মোঃ সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি
০৭:১৭ পি.এম
রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে মাদকাসক্ত ছেলেকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকের মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা-মাকে পুলিশ আটক করেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে শহরের আসামবস্তি এলাকার জনৈক সিরাজ সওদাগরের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাকিবুল ইসলাম (২৫) অটোরিকশাচালক রফিকুল ইসলাম ও গৃহবধূ রাখাই ইসলামের দুই সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে।
পারিবারিক সূত্র ও স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, সাকিবুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তাকে মাদকের আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার চিকিৎসা করানো হয় এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) পাঠানো হয়। কয়েক মাস আগে তাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করাতে তাঁর বাবা প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করেন। তবে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পরও তিনি আবার মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে পরিবারের দাবি।
স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকাসক্তির কারণে সাকিবুলের আচরণে পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ছিল। মাদক সেবন এবং কথিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পরিবারের সঙ্গে প্রায়ই তাঁর বাগ্বিতণ্ডা ও বিরোধ হতো। থানা ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি মাদক সেবনের পাশাপাশি মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। কিছুদিন আগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও ছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবারও মাদক সেবন ও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছ।
শনিবার দুপুরে সাকিবুলের সঙ্গে তাঁর বাবা-মায়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতির উত্তাপ বৃদ্ধি পাওয়ার পর তাঁর মা ধারালো দা দিয়ে ছেলের ঘাড়ে কোপ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরে স্থানীয় অটোরিকশাচালক সাইফুল ইসলাম আহত সাকিবুলকে উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফুয়াদ হাসান জানান, ঘাড়ে গুরুতর কাটা জখম অবস্থায় সাকিবুলকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সময়ই তাঁর মৃত্যু ঘটে। হাসপাতালে আনার আগে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্তসঞ্চালন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়ে থাকতে পারে বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
রাঙামাটি কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এবং নিহতের বাবা-মাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া ও মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যে এসেছে, ছেলেকে মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনতে বাবা-মা দীর্ঘদিন ধরে নানা চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। দরিদ্র অটোরিকশাচালক বাবা সন্তানের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করে তবুও তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারেননি বলে স্বজনরা জানান।
দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি, মাদকাসক্তি এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে শেষ পর্যন্ত বাবা-মায়ের হাতেই ছেলের মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি এবং কার আঘাতে সাকিবুলের মৃত্যু ঘটেছে, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের কারণে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন।
হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার কলকাতার পদ্মপুকুরে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তাবিত মিছিলের অনুমতি কলকাতা হাইকোর্ট না দেওয়ার কারণে পরিস্থিতির চিত্রটি পাল্টে যায়।
এতদূর সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও, পূর্বে ঘোষিত এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলে সেখানে পুলিশ ও তৃণমূলের কালিঘাট গোষ্ঠীর সমর্থকদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
যখন বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হচ্ছিল তখন পুলিশ বেলেঘাটা কেন্দ্রের বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং ছাত্রনেতা বৈশ্বনার চট্টোপাধ্যায়কে আটক করে। তার দ্রুত পরে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি জানার পর বিক্ষোভস্থলে পৌঁছান। পরে তিনি স্কুটারে চড়ে কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে যান।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) কালিঘাট গোষ্ঠী, দলের যুব সংগঠন এবং আইটি সেলের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজকদের পরিকল্পনা ছিল পদ্মপুকুর থেকে সিআইটি রোড হয়ে মৌলালি পর্যন্ত মিছিল পরিচালনা করার। কিন্তু পুলিশ পূর্বে দেওয়া অনুমতি প্রত্যাহার করায় আয়োজকরা কলকাতা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। আদালত শেষে ওই মিছিলের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এদিকে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পদ্মপুকুরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের তৃতীয় দফার আলোচনার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে জোরপূর্বক শ্রম রোধে ব্যর্থতার অভিযোগে শুল্ক আরোপ করেছে, সেটার কোনো ভিত্তি নেই। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অডিটরিয়ামে দুটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিদ্যালয় দুটির শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা উপভোগ করেন। এ সময় তিনি মন্তব্য করেন, ‘নতুন শুল্ক আরোপ করা হলে বাণিজ্য পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। আগে যে শুল্ক নীতি ছিল, তাদের আইন অনুসারে সময় অতিক্রম করায় নতুন করে একই মাত্রার শুল্ক থাকবে, তবে তা ভিন্ন নামে।’
মন্ত্রী তীব্র খাদ্য সংকট নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সম্পর্কে বলেন, ‘দেশে ইউরিয়াসহ সব সারের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। ফলে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ওই বিদ্যালয় দুটির পরিচালক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সিলেট জেলা ও মাহনগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্সের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষায় নকলের দায়ে ১২ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার একে মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে চলমান ইংরেজি (আবশ্যিক) বিষয়ের পরীক্ষার সময় এই ঘটনা ঘটে।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে সানন্দবাড়ী ডিগ্রি কলেজের ছয়জন এবং মোফাজ্জল হোসেন মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের ছয়জন শিক্ষার্থী।
কেন্দ্রের সূত্র থেকে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন কেন্দ্রটি পরিদর্শনে যান। এই সময়ে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন এবং বইয়ের কাটা অংশ (কাটিং) পাওয়া যায়।
পরে, পরীক্ষার বিধিমালা লঙ্ঘনের কারণে ১২ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় কয়েকজন পরীক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন ও বইয়ের কাটিং পাওয়া গেছে। পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গ করায় তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ভাইগড় সীমান্তে গভীর রাতে ৯ জন ভারতীয় নারীকে বাংলাদেশের মধ্যে পুশ ইন করার চেষ্টা করেছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কঠোর প্রতিরোধের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
এই ঘটনার কারণে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি এবং বিএসএফ সদস্যদের বাড়তি টহল এবং উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় সেখানে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ভাইগড় সীমান্তের ঘাসুড়িয়া বিওপির ২৯১ নম্বর মেইন পিলারের ২০-এস সাব-পিলার এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, শনিবার ভোরে ভারতের শ্রীরামপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিএসএফ ৯ জন নারীকে জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছে। সেই সময় সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি লক্ষ্য করে বিএসএফকে বাধা দেন।
বিজিবির বাঁশির শব্দ এবং সতর্ক অবস্থানে সাড়া দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত সীমান্তে একত্রিত হন। বিজিবি এবং স্থানীয়দের তোপের মুখে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হন।
পরবর্তীতে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সীমান্তের ওপারে বিএসএফ সদস্যদের আবারও জড়ো হতে দেখা যায়। এ কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।
তবে বিজিবির শক্ত অবস্থান এবং বিজিবি-গ্রামবাসীর যৌথ প্রতিরোধের ফলস্বরূপ, শেষ পর্যন্ত বিএসএফ তাদের পুশ ইন করার চেষ্টা পুরোপুরি বাতিল করে ওই নারীদের ভারতে নিয়ে যায়।
ঘটনার সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে সীমান্তের ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘ভোরে বিজিবির বাঁশির শব্দ শুনে ঘুম থেকে জেগে উঠি। বাইরে এসে দেখি নয়জন নারীকে জোর করে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। আমরা পুরো গ্রামের মানুষ এক হয়ে বিজিবির সঙ্গে তাদের আটকে দিই। সকাল থেকেই ওপারে বিএসএফের আনাগোনা বাড়ায় আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি।’
স্থানীয় সদস্য শুকুর আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোরে বিএসএফের এই অন্যায় অনুপ্রবেশন চেষ্টা গ্রামবাসী এবং বিজিবির যৌথ প্রতিরোধে বানচাল হয়ে যায়। এবার থেকেই সীমান্তজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজমান।
ঘাসুড়িয়া বিওপির কম্পানি কমান্ডার টি আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভারত থেকে অবৈধ উপায়ে ৯ জন নারীকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছিল বিএসএফ। বিজিবির তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির টহল এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ