ১৫ দিন আগে জমিতে নলকূপ বসানোর কাজ শুরু হয়। এক হাজার ফুট খনন করেও পানি না পাওয়ায় পরে খননকাজ অন্য স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে আগের খনন করা স্থান থেকে হঠাৎ গ্যাস বের হয়ে আগুন জ্বলে ওঠে। শ্রমিকেরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা এখনো সেখানে অবস্থান করছেন। আগুন যেভাবে জ্বলছে, তাতে পরিবার নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শামশুল আলম বলেন, পরিত্যক্ত খননস্থান থেকে গ্যাস বের হওয়ার পর বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন ধারণা করছেন। আগুন নেভাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চললেও সফলতা আসেনি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক গোলাম মুর্শিদ সরকার বলেন, ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দা ও উৎসুক মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়েছে। তাদের নিরাপদ দূরত্বে রাখা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

গ্যাসের মজুত আছে কি না, অনুসন্ধান করবে বাপেক্স। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ব্রিটিশ আমলেও এ এলাকায় গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। পরে সেই গ্যাসের নির্গমন বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ছাড়া এলাকায় প্রায় ৪০০ ফুট গভীরে খনন করলেও গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায় বলে স্থানীয়দের মধ্যে ধারণা রয়েছে। তবে এসব দাবির সত্যতা এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত নয়।

স্থানীয় বাসিন্দা করিম সিকদার মনে করেন, এলাকায় গ্যাসের উপস্থিতি ও সম্ভাব্য খনিজ সম্পদ সম্পর্কে জানতে সরকারের দ্রুত বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালানো উচিত।

খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ও উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে আগুন নেভানোর কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও এক্সকাভেটর আনার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দলকে ডাকা হয়েছে। দলটি গ্যাসের নমুনা পরীক্ষা ও কারিগরি অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করবে। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছাড়া এ এলাকায় গ্যাসের মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

এ মুহূর্তে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা, উৎসুক মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই প্রশাসন কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৮ এম


তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক যুবক প্রবাসী মো. সোহেল মিয়ার স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে, তাহিরপুর উপজেলার আমবাড়ী এলাকার এরশাদ মিয়ার ছেলে নাজমুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি প্রবাসী সোহেল মিয়ার স্ত্রী আতাবুন নেছাকে নিয়ে চলে গেছেন। একই সঙ্গে, পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন যে, সোহেলের কষ্টার্জিত পাঁচ লাখ টাকা তিনি নিয়ে গেছেন।

প্রবাসে থেকে উপার্জিত টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠায় ভুক্তভোগী পরিবার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

প্রবাসী মো. সোহেল মিয়া জানান, মঙ্গলবার সকালে তিনি জানতে পারেন যে, তার স্ত্রী নাজমুলের সঙ্গে চলে গেছেন। তিনি দাবি করেছেন, স্ত্রীর কাছে তার কষ্টে উপার্জন করা পাঁচ লাখ টাকা ছিল, যা তিনি নিয়ে গেছেন।

সোহেল মিয়ার ভাই ও মালদ্বীপপ্রবাসী জুয়েল মিয়াও একই অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে তারা জানতে পারেন যে, তার ভাইয়ের স্ত্রী গ্রামের নাজমুল নামে এক যুবকের সঙ্গে চলে গেছেন। পরে তারা জানতে পারেন, যাওয়ার সময় তিনি জমানো পাঁচ লাখ টাকাও সঙ্গে নিয়ে গেছেন।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত চার বছর ধরে সোহেল মিয়া প্রবাসে থাকায় তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে ছিলেন। তবে প্রায় দুই মাস আগে তিনি স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়েটে ৩৬ দিন পর বুধবার থেকে ক্লাস শুরু, বিভাগের প্রধানরা নিশ্চিত নন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৯ এম


চুয়েটে ৩৬ দিন পর বুধবার থেকে ক্লাস শুরু, বিভাগের প্রধানরা নিশ্চিত নন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে চলমান অচলাবস্থা ৩৬ দিনে প্রবাহিত হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গত রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে এক বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, বুধবার থেকে একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, অধিকাংশ বিভাগের বিভাগীয় প্রধানরা একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানো হয়। সভা শেষে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির জানান, ক্লাস শুরুর তারিখ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিজেদের মতো করে নির্ধারণ করবে। তবে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে অধিকাংশ বিভাগের বিভাগীয় প্রধানরা এখনও নিশ্চিত নন।

চুয়েটের স্নাতক পর্যায়ের ১২ বিভাগের মধ্যে ১১টি বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ১টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. প্রণব কুমার ধর জানান, তিনি এখনও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো আবেদন পাননি। শিক্ষার্থীরা কোর্স সমন্বয়কের মাধ্যমে আবেদন করলে তা বিবেচনা করে ক্লাস শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, "আমাদের বিভাগ ক্লাস নেওয়ার জন্য শতভাগ প্রস্তুত আছে। চতুর্থ বর্ষ কাল থেকে ক্লাস শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্যান্য বর্ষের শিক্ষার্থীরা রবিবার থেকে ক্লাস শুরু করার ব্যাপারে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছে।"

যন্ত্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ভূঁইয়া জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বুধবার থেকে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা করেছেন তারা। তিনি বলেন, "অনেকে দূর-দূরান্তে আছে, তাই তাদের আসার জন্য সময় দিতে হচ্ছে। আমি বলেছি, তোমরা মঙ্গলবার আসো, আমরা বুধবার থেকে শুরু করতে চাই। দুই-একজনের কিছুটা দ্বিধা থাকলেও অধিকাংশই বুধবার থেকে ক্লাসে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। আমরা এমনিতেই পিছিয়ে পড়েছি, তাই আপাতত ক্লাস শুরু করতে চাই।"

পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রিয়াজ আকতার মল্লিক জানান, ক্লাস করার জন্য শিক্ষার্থীদের ডাকা হয়েছে। তারা উপস্থিত হলে ক্লাস নেওয়া হবে। ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ই-মেইলের মাধ্যমে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর কথা জানিয়েছে। তবে অন্যান্য ব্যাচগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।

ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, "আমি গত দুই দিন ধরে ছুটিতে আছি তাই এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে জানাতে পারছি না। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তারা রবিবার থেকে ক্লাস শুরু করবে। তবে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলে আগামীকাল থেকেই ক্লাস শুরু করার জন্য প্রস্তুতি আছে।"

পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম জানান, ক্লাস শুরুর ব্যাপারে বিভাগের প্রস্তুতি রয়েছে।

বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. নিপু কুমার দাশ বলেন, "আমাদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা বুধবার থেকে ক্লাস শুরু করবে। তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা, তারা আগামী সপ্তাহে পরীক্ষা দিতে চায়। অন্যান্য বর্ষের শিক্ষার্থীরা রবিবার থেকে ক্লাস শুরু করবে। ক্লাস-পরীক্ষা নেয়ার জন্য বিভাগের যথাযথ প্রস্তুতি রয়েছে।"

মেকাট্রনিক্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. প্রসেনজিৎ দাশ জানান, তাদের বিভাগে ২২ ব্যাচের একটি গ্রুপ বুধবার থেকে ক্লাস শুরুর আবেদন করেছে। অন্যদিকে প্রথম বর্ষের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আগামী রবিবার থেকে ক্লাসে ফেরার কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া ২১ ব্যাচের পরীক্ষা চলছিল।

বস্তু ও ধাতব কৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশিদ জানান, এই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা রয়েছে। অন্য ব্যাচগুলো আগামী রোববার থেকে ক্লাস শুরুর বিষয়ে আবেদনপত্রের মাধ্যমে জানিয়েছে।

নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ফৌজিয়া গুলশানা রশিদ লোপা জানান, বুধবার থেকে সকল বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে।

স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সজল চৌধুরী জানান, তিনি ছুটিতে রয়েছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় যে সিদ্ধান্ত নেবে, তাদের বিভাগ সেটিই অনুসরণ করবে। বুধবার থেকে ক্লাস শুরুর বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাননি তিনি। তবে সকল বিভাগ ক্লাস শুরু করলে স্থাপত্য বিভাগও ক্লাস শুরু করবে।

এ বিষয়ে পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোছাঃ ফারজানা রহমান জুথীর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।

প্রসঙ্গত, চুয়েটের চলমান সংকট সমাধানের লক্ষ্যে আগামীকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইউজিসির গঠিত পরামর্শক কমিটি চুয়েটের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাবিতে মুক্তিযোদ্ধা মানিকের স্মরণে শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বালন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৯ এম


জাবিতে মুক্তিযোদ্ধা মানিকের স্মরণে শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বালন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মোমবাতি প্রজ্বালন করেছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী দুর্বার আদি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মানিকের মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর ব্যানারে শহীদ মিনারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শিক্ষার্থীরা মুরাদ চত্বরে জড়ো হয়ে মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে মানিক পশারীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

দুর্বার আদি বলেন, "সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিন্দনীয়।" তিনি প্রশ্ন করেন, "একজন মুক্তিযোদ্ধাকে নিজের জন্মভূমিতে দাফন করতেও বাধার মুখে পড়তে হবে কেন?"

কর্মসূচিতে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী জাবি শাখার সংগঠক সোমা ডুমরী মন্তব্য করেন, মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উদ্বেগজনক। আইনি প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে কারো দাফনে বাধা দেওয়া তার অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল।

মানিক পশারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তারা মোমবাতি জ্বালিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%