মো: ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:২৫ পি.এম
শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)। সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার পাঁচটি উপজেলার ২৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি আরও দুই প্লাটুন সদস্যকে রিজার্ভ রাখা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের পাশাপাশি দুর্গাপূজা ঘিরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে রেকি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে বিজিবি।
পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে নিয়মিত টহল, নিবিড় নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে প্রযুক্তিনির্ভর ‘সুরক্ষা অ্যাপস’ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিজিবি সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন ও মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, পিএসসি এবং ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ, এসজিপি, পিএসসি দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সীমান্তের প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশ ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্ত এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন, নিয়মিত টহল ও নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় সতর্ক নজরদারি বজায় রাখা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য আনন্দময়, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা নিশ্চিত করতে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে শুভ মহাষষ্ঠীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। চলতি বছর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মোট ২৫টি পূজা মণ্ডপে একযোগে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৪টি পূজা মণ্ডপকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আইনশৃঙখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে উপজেলার ২৫টি মণ্ডপে মোট ১৫৮ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুরুষ আনসার সদস্যদের পাশাপাশি নারী আনসার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলা প্রশাসন ও থানা সূত্রে জানা গেছে, চিহ্নিত ৪টি ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপের প্রতিটিতে ১ জন করে পুলিশ সদস্য এবং ৮ জন করে আনসার সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। এছাড়া সাধারণ মণ্ডপগুলোতে প্রতিটিতে ৬ জন করে আনসার সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। পাশাপাশি পুরো উপজেলার সবকটি পূজা মণ্ডপকে সিসিটিভির আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
পূজা চলাকালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উপজেলা প্রশাসন ও কাউখালী থানা পুলিশ দফায় দফায় স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় সভা করেছে।
সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেহেনা আক্তার জানান, "শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে আমরা রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিদের সাথে একাধিক সভা করেছি। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, "প্রতিটি পূজা মণ্ডপের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমি নিজে মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেছি। ভক্তদের নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।
ডেপুটি স্পিকার মন্তব্য করেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়মের সমালোচনা করে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। দুর্নীতি দূর করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।’
কায়সার কামাল শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদে আসার আমন্ত্রণ জানান, যাতে তারা সংসদের কার্যক্রম কাছ থেকে দেখতে পারেন।
তিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পর তরুণদের দেশের উন্নয়নে তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখান, যেখানে আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ ও প্রত্যাশাকে নীতিনির্ধারণে যুক্ত করতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও নীতিনির্ধারণের অংশ হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে স্টার্টআপ প্রতিযোগিতার মতো উদ্যোগের মাধ্যমে মেধাবীদের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরির কথাও উল্লেখ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সুনির্দিষ্ট কোনো নাশকতা কিংবা ভীতির আশঙ্কা নেই।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান।
ডিএমপি কমিশনার উল্লেখ করেন, ‘রাজধানীতে ২৫৭টি পূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গুরুত্ব অনুসারে রাজধানীর মণ্ডপগুলোকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে দিনরাত পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ২৫৭টি পূজামণ্ডপে সরাসরি নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন ২ হাজার ১০০ পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি, মণ্ডপগুলোর আশপাশে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা ও বডিওন ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘উৎসবের শেষ দিন বিজয়া দশমীতে নির্বিঘ্ন পরিবেশ বজায় রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।’
ডিএমপি কমিশনার সতর্ক করে বলেন, ‘যদি কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতি নষ্ট করতে বা পূজায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরনের গুজব রোধে ডিএমপির সাইবার টিম প্রস্তুত রয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজস্থান বিজেপি প্রধান মদন রাঠোর একটি নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, যদি পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে ভারত পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াবে। এই মন্তব্যের পেছনে তিনি উভয় দেশের ভৌগোলিক নৈকট্যকে উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় রাঠোর বলেন, ‘আমাদের সবারই বিষয়টি বোঝা প্রয়োজন। দেখুন, ভারতের প্রসঙ্গ এলে আমি বলব, যদি আজ আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়, তবে আমরা পাকিস্তানের পক্ষেই থাকব। কারণ তারা আমাদের প্রতিবেশী।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে যখন আমাদের নিজেদের মধ্যকার কোনো বিষয় সামনে আসে, তখন আমরা আমাদের ভারতের পাশে দাঁড়াই। তাই না? এটাই আমাদের বোঝা প্রয়োজন।’
এদিকে, তার এই মন্তব্যের জন্য কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তীব্র সমালোচনা করেছেন, যারা পাকিস্তান সম্পর্কে রাঠোরের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র শামা মুহাম্মদ এই মন্তব্যকে ‘দেশবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন, রাজস্থান শাখার প্রধানের বিরুদ্ধে বিজেপি কী পদক্ষেপ নেবে।
কংগ্রেসের জাতীয় সমন্বয়ক সন্দীপ গুপ্ত অভিযোগ করেছেন যে, রাঠোরের মন্তব্য পাকিস্তানের প্রতি বিজেপির অনুরাগকে প্রকাশ করেছে। তিনি পাকিস্তানকে একটি ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ সন্দীপ লিখেছেন, “রাজস্থান বিজেপি সভাপতি মদন রাঠোর বলেছেন, ‘আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ভারত পাকিস্তানের পক্ষেই থাকবে’। আবারও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রতি বিজেপির ভালোবাসা প্রকাশ্যে চলে এলো। বিজেপি পাকিস্তানকে ভালোবাসে!”
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ