০৮:১০ পি.এম
ফরিদপুরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটানোর অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের চাকরিচ্যুত দুই সদস্য রয়েছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য মো. লিমন মিয়া (৩৪), যিনি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার নান্দাহা গ্রামে বসবাস করেন। অপরজন, সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য মো. ইমদাদুল হক, যিনি জাহাঙ্গীর (৫৫) নামেও পরিচিত, খুলনার লবণচরা থানার বাসিন্দা এবং বর্তমানে ফরিদপুর শহরের রঘুন্দনপুরের মাজেদ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া। এছাড়া, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. সাখাওয়াত মুন্সি, যিনি সাকা (৩৬) নামে পরিচিত।
আরও পড়ুন: স্মরণসভায় মির্জা আব্বাস / রাজপথের খাঁটি যোদ্ধা ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা
এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মো. শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর সদরের ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীদাসেরহাট এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া করেন তারা। তখন তাদের এক সদস্যকে হাতকড়া পরিয়ে ইজিবাইকের চালককে ফরিদপুর ডিবি অফিসে যেতে বলেন। কিন্তু নির্জন স্থানে পৌঁছানোর পর চালক শহিদুল ইসলামকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইজিবাইকটি ছিনতাই করে পালিয়ে যান তারা। এ সময় চালকের কাছে থাকা মোবাইল ও নগদ অর্থও ছিনিয়ে নেয়া হয়।
ইজিবাইক চালক কোতোয়ালি থানায় এ বিষয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ভিত্তিতে ফরিদপুর ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা লিমন মিয়া এবং তার সহযোগী মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকাকে গ্রেফতার করে। তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী ফরিদপুর শহরের রঘুন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, লিমনের বিরুদ্ধে ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও বোয়ালমারী, রাজবাড়ীর পাংশা, মাদারীপুর সদর এবং ডিএমপির শ্যামপুর থানাসহ বিভিন্ন থানায় কমপক্ষে ১১টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ডিএমপির শ্যামপুর, গেন্ডারিয়া এবং রাজবাড়ী সদর ও পাংশা থানায় কমপক্ষে ৫টি মামলা রয়েছে।
আরও পড়ুন: হত্যা মামলায় গ্রেফতার হলেন ইকবাল সোবহান, মুক্তি পেলেন রাজীব
পুলিশ আরও জানায়, তারা দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই ও ডাকাতির কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে গত ১২ জুন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় নিপুন সিনথেটিক লেদার ইন্ডাস্ট্রিতে ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় মোটরসাইকেল ও নগদ ২৪ লাখ টাকাসহ ৬৪ লাখ টাকার মালামাল ডাকাতি করা হয়। জাহাঙ্গীরের বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় ওই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয় এবং তারা ডাকাতির ঘটনা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানায়।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী এ বিষয়ে জানান, এই চক্রের সঙ্গে একটি বড় ধরনের অপরাধী নেটওয়ার্ক জড়িত। গ্রেফতারকৃতদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে তদন্তের স্বার্থে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার ও চোরাই মালামাল উদ্ধারের উদ্দেশ্যে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন