০৫:১৬ পি.এম
ভারত রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি উল্লেখ করেন, নৌচলাচলের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং সংঘাত কমানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভারত উভয় দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে।
একটি সম্মেলনে জয়শঙ্কর জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত শুধুমাত্র বক্তব্য দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এ বিষয়ে আরো সরাসরি যুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “কৃষ্ণ সাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ এবং সম্ভাব্য ‘আক্রমণ না করার’ বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে।” জয়শঙ্করের এই বক্তব্যে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে ভারতের আরো সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ভারত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও রাশিয়ার সমালোচনা থেকে বিরত রয়েছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ভোটাভুটিতে ভোটদানে বিরত থেকেছে। আগস্টের শেষের দিকে কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংঘাতের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের মতো ভারতেও সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা : প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, যুদ্ধের অবসানে সংলাপ ও কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই। তিনি জানান, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরো বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের সহযোগিতা জ্বালানি, মহাকাশ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে।
সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে দুই নেতা ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক গভীর করার অঙ্গীকার করেন। এ বৈঠকটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে রাশিয়া থেকে দূরত্ব বজায় রাখার জন্য চাপ দিচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে নয়াদিল্লিকে রুশ তেল কেনা বন্ধে চাপ দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় ভারতের রুশ তেল আমদানি কিছুটা কমলেও পরে তা আবার বেড়ে যায়।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও রাশিয়া ভারতের অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। ভারতীয় সামরিক বাহিনীর কাছে রুশ নির্মিত শত শত যুদ্ধবিমান এবং একাধিক এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের সংঘাতের সময় এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কয়েকটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনিদের জমি কেড়ে নিয়ে নৈতিকতা হারিয়েছে ইসরাইল: বারাক ওবামা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন