১২:৫৪ পি.এম
ফিলিস্তিনের দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক বিভাজন দূর করার উদ্দেশ্যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মিসরের রাজধানী কায়রোয় বৈঠকে বসতে চলেছেন হামাস, ফাতাহ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নেতারা।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার (১৪ ও ১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংলাপের প্রস্তুতি, পারস্পরিক সমঝোতা এবং অভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির বিষয়ে আলোচনা হবে। যদি প্রাথমিক আলোচনা ইতিবাচক হয়, তবে আগামী ২০ অক্টোবর থেকে আরও বিস্তৃত সংলাপ শুরু হতে পারে।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে ফাতাহের মুখপাত্র আবদেল ফাত্তাহ দাওলা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং জাতীয় সংলাপের পথ তৈরি করা। হামাস, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) এবং ফিলিস্তিনের মুক্তির জন্য জনপ্রিয় ফ্রন্ট (পিএফএলপি) সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করবেন। ফাতাহের প্রতিনিধিদলে থাকছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সচিব জিবরিল রাজুব এবং সদস্য মোহাম্মদ শাতায়েহ।
আরও পড়ুন: নেপাল ফের বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু
নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। গত ১০ অক্টোবর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ঘোষণা করেন, আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য আইনসভা নির্বাচন পিছিয়ে ২০২৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ও আইনসভা নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। নতুন তারিখ নির্ধারণের ফলে প্রায় দুই দশক পর নির্বাচনের আয়োজনের পরিকল্পনা আরও পিছিয়ে গেল।
আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) নির্বাহী কমিটি জানিয়েছে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অনুকূলে নয়। বিশেষ করে, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমে নির্বাচন কমিশনের কর্মী এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশে ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে নির্বাচনের প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তবে ইসরায়েল নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে।
ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক বিভাজনের শিকড় দীর্ঘদিনের। ২০০৬ সালের আইনসভা নির্বাচনে হামাস জয়ী হওয়ার পর হামাস ও ফাতাহর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে ওঠে। ২০০৭ সালে গাজায় হামাসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কার্যত পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফাতাহ-নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছে, অন্যদিকে গাজায় হামাসের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এই বিভাজন নিরসনে মিসরের মধ্যস্থতায় বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হলেও স্থায়ী সমঝোতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। কায়রোর বৈঠকে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, নির্বাচন এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ নির্ধারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। হামাসও বৃহত্তর জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে বাধ্যতামূলক সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওবামার কড়া আক্রমণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন