মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:২৯ পি.এম
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) চারজন নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শককে বদলি ও নতুন পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি আদেশে এই নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে।
আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
মো. মনিরুজ্জামানকে উত্তরা-পশ্চিম থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) পদ থেকে তেজগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সালাহ উদ্দিন কাদেরকে মতিঝিল থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) থেকে বদলি করে রমনা থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
মো. নূরুল ইসলামকে পল্টন থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) থেকে আদাবর থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
সাব্বির মোহাম্মদ সেলিমকে তেজগাঁও থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) থেকে বদলি করে উত্তরা-পশ্চিম থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এই দাপ্তরিক আদেশের একটি অনুলিপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার ও উপ-পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগে অবগতির জন্য এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে নাগেশ্বরী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নাগেশ্বরী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব, ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যের ক্ষতিকর প্রভাব এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহণের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কুড়িগ্রাম জেলার নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. রাকিবুল হাসান নিশাত এবং নাগেশ্বরী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. কামরুল ইসলাম। এছাড়াও বিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাগেশ্বরী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম নবী।
বক্তারা বলেন, সুস্থ ও মেধাবী জাতি গঠনে নিরাপদ খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হলে তারা পরিবার ও সমাজেও এ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে।
আয়োজকরা জানান, জনস্বার্থে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন জানিয়েছেন, "জাতীয় জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।" বর্তমান সরকার দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যা তলাবিহীন ঝুড়ির মতো। ক্ষমতাচ্যুত সরকারের ১৭ বছরের শাসনে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলেন, "সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে, ধৈর্য ধরে একটু সময় দিতে হবে।"
আজ দুপুরে গাইবান্ধা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শামীম কায়সার লিংকন নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন; ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।" তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সকল ধরনের ভেদাভেদ ভুলে জয় ছিনিয়ে আনতে হবে।
সমাবেশ শেষে জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়, যা শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা প্রদক্ষিণ করে ইসলামি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
এতে জেলার সাত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে মঙ্গলবার থেকে ওভারটাইমের নিয়ম শিথিল করছে জাপান। তবে এ পদক্ষেপকে দেশটির দীর্ঘদিনের কাজপাগল সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা বলে সমালোচনা করা হচ্ছে।
কাজপাগল হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়া প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন সরকার জুলাইয়ে একটি প্রবৃদ্ধি কৌশল গ্রহণ করে। এতে কর্মঘণ্টার বর্তমান তদারকি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়। এর পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
শ্রমিকের তীব্র সংকট মোকাবিলা করতে গিয়ে কিছু ব্যবসায়ী খাত আরও নমনীয় কর্মপদ্ধতির দাবি জানিয়ে আসছিল। এই পরিবর্তনের পেছনে তাদের দাবিও আংশিকভাবে কাজ করেছে।
জাপানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে বিশেষ চুক্তির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে আইনগতভাবে মাসে সর্বোচ্চ ১০০ ঘণ্টা পর্যন্ত ওভারটাইমের অনুমতি রয়েছে।
তবে এসব প্রতিষ্ঠানকে কর্তৃপক্ষ মাসে ৪৫ ঘণ্টার মধ্যে ওভারটাইম সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়ে আসছিল। এই নির্দেশনাকে কার্যত নিয়মের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো। শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, এর কারণ হলো ৪৫ ঘণ্টার সীমা অতিক্রম করলে ‘কারোশি’ বা অতিরিক্ত কাজের কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
মঙ্গলবার থেকে কার্যকর নতুন নিয়মে শ্রমমান পরিদর্শন দপ্তরগুলো ৪৫ ঘণ্টার সীমা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আর চাপ প্রয়োগ করবে না।
জাপান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক জরিপে মে মাসে দেখা যায়, এ ধরনের চাপ দেশটির প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ‘সীমিত’ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে নির্মাণ, পরিবহন ও আতিথেয়তা খাতের মতো জনবল সংকটে থাকা শিল্পগুলো এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে সমালোচকরা বলেছেন, এ পদক্ষেপে জাপানের করপোরেট সংস্কার কার্যক্রম পিছিয়ে যাবে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা করপোরেট সংস্কৃতিকে আধুনিক করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, এটি তার বিপরীতমুখী পদক্ষেপ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগস্ট মাসে লোকালয় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২০টি বন্যপ্রাণী, যার মধ্যে ১৭টি বিভিন্ন প্রজাতির সাপ রয়েছে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, যেখানে চা-বাগান, বন, টিলা এবং জলাভূমি রয়েছে, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ আধার হিসেবে পরিচিত।
তবে, এই প্রকৃতির বাসিন্দারা বারবার মানুষের বসতবাড়ি, আবাসিক এলাকা, কৃষিজমি এবং খামারে ঢুকে পড়ছে। কখনো দেখা যাচ্ছে ঘরের সিলিংয়ে অজগর, কখনো মাছ ধরার জালে দাঁড়াশ, আবার কখনো বসতঘরে বিষধর শঙ্খিনী—এভাবে লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি বাড়ছে।
শুধুমাত্র আগস্ট মাসে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন ২০টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে। ১ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া প্রাণীদের মধ্যে ১৭টি বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, একটি শঙ্খচিল এবং দুটি বানর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া সাপের মধ্যে অজগরের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা ৯টি, যার মধ্যে একটি মৃত অবস্থায় ছিল।
বন্যপ্রাণীর লোকালয়ে প্রবেশের ঘটনা পরিবেশকর্মী এবং বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্টদের কাছে নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তাদের মতে, বনভূমির সংকোচন, প্রাকৃতিক আবাসস্থলে মানুষের অনুপ্রবেশ, খাদ্য এবং নিরাপদ আশ্রয়ের পরিবর্তন, এবং বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে সড়ক ও রেলপথ নির্মাণের মতো বিষয়গুলো বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণকে প্রভাবিত করছে। তবে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, বর্ষা এবং গরমের মৌসুমে বন্যপ্রাণীর চলাচল বৃদ্ধি পাওয়াও লোকালয়ে আসার একটি কারণ হতে পারে।
আগস্টের প্রথম দিকে হাইল হাওরের ধানখেত থেকে অজগর উদ্ধারের মাধ্যমে মাসব্যাপী এই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ২ আগস্ট হাইল হাওর থেকে একটি অজগর, ৩ আগস্ট আরামবাগ থেকে একটি বেত আঁচড়া এবং উত্তর ভাড়াউড়া থেকে আরেকটি অজগর উদ্ধার করা হয়। ৪ আগস্ট পূর্বাশা আবাসিক এলাকা থেকে উদ্ধার হয় আরো একটি বেত আঁচড়া। ৬ আগস্ট হাইল হাওর থেকে উদ্ধার করা হয় একটি মৃত অজগর।
এরপর ১২ আগস্ট শাহীবাগ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি শঙ্খচিল।
পরদিন ৫ নম্বর পুল এলাকা থেকে একটি অজগর এবং ১৪ আগস্ট হাইল হাওর থেকে আরো একটি অজগর উদ্ধার করা হয়। ১৩ আগস্ট উদ্ধার হওয়া অজগরটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১২ ফুট এবং ওজন ছিল প্রায় ১৬ কেজি। পরে সেটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১৫ আগস্ট ছিল উদ্ধার অভিযানের একটি ব্যস্ত দিন। ওই দিন রূপশপুর থেকে একটি তক্ষক, নোয়াগাঁও থেকে দাঁড়াশ সাপ, উত্তর ভাড়াউড়া ৫ নম্বর বস্তি থেকে একটি লজ্জাবতী বানর এবং বারিধারা আবাসিক এলাকা থেকে একটি বিরল প্রজাতির সাপ উদ্ধার করা হয়।
নোয়াগাঁওয়ে মাছ ধরার জালে আটকে পড়া দাঁড়াশ সাপটিকে স্থানীয়রা না মেরে ফাউন্ডেশনে খবর দেন। পরে উদ্ধারকারী দল গিয়ে সাপটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। স্থানীয়দের এই সচেতনতা বন্যপ্রাণী রক্ষায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এরপর ১৯ আগস্ট মাঝেরগাঁও থেকে একটি শঙ্খিনী সাপ এবং ২১ আগস্ট শ্যামলী আবাসিক এলাকা থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট একটি উল্টোলেজি বানর উদ্ধার করা হয়। ২৫ আগস্ট পূর্বাশা আবাসিক এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় আরেকটি শঙ্খিনী সাপ। অত্যন্ত বিষধর এই সাপটিকেও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
মাসের শেষ সপ্তাহেও উদ্ধার কার্যক্রম থেমে থাকেনি। ২৬ আগস্ট ভাড়াউড়া বাগান রোড থেকে একটি অজগর এবং সিন্দুরখান ইউনিয়নের কুঞ্জবন এলাকা থেকে বিরল সাইবোল্ডস ওয়াটার স্নেক উদ্ধার করা হয়। পরে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সাপটির প্রজাতি শনাক্ত করা হয়। ২৮ আগস্ট ভাড়াউড়া ৫ নম্বর বস্তি কোয়ার্টার, ২৯ আগস্ট সাতগাঁও-খিলগাঁও এবং ৩০ আগস্ট ইছবপুর থেকে আরো তিনটি অজগর উদ্ধার করা হয়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, ‘বনের ভেতরে খাবারের সংকট এবং বসবাসের অনুপযোগী পরিবেশের কারণে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে।’
তিনি জানান, ‘উদ্ধার করা প্রাণীগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পরিচর্যা দিয়ে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।’
বন উজাড়ের বিষয়টি উল্লেখ করে সজল বলেন, ‘বন উজাড় হচ্ছে, খাবার না থাকলে প্রাণী কীভাবে থাকবে? এ বিষয়ে বন বিভাগের আরো গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’
হাইল হাওর থেকে অজগর উদ্ধারের একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বপন দেব সজল বলেন, ‘কৃষকেরা প্রথমে সাপটিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় একজন ব্যক্তি বাধা দিয়ে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল গিয়ে অজগরটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে।’
পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন, ‘বন্যপ্রাণী দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে অনেক সময় মানুষ সেটিকে হত্যা করেন। অথচ এসব প্রাণী প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
তিনি বলেন, ‘বাড়ি বা লোকালয়ে সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল বা বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।’
তার মতে, সাপসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই লোকালয়ে চলে আসা প্রাণীকে হত্যা না করে নিরাপদে উদ্ধার করে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে।
বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘উদ্ধার করা বন্যপ্রাণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আগস্টের শুরুতে উদ্ধার করা অজগরটির ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে বনে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।’
এক মাসে এত বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসার কারণ জানতে চাইলে নাজমুল হক বলেন, ‘এখন গরম ও বর্ষার সময়। এ কারণে হয়তো প্রাণীগুলো লোকালয়ে চলে আসছে। তা ছাড়া খাবার ও অন্যান্য কোনো সংকট নেই।’
তবে বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে সড়ক ও রেলপথ চলে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীর চলাচলে সমস্যা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। এতে অনেক প্রাণী আহত বা মারা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, সড়কপথের বিন্যাস বা ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা গেলে প্রাণীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
রেঞ্জ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘দিন দিন বনে প্রাণী বাড়ছে, কমছে না। আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি প্রাণী দেখা যাচ্ছে।’
বন বিভাগের এই বক্তব্যের সঙ্গে পরিবেশকর্মীদের পর্যবেক্ষণের জায়গায় রয়েছে ভিন্নতা। সংশ্লিষ্টদের একাংশ মনে করছেন, লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি শুধু মৌসুমি চলাচলের ফল নয়; এর সঙ্গে তাদের আবাসস্থল, খাদ্য ও নিরাপদ বিচরণক্ষেত্রের বিষয়টিও জড়িত।
শ্রীমঙ্গলের বন, চা-বাগান, টিলা ও জলাভূমি ঘিরে মানুষের বসতি ও অবকাঠামো ক্রমেই বাড়ছে। এসব এলাকায় বন্যপ্রাণীর চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হলে তারা বিকল্প পথ হিসেবে মানুষের বসতি, কৃষিজমি কিংবা আবাসিক এলাকায় চলে আসতে পারে। বিশেষ করে সাপের উপস্থিতি বাড়ার অর্থ অনেক সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার ইঁদুর, ব্যাঙ, মাছসহ খাদ্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন উপাদানের অবস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ