শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৪৪ এম
ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা গত সপ্তাহে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও তেলনির্ভরতা কমানোর সৌদি পরিকল্পনাও ঝুঁকিতে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সহায়তায় হুথিদের উন্নত অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া এবং দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা—এই তিনটি বিষয় হুথিদের হামলা কার্যকর করে তুলছে।
ইরানের সহায়তায় অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হুথিদের অস্ত্র, অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে ইরান। তবে তেহরান জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে হুথিদের অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সদস্যরা প্রথমদিকে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা ও প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়। বর্তমানে স্থানীয় প্রকৌশলী ও প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় হুথিরা নিজেরাই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করছে।
ইরানের সাবেক এক উপদেষ্টার মতে, তেহরান হুথিদের শুধু অস্ত্র দেয়নি; বরং অস্ত্র তৈরির কৌশলও শিখিয়েছে। ফলে ইরান থেকে সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হলেও হুথিদের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি দুর্বল করা কঠিন হবে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, তারা হুথিদের ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে এবং তাদের ১২৭টি অস্ত্রের গুদাম ও উৎক্ষেপণকেন্দ্র ধ্বংস করেছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, আঞ্চলিক পক্ষগুলোর সহায়তায় হুথিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিস্ফোরকবাহী দ্রুতগতির নৌযানসহ উন্নত সামরিক প্রযুক্তি অর্জন করেছে।
অস্ত্রের যন্ত্রাংশ সংগ্রহে বিকল্প উৎস
হুথিদের আরেকটি বড় সুবিধা হলো, অস্ত্র তৈরির জন্য তারা শুধু ইরানের ওপর নির্ভরশীল নয়। সংঘাতবিষয়ক গবেষণা সংস্থা কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন থেকে পাঠানো যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে মাঝারি পাল্লার উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে হুথিরা। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এ ধরনের একটি চালান জব্দ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন বাণিজ্যিক যন্ত্রাংশের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, সামরিক প্রযুক্তি, বিশেষজ্ঞ সহায়তা এবং বাণিজ্যিকভাবে সহজে পাওয়া যায় না—এমন যন্ত্রাংশ সরবরাহে ইরানের ভূমিকা রয়েছে।
অস্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও ব্যবহার করছে হুথিরা। এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক গত মাসে জানিয়েছে, উত্তর ইয়েমেনে সক্রিয় একদল ব্যক্তি তাদের ক্লড এআই সহকারীর সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত রকেট, দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইপারসনিক প্রযুক্তিযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্রের সফটওয়্যার তৈরির চেষ্টা করেছে।
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত কমেছে
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বেড়েছে। নিজেদের ঘাঁটি, ইসরাইল ও উপসাগরীয় মিত্রদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এতে সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জেনেভা গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ফারজান সাবেতের মতে, সামরিক প্রযুক্তি ও সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দিক থেকে সৌদি আরব এখনো ইসরাইল বা ইউক্রেনের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দেশটির বিশাল আয়তনের কারণে আকাশপথে হামলা ঠেকানোও তুলনামূলক কঠিন।
যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় আরো দক্ষ হুথিরা
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে হুথিরা। ২০২২ সালে সংঘাতটি অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতিতে গড়ায়। তবে ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলের হামলার পর হুথিরা ইসরাইল লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে হামলা শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর আঞ্চলিক সংঘাত হুথিদের সামরিক অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার সময়ের মধ্যে তাদের অস্ত্রের সক্ষমতাও বেড়েছে।
ফারজান সাবেত বলেন, হুথিরা বসে থাকেনি; তারা অস্ত্র সংগ্রহের উৎস বৈচিত্র্যময় করেছে এবং যুদ্ধ পরিচালনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অস্ত্রের প্রযুক্তি আরো উন্নত করেছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের প্রযুক্তিগত সহায়তা, বিকল্প উৎস থেকে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, স্থানীয়ভাবে অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা এবং সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ—এই সমন্বিত পরিস্থিতিই হুথিদের হামলাকে আরো কার্যকর করে তুলছে।
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি জামাল আহমদ। আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় জামাল আহমদ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তাঁর সমর্থকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে এবার চাপরতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন জামাল আহমদ। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জামাল আহমদের প্রত্যাশা, দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি চাপরতলা ইউনিয়নের মানুষের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁর মনোনয়নের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
চাপরতলা ইউনিয়নে নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন কে পাচ্ছেন এবং নির্বাচনে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তা জানতে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)। সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার পাঁচটি উপজেলার ২৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি আরও দুই প্লাটুন সদস্যকে রিজার্ভ রাখা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের পাশাপাশি দুর্গাপূজা ঘিরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে রেকি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে বিজিবি।
পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে নিয়মিত টহল, নিবিড় নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে প্রযুক্তিনির্ভর ‘সুরক্ষা অ্যাপস’ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিজিবি সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন ও মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, পিএসসি এবং ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ, এসজিপি, পিএসসি দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সীমান্তের প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশ ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্ত এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন, নিয়মিত টহল ও নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় সতর্ক নজরদারি বজায় রাখা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য আনন্দময়, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা নিশ্চিত করতে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে শুভ মহাষষ্ঠীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। চলতি বছর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মোট ২৫টি পূজা মণ্ডপে একযোগে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৪টি পূজা মণ্ডপকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আইনশৃঙখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে উপজেলার ২৫টি মণ্ডপে মোট ১৫৮ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুরুষ আনসার সদস্যদের পাশাপাশি নারী আনসার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলা প্রশাসন ও থানা সূত্রে জানা গেছে, চিহ্নিত ৪টি ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপের প্রতিটিতে ১ জন করে পুলিশ সদস্য এবং ৮ জন করে আনসার সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। এছাড়া সাধারণ মণ্ডপগুলোতে প্রতিটিতে ৬ জন করে আনসার সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। পাশাপাশি পুরো উপজেলার সবকটি পূজা মণ্ডপকে সিসিটিভির আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
পূজা চলাকালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উপজেলা প্রশাসন ও কাউখালী থানা পুলিশ দফায় দফায় স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় সভা করেছে।
সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেহেনা আক্তার জানান, "শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে আমরা রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিদের সাথে একাধিক সভা করেছি। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, "প্রতিটি পূজা মণ্ডপের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমি নিজে মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেছি। ভক্তদের নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।
ডেপুটি স্পিকার মন্তব্য করেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়মের সমালোচনা করে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। দুর্নীতি দূর করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।’
কায়সার কামাল শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদে আসার আমন্ত্রণ জানান, যাতে তারা সংসদের কার্যক্রম কাছ থেকে দেখতে পারেন।
তিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পর তরুণদের দেশের উন্নয়নে তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখান, যেখানে আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ ও প্রত্যাশাকে নীতিনির্ধারণে যুক্ত করতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও নীতিনির্ধারণের অংশ হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে স্টার্টআপ প্রতিযোগিতার মতো উদ্যোগের মাধ্যমে মেধাবীদের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরির কথাও উল্লেখ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ