ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফিলিস্তিনি ঐক্য ফেরাতে কায়রোয় হামাস-ফাতাহর বৈঠক


ফিলিস্তিনি ঐক্য ফেরাতে কায়রোয় হামাস-ফাতাহর বৈঠক

ফিলিস্তিনের দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক বিভাজন দূর করার উদ্দেশ্যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মিসরের রাজধানী কায়রোয় বৈঠকে বসতে চলেছেন হামাস, ফাতাহ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নেতারা।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার (১৪ ও ১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংলাপের প্রস্তুতি, পারস্পরিক সমঝোতা এবং অভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির বিষয়ে আলোচনা হবে। যদি প্রাথমিক আলোচনা ইতিবাচক হয়, তবে আগামী ২০ অক্টোবর থেকে আরও বিস্তৃত সংলাপ শুরু হতে পারে।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে ফাতাহের মুখপাত্র আবদেল ফাত্তাহ দাওলা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং জাতীয় সংলাপের পথ তৈরি করা। হামাস, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) এবং ফিলিস্তিনের মুক্তির জন্য জনপ্রিয় ফ্রন্ট (পিএফএলপি) সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করবেন। ফাতাহের প্রতিনিধিদলে থাকছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সচিব জিবরিল রাজুব এবং সদস্য মোহাম্মদ শাতায়েহ।

আরও পড়ুন: নেপাল ফের বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু

নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। গত ১০ অক্টোবর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ঘোষণা করেন, আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য আইনসভা নির্বাচন পিছিয়ে ২০২৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ও আইনসভা নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। নতুন তারিখ নির্ধারণের ফলে প্রায় দুই দশক পর নির্বাচনের আয়োজনের পরিকল্পনা আরও পিছিয়ে গেল।

আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) নির্বাহী কমিটি জানিয়েছে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অনুকূলে নয়। বিশেষ করে, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমে নির্বাচন কমিশনের কর্মী এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশে ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে নির্বাচনের প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তবে ইসরায়েল নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে।

ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক বিভাজনের শিকড় দীর্ঘদিনের। ২০০৬ সালের আইনসভা নির্বাচনে হামাস জয়ী হওয়ার পর হামাস ও ফাতাহর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে ওঠে। ২০০৭ সালে গাজায় হামাসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কার্যত পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফাতাহ-নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছে, অন্যদিকে গাজায় হামাসের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এই বিভাজন নিরসনে মিসরের মধ্যস্থতায় বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হলেও স্থায়ী সমঝোতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। কায়রোর বৈঠকে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, নির্বাচন এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ নির্ধারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। হামাসও বৃহত্তর জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে বাধ্যতামূলক সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওবামার কড়া আক্রমণ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় ইসরায়েলের হলুদ রেখা এগোচ্ছে, ফিলিস্তিনিরা বারবার ঘরছাড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৫ পি.এম


গাজায় ইসরায়েলের হলুদ রেখা এগোচ্ছে, ফিলিস্তিনিরা বারবার ঘরছাড়া

গাজায় ইসরায়েলের নির্ধারিত ‘হলুদ রেখা’ পশ্চিম দিকে ক্রমাগত এগিয়ে আসছে। এর ফলে নতুন করে ফিলিস্তিনিরা ঘরছাড়া হচ্ছেন। নিরাপদ আশ্রয়ের স্থান সংকুচিত হয়ে আসায় পরিবারগুলোকে বারবার তাঁবু সরিয়ে অন্যত্র যেতে হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক অব্যাহত রয়েছে।

গাজার শুজাইয়া এলাকায় ৩৫ বছর বয়সী মাহমুদ হারজিন এবার ষষ্ঠবারের মতো তাঁবু সরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি ইসরায়েলের নির্ধারিত হলুদ রঙের কংক্রিটের ব্লক থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে তাঁবু গেড়েছেন। রেখাটি যত সামনে এগিয়ে আসে, বিপদ এড়াতে মাহমুদ পরিবার নিয়ে তত পেছনে সরে যান।

আল জাজিরা কে তিনি বলেন, ‘প্রতিবার তারা একটু সামনে এগোয়, আমরাও একটু পেছনে সরে যাই।’ ২০২৫ সালের অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে গাজার ভূখণ্ডকে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভাগ করতে ‘হলুদ রেখা’ নির্ধারণ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর ওই রেখার পেছনে সরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রেখাটি ক্রমে গাজার আরও ভেতরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় এখন ভূখণ্ডটির প্রায় ৬৫ শতাংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এক বছর আগে নির্ধারিত চুক্তিতে এ হার ছিল ৫৩ শতাংশ।

গত রোববার (১১ অক্টোবর) গাজার পূর্বাঞ্চলীয় শুজাইয়া এলাকায় হলুদ রঙের কংক্রিটের ব্লকগুলো কয়েক মিটার পশ্চিম দিকে সরিয়ে নেয় ইসরায়েলি বাহিনী। এর ফলে এলাকাটির আরও বেশি অংশ ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ফলে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো আবারও ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

১০ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ করেন মাহমুদ। গত এক বছর ধরে পরিবার নিয়ে কোথায় নিরাপদে থাকা যায়, সেই খোঁজেই কাটছে তার সময়। জেইতুন, সাহাত আল-শাওয়া ও আল-মুনতাজাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁবু সরিয়ে থাকতে হয়েছে তাকে।

সর্বশেষ এক জায়গায় তাঁবু গেড়ে মাত্র এক রাত ঘুমাতে পেরেছিলেন মাহমুদ। পরদিন সকালে রেখা আবার সামনে এগিয়ে আসায় বিছানাপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে তাকে সেখান থেকে চলে যেতে হয়।

তার ভাষ্য, শুধু কংক্রিটের ব্লক সরানোর সময়ই নয়, আশপাশে ড্রোন, হেলিকপ্টার, গোলাবর্ষণ ও এলোপাতাড়ি গুলির কারণে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। গোলার টুকরোও আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতে রেখা এগিয়ে নেওয়ার সময় ট্যাংক, সেনাসদস্য ও ভারী গোলাবর্ষণের শব্দে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গত এক বছরে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাজার অধিকাংশ মানুষ যুদ্ধ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নিরাপদ এলাকায় তাঁবু খাটানোর মতো জায়গা কমে গেছে। অন্যদিকে, বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ায় মাহমুদের মতো অনেক পরিবারের জন্য নতুন আশ্রয় নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাতে পালানো, সকালে ফিরে আসা

শুজাইয়ার বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী আসমা আলীর জীবনেও একই অনিশ্চয়তা বিরাজমান। তিন সন্তানের এই মা জানান, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে তাদের পরিবার সাত থেকে আটবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

গাজার কেন্দ্রীয় এলাকায় কিছুদিন থাকার পর তারা শুজাইয়ার আল-মান্তার এলাকায় ফিরে বসবাসের চেষ্টা করেন। কিন্তু এক মাস পর আবার গোলাবর্ষণ শুরু হলে নিরাপত্তার আশঙ্কায় সেখান থেকেও সরে যেতে হয়।

প্রথমে একটি বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেন তারা। পরে একটি বাসস্টপের কাছে বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু এক রাতে তীব্র গোলাবর্ষণের পর ভোরে সেখান থেকেও চলে যেতে হয়। শেষ পর্যন্ত গাজার কেন্দ্রীয় এলাকায় স্বজনদের কাছে আশ্রয় নেন তারা।

আসমা বলেন, ‘প্রতিদিন রাতে পালাতে হতো, সকালে আবার ফিরে আসতাম। রাতটা কোথায় কাটানো যায়, সেই চেষ্টা করতে হতো; সকালে আবার ফিরে আসতাম।’

তার কথায়, হলুদ রেখা এগিয়ে আসার রাতগুলো সবচেয়ে ভয়ংকর। রাতের শুরু থেকে ভোর পর্যন্ত গুলির শব্দ চলতে থাকে। সব সময় মনে হয়, যেকোনো মুহূর্তে আবার পালাতে হতে পারে।

বাসস্থান ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় আসমার পরিবারের স্বর্ণালংকার, ঘরের জিনিসপত্র ও সন্তানদের পোশাকসহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছু হারিয়ে গেছে। হারানো জিনিসের মধ্যে প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য কেনা একটি বিশেষ সহায়ক বন্ধনীও ছিল। মাত্র দুই দিন আগে সেটি পেয়েছিলেন তিনি।

আসমা বলেন, ‘চোখের পলকেই সব হারিয়ে গেল।’

পরিবারের জন্য নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন তিনি। কিন্তু তাদের সামর্থ্যের মধ্যে থাকার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। দক্ষিণ গাজার দিকে চলে যাওয়াও সহজ নয়। সেখানে যাওয়ার যানবাহন পাওয়া কঠিন, আর পৌঁছানোর পর নিরাপদ জায়গা মিলবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আসমার চাওয়া খুব সাধারণ—সন্তানদের নিয়ে এমন একটি নিরাপদ জায়গা, যেখানে বারবার পালাতে হবে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি নিরাপদ জায়গা, যেখানে সন্তানদের নিয়ে থাকতে পারব, বিশ্রাম নিতে পারব এবং নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারব।’

সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহানবীকে (সা.) অবমাননায় ২৩ বছরের ইরানি তরুণীর মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৫ পি.এম


মহানবীকে (সা.) অবমাননায় ২৩ বছরের ইরানি তরুণীর মৃত্যুদণ্ড

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে অবমাননার অভিযোগে ইরানের ২৩ বছর বয়সি তরুণী নাজমেহ আমিনির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে, জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করা এবং সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে তাকে ১২ বছরের বেশি কারাদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনও চূড়ান্ত হয়নি; ইরানের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

নাজমেহ আমিনি পেশায় অ্যাকাউন্টিংয়ের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের ভাকিলাবাদ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি পোস্টের কারণে মহানবী (সা.)কে অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। ইরানের আইন অনুযায়ী, এ অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

জানুয়ারির বিক্ষোভে গ্রেপ্তার

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন আমিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বিক্ষোভকে কঠোরভাবে দমন করা হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, সে সময় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

আমিনির বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কাজ করা এবং সরকারবিরোধী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে ১২ বছর ছয় মাস এক দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কারাগার থেকে ধারণ করা এক অডিও বার্তায় আমিনি জাতিসংঘ, আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে তার মামলার তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, "আমার অনেক আশা ও স্বপ্ন রয়েছে এবং আমার পরিবার প্রতিনিয়ত আমাকে হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।"

আদালতে কী বলেছিলেন আমিনি?

ইরানের সংবাদপত্র খোরাসানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আমিনি আদালতে দাবি করেন, বন্ধুদের সঙ্গে হ্যালুসিনেশন সৃষ্টিকারী মাশরুম গ্রহণের পর বিভ্রমের মধ্যে তিনি ওই পোস্টটি দিয়েছিলেন। তার আইনজীবীও ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন।

তবে বিচারক তার এই যুক্তি গ্রহণ করেননি। বিচারক প্রশ্ন তোলেন, বিভ্রমের মধ্যে থাকলে তিনি কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মতো অন্য ব্যক্তি বা সরকারের বিরুদ্ধে একই ধরনের মন্তব্য করেননি?

ইরানের ইসলামি দণ্ডবিধির ২৬২ ধারায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে ২৬৩ ধারায় অনিচ্ছাকৃত বক্তব্য, ভুলবশত বলা কথা কিংবা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এমন মন্তব্য করার ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যতিক্রমগুলো আমিনির মামলায় কেন প্রযোজ্য হয়নি, তা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে।

মৃত্যুদণ্ড নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ

নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ইরানে ৬০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সংগঠনটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কারণে এক তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক নজির তৈরি করতে পারে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কঠোর প্রতিক্রিয়া না জানালে শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ আরো বাড়তে পারে।

ইরানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। এর আগে ২০২৩ সালের ৮ মে ইউসুফ মেহরদাদ ও সদরোল্লাহ ফাজেলি-জারে নামের দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ধর্ম অবমাননাসংক্রান্ত অভিযোগে তাদের দণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

আমিনির মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় মামলাটি আপিলের পর্যায়ে রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো তার সাজা বাতিলের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি এবং মৃত্যুদণ্ডের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সালাউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালামের শোক প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৬ পি.এম


সালাউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালামের শোক প্রকাশ

ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ সালাউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

আবদুস সালাম মন্তব্য করেন, ‘সালাউদ্দিন আহমেদের বিয়োগে বিএনপি একজন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক অভিভাবককে হারালাম। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এবং ডেমরা, শ্যামপুর ও কদমতলী এলাকার মানুষের সার্বিক উন্নয়নে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সালাউদ্দিন আহমেদ রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে এবং জনগণের অধিকার আদায়ে যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তা দলের নেতাকর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

আবদুস সালাম মরহুমের বিদেহী রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ছে, আরো সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৬ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ছে, আরো সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির কাছ থেকে আরো অর্থনৈতিক সহায়তা প্রত্যাশা করছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী সহায়তা পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতির প্রেক্ষিতে সরকার এখন আরো সহযোগিতা আশা করছে।

বুধবার ব্যাঙ্ককে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের এই অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের আরো সহায়তা পাওয়া উচিত বলে মনে করে সরকার।

তিনি বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশ তেমন সহায়তা পায়নি। তবে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য আরো সহযোগিতা পাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর মতে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%