ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আশুলিয়া থেকে অপহৃত ৮ বছরের শিশু ময়মনসিংহে অক্ষত উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২


আশুলিয়া থেকে অপহৃত ৮ বছরের শিশু ময়মনসিংহে অক্ষত উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

আশুলিয়ার স্কুল ছুটির পর গেটের সামনে থেকে ৮ বছরের শিশু সাইমকে অপহরণ করা হয়েছে, অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে, যারা দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। শিশুটিকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হলেও, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহ থেকে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় কথিত অপহরণকারী চক্রের মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন পিপিএম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, গত ৩ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী পশ্চিমপাড়া গোচারটেক এলাকায় আলহাজ আব্দুর রশিদ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গেটের সামনে থেকে স্কুল ছুটির পর প্লে-শ্রেণির ছাত্র সাইমকে অপহরণ করা হয়। এরপর তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির বাবা মো. নাছির উদ্দিন আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: দিরাইয়ের পূর্বাঞ্চলে চ্যাপ্টিয়ার হাওরের পানি কমে বিপাকে যাত্রী ও কৃষক, দুশ্চিন্তায় বোরো চাষিরা

অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে আশুলিয়া থানা পুলিশ। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সার্বিক তত্বাবধানে এবং আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এসআই মো. আনোয়ার হোসেন পিপিএম এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে। পাশাপাশি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

একপর্যায়ে তদন্তে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে অপহরণকারীদের অবস্থান ময়মনসিংহে শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানাধীন মনোহরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার নেওকা এলাকার মৃত গফুর মৃধার ছেলে মো. নাদিম ওরফে হৃদয় (৩৩) এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা আক্তার (৩১)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশু সাইমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের এই অভিযানে স্বস্তি ফিরেছে শিশুটির পরিবারে। তবে স্কুলগেট থেকে একটি শিশুকে অপহরণ করে অন্য জেলায় আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে পুরো চক্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন: সাজেকের সমস্যা সমাধানে আলোচনা অব্যাহত: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাটোরের গুরুদাসপুরে একই পরিবারের ৩ নারীকে জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৯ পি.এম


নাটোরের গুরুদাসপুরে একই পরিবারের ৩ নারীকে জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন

নাটোরের গুরুদাসপুরে একই পরিবারের তিন নারীকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, লোকলজ্জা ও প্রতিপক্ষের প্রভাবের কারণে থানায় অভিযোগ দিতেও ভয় পাচ্ছেন।

গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে গুরুদাসপুর পৌরসভার চাঁচকৈড় গাড়িষাপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই তিন নারীকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং সাদা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী তিন নারীর বাড়ি পাশের চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া এলাকায়। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা প্রবাসে থাকায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বর্বরোচিত এ ঘটনার অভিযোগ উঠেছে আকবর আলীর ছেলে জিয়ারুল হক ও তার বড়ভাইয়ের জামাই রাতুলের পরিবারের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর সদরের তাড়াশিয়াপাড়া মহল্লায় প্রবাসী পিন্টু মিয়ার বাড়ি। তার মেয়ে তৃষা খাতুনের সঙ্গে প্রতিবেশী মজনু মিয়ার ছেলে রাতুল ইসলাম বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু পিন্টু তার মেয়ে তৃষাকে শিকারপুর গ্রামে বিয়ে দেন। এর ফলে রাতুলের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। কিছুদিন পর রাতুল গারিষাপাড়া মহল্লার ইয়ারুলের মেয়ে ঐশির সঙ্গে সম্পর্ক করে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে ঐশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঐশির পরিবারের ধারণা, তাকে বারবার জাদুটোনা করে বান মারা হচ্ছে। এই ধারণা থেকে তারা প্রবাসী পিন্টুর মেয়ে তৃষা খাতুন, স্ত্রী বুলবুলি খাতুন ও শাশুড়ি জুলেখা খাতুনকে ঘটনার দিন মারধর করে ইয়ারুল ও তার ভাই জিয়ারুল ধরে আনেন। এরপর তাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানো হয়। ১০ লাখ টাকা দিলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকবে না মর্মে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নেন দুই ভাই ইয়ারুল-জিয়ারুল। এ সময় গায়ের গহনাও ছিনিয়ে নেন এবং থানায় পুলিশে যাওয়ার জন্য হুমকি দেন তারা।

প্রবাসী পিন্টুর স্ত্রী বুলবুলি এসব ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার কান্নায় মূর্ছা যান। তিনি অভিযোগ করেন, জিয়ারুল-ইয়ারুলের সঙ্গে রাতুল ও তার পরিবারের লোকজন মিথ্যা নাটক সাজিয়ে তাদের বেদম প্রহার করেছেন। এ ঘটনার কিছুদিন আগে স্থানীয় কবিরাজ আমিরুল ইসলামকেও মারধর করার অভিযোগ রয়েছে জিয়ারুল-ইয়ারুলের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় প্রতিবেশী মোবারক আলী ও হাবিল উদ্দিন জানান, প্রবাসী পিন্টুর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা সতর্ক করেছেন যে, এর কঠোর বিচার না হলে অপরাধ প্রবণতা আরো বৃদ্ধি পাবে। ভীতসন্ত্রস্ত ভুক্তভোগীরা গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে থানার পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইয়ারুল হক দাবি করেন, তার মেয়েকে বান মারা হয়েছে। এ জন্য তাদের গ্রামের মানুষ ডেকে আনে এবং জুতার মালা পরিয়ে ঘোরায়। তবে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের সার্ভাভ্যাক এইচপিভি ভ্যাকসিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক-যোগ্যতা অর্জন করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২০ পি.এম


ভারতের সার্ভাভ্যাক এইচপিভি ভ্যাকসিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক-যোগ্যতা অর্জন করেছে

ভারতে তৈরি প্রথম এইচপিভি ভ্যাকসিনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রাক-যোগ্যতা অর্জন করেছে। গত সোমবার পুনেভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার তৈরি ‘সার্ভাভ্যাক’ ভ্যাকসিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। এই অর্জনের ফলে সার্ভাভ্যাক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক-যোগ্যতা পাওয়া ভ্যাকসিনের বৈশ্বিক তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। এর ফলে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো এখন বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের টিকাদান কর্মসূচিতে ভারত থেকে এই ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।

এএনআই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেরাম ইনস্টিটিউটের জন্য এটি ৩২তম প্রাক-যোগ্যতা অর্জন— অর্থাৎ সংস্থাটি এর আগেও বহু জৈব-পণ্য এই কঠিন মানদণ্ড পেরিয়েছে।

সার্ভাভ্যাক আসলে কী টিকা

সার্ভাভ্যাক একটি রিকম্বিন্যান্ট কোয়াড্রিভ্যালেন্ট এইচপিভি টিকা—হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের চারটি ধরন (৬, ১১, ১৬ ও ১৮)-এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে। এটি ৯ থেকে ২৬ বছর বয়সী ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য। ভারতের ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল (ডিসিজিআই) ইতিমধ্যে দেশে এর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

ডব্লিউএইচও প্রাক-যোগ্যতা পাওয়ার পর, টিকাটি এখন জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সংগ্রহের জন্য উপযুক্ত হয়ে উঠেছে।

টিকাটি দেশীয় গবেষণা-সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব বায়োটেকনোলজি (ডিবিটি), বায়োটেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ অ্যাসিসট্যান্স কাউন্সিলের (বিআইআরএসি) সহযোগিতায় ডব্লিউএইচও-এর ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি) এবং গেটস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এটি তৈরি করা হয়েছে।

কারা এই টিকা নিতে পারবেন

৯ থেকে ২৬ বছর বয়সী ছেলেমেয়ে — দু’পক্ষের জন্যই টিকাটি অনুমোদিত। মেয়ে ও নারীদের ক্ষেত্রে ১৬ ও ১৮ ধরনের কারণে হওয়া জরায়ুমুখ, যোনি, ভালভার ও পায়ুপথের ক্যান্সার এবং ৬ ও ১১ ধরনের কারণে যৌনাঙ্গের আঁচিল প্রতিরোধে এই টিকা কার্যকর।

এছাড়া, টিকাটি শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য নয় — ৯ থেকে ২৬ বছর বয়সী ছেলেদেরও দেওয়া যেতে পারে, কারণ এইচপিভি সংক্রমণ উভয় পক্ষের মধ্যেই ছড়ায় এবং ছেলেদের ক্ষেত্রেও ক্যান্সার ও আঁচিলের ঝুঁকি বিদ্যমান।

কেন এই খবর গুরুত্বপূর্ণ

ভারতে নারীদের জন্য জরায়ুমুখ ক্যান্সার অন্যতম প্রাণঘাতী ক্যান্সার, এবং প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর সূত্রপাত এইচপিভি সংক্রমণ থেকে — চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটি প্রতিষ্ঠিত তথ্য। আমদানি-নির্ভর দামি টিকার পরিবর্তে দেশীয়ভাবে তৈরি টিকা মানে, সরকারি টিকাদান কর্মসূচি অনেক বড় আকারে এবং কম খরচে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

সেরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদর পুনাওয়ালা জানান, এই স্বীকৃতি বিশ্বব্যাপী এইচপিভি মোকাবিলাকে আরো জোরদার করবে; টিকাদানের পরিধি বাড়াতে সংস্থা প্রস্তুত।

টিকা-স্বনির্ভরতায় আরো এক ধাপ

বিদেশি টিকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে টিকা তৈরি — এই ধারাবাহিকতায় সার্ভাভ্যাকের বিশ্ব-স্বীকৃতি ভারতের জৈবপ্রযুক্তি গবেষণার একটি বড় সাফল্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টি ফেরানোর প্রস্তাব বাতিল করল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


আইসিসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টি ফেরানোর প্রস্তাব বাতিল করল

ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের আপত্তির কারণে বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা বাতিল করেছে আইসিসি। ২০৩১ সালের আগে নতুন কোনো বহুদলীয় টুর্নামেন্টের আয়োজনও হবে না।

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টির আদলে বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ফেরানোর পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের আপত্তির পর এই প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়েছে। একইসাথে, ২০৩১ সালের আগে নতুন কোনো বহুদলীয় আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগের সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো অংশগ্রহণ করবে বলে পরিকল্পনা ছিল। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টিতে আইপিএল, বিগ ব্যাশ লিগ এবং পাকিস্তান সুপার লিগের দলগুলো অংশ নিয়েছিল। তবে কম দর্শক, দুর্বল বাণিজ্যিক আয় এবং আর্থিক ক্ষতির কারণে টুর্নামেন্টটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বাজার আরও বিস্তৃত হওয়ায় সেটি ফেরানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু ভারতের বিসিসিআই, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড নতুন টুর্নামেন্টের বিরোধিতা করেছে। তাদের মূল যুক্তি হলো, আন্তর্জাতিক এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট মিলিয়ে বর্তমান সূচিই অত্যন্ত ব্যস্ত। আইসিসির দ্বিপক্ষীয় সিরিজের সময়েও চার-দলীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের বৃহত্তর পরিকল্পনায় তারা আপত্তি জানায়। নতুন প্রতিযোগিতার জন্য জায়গা তৈরি করতে বিশ্বকাপ বা চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো আইসিসি ইভেন্ট কমানোর প্রস্তাবও তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

আইসিসির জন্য এই বিষয়টি শুধুমাত্র একটি নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয় নয়, বরং রাজস্বের সঙ্গেও যুক্ত। বিশ্বের জনপ্রিয় বেসরকারি টি-টোয়েন্টি লিগগুলো থেকে সরাসরি আয় করার সুযোগ আইসিসির সীমিত। তাই প্রস্তাবিত বৈশ্বিক ক্লাব টুর্নামেন্টকে ফিফার ক্লাব বিশ্বকাপের আদলে ক্রিকেটে নতুন রাজস্ব এবং প্রভাব তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। নতুন মিডিয়া-স্বত্ব কার্যকর হলে বাণিজ্যিক আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা আইসিসিকে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে উৎসাহিত করছে।

পরিকল্পনা বাতিল হওয়ায় ২০২৭-৩১ মেয়াদের ভবিষ্যৎ সূচি প্রায় বর্তমান কাঠামোতেই থাকবে। সম্ভাব্য পরিবর্তন হিসেবে কেবল বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনা হতে পারে। ফলে আপাতত বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নতুন কোনো আইসিসি টুর্নামেন্ট যোগ হচ্ছে না এবং সূচি ও ক্রিকেট অর্থনীতিতে ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের প্রভাবও অক্ষুণ্ন থাকছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ম্যানচেস্টার সিটির শাস্তি নিয়ে কঠোর অবস্থানে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


ম্যানচেস্টার সিটির শাস্তি নিয়ে কঠোর অবস্থানে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো

ম্যানচেস্টার সিটি স্বাধীন কমিশনের রায়ের পর আপিল করেছে, যা নয় মৌসুমের আর্থিক অনিয়মের কারণে হয়েছে; প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোর অনেকেই মনে করছেন, আপিল ব্যর্থ হলে শুধু পয়েন্ট কাটা নয়, বরং সরাসরি অবনমনই হতে পারে উপযুক্ত শাস্তি।

প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে স্বাধীন কমিশনের রায়ের পর শাস্তি নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়ে উঠেছে। সিটি ৯ মৌসুম ধরে গুরুতর নিয়মভঙ্গের সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আপিল করেছে। তবে, কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের মতে, আগামী মৌসুমে দলটিকে প্রিমিয়ার লিগে রাখা উচিত নয়।

স্কাই স্পোর্টসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক ক্লাব মনে করে, এক মৌসুমের পয়েন্ট কাটা যথেষ্ট শাস্তি হবে না। তাদের যুক্তি হলো, বহু মৌসুম ধরে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শাস্তিরও দীর্ঘমেয়াদি হওয়া উচিত। সিটি অবনমিত হলে একটি দল কমে যাবে, শিরোপার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরে যাবে এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় আরেকটি জায়গা তৈরি হবে। তবে, ক্লাবগুলোর অবস্থানের পেছনে শুধুমাত্র স্বার্থ নয়, নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগের প্রশ্নও রয়েছে।

স্বাধীন কমিশনের ৪২ দিনের শুনানির পর প্রকাশিত রায়ে বলা হয়েছে, ৮৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি মালিকানা অর্থায়ন একাধিক ‘শাম’ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজস্ব ফুলিয়ে দেখানো হয়েছিল এবং প্রিমিয়ার লিগ ও উয়েফার আর্থিক নিয়ম মেনে চলার সুযোগ তৈরিতে এটি ব্যবহার করা হয়েছে। সিটি অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের নির্দোষ প্রমাণের জন্য ‘অখণ্ডনীয় প্রমাণের বিস্তৃত ভাণ্ডার’ রয়েছে এবং তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।

শাস্তি নির্ধারণের শুনানিতে একই তিন সদস্যের প্যানেল সিদ্ধান্ত দেবে, যারা ২০২৪ সালে ৪২ দিনের শুনানি নিয়েছিলেন। প্রিমিয়ার লিগ প্রসিকিউটর হিসেবে শাস্তির সুপারিশ করবে এবং সিটির আইনজীবীরা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবেন। আপিল প্রক্রিয়া চলাকালীন, শুনানি বড়দিনের আগেই হতে পারে।

এর আগে, একটি আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের ঘটনায় এভারটনের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগ ১২ পয়েন্ট কাটার দাবি করেছিল; পরে আপিলে তাদের ১০ পয়েন্টের শাস্তি কমে ৬ হয়। সিটির ক্ষেত্রে, দুই পক্ষই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে বলে আইনি লড়াই আগামী বছর পর্যন্ত গড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

স্কাই স্পোর্টসের বিশ্লেষক ও সাবেক লিভারপুল ডিফেন্ডার জেমি ক্যারাঘারও দ্রুত শাস্তি কার্যকর এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে। তিনি বলেন, এই মৌসুমেই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত, যাতে আগামী মৌসুমে সিটি শাস্তির প্রভাব ভোগ করে। তাঁর মতে, বহু বছর ধরে চলা অনিয়মের অভিযোগের জন্য শাস্তিও ‘বছরের পর বছর’ চলা উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%