হোসেনপুর( কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৪৩ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ার ইসলামিক কমিউনিটিতে দীর্ঘ সময় ধরে সেবা প্রদান ও বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রীতিতে অসামান্য অবদানের জন্য ‘মেডেল অব দ্য অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া’ (ওএএম) পদকে ভূষিত হয়েছেন অধ্যাপক ড. শাহজাহান খান। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি সন্তান এবং একজন প্রখ্যাত পরিসংখ্যানবিদ। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া ডে উপলক্ষে তার এই সম্মাননার ঘোষণা করা হয়।
গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা ড. শাহজাহান খান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করার পর কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টারিও থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশের পাশাপাশি বিদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৯৩ সাল থেকে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডে (ইউএসকিউ) যুক্ত আছেন এবং বর্তমানে সেখানে এমেরিটাস প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্যের পদেও ছিলেন।
একাডেমিক অর্জনের পাশাপাশি, অস্ট্রেলিয়ার টুউম্বা শহরে মুসলিম কমিউনিটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গঠনে এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় তার অবদান অনন্য। ১৯৯৪ সালে তিনি ইসলামিক সোসাইটি অব টুউম্বা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০১৪ সালে গার্ডেন সিটি মসজিদ প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন। ২০১৫ সালে মসজিদে হামলার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি সাহসের সঙ্গে কমিউনিটির নেতৃত্ব দেন এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
শিক্ষা, গবেষণা এবং কমিউনিটি সেবার এই দীর্ঘ যাত্রার স্বীকৃতিস্বরূপ গত ১৭ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনের গভর্নরস হাউসে কুইন্সল্যান্ডের গভর্নর ড. জ্যানেট ইয়ং তার হাতে এই রাষ্ট্রীয় পদক তুলে দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন সংঘাত বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, "ইউক্রেন যুদ্ধ সমাপ্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বিশ্ব।" হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে যুদ্ধ বন্ধের পরিস্থিতি পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অনুকূল।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ইউক্রেন সংকটের সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, "আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। আমার মনে হয় আমরা সমাধানের পথ খোঁজার ব্যাপারে অনেকখানি এগিয়েছি—সম্ভবত এ যাবতকালের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছি।"
এদিকে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ইঙ্গিত দেন। তবে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান, প্রস্তাবিত এই বৈঠক কেবল ইউক্রেন সংকটের সমাধানের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর মূল অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হবে পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ (Denuclearization)।
সম্ভাব্য ওই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ইউক্রেন পরিস্থিতির নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমি আপনাদের নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছি না, কারণ আলোচনাটি কেবল ওই বিষয়টি নিয়ে নয়। এটি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ওপরও জোর দেবে। আমাদের বহু পথ অতিক্রম করতে হবে, তবে আমি মনে করি বর্তমান পরিস্থিতি শান্তির খুব কাছাকাছি।"
ইউক্রেন ও সার্বিক যুদ্ধের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সংঘাত এড়ানোর আগ্রহ ব্যক্ত করার পাশাপাশি সতর্ক অবস্থান বজায় রাখার ইঙ্গিত দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র গ্রিস ও পানামাভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠান কারনাকিস অ্যান্ড কারনাকিসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা ইরানের জাহাজ চলাচল ও তেল বাণিজ্যসংক্রান্ত নেটওয়ার্ককে আইনি সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে করা হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় স্থানীয় সময় বুধবার (২১ অক্টোবর) এই ঘোষণা দেয়।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত নেটওয়ার্ককে আইনি সহায়তা প্রদান করে আসছিল।
এছাড়া, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে তদন্ত জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অপরাধবিষয়ক সংস্থা ফিনসেন (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক) গ্রিসের একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে। ব্যাংকটিকে প্রশাসনিকভাবে নথিপত্র তলবের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তবে ব্যাংকটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন সংস্থাটি আরও ছয়টি ইউরোপীয় ব্যাংকের কাছে তথ্য চেয়েছে, যেগুলোর বিরুদ্ধে ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব ব্যাংকের নামও প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, “আপনি সমুদ্রে অবৈধভাবে তেল স্থানান্তর করুন কিংবা কোনো আইনি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কক্ষে বসে এসব কাজে সহায়তা করুন—ইরানি সরকারকে সমর্থন দিলে আমরা আপনাকে খুঁজে বের করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করব।”
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট অভিযোগ করেন যে, কারনাকিস অ্যান্ড কারনাকিস বহু বছর ধরে বিভিন্ন ভুয়া বা কাগুজে কোম্পানি তৈরি করেছে। এসব কোম্পানির মাধ্যমে ইরানের তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও ইস্পাত পরিবহণকারী জাহাজগুলোর প্রকৃত মালিকানা আড়াল করা হতো।
পিগটের দাবি, এসব কোম্পানি মূলত আড়াল হিসেবে কাজ করত এবং এর মাধ্যমে ইরানের লাখ লাখ ব্যারেল তেল বিক্রির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নেটওয়ার্ককে সহায়তা করা হয়েছে। এসব বাণিজ্য থেকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্স এবং ইয়েমেনের হুথিরা লাভবান হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন।
তবে কারনাকিস অ্যান্ড কারনাকিসের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এছাড়া, ইরানের তেল পরিবহণে সহায়তার অভিযোগে সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কয়েকটি জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত এজেন্টের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের গোপন তেল পরিবহণ নেটওয়ার্ক পরিচালনায় সরাসরি সহায়তা করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। চলতি মাসে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি ইরানের জাহাজ চলাচল, তেল বাণিজ্য এবং এসব কাজে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, যা প্রচলিত জুলাই-জুন অর্থবছরকে পরিবর্তন করবে। এই উদ্দেশ্যে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে তাদের কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন অর্থবছর চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন, বিধিমালা, চুক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় কোন পরিবর্তন প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-৬ থেকে ১৫ অক্টোবর জারি করা একটি চিঠিতে এই নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে। উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল স্বাক্ষরিত চিঠিটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও শাখায় পাঠানো হয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছর হবে নয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন অর্থবছর। এই অর্থবছর শুরু হবে ২০২৭ সালের জুলাইয়ে এবং শেষ হবে ২০২৮ সালের মার্চে। এরপর থেকে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে প্রতি বছর ১ এপ্রিল শুরু হয়ে ৩১ মার্চ শেষ হবে অর্থবছর।
নতুন অর্থবছর চালুর জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি ২০২৭-২৮ অর্থবছর শুরুর পূর্বেই সম্পন্ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা, পরিপত্র, বিশেষ আদেশ (এসআরও), চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করতে হবে। কোথায় সংশোধন বা সমন্বয় প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে সময়সীমাসহ কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে হবে।
অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের ফলে সরকারের বাজেট প্রণয়ন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), রাজস্ব আদায়, হিসাব সংরক্ষণ ও পরিসংখ্যান প্রস্তুতির নিয়মেও পরিবর্তন আনতে হবে। আইবাস++, ভ্যাট এবং ট্রেজারি ব্যবস্থাপনাসহ সরকারি আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার সফটওয়্যারগুলো নতুন অর্থবছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।
নতুন কাঠামো কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা প্রয়োজন। অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমেও নতুন সময়সীমার প্রভাব পড়বে।
নির্দেশনার আওতায় রয়েছে রাজউক, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, সরকারি আবাসন পরিদপ্তর এবং হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
অর্থবছর পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনা। সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জুলাই-জুন অর্থবছরে বর্ষা মৌসুমে অনেক অবকাঠামোগত কাজ পরিচালনা করতে হয়। এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালু হলে বর্ষার আগেই অনেক উন্নয়ন কাজ শেষ করার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব কমানোর পাশাপাশি কাজের মান উন্নত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার মাধ্যমে নতুন অর্থবছর চালুর প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে চায় সরকার। তবে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিবর্তন কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা হালনাগাদ এবং বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বিত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ