ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কাউখালীতে দুইটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন


কাউখালীতে দুইটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন

পিরোজপুরের কাউখালীতে অবস্থিত দুইটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের গুরুতর শিক্ষক সংকটের সমাধান এবং জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১০টায় ছাত্র, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে উপজেলার সরকারি কেজি ইউনিয়ন বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিটি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন, কাউখালী কেজি ইউনিয়ন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৮০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন, কিন্তু তাদের জন্য শিক্ষক মাত্র ৪ জন। অপরদিকে, কাউখালী এস বি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০০ ছাত্রী রয়েছে, কিন্তু তাদের জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৭ জন। এছাড়া, দুইটি বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

বক্তারা জানান, ইংরেজি, গণিত, ব্যবসায় শিক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সীমিত সংখ্যক শিক্ষকের দ্বারা কোনো রকমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যা শিক্ষার গুণগতমানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় মাদক সেবন ও সরকারি কাজে বাধা, নারীসহ তিনজনের কারাদণ্ড

মানববন্ধনে বক্তৃতা করতে আসেন, অভিভাবক মোঃ আল আমিন খান, এনামুল হক, সচেতন নাগরিক রফিকুল ইসলাম, রাকিব তালুকদার, জাহিদুর রহমান ফিরোজ, প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাঈম হোসেন এবং শিক্ষার্থী সুমন কর্মকারসহ আরও অনেকেই। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

কাউখালী কেজি ইউনিয়ন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন হালদার জানান, দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

কাউখালী এস বি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আখতার হোসেন বলেন, বর্তমান জনবল নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, কাউখালীর দুইটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি তাদের জানা আছে। শূন্য পদের তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং শিক্ষক পদায়ন ও বদলির মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে ৩১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে সাত দিনব্যাপী কমরেড মণি সিংহ মেলা

সচেতন অভিভাবক রফিকুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষক ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা সম্ভব নয়। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে দুইটি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।”

অভিভাবক এনামুল হক সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে সংকটমুক্ত রাখতে অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগের দাবি করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমার সেনাবাহিনী ছয় মাসে ৭০০ নাগরিককে হত্যা করেছে: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:১৮ পি.এম


মিয়ানমার সেনাবাহিনী ছয় মাসে ৭০০ নাগরিককে হত্যা করেছে: জাতিসংঘ

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী গত বছরের নির্বাচনী সময়কালজুড়ে ৭০০-এরও বেশি বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতরের নতুন একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাসে অন্তত ৭০২ জন নিহত হওয়ার তথ্য বিশ্বাসযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২২৪ জন নারী এবং ১৫৩ জন শিশু রয়েছে।

প্রতিবেদনটি এমন এক সময়কালকে ঘিরে প্রকাশ করা হয়েছে, যখন সামরিক সরকার নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেয়। তবে প্রধান বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেয়ার কারণে অনেকের মতে এ নির্বাচনটিকে ব্যাপকভাবে প্রহসন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় দেশটির লাখো মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এখনও দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীর বিমান হামলাই ছিল ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক দুর্ভোগের সবচেয়ে বড় কারণ। দেশটির সাগাইং অঞ্চলকে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে অন্তত ১৯১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬০ জন নারী এবং ৩০ জন শিশু রয়েছে।

গত অক্টোবরে সাগাইংয়ের চাউং-ইউ এলাকায় একটি স্কুলের সামনে জড়ো হওয়া মানুষের ওপর গোলাবর্ষণের ঘটনায় ২৩ জন নিহত হয়েছে এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চার শিশু ছিল। এছাড়া ডিসেম্বর মাসে সাগাইংয়ের তাবায়িন এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বিমান হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হন। হামলার সময় সেখানে লোকজন ফুটবল ম্যাচ দেখার জন্য জড়ো হয়েছিলেন।

প্রতিবেদনটিতে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তারা আরাকান আর্মির জোরপূর্বক নিয়োগ, হত্যাকাণ্ড, নির্বিচার গ্রেফতার এবং যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, ‘মিয়ানমারের জনগণ সামরিক বাহিনীর হাতে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার। এখন মনে হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও তাদের ভুলে যেতে বসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ের সুরক্ষা কার্যক্রমে অর্থায়ন অনেক মানুষের জন্য একমাত্র ভরসা ছিল। কিন্তু সেই সহায়তা কমে যাওয়ায় তাদের দুর্দশা আরও গভীর হচ্ছে।’

২০২১ সালে সামরিক বাহিনী গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে এবং দেশটির তৎকালীন নেত্রী অং সান সু চি’কে কারাবন্দি করে। পরবর্তীতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো কিছু এলাকায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেলেও সাম্প্রতিক বাধ্যতামূলক নিয়োগ এবং ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী আবারও বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল মিন অং হ্লাইং দেশটির প্রেসিডেন্ট হন। তবে বিরোধী দলগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং গৃহযুদ্ধের কারণে দেশের বড় অংশ নির্বাচনের বাইরে থাকায় নির্বাচনটি আগে থেকেই একতরফা বলে বিবেচিত হচ্ছিল। সংসদে সামরিকপন্থি সদস্যদের প্রাধান্য রয়েছে এবং সংবিধান অনুযায়ী এক-চতুর্থাংশ আসন সরাসরি সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। বাকি আসনের মধ্যে সামরিক সমর্থিত ইউএসডিপি প্রায় ৮০ শতাংশ আসন জয় করেছে। সমালোচকদের মতে, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াই সামরিক সরকারের পক্ষে ঝুঁকে ছিল।

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানি প্রেসিডেন্ট পূর্ণ প্রতিশ্রুতি চাইলেন সমঝোতা বাস্তবায়নে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:২৮ পি.এম


ইরানি প্রেসিডেন্ট পূর্ণ প্রতিশ্রুতি চাইলেন সমঝোতা বাস্তবায়নে

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয় সম্পর্কে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আলোচনা সফল হওয়ার জন্য উভয়পক্ষের সম্মত বাধ্যবাধকতার প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান জানান, ‘আলোচনার কার্যকারিতা নির্ভর করে সম্মত দায়িত্বগুলোর প্রতি পূর্ণ অঙ্গীকার এবং সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর।’

তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে গৃহীত দায়িত্বগুলো বাস্তবে কতটা পালন করা হচ্ছে সেই অনুযায়ী। সম্মত পাঠ্যের বাইরে দেওয়া বক্তব্য আলোচনা এগিয়ে নিতে সহায়ক নয়।’

পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কয়েকটি বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের মাধ্যমে তার পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে।

একই সঙ্গে অবমুক্ত হওয়া ইরানি তহবিলের একটি অংশ মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা হবে।

তবে ইরানি কর্মকর্তারা এসব দাবির কিছু অংশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তারা বলেন, আলোচনা সম্পর্কে প্রকৃত বিষয়বস্তু নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকা উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আ. লীগের নৈতিক সাহস নেই, নাশকতার ক্ষমতা আছে : জাহেদ উর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ পি.এম


আ. লীগের নৈতিক সাহস নেই, নাশকতার ক্ষমতা আছে : জাহেদ উর রহমান

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য এবং পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের নৈতিক সাহস নাই, তবে তাদের নাশকতার সক্ষমতা আছে। জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন হয়েছে।’

আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।

উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সরকার প্রধানের বৈঠকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নিতে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানালেন, ‘মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করেছেন। শিগগিরই শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী পুরো সফরে আগ্রহ ও আন্তরিকতা দেখিয়েছেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

'আইন সবার জন্য সমান'

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪১ পি.এম


 

২১ বছর বয়সী গ্যাভিন হিঙ্কলে এবং তার ২০ বছর বয়সী বাগদত্তা ম্যাডেলিন ফক্স, তারা তখন স্বপ্নে ছিলেন, প্রেমের উড়ানে। তাদের বিয়ে হতে বাকি রয়েছে মাত্র এক সপ্তাহ।

সভ্যতার সেই অনুষ্ঠান পরিকল্পনার মাঝে গোটা জীবন সাজানোর মুহূর্তগুলো তাদের জন্য দুঃস্বপ্নের রূপ ধারণ করল। হঠাৎ একটি ফোর্ড গাড়ি এসে যমদূতের মতো আক্রমণ করে তাদের টেসলার মাঝ বরাবর ধাক্কা দেয়। এতে তাঁদের গাড়ি দুমড়ে যায়। একই সাথে দুমড়ে-মুচড়ে যায় দুই তরুণটির স্বপ্নও। গ্যাভিন সেই স্বপ্ন থেকে চলে যান চিরতরে। ম্যাডেলিন অভ্যন্তরীণভাবে বেঁচে থাকলেও, বেঁচে থাকার মতো অবস্থানে নেই। তার স্বপ্ন মুছে গেছে, তার প্রিয়তমকে হারিয়েছেন চিরতরে, এবং তার নিজ জীবন এখন বিছানায় আটকে আছে। কিছুদিন কোমায় থাকার পর, ম্যাডেলিন স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন।

যে গাড়িটি সেই যমদূত হয়ে এসেছিল, সেটা চালাচ্ছিলেন গ্লিন উইলবার্ন, যিনি একজন ডেপুটি শেরিফ। তাকে রাস্তায় একটি গুলির খবর পেয়ে সাইরেন বাজিয়ে, লাল বাতি জ্বালিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটতে দেখা যায়। কিন্তু দুর্ঘটনার ঠিক আগে তিনি জানতে পারেন, আগে থেকেই অন্য একটি পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে এবং সন্দেহভাজন গাড়িটি সেখানে আর নেই।

একজন দায়িত্বরত ডেপুটি শেরিফের সিগনাল অমান্য করে একটি গাড়ির ধাক্কায় একজন নিহত হয়েছেন এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই কারণে ঘটনার ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই দুর্ঘটনাটি ক্যালিফোর্নিয়ার বিউমন্ট এলাকায় ঘটেছে। গত সেপ্টেম্বরে এই দুর্ঘটনার পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। কিন্তু ঘটনার ৯ মাস পর নতুন করে আলোচনার শুরু হয়েছে। কারণ রিভারসাইড কাউন্টি অফিসের ডেপুটি শেরিফ ৪২ বছর বয়সী উইলবার্নের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনার এবং তার বিচার শুরুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, অসতর্ক গাড়ি চালিয়ে তিনি হত্যা করেছেন এবং গুরুতর আহত করেছেন। অভিযোগের প্রমাণ হলে তার ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

 

গত সপ্তাহে, রিভারসাইড কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, উইলবার্নকে প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়েছে, এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস জানায়, 'একটি গুলির খবর পেয়ে উইলবার্ন বিউমন্ট থেকে ক্যালিমিসায় যাচ্ছিলেন। চেরি ভ্যালি বুলেভার্ড দিয়ে আনুমানিক ঘণ্টায় ১০০ মাইল গতিতে যাওয়ার সময় উইলবার্ন একটি ইন্টারসেকশনে প্রবেশ করেন এবং সিগনাল অমান্য করে ঘণ্টায় প্রায় ৭১ মাইল গতিতে চলা একটি বেসামরিক গাড়িকে পাশ থেকে ধাক্কা দেন। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসের দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগে বলা হচ্ছে, উইলবার্ন চরম অবহেলার সাথে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিনি সিট বেল্ট পড়া ছিলেন না। তদন্তে দেখা যায়, ধাক্কা লাগার ঠিক আগ মুহূর্তে উইলবার্ন সংঘর্ষ এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং স্টিয়ারিং হুইলটি ডানদিকে ঘুরিয়েছিলেন। তবে অতিরিক্ত গতির কারণে তিনি সিগনালে থামতে পারেননি।

 

ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'উইলবার্নের অবহেলাই ছিল চালক গ্যাভিনের মৃত্যু এবং যাত্রী ম্যাডেলিনের গুরুতর আঘাতের কারণ।' গ্যাভিনের পরিবার, ডিস্ট্র্রিক্ট অ্যাটর্নির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, আইন প্রয়োগকারীদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড ঠেকানো এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একজন দায়িত্বরত ডেপুটি শেরিফের বিরুদ্ধে হতার মতো গুরুতর অভিযোগ আমলে নেয়া প্রমাণ করে, আইন সবার জন্য সমান। তবে একই সাথে এই ঘটনায় কিছু বিষয় সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে, আইন কি সত্যিই সবার জন্য সমান? দুর্ঘটনায় উইলবার্ন নিজেও আহত হয়েছিলেন। কিন্তু তার আঘাত গুরুতর ছিল না। তবে উদ্ধারকারীরা গুরুতর আহত গ্যাভিন ও ম্যাডেলিনকে ফেলে, সামান্য আহত এক ডেপুটি শেরিফকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তারা উইলবার্নকেই আগে হাসপাতালে নিয়ে যান। দ্রুত হাসপাতালে নিলে গ্যাভিন বেঁচে যেতে পারতেন এবং ম্যাডেলিনের ক্ষতিও অনেক কম হতে পারত। এখানে আইন ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।

একজন দায়িত্বরত ডেপুটি শেরিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের স্পর্শকাতরতার বিষয়টিও রয়েছে প্রসিকিউটরদের মনে। রিভারসাইড কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি মাইকেল হেস্ট্রিন বলেছেন, 'যখন কোনো মামলায় কর্মরত আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা ঘটনায় জড়িত থাকেন, তখন সেই ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করা আমাদের দায়িত্ব।' তবে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ম্যাডেলিনের পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'আইন সবার জন্য সমান। কোন ব্যাজ, পদবি বা অবস্থান কাউকে জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না।' তারা জানায়, 'গ্যাভিন এবং ম্যাডেলিনের সঙ্গে যা ঘটেছে তা ঠেকানো সম্ভব ছিল।' ডেপুটি শেরিফকে উল্লেখযোগ্য কর্তৃত্ব এবং দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তিনি জরুরি যানবাহন চলাচলের বাধ্যবাধকতাগুলো বুঝতেন। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা কিছু আইনী অধিকার পান, যা শুধুমাত্র তখনই কার্যকর হয়, যখন অন্যদের নিরাপত্তার প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে তা প্রয়োগ করা হয়।

এ মামলার শুনানির তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। তবে সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার পাওয়া বিশেষ অধিকার, জরুরি যানবাহন পরিচালনার নীতি, উদ্ধারকারীদের অগ্রাধিকার নীতি- এসব বিষয় নিয়ে গুরুতর আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্যাভিন ও ম্যাডেলিনের পরিবারও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে। ম্যাডেলিনের বাবা-মা এক বিবৃতিতে বলছেন, 'আশা করি এ বিচার একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে যে, যাদের ওপর জনগণকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাদের কর্মকাণ্ড যখন অকল্পনীয় ক্ষতির কারণ হয়, তখন তাদেরকেও অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%