শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৪ এম
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে র্যালি আয়োজন করেছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কাকরাইলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে র্যালিটি জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে নিসচার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শাখার নেতারা, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন শ্রেণির পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তাঁরা সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
র্যালির পর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নিসচার নেতারা জানান, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন ও বিধির যথাযথ প্রয়োগ, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, পরিবহন খাত, গণমাধ্যম ও নাগরিকদের একত্রে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সমাবেশে চালকদের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা নিশ্চিত করা, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক চিহ্নিত করে সংস্কার এবং পথচারীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
নিসচার পক্ষ থেকে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করতে দুর্ঘটনার নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের সুপারিশ করা হয়।
নেতারা উল্লেখ করেন, কেবল আইন প্রণয়ন করলেই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হবে না। আইনের প্রয়োগ, নিয়মিত তদারকি এবং অনিয়মের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধিরও আহ্বান জানান তাঁরা।
নিসচার নেতারা আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে চালক, যাত্রী, পথচারী, পরিবহন মালিক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তা এবং আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধারাবাহিক, কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যবর্তী নির্বাচন তিন নভেম্বরের দিকে এগিয়ে আসার সাথে সাথে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একের পর এক সিদ্ধান্ত দেশটির নির্বাচনী রাজনীতিতে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এবারের নির্বাচনী চক্রে আদালতের ভূমিকা অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখা গেছে। এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এলেনা কাগান।
সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন মামলায় রিপাবলিকানরা সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় অধিক সুবিধা পেয়েছে। কংগ্রেসের নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং নির্বাচনী প্রচারে অর্থব্যয়ের বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়ে আদালতের রায়গুলো এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। তবে এসব আইনি সাফল্য কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলকে কতটা সহায়তা করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অতিক্রম করতে, ডেমোক্র্যাটদের প্রতিটি কক্ষে নিট চারটি করে আসন বাড়াতে হবে। দুই কক্ষের যে কোনো একটির নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি, প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বে কংগ্রেসীয় তদন্তের পথও খুলে যেতে পারে।
গত বছর ও চলতি বছরে সুপ্রিম কোর্টের কয়েকটি রায় জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনী আসনের মানচিত্র রিপাবলিকানদের জন্য তুলনামূলক অনুকূল করতে সহায়তা করেছে। তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরাও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীল বিচারপতিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ৬-৩ অনুপাতে রয়েছে। রক্ষণশীল বিচারপতিদের সমর্থনে দেওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ রায় রিপাবলিকানদের সুবিধা দিয়েছে। এপ্রিলে আদালত ১৯৬৫ সালের ভোটাধিকার আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান কার্যত দুর্বল করে দেন। জাতিগত বৈষম্য থেকে ভোটারদের সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। এরপর জুনে আদালত দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা নির্বাচনী প্রচারে অর্থব্যয়ের সীমাবদ্ধতা বাতিল করেন।
তবে গত মাসে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করার ট্রাম্প-সমর্থিত একটি উদ্যোগ নাকচ করে দেয় আদালত। ডেমোক্র্যাট ভোটাররা তুলনামূলক বেশি ডাকযোগে ভোট দিয়ে থাকেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ভিন্নমত জানিয়েছিলেন আদালতের সবচেয়ে রক্ষণশীল দুই বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস ও স্যামুয়েল আলিটো।
ভার্জিনিয়ার জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক ইলিয়া সোমিনের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনী মামলাগুলোর রায়ে রিপাবলিকানরা সামগ্রিকভাবে সুবিধা পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিনের রক্ষণশীল বিচারিক অগ্রাধিকারের প্রতিফলন ঘটেছে।
এবারের নির্বাচনী চক্রে মামলার সংখ্যা নিয়েও মন্তব্য করেছেন সোমিন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট মামলার সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বলে মনে হচ্ছে, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।
আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে প্রতিযোগিতা
জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ তুলে নির্বাচনী আসনের সীমানা চ্যালেঞ্জ করা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দ্রুত প্রতিনিধি পরিষদের এমন আসনগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণে উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। কৃষ্ণাঙ্গ ভোটাররা সাধারণত ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করে থাকেন।
সুপ্রিম কোর্টের অন্য কয়েকটি রায়ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থে কাজ করছে। মূলত নির্বাচনী আসনের সীমানা নির্ধারণের পথ খুলে দিয়েছে। এর ফলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে নজিরবিহীন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
গত বছর ট্রাম্প রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলোকে বিদ্যমান কংগ্রেসীয় আসনের সীমানা নতুন করে নির্ধারণের আহ্বান জানান। তাঁর লক্ষ্য ছিল, এমনভাবে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে আরও বেশি আসন পেতে পারে। টেক্সাস প্রথমে এই উদ্যোগ নেয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট নতুন নির্বাচনী মানচিত্র কার্যকর রাখার অনুমতি দেন।
সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি দশকের শুরুতে জনসংখ্যার পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভা নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে। এ ক্ষেত্রে মার্কিন আদমশুমারির তথ্য ব্যবহার করা হয়। তবে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য দশক শেষ হওয়ার আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। সুপ্রিম কোর্টের তিন উদারপন্থি বিচারপতির একজন এলেনা কাগান ২০১৯ সালের একটি রায় নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের গোয়াদর এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি অভিযানে তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের জনশূন্য ক্যাম্পে হামলার চেষ্টা প্রতিহত করতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটে। এ তথ্য পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রেডিও পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী আরও তিনজন সশস্ত্র জঙ্গিকে ঘিরে ফেলেছে। তাদের আটক করার লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, গোয়াদর মহাসড়কের কাছে একটি হোটেলে অবস্থানরত সশস্ত্র ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী একটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হোটেলটির ভেতরে চার হামলাকারীকে ঘিরে রাখা হয়েছে।
পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশটিতে গত ১২ বছরের মধ্যে এক মাসে সর্বোচ্চসংখ্যক জঙ্গি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
তবে গোয়াদরের চলমান অভিযানগুলোর বিস্তারিত এবং হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, দলটি অন্যদের এগিয়ে যেতে দিতে চায় না। একই সঙ্গে রাহুল গান্ধীকে ইঙ্গিত করে তিনি কটাক্ষ করেছেন, কংগ্রেস কতদিন ধরে তাদের ‘ব্যর্থ পণ্য’ বাজারে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধনী দিনে প্রধান বক্তব্য দিতে গিয়ে মোদি এসব মন্তব্য করেন।
মোদি বলেন, যখন পুরো বিশ্ব নতুন বিশ্বব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন ভারতের কিছু মানুষ বিশৃঙ্খলার স্বপ্ন দেখছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে যখন অস্থিরতা চলছে, তখন ভারতের একটি শক্তিশালী ভাবমূর্তি বিশ্বের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। কিন্তু কিছু মানুষ দেশের সুনাম নষ্ট করতেই ব্যস্ত। তারা বিদেশে গিয়ে ভারতকে হেয় করে এবং বিদেশিদের হস্তক্ষেপ করতে বলে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মোদি সরাসরি রাহুল গান্ধীর নাম উল্লেখ না করলেও, তাঁর মন্তব্যের লক্ষ্য কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা— এমনটাই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মোদি প্রশ্ন করেন, দেশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে কংগ্রেস আর কতদিন তাদের ব্যর্থ পণ্য বাজারে আনার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, "আমি জানি না।"
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত উৎক্ষেপণকেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, এক বছরে কংগ্রেস যতবার ব্যর্থভাবে তাদের নেতাকে সামনে আনার চেষ্টা করে, শ্রীহরিকোটায় ততবার রকেট উৎক্ষেপণও হয় না।
মোদি অভিযোগ করেন, একটি পরিবারকে ব্যর্থতার দায় থেকে রক্ষা করতে গিয়ে কংগ্রেস ভারতের অর্জন, গৌরব ও উন্নয়নকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। আঙুর টক হয়ে যাওয়ার উপমা দিয়ে তিনি বলেন, কংগ্রেস এখন সেই আঙুরলতাই ধ্বংস করতে ব্যস্ত।
নেহরু-গান্ধী পরিবার কংগ্রেসের জন্য বোঝা হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
তার অভিযোগ, দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা ব্যক্তিগত আলোচনায় এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন এবং ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের সঙ্গে কথাবার্তায় তা প্রকাশ করেন।
মোদি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকারের বিরোধিতা করতে চান—এমন নেতাদের কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখা হচ্ছে। সংসদে বিরোধী দলের মেধাবী তরুণ সাংসদরা সরকারের সমালোচনা করতে চাইলেও কংগ্রেস সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করে তাঁদের কথা বলার সুযোগ কেড়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ আখ্যা দিয়ে মোদি বলেন, দলটি অন্য কাউকে সফল হতে দিতে চায় না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘দিমাগি নকশাল’ বা ‘মানসিক নকশালরা’ কংগ্রেসের চিন্তাভাবনার ওপর এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে যে দলটি এখন নিজে থেকে চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়েছে।
মোদি দাবি করেন, যারা একসময় গ্রামাঞ্চলে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাত, তারা এখন কংগ্রেসে প্রবেশ করেছে এবং দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে প্রস্তুত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটে গলদা চিংড়ির রেণুর সংকটের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার চাষি চরম বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। জেলার ৫৪ হাজারেরও বেশি ঘেরে প্রতি বছর ৫৮ কোটি ৬০ লাখ রেণুর বিশাল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও, স্থানীয় হ্যাচারিগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
সরকারি ও বেসরকারি ৯টি হ্যাচারির মধ্যে চারটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় সংকট আরো তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ফলে, ভরা মৌসুমেও প্রয়োজনীয় রেণু না পেয়ে চাষিরা আড়তে আড়তে ঘুরছেন। একদিকে চড়া দাম ও বাড়তি যাতায়াত খরচ, অন্যদিকে সময়মতো পোনা ছাড়তে না পারায় বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। ভুক্তভোগী চাষিরা অবিলম্বে বন্ধ হ্যাচারিগুলো চালুর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট জেলায় বর্তমানে ৫৪ হাজার ৮৪৮টি গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে। এসব ঘেরে প্রতি বছর প্রায় ৫৮ কোটি ৬০ লাখ রেণুর প্রয়োজন হয়। তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বর্তমানে সচল স্থানীয় হ্যাচারিগুলো থেকে উৎপাদিত রেণু দিয়ে মোট চাহিদার মাত্র ৪ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। বাকি ৯৬ শতাংশ চাহিদা অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে অথবা ভিন্ন উপায়ে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর এলাকার চিংড়িচাষি বোরহান মল্লিক তার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি চিংড়ি চাষ করছি। কিন্তু এবারের মতো সংকটে কখনো পড়িনি। বছরের শুরুতে ধারদেনা করে বাগদা চিংড়ি চাষ শুরু করেছিলাম, কিন্তু ভাইরাসের মড়কে সব শেষ হয়ে যায়। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার ১০০ বিঘার ঘেরে দেড় লাখ গলদা রেণু ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু পাঁচ-সাতবার আড়তে গিয়েও একসঙ্গে পোনা পাইনি। ভেঙে ভেঙে ১০-১৫ হাজার করে বেশি দামে কিনতে হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।’
একই পরিস্থিতিতে পাশের চাকশ্রী গ্রামের চাষি বদিউজ্জামানের অবস্থাও একই। এপ্রিল থেকে জুন মাস গলদার রেণু ছাড়ার উপযুক্ত সময় হলেও, মৌসুমের শেষ দিকে এসেও তিনি প্রয়োজনীয় পোনা সংগ্রহ করতে পারেননি।
সরেজমিনে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের ফুলবাড়ী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্র্যাক হ্যাচারিটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এর চারপাশ ঝোপঝাড়ে ছেয়ে গেছে, মূল্যবান অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। একই দশা বাগেরহাট প্রন হ্যাচারি এবং মোরেলগঞ্জের রূপা গলদা হ্যাচারির। লোকসানের মুখে পড়ে হ্যাচারিগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান বন্ধ একটি হ্যাচারির দায়িত্বরত কর্মী রহিম গাজী।
বাগেরহাট চিংড়িচাষি সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘বাস্তবে রেণুর চাহিদা সরকারি হিসেবের চেয়েও বেশি। বন্ধ বেসরকারি হ্যাচারিগুলো জরুরি ভিত্তিতে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে সচল করা না গেলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস জানান, জেলার ৯টি হ্যাচারির মধ্যে পাঁচটি চালু এবং চারটি বন্ধ রয়েছে। বন্ধ হ্যাচারিগুলো চালু থাকলে চাহিদার অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হতো। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বন্ধ হ্যাচারিগুলোর মালিকদের লাইসেন্স নবায়ন করে কার্যক্রম শুরু করতে বারবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় তাদের লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ