শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:০৭ পি.এম
ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা কি অপরাধ—এমন প্রশ্ন তুলে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের আটকের তীব্র সমালোচনা করেছেন আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘটনাকে ‘নিরঙ্কুশ স্বৈরাচার’ বলে অভিহিত করেন।
দিল্লিতে সিজেপির প্রস্তাবিত ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিলকে কেন্দ্র করে দীপককে আটকের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কেজরিওয়াল। তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভকারীদের ভয় পান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাকিস্তানে চলে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি। এর আগে এক পোস্টে দীপকের আটককে ‘নিরঙ্কুশ স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে কেজরিওয়াল প্রশ্ন তুলেছিলেন, ভারতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা কি অপরাধ?
এর আগে অভিজিৎ দীপকে নিজ বাসা থেকে আটকের পর অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাকেও আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী এক সাংবাদিকের বরাতে জানা গেছে, পুলিশ সেন্ট্রাল পার্কের আশপাশে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং বিক্ষোভকারীদের এলাকা ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেয়। এ সময় পার্কের কাছে চার থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কনট প্লেস ও এর আশপাশে প্রায় দুই হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাই শোবিজে অভিনেত্রী সাবিলা নূরকে ঘিরে দাম্পত্য টানাপড়েনের গুঞ্জনের মাঝে চিত্রগ্রাহক আবদুল মামুন আলোচনায় আসেন। মামুনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কারণে তার ‘কথিত প্রেমিকা’ তিশা দাবি করেছেন যে, তাদের সাত বছরের প্রেম ও বিয়ে ভেঙে গেছে। তিশার অভিযোগ, দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও বিয়ের কয়েক দিন আগে মামুন সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান।
তিশার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মে তাদের বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। সাবিলা নূর অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং শেষ হওয়ার পাঁচ দিন পর বিয়ের আয়োজন করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কয়েক দিন আগে মামুন তাকে জানান, তিনি আর বিয়ে করতে চান না। কেন এমন সিদ্ধান্ত, তা জানতে চেয়েও স্পষ্ট কোনো উত্তর পাননি বলে দাবি করেছেন তিশা।
গণমাধ্যমকে তিশা বলেন, "যা শুনেছেন সব সত্য। সাবিলা নূরের কারণেই আমার দীর্ঘ সাত বছরের প্রেম এবং বিয়ে ভেঙে গেছে। ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং শেষ হওয়ার পাঁচ দিন পর আমাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। দুই পরিবার থেকে বিয়ের সব আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু আবদুল মামুন হঠাৎ করে জানায়, সে বিয়ে করতে চায় না। পরবর্তীতে জানতে পারি, সাবিলা নূরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কে জড়িয়ে গেছে আবদুল মামুন।"
তিশার অভিযোগ, মামুনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য তিনি একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করেছেন। পরিবারের সদস্যরাও তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনো প্রচেষ্টাতেই কাজ হয়নি। পরে সাবিলার সঙ্গে মামুনের সম্পর্কের কথা জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার পর থেকে মামুনের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
আক্ষেপ প্রকাশ করে তিশা বলেন, "ওরা দুজন আমার সঙ্গে কাজটি ভালো করেনি। সাবিলা নূর আমাদের বিষয় সব জানতেন। কিন্তু সে মেয়ে হয়েও একটিবার আরেকটি মেয়ের কথা ভাবেনি। আমার বড় ক্ষতি করল। আবদুল মামুন একজন তারকা পেয়ে আমাকে ভুলে গেছে।"
তিশা জানান, তাদের বিয়ে আরও আগে হওয়ার কথা থাকলেও ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ের কারণে তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শাকিব খানের মতো তারকার সঙ্গে কাজের সুযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তিনি বিয়ের তারিখ পিছিয়ে দিতে রাজি হয়েছিলেন বলে দাবি করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত তার জীবনে বড় আঘাত হয়ে এসেছে বলে মনে করেন তিনি।
তিশার ভাষ্য, তার পরিবার এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবলেও তিনি তাতে সম্মতি দেননি। তবে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে মামুনের কাছ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি বলে অভিযোগ তার।
এদিকে সাবিলা নূর ও তার স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের দাম্পত্য জীবন নিয়েও সম্প্রতি নানা আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১৯ সালে বিয়ে করেন তারা। তবে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে এবং তারা আলাদা থাকছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে দুজনের কেউই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবিলা ও শাকিব খানকে ঘিরেও নানা আলোচনা ছড়িয়েছে। ‘তাণ্ডব’ ও ‘রকস্টার’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সূত্রে তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাবিলা নূর, নেহাল সুনন্দ তাহের ও আবদুল মামুনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংকে কেন্দ্র করেই সাবিলা ও মামুনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিশা। সিনেমাটির পরিচালক আজমান রুশোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। পরে গণমাধ্যমকে এক বার্তায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।
আজ শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সৈকত এলাকায় এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযানে অংশগ্রহণ করেন চসিকের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৬) প্রণয় চাকমা, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৫) সুবল চাকমা, সংশ্লিষ্ট জোনের কর্মকর্তা, সুপারিনটেনডেন্ট, পতেঙ্গা থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, আনসার বাহিনী এবং চসিকের স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্যরা।
পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং নান্দনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চসিক এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জামায়াতে ইসলামীর বরগুনা জেলা শাখার সাবেক সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসানকে দেখতে গেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি হাসপাতালে গিয়ে গুরুতর আহত শামীম আহসানের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ে পরামর্শ দেন। পরে উপস্থিত সবাইকে নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে শামীম আহসানের পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন।
হাসপাতাল থেকে বের হয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে মানুষকে নাজেহাল করেছেন।" তিনি আরও জানান, "এর আগেও আরেকজনের পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকের বাড়িঘরে হামলা, দোকানপাটে লুটপাট এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে।"
তিনি বলেন, "এ ঘটনার পরপরই আমি সরকারদলীয় চিফ হুইপকে ফোন করেছি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছি। আমি আশা করি, সরকার এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। আমরা আর এ ধরনের ঘটনা দেখতে চাই না। আমরা চাই না, কেউ ফুলের পাপড়ি দিয়েও কাউকে আঘাত করুক। রাজনীতি হবে রাজনীতির ভাষায়, সন্ত্রাসের ভাষায় নয়। আমাদের প্রত্যেকেরই আলাদা রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মসূচি রয়েছে।"
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "আমরা একটি সুস্থ ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ চাই। এ বিষয়ে কারও কোনো বক্তব্য বা অভিযোগ থাকলে তা উপস্থাপনের জন্য জাতীয় সংসদে কথা বলার সুযোগ রয়েছে। আমি সবাইকে সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চা করার আহ্বান জানাচ্ছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এক রুশ সেনা কর্মকর্তা, যিনি ২৬ বছর বয়সী, গোপনে নিজের দেশের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ইউক্রেনকে যুদ্ধের পরিকল্পনা ও সামরিক গোয়েন্দা তথ্য প্রদান করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০০ জনেরও বেশি রুশ সেনা ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরে তিনি সম্মুখযুদ্ধের রেখা পার করে ইউক্রেনে পালিয়ে যান এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত একটি ইউনিটে যোগ দেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তার নাম লেফটেন্যান্ট লেভ স্তুপনিকভ। তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে নিজের পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাকে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য সরবরাহ করতেন। তার কাছে সেনাদের চলাচল, যুদ্ধের পরিকল্পনা এবং নজরদারি ড্রোন ও নিরাপত্তা ক্যামেরার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ছিল।
তবে গোপনে ইউক্রেনকে সহায়তা করার সিদ্ধান্তের জন্য তাকে ব্যক্তিগত মূল্য দিতে হয়েছে। ইউক্রেনে পৌঁছানোর পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিলেও একপর্যায়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার স্ত্রী অভিযোগ করেন, তিনি রাশিয়ার পাশাপাশি দাম্পত্য সম্পর্কের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
যেভাবে ইউক্রেনকে হামলায় সহায়তা করেন
বুদিয়নি মিলিটারি একাডেমি অব দ্য সিগন্যাল কর্পস থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর স্তুপনিকভকে একটি ব্যাটালিয়নের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই ব্যাটালিয়নের দায়িত্ব ছিল ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি উগলেদার দখল করা। তার দায়িত্ব ছিল সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিটের যোগাযোগ সচল রাখা এবং নজরদারি ব্যবস্থার তথ্য তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু এর পরিবর্তে তিনি গোপনে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দাদের কাছে রুশ সেনাদের অবস্থান ও পরিকল্পিত চলাচলের নির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহ করতেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ব ইউক্রেনের এক হিমশীতল সকালে সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে সরে যাওয়ার জন্য স্তুপনিকভ পেটে ব্যথার ভান করেন। এর কিছুক্ষণ পরই ইউক্রেনীয় ক্ষেপণাস্ত্র তার দেওয়া অবস্থান লক্ষ্য করে আঘাত হানে।
ওই হামলায় রুশ কর্নেল গুসেইন মুসায়েভসহ ৬৮ জন রুশ সেনা নিহত হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসায়েভ কিয়েভের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। হামলায় আরও ৬০ জন আহত হন।
হামলার পর ইউক্রেনের এক যোগাযোগকারী স্তুপনিকভকে বার্তা পাঠিয়ে জানতে চান, ‘বিস্ফোরণ হয়েছে? একটি ছবি পাঠাও।’ জবাবে স্তুপনিকভ লেখেন, ‘সেখানে শুধু মাংস।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের পক্ষে তথ্য সংগ্রহের বৃহত্তর একটি গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ ছিলেন স্তুপনিকভ। এ কার্যক্রমে রাশিয়ার এমন নাগরিকদের সহায়তা নেওয়া হয়, যারা ইউক্রেনকে সামরিক তথ্য দিতে আগ্রহী। হাজারো মানুষ—সেনাসদস্য থেকে শুরু করে গৃহিণী পর্যন্ত—এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ইউক্রেনের গোয়েন্দা এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন বদলে দেয় তার অবস্থান। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরোধিতা থেকেই নিজের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্তুপনিকভ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর সময় ইউক্রেনের শহরগুলোর ওপর দিয়ে রুশ হেলিকপ্টার উড়তে এবং বোমা বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখতে পান তিনি। এসব দৃশ্য তাকে আতঙ্কিত করে তোলে।
স্তুপনিকভ বলেন, ‘তারা নিরপরাধ বেসামরিক মানুষের ওপর বোমা ফেলছিল। এটা ছিল অশুভ।’ যুদ্ধ চলার মধ্যেও তার সহযোদ্ধারা কীভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে যাচ্ছেন, তা বুঝতে পারছিলেন না তিনি। বাড়িতে স্ত্রী লিজার সঙ্গে সন্ধ্যায় রুশ বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভিডিও এবং ইউক্রেনের হাতে বন্দি রুশ যুদ্ধবন্দিদের সাক্ষাৎকার দেখতেন।
সামরিক একাডেমিতেও তার মতো চিন্তাভাবনার কয়েকজন ক্যাডেট ছিলেন। চোখাচোখির মাধ্যমে তারা একে অপরের মনোভাব বুঝতে পারতেন। তাদের কেউ কেউ একাডেমি ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও আবেদনগুলো মাসের পর মাস ঝুলে ছিল।
নিজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে স্তুপনিকভ বলেন, ‘আমি আমার আবেগ প্রকাশ করতে পারতাম না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি জ্বলছিলাম।’
ইউক্রেনের গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা করেন মা। স্তুপনিকভের মা তাতিয়ানা ইয়ান্তসেনও পুতিনের বিরোধী ছিলেন। ৪৯ বছর বয়সী এই অফিসকর্মী পুতিনের শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে, তার ছেলে সম্মুখযুদ্ধে দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাস পর, তিনি দিমিত্রো কারপেঙ্কোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কারপেঙ্কো একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার, যিনি ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন। কারপেঙ্কো এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে রুশ তথ্যদাতাদের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। ইউটিউবে রুশ যুদ্ধবন্দিদের ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেও তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু রুশ সেনা বাড়ি ফেরার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থের বিনিময়ে সামরিক তথ্য দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে কারপেঙ্কো ঘোষণা দেন, ইউক্রেনের যুদ্ধপ্রচেষ্টায় সহায়তার জন্য তথ্য দিতে আগ্রহী রুশ সেনাসদস্যদের ২ লাখ ৫০ হাজার রুবল বা প্রায় ২ হাজার ৭০০ ডলার দেওয়া হবে।
শেষ পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই স্তুপনিকভের পালানোর পরিকল্পনা করা হয়। এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে স্তুপনিকভ, কারপেঙ্কো ও ইউক্রেনীয় স্কাউটরা বিপজ্জনক সম্মুখযুদ্ধের রেখা পেরিয়ে যাওয়ার পথ নির্ধারণ করেন।
যেভাবে সম্মুখযুদ্ধের রেখা পেরিয়ে পালান। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাতে নিজের রুশ ইউনিট থেকে পালিয়ে উত্তরের দিকে ইউক্রেনীয় অবস্থানের দিকে রওনা হন স্তুপনিকভ। একটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার থেকে সরাসরি ভিডিও সম্প্রচারের মাধ্যমে ইউক্রেনীয় অপারেটররা তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
প্রায় ৪০ মিনিট পর তিনি এমন একটি গাছের সারির কাছে পৌঁছান, যেখানে ইউক্রেনের ৭২তম ব্রিগেডের সেনারা অবস্থান করছিলেন। রুশ সামরিক পোশাক পরা এক ব্যক্তিকে নিজেদের অবস্থানের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে ইউক্রেনীয় সেনারা সতর্ক হয়ে যান। একটি বাঙ্কার থেকে উঁকি দিয়ে তারা তার দিকে রাইফেল তাক করে সংকেত-শব্দ জানতে চান।
স্তুপনিকভ পূর্বনির্ধারিত উত্তর দেন, ‘পিনাট শপ’। এরপর তাকে ইউক্রেনীয় হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তিনি রাশিয়ান ভলান্টিয়ার কর্পসে (আরভিসি) যোগ দেন। এই ইউনিটে জাতিগতভাবে রুশ সদস্যরা রয়েছেন, যারা পুতিনের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। বর্তমানে স্তুপনিকভ সেখানে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মা ও বোনের ইউক্রেনে যাওয়ার পরিকল্পনা
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্তুপনিকভের মা ও বোন একটি করে ব্যাকপ্যাক ও স্যুটকেস গুছিয়ে মলদোভা যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে ইউক্রেনে প্রবেশ করে কারপেঙ্কোর সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
এদিকে, কয়েক মাস ধরে রুশ সামরিক কর্মকর্তাদের ফোন সামলাচ্ছিলেন তাতিয়ানা। কর্মকর্তারা তার ছেলেকে জীবিত পাওয়া গেলে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর জন্য তাকে চাপ দিচ্ছিলেন। তাতিয়ানা তখন উদ্বিগ্ন মায়ের মতো আচরণ করে বলতেন, ছেলেকে খুঁজে বের করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
এক বছর পর কারপেঙ্কোর সঙ্গে দুই ঘণ্টার একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন স্তুপনিকভ। এতে তার পক্ষত্যাগ এবং ইউক্রেনকে দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
তবে স্তুপনিকভের দাবি, তার কর্মকাণ্ড প্রায় এক দশক আগে সামরিক একাডেমিতে নেওয়া শপথের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা রক্ষার শপথ নিয়েছিলেন। কিন্তু পুতিনের ইউক্রেন আক্রমণ সেই নীতিগুলোই ধ্বংস করেছে বলে তিনি মনে করেন।
স্তুপনিকভ বলেন, ‘আমি কি আমার শপথের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি? আমি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা রক্ষার শপথ নিয়েছিলাম। কিন্তু পুতিন এই তিনটিই ধ্বংস করেছেন।’
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ