ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিআরটিএ খুলনা সার্কেলের উদ্যোগে পেশাজীবী গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা


বিআরটিএ খুলনা সার্কেলের উদ্যোগে পেশাজীবী গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক কার্যক্রমের জোরদার এবং পেশাজীবী গাড়িচালক ও শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) খুলনা সার্কেলের উদ্যোগে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার বিকেলে খানজাহান আলী থানাধীন বাদামতলা শিরোমণিস্থ বিআরটিএ খুলনা সার্কেল কার্যালয়ে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প (৩য় সংশোধিত) এর আওতায় এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ'র খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিঃ) প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ।

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিআরটিএ'র খুলনা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) এস এম মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগের প্রভাষক ডাঃ অনিন্দ্য কুমার সাহা।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেএমপি'র পুলিশ পরিদর্শক (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দিক, সার্জেন্ট মোঃ তরিকুল ইসলাম, বিআরটিএ, খুলনা সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মোঃ সাইফুর রহমান ও মোঃ ফরহাদ হোসেন।

পেশাজীবী পরিবহন গাড়িচালক ও শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা হয়।

কর্মশালায় বক্তারা উল্লেখ করেন, অনিয়ন্ত্রিত হর্ন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং যানবাহনের ত্রুটিপূর্ণ ব্যবহার নগরজীবনে শব্দদূষণের প্রধান কারণ। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়ক, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত হর্নের ব্যবহার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। শব্দদূষণ শুধুমাত্র বিরক্তির কারণ নয়; দীর্ঘমেয়াদে এটি শ্রবণশক্তি, ঘুম, মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জ ডিসি অফিসে সোলার প্যানেলে উৎপাদন হবে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ

তারা আরও বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালক, পরিবহন শ্রমিক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ ও সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। একজন দক্ষ ও সচেতন চালক অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সড়কে নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে যানবাহন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

বক্তারা সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ, অতিরিক্ত ওভারটেকিং পরিহার এবং গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়মিত পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া হর্ন ব্যবহার না করার বিষয়ে চালকদের আরও সচেতন হতে হবে।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট আলোচনায় বলা হয়, অতিরিক্ত শব্দের মধ্যে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে শ্রবণশক্তির ক্ষতির পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে করণীয়, সড়ক পরিবহন আইন ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা, নিরাপদ গাড়ি চালনা এবং চালকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন: শীতের আগমনে গফরগাঁওয়ে প্রস্তুতির ধুম, বাজারে শীতকালীন পণ্য আসছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউপি ভবনের বেহাল দশা, হেলমেট পরে কাজ করছেন কর্মীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৩ পি.এম


ইউপি ভবনের বেহাল দশা, হেলমেট পরে কাজ করছেন কর্মীরা

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ১ নম্বর বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি দীর্ঘ সময় ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশের ছাদ ও পলেস্তারা খসে পড়ার কারণে পরিষদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে হেলমেট পরে কাজ করছেন। সেবা নিতে আসা লোকজনও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) পরিবার পরিকল্পনায় কর্মরত আয়া সবিতা রানীর মাথায় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে তিনি আহত হন।

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, ভবনের প্রায় প্রতিটি কক্ষের ছাদ ও দেয়ালের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। পরিষদে দায়িত্বরত লোকজন মাথায় হেলমেট পরে অফিসের কাজ করছেন। বাইরে থেকে আসা লোকজনও হেলমেট ছাড়া ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন। এ অবস্থায় এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, দ্রুত ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।

বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মোরশেদুর রহমান জানিয়েছেন, ভবনের কোনো কক্ষই নিরাপদ নয়। হলরুম ও তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও প্রতিদিন মানুষ সেবা নিতে আসেন। পলেস্তারা খসে পড়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাসুদ সরদার বলেছেন, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানিয়েছেন, জায়গার স্বল্পতার কারণে বর্তমান স্থানে নতুন ভবন নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। পুরোনো ভবনটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বদীপ দাশ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্পাদক হলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৭ পি.এম


বিশ্বদীপ দাশ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্পাদক হলেন

বিশ্বদীপ দাশ ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্পাদক হিসেবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আজ রবিবার, সংবাদমাধ্যমটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নতুন দায়িত্ব প্রদান করেছে এই জ্যেষ্ঠ সম্পাদককে।

শুক্রবার, লন্ডনের একটি হাসপাতালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা যান।

অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে, বিশ্বদীপ দাশ ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্পাদক হিসেবে বার্তাকক্ষের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন গণমাধ্যমটির একজন মুখপাত্র।

‘বিডিনিউজ’ ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তী বছর জুলাই মাস থেকে সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বে গণমাধ্যমটি পরিচালিত হচ্ছিল। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ্বদীপ দাশ সেই সময় থেকেই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে একজন সম্পাদক হিসেবে কাজ করছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জ্যেষ্ঠ সম্পাদক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাকৃবিতে ২৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ নবীন শিক্ষকের প্রশিক্ষণ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৭ পি.এম


গাকৃবিতে ২৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ নবীন শিক্ষকের প্রশিক্ষণ শুরু

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) নবীন শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন মাসব্যাপী জুনিয়র ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। রবিবার (৪ অক্টোবর) গাকৃবির পুরাতন অডিটরিয়ামে এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়, যেখানে দেশের ২৯টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমির ডিন প্রফেসর ড. লায়লা নুর ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মেজবাহুল ইসলাম।

এ সময় ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইকবাল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এস এম এ হাসিব, গাকৃবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. জাহিদুর রহমান এবং অনুষ্ঠানের কোর্স ডিরেক্টর ও গাকৃবির ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া গাকৃবির ডিন, পরিচালক, জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, প্রক্টর, রেজিস্ট্রার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত প্রশিক্ষকগণও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন হিট প্রকল্পের পরিচালক প্রফেসর ড. আসাদুজ্জামান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ মন্তব্য করেন, "প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন জ্ঞান ও কার্যকর শিখন-পদ্ধতি অর্জন আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে শক্তিশালী হচ্ছে ভারতের প্রতিরোধক্ষমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৮ পি.এম


পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে শক্তিশালী হচ্ছে ভারতের প্রতিরোধক্ষমতা

বিদেশি গবেষকেরা ধারণা করছেন, ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারে প্রায় ১৯০টি ওয়ারহেড থাকতে পারে। এসব অস্ত্র বহনের জন্য দেশটি তিন ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান, স্থলভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন। ফলে, ভারতের পারমাণবিক ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা এখন কার্যকর পর্যায়ে রয়েছে বলে একটি নতুন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর এনডিটিভি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বুলেটিন অব দ্য অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টসের (বিএএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের লেখকরা হলেন হ্যান্স এম. ক্রিস্টেনসেন, ম্যাট কোর্ডা, এলিয়ানা জনস ও ম্যাকেঞ্জি নাইট-বয়েল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত দীর্ঘদিন ধরে ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা আগে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি অনুসরণ করছে। তবে দেশটি এমন সক্ষমতা গড়ে তুলছে, যাতে কোনো পারমাণবিক হামলার পর কার্যকরভাবে পাল্টা আঘাত হানা যায়।

ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের প্রকৃত সংখ্যা, মোতায়েনের ধরন ও অস্ত্রগুলোর কার্যকর পাল্লা সম্পর্কে দেশটি প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য দেয় না। এ কারণে দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে স্বাধীন গবেষকদের হিসাব অনুমাননির্ভর।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম যুদ্ধবিমানের মধ্যে রয়েছে ফ্রান্সের তৈরি মিরাজ-২০০০ এবং যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথভাবে তৈরি জাগুয়ার। পুরনো জাগুয়ার যুদ্ধবিমান ধীরে ধীরে অবসরে গেলে ফ্রান্স থেকে কেনা রাফাল যুদ্ধবিমান এ দায়িত্বে আরো বড় ভূমিকা নিতে পারে।

ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র বহনের সক্ষমতা বিমাননির্ভর নয়, বরং স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি সমুদ্রভিত্তিক ব্যবস্থাও রয়েছে।

ভারতের কৌশলগত পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ অগ্নি ক্ষেপণাস্ত্র পরিবার। দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এসব ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিএএস’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ভারতের ছয়টি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকর রয়েছে। এগুলো হলো— পৃথ্বী-২, অগ্নি-১, অগ্নি-২, অগ্নি-৩, অগ্নি-৪ ও অগ্নি-৫। এ ছাড়া অগ্নি প্রাইম বা অগ্নি-পি পূর্ণাঙ্গভাবে মোতায়েনের কাছাকাছি রয়েছে।

প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, অগ্নি-১-এর পাল্লা প্রায় ৭০০ কিলোমিটার। অগ্নি-২ দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি, অগ্নি-৩ তিন হাজার ২০০ কিলোমিটারের বেশি এবং অগ্নি-৪-এর পাল্লা তিন হাজার ৫০০ কিলোমিটারের বেশি। অগ্নি-৫-এর পাল্লা ছয় হাজার কিলোমিটার।

দীর্ঘপাল্লার অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের কৌশলগত সক্ষমতায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর পাল্লার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে দূরে, দেশের অভ্যন্তরেও এটি মোতায়েন করা সম্ভব। এতে শত্রুর সম্ভাব্য হামলা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখার সুযোগ বাড়ে।

অগ্নি-৫-এর ক্ষেত্রে একাধিক স্বতন্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ‘এমআইআরভি’ প্রযুক্তির সক্ষমতাও প্রদর্শিত হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একাধিক ওয়ারহেড আলাদা আলাদা লক্ষ্যবস্তুর দিকে পাঠানো সম্ভব।

ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার সমুদ্রভিত্তিক সক্ষমতাও দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে দেশটির তৃতীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন আইএনএস অরিধামান কমিশন করা হয়েছে। এর আগে আইএনএস অরিহন্ত ও আইএনএস অরিঘাতকে বহরে যুক্ত করা হয়।

এ ছাড়া আরো কয়েকটি সাবমেরিন নির্মাণাধীন রয়েছে। কে-৪-এর মতো দীর্ঘপাল্লার সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও মোতায়েনের দিকে এগোচ্ছে।

পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন দীর্ঘ সময় সমুদ্রে গোপনে অবস্থান করতে পারে। ফলে কোনো প্রথম হামলায় স্থল ও আকাশভিত্তিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সমুদ্রভিত্তিক ব্যবস্থা দিয়ে পাল্টা আঘাত হানার সুযোগ থাকে। এ কারণেই পারমাণবিক ত্রিমাত্রিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে সাবমেরিনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়।

ভারত পারমাণবিক অস্ত্র আগে ব্যবহার করবে না—এমন নীতি দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করে আসছে। তবে দেশটি একই সঙ্গে ‘অ্যাসিউরড সেকেন্ড স্ট্রাইক’ বা নিশ্চিত পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

অর্থাৎ ভারত নিজে থেকে পারমাণবিক সংঘাত শুরু না করার অবস্থান ধরে রাখলেও কোনো দেশ ভারতের ওপর পারমাণবিক হামলা চালালে ব্যাপক পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রাখতে চায়।

বিএএস’র প্রতিবেদনে ভারতের পারমাণবিক সক্ষমতার এই তিনটি স্তর—যুদ্ধবিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সমুদ্রভিত্তিক সাবমেরিন—মিলিয়ে একটি কার্যকর পারমাণবিক ত্রিমাত্রিক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের প্রকৃত আকার ও সক্ষমতা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া কঠিন। তবে দেশটি যে পারমাণবিক অস্ত্র বহনের বিভিন্ন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। এর ফলে সম্ভাব্য কোনো পারমাণবিক হামলার ক্ষেত্রে ভারতের পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%