সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:০৮ পি.এম
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমানে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার জন্য ব্যাপক সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এ লক্ষ্যে করের আওতা বৃদ্ধি, কর পরিপালন জোরদার, ডিজিটাল ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য ‘ওয়ান এনবিআর’ কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগ আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তে সমন্বিতভাবে করদাতা ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে। এর ফলে করদাতার তথ্য, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কর পরিশোধ এবং বকেয়া রাজস্বের তথ্যসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলোকে আরও বেশি সমন্বিত করা সম্ভব হবে।
গত মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এনবিআরে সংস্কার এবং সংস্থাটির সক্ষমতা বৃদ্ধির রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে সরকারি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে এনবিআরের সক্ষমতা, কর-জিডিপি অনুপাতের ঘাটতি কমানোর পদক্ষেপ, এনবিআরের সাংগঠনিক কাঠামো এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এনবিআর জানাচ্ছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির জন্য শুধুমাত্র করের হার বৃদ্ধি করলেই হবে না। বরং করের আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো, প্রযুক্তি ও তথ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি করা এবং করদাতাদের কর পরিপালন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
এনবিআরের রূপরেখায় স্বল্পমেয়াদে কর-জিডিপি অনুপাত ৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মধ্যমেয়াদে ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজস্ব প্রশাসনে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সক্ষমতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং করদাতা সেবা বৃদ্ধিকে রাজস্ব বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এনবিআর।
উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়, সরকারের মোট রাজস্বের প্রায় ৮৬ শতাংশ বর্তমানে এনবিআর থেকে আসে।
এ বিষয়ে বাসসকে এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, রাজস্ব আহরণের প্রাতিষ্ঠানিক ও পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ জোরদার করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এ সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ বছরে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বেশির ভাগ সময় ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে ছিল। ২০১১-১২ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের মধ্যে তা প্রায় ১০ শতাংশে উঠলেও পরে আবার কমে যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ অনুপাত ৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়ায়।
এনবিআর বলছে, দক্ষিণ এশিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের বর্তমান কর-জিডিপি অনুপাত এখনও সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় ২০৩৫ সালের মধ্যে অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া উপস্থাপনায় বলা হয়, এনবিআর গত ২৫ বছরের জিডিপির আকার, সরকারি বাজেট, রাজস্ব ও উন্নয়ন ব্যয়, এনবিআরের রাজস্ব আহরণ ও প্রবৃদ্ধি, সরকারি ঋণ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর কর-জিডিপি অনুপাতের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
এতে দেখা যায়, পর্যালোচিত সময়ে সরকারি ব্যয় ৪ দশমিক ৪৭ গুণ বেড়েছে কিন্তু এনবিআরের রাজস্ব আহরণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৪০ গুণ। ফলে সরকারি ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজস্ব আহরণের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে এনবিআর।
উপস্থাপনা অনুযায়ী, ২০০১-০২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত রাজস্ব প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকৃত রাজস্ব আয়ের তুলনায় রাজস্ব প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে।
রাজস্ব প্রশাসন শক্তিশালী করতে তাৎক্ষণিকভাবে করদাতা সেবা, সুশাসন, নীতি প্রণয়নের সক্ষমতা, তথ্য ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে এনবিআর।
প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনায় আইনি কাঠামো ও পরিবর্তনকালীন ব্যবস্থা পর্যালোচনা, সমন্বিত এন্টারপ্রাইজ আর্কিটেকচার তৈরি, প্রতিটি করদাতার জন্য স্বতন্ত্র মাস্টার ডেটাবেজ এবং অভিন্ন ডেটা ডিকশনারি ও সিস্টেম ইনভেন্টরি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া রাজস্ব নীতি সচিবালয় গঠন, কর-ব্যয়ের রেজিস্টার তৈরি এবং নীতির আর্থিক প্রভাব নির্ধারণে বাধ্যতামূলক টেমপ্লেট চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রথম তিন বছরে একটি সমন্বিত করদাতা অ্যাকাউন্ট, গ্রাহক ও মামলা ব্যবস্থাপনার সমন্বিত ব্যবস্থা, তৃতীয় পক্ষের তথ্যের সঙ্গে করদাতার তথ্য মিলিয়ে দেখা, বিভিন্ন করের ক্ষেত্রে পরিপালন ঝুঁকি শনাক্তের অভিন্ন ব্যবস্থা এবং কর পরিশোধ ও বকেয়া রাজস্বের সমন্বিত তথ্যভান্ডার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
কাস্টমসের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত সীমান্ত কার্যক্রম বহাল রেখে আমদানি ও রপ্তানিকারকদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে পণ্যের মূল্যায়ন, ভ্যাট ও আয়কর-সংক্রান্ত ঝুঁকির তথ্য সমন্বয় করার প্রস্তাব করেছে এনবিআর।
পরবর্তী তিন থেকে পাঁচ বছরে প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে কর পরিপালন বিশ্লেষণের ব্যবস্থা, আইনি সুযোগ থাকলে আগে থেকে পূরণ করা কর রিটার্নের পরিধি বাড়ানো, কম ঝুঁকির ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ ফেরত দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নেটওয়ার্ক ও জালিয়াতি শনাক্তে উন্নত বিশ্লেষণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, রাজস্ব নীতির মাধ্যমে শিল্পোন্নয়ন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতেও সহায়তা দেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক কমানো, কৃষি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ভ্যাট অব্যাহতি, বিভিন্ন খাতে কম আয়কর হার ও কর অব্যাহতি, কাস্টমস অটোমেশন এবং সিঙ্গেল-উইন্ডো সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজস্ব নীতিতে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পাওয়া খাতের মধ্যে রয়েছে কৃষি, তৈরি পোশাক, রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনার, তথ্যপ্রযুক্তি, অটোমোবাইল ও বৈদ্যুতিক যানবাহন, মোবাইল ফোন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), পুঁজিবাজার, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা, ওষুধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের পিতা ডি এম আব্দুল মতিন মারা গেছেন। এনসিপি তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে।
আজ সোমবার এনসিপি একটি শোক বার্তায় জানিয়েছে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের সম্মানিত পিতার মৃত্যুতে এনসিপি গভীরভাবে শোকাহত।
মরহুমের মৃত্যুতে আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। প্রিয়জনকে হারানোর এই কঠিন সময়ে মহান আল্লাহ তায়ালা যেন মনিরা শারমিন এবং তার পরিবারের সদস্যদের এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করেন।
এনসিপি একই সঙ্গে নেতাকর্মী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে মরহুমের জন্য দোয়া চেয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অধিকৃত পশ্চিম তীরে রোববার, ইয়োম কিপুর ধর্মীয় উৎসবের শুরুর আগের দিন, এক ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী গুলিতে নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী এই ঘটনার পর সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটক করার তথ্য জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরে গাড়ি দিয়ে হামলা চালানোর একটি প্রচেষ্টার কথাও জানায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তারা দাবি করেছে, ওই ঘটনায় হামলাকারী নিহত হয়েছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই গুলির ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “ইহুদিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ইয়োম কিপুর শুরুর ঠিক আগে এ হামলা চালানো হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, ইয়োম কিপুর রোববার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়ার কথা।
মধ্য ইসরাইলের পেতাহ টিকভা শহরের বেইলিনসন হাসপাতাল জানিয়েছে, প্রথম হামলায় আহত ইসরাইলি নাগরিক মারা গেছেন। রামাল্লার উত্তরে ইসরাইলি বসতি নেভে তজুফের কাছে এই হামলা সংঘটিত হয়েছিল।
ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রধান প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইয়েশা কাউন্সিলের প্রধান ইসরাইল গান্টজ জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি ওই বসতির একজন বাসিন্দা ছিলেন।
এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, “আইডিএফের সেনারা গুলির হামলা চালানো সন্ত্রাসীকে আটক করেছে।” সেনারা তাকে একটি হাসপাতালে খুঁজে পায়। ফিলিস্তিনি সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালটি রামাল্লা শহরে অবস্থিত।
সেনাবাহিনী আরও জানায়, রামাল্লার কাছে মধ্য পশ্চিম তীরে হামলার ঘটনাস্থলেই সন্দেহভাজন হামলাকারীকে এক সেনা গুলি করে আহত করেছিল।
ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির হামলাকারীকে সম্প্রতি অনুমোদিত মৃত্যুদণ্ড আইনের আওতায় প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি করার দাবি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। পোস্টে হাসপাতালের একটি কক্ষে ইসরাইলি সেনাদের ঘেরাও করা এক ব্যক্তির ছবিও ছিল।
নতুন আইন অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় ‘সন্ত্রাসবাদ’ আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে সাধারণভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিক, যাদের ‘ইসরাইলি আরব’ও বলা হয়, তাদের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
রোববার হামলার ঘটনাস্থলে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির বলেন, সামরিক বাহিনী “সর্বোচ্চ সতর্কতায়” রয়েছে এবং সব এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এএফপির সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, পশ্চিম তীরের ওই এলাকায় অনেকগুলো চেকপয়েন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিছু চেকপয়েন্টে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল।
জামির বলেন, “আমরা গ্রামটিতে অবরোধ আরোপ করব এবং তদন্ত চালাব। এর মাধ্যমে হামলাকারীকে যারা সহায়তা করেছে, তাদের প্রত্যেকের কাছে আমরা পৌঁছাব।”
নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে রামাল্লা এলাকার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কথা বিবেচনা করে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের শিক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার রাতে ঘোষণা দিয়েছে যে, সোমবার ওই এলাকার শিক্ষার্থীদের ক্লাস হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবি করে মানববন্ধন ও শোক র্যালি আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষক সমিতির ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অপ্রতিমের অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি নিহতের আত্মার শান্তি কামনা করেন। একই সঙ্গে তারা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
মানববন্ধনে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন্নাহার শিলা বলেন, "আমি গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত নাহিদা ম্যামের বাসায় ছিলাম। ম্যাম চান প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে অপরাধীদের শাস্তি হোক।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "অপরাধী তুহিন বেশি কিছুদিন বিনা পারিশ্রমিকে ম্যামের স্বামীর ব্যবসায় কাজ করেছিলেন। ম্যাম যখন প্রক্টর ছিলেন তখন কিছু মাদক চক্রকে ধরিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে এই অপরাধীদের দুজন ছিলেন।"
আরো পড়ুন
জামায়াত আওয়ামী লীগের পথ ধরে হাঁটছে : রাশেদ খান
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে বেশ কিছু কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষক কর্মকর্তার ছেলে-মেয়েই ক্লাস ৬-৭-এ পড়ে, যদি ছেলে মেয়েই না থাকে তাহলে টাকা দিয়ে কী করব। আমরা চাই অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক।"
শিক্ষক সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক শামীমা নাসরিন বলেন, "অপ্রতিমের এই হত্যা পুরো বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যদি অপরাধীদের শাস্তি না হয়, তাহলে হয়তো আরো অনেক অপ্রতিম এমন নৃশংস হত্যার স্বীকার হতে পারে। তাই অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী বিশেষ ‘ডিজিটাল সচেতনতা ক্যাম্পেইন’ ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ক্যাম্পেইনে সাধারণ নাগরিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তিনি এক বার্তায় এই আহ্বান জানান।
আরো পড়ুন
অপ্রতীম হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগ বা কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা।
ড. মুহিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সময়োপযোগী তথ্যের প্রচারই পারে ডেঙ্গুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে।
আরো পড়ুন
প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে আল-কায়েদা ও আইএসের প্রচারণামূলক বই।
তিনি তরুণ সমাজ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সারদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতামূলক কনটেন্ট, রিলস, স্টোরি আপলোড এবং শেয়ারের মাধ্যমে ব্যাপক ক্যাম্পেইনের ডাক দেন।
ড. মুহিত বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়, জমা পানি পরিষ্কার রাখা এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মতো জরুরি বার্তাগুলো কনটেন্ট ক্রিয়েটররা নিজেদের সৃজনশীল ভিডিও, ইনফোগ্রাফিক ও পোস্টের মাধ্যমে সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে সবাই এই জাতীয় উদ্যোগে ভূমিকা রাখতে পারেন।
আরো পড়ুন
জামায়াত আওয়ামী লীগের পথ ধরে হাঁটছে : রাশেদ খান।
আগামী তিন মাস এই ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের আওতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ডেঙ্গুর লক্ষণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য ব্যাপকভাবে প্রচার করা হবে। নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও কর্মক্ষেত্র পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সচেতনতামূলক বার্তা ভার্চুয়াল পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ