ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাকৃবিতে ২৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ নবীন শিক্ষকের প্রশিক্ষণ শুরু


গাকৃবিতে ২৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ নবীন শিক্ষকের প্রশিক্ষণ শুরু

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) নবীন শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন মাসব্যাপী জুনিয়র ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। রবিবার (৪ অক্টোবর) গাকৃবির পুরাতন অডিটরিয়ামে এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়, যেখানে দেশের ২৯টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমির ডিন প্রফেসর ড. লায়লা নুর ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মেজবাহুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহ যাকে চান ক্ষমতা দেন, আবার কেড়েও নেন’ - ড. খালিদ হোসেন

এ সময় ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইকবাল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এস এম এ হাসিব, গাকৃবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. জাহিদুর রহমান এবং অনুষ্ঠানের কোর্স ডিরেক্টর ও গাকৃবির ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া গাকৃবির ডিন, পরিচালক, জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, প্রক্টর, রেজিস্ট্রার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত প্রশিক্ষকগণও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন হিট প্রকল্পের পরিচালক প্রফেসর ড. আসাদুজ্জামান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ মন্তব্য করেন, "প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন জ্ঞান ও কার্যকর শিখন-পদ্ধতি অর্জন আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

আরও পড়ুন: বিএনপি দিল্লির মাধ্যমে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে শক্তিশালী হচ্ছে ভারতের প্রতিরোধক্ষমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৮ পি.এম


পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে শক্তিশালী হচ্ছে ভারতের প্রতিরোধক্ষমতা

বিদেশি গবেষকেরা ধারণা করছেন, ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারে প্রায় ১৯০টি ওয়ারহেড থাকতে পারে। এসব অস্ত্র বহনের জন্য দেশটি তিন ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান, স্থলভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন। ফলে, ভারতের পারমাণবিক ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা এখন কার্যকর পর্যায়ে রয়েছে বলে একটি নতুন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর এনডিটিভি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বুলেটিন অব দ্য অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টসের (বিএএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের লেখকরা হলেন হ্যান্স এম. ক্রিস্টেনসেন, ম্যাট কোর্ডা, এলিয়ানা জনস ও ম্যাকেঞ্জি নাইট-বয়েল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত দীর্ঘদিন ধরে ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা আগে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি অনুসরণ করছে। তবে দেশটি এমন সক্ষমতা গড়ে তুলছে, যাতে কোনো পারমাণবিক হামলার পর কার্যকরভাবে পাল্টা আঘাত হানা যায়।

ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের প্রকৃত সংখ্যা, মোতায়েনের ধরন ও অস্ত্রগুলোর কার্যকর পাল্লা সম্পর্কে দেশটি প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য দেয় না। এ কারণে দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে স্বাধীন গবেষকদের হিসাব অনুমাননির্ভর।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম যুদ্ধবিমানের মধ্যে রয়েছে ফ্রান্সের তৈরি মিরাজ-২০০০ এবং যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথভাবে তৈরি জাগুয়ার। পুরনো জাগুয়ার যুদ্ধবিমান ধীরে ধীরে অবসরে গেলে ফ্রান্স থেকে কেনা রাফাল যুদ্ধবিমান এ দায়িত্বে আরো বড় ভূমিকা নিতে পারে।

ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র বহনের সক্ষমতা বিমাননির্ভর নয়, বরং স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি সমুদ্রভিত্তিক ব্যবস্থাও রয়েছে।

ভারতের কৌশলগত পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ অগ্নি ক্ষেপণাস্ত্র পরিবার। দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এসব ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিএএস’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ভারতের ছয়টি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকর রয়েছে। এগুলো হলো— পৃথ্বী-২, অগ্নি-১, অগ্নি-২, অগ্নি-৩, অগ্নি-৪ ও অগ্নি-৫। এ ছাড়া অগ্নি প্রাইম বা অগ্নি-পি পূর্ণাঙ্গভাবে মোতায়েনের কাছাকাছি রয়েছে।

প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, অগ্নি-১-এর পাল্লা প্রায় ৭০০ কিলোমিটার। অগ্নি-২ দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি, অগ্নি-৩ তিন হাজার ২০০ কিলোমিটারের বেশি এবং অগ্নি-৪-এর পাল্লা তিন হাজার ৫০০ কিলোমিটারের বেশি। অগ্নি-৫-এর পাল্লা ছয় হাজার কিলোমিটার।

দীর্ঘপাল্লার অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের কৌশলগত সক্ষমতায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর পাল্লার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে দূরে, দেশের অভ্যন্তরেও এটি মোতায়েন করা সম্ভব। এতে শত্রুর সম্ভাব্য হামলা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখার সুযোগ বাড়ে।

অগ্নি-৫-এর ক্ষেত্রে একাধিক স্বতন্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ‘এমআইআরভি’ প্রযুক্তির সক্ষমতাও প্রদর্শিত হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একাধিক ওয়ারহেড আলাদা আলাদা লক্ষ্যবস্তুর দিকে পাঠানো সম্ভব।

ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার সমুদ্রভিত্তিক সক্ষমতাও দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে দেশটির তৃতীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন আইএনএস অরিধামান কমিশন করা হয়েছে। এর আগে আইএনএস অরিহন্ত ও আইএনএস অরিঘাতকে বহরে যুক্ত করা হয়।

এ ছাড়া আরো কয়েকটি সাবমেরিন নির্মাণাধীন রয়েছে। কে-৪-এর মতো দীর্ঘপাল্লার সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও মোতায়েনের দিকে এগোচ্ছে।

পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন দীর্ঘ সময় সমুদ্রে গোপনে অবস্থান করতে পারে। ফলে কোনো প্রথম হামলায় স্থল ও আকাশভিত্তিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সমুদ্রভিত্তিক ব্যবস্থা দিয়ে পাল্টা আঘাত হানার সুযোগ থাকে। এ কারণেই পারমাণবিক ত্রিমাত্রিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে সাবমেরিনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়।

ভারত পারমাণবিক অস্ত্র আগে ব্যবহার করবে না—এমন নীতি দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করে আসছে। তবে দেশটি একই সঙ্গে ‘অ্যাসিউরড সেকেন্ড স্ট্রাইক’ বা নিশ্চিত পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

অর্থাৎ ভারত নিজে থেকে পারমাণবিক সংঘাত শুরু না করার অবস্থান ধরে রাখলেও কোনো দেশ ভারতের ওপর পারমাণবিক হামলা চালালে ব্যাপক পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রাখতে চায়।

বিএএস’র প্রতিবেদনে ভারতের পারমাণবিক সক্ষমতার এই তিনটি স্তর—যুদ্ধবিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সমুদ্রভিত্তিক সাবমেরিন—মিলিয়ে একটি কার্যকর পারমাণবিক ত্রিমাত্রিক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের প্রকৃত আকার ও সক্ষমতা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া কঠিন। তবে দেশটি যে পারমাণবিক অস্ত্র বহনের বিভিন্ন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। এর ফলে সম্ভাব্য কোনো পারমাণবিক হামলার ক্ষেত্রে ভারতের পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধরমন্ডলে সালিশে ৫০ হাজার টাকা, নির্যাতিতা কিশোরীর পরিবার পেল ৬ হাজার বাকি টাকা কোথায়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৮ পি.এম


ধরমন্ডলে সালিশে ৫০ হাজার টাকা, নির্যাতিতা কিশোরীর পরিবার পেল ৬ হাজার বাকি টাকা কোথায়?

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে দূরসম্পর্কের আত্মীয়দের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে ৫০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কিশোরীর পরিবারের হাতে মাত্র ৬ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাকি ৪৪ হাজার টাকা কোথায় গেল—এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কিশোরীর অভিযোগ, গৃহকর্মী হিসেবে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। একপর্যায়ে সেখান থেকে পালিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসে সে। পরে তাকে আবারও জোর করে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে কিশোরী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) স্থানীয়ভাবে সালিশ বসে। সালিশে ৫০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কিশোরীর পরিবারের হাতে ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে বাকি ৪৪ হাজার টাকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ধরমণ্ডল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাফিকুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের ঘটনা সালিশে মীমাংসার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

নাসিরনগর থানার ওসি মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীর সঙ্গে কথা বলেছে। তবে কিশোরীর পরিবার মামলা করতে রাজি হয়নি।

এদিকে স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, কিশোরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের দাবি সংবিধান সংশোধনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৮ পি.এম


শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের দাবি সংবিধান সংশোধনে

শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক শ্রেণির প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিসত্তা-নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সংবিধানে তাদের স্বীকৃতি দাবি করেছেন।

রবিবার (৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটির পঞ্চম বৈঠকে শ্রমজীবী মানুষ এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তা-নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হয়। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান, সাকিলা ফারজানা এবং মো. মাহমুদুল হক রুবেল উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, আন্না মিনজ এবং মাধবী মারমা।

বৈঠকে উত্থাপিত প্রস্তাব এবং পরে লিখিতভাবে দেওয়া সুপারিশ কমিটির প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে তাদেরকে আশ্বস্ত করেছে সংবিধান সংশোধনে গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অবদান রাখা শ্রমজীবী মানুষ এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব তুলে ধরেন।

কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলোচনার বাইরে কারো লিখিত প্রস্তাব থাকলে তা কমিটির কাছে পাঠানো যাবে। বৈঠকে উত্থাপিত এবং লিখিতভাবে পাওয়া প্রস্তাবগুলো কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে।

বৈঠকে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) দেওয়া লিখিত প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের উৎপাদন, সেবা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির বিস্তৃত পরিসরে শ্রমজীবী মানুষ প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। শিল্প-কারখানা, কৃষি, পরিবহন, বন্দর, সরকারি-বেসরকারি কর্মক্ষেত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের শ্রমেই অর্থনীতির দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড সচল থাকে। তাই শ্রমজীবী মানুষকে শুধু অর্থনীতির শ্রমশক্তি হিসেবে নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের একটি মৌলিক সামাজিক শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে শ্রমজীবী মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু তাদের অবদান ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের তুলনায় রাষ্ট্র ও সমাজের নীতিনির্ধারণে প্রতিনিধিত্ব এখনো পর্যাপ্ত নয়। উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র থেকে তারা অনেকটাই দূরে থাকেন।

এ অবস্থায় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা, নীতিনির্ধারণে প্রতিনিধিত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারি নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছে স্কপ। অন্যদিকে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাদের পরিচয়, অধিকার, মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে। সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় এসব জনগোষ্ঠীর মতামত কতটা প্রতিফলিত হবে, তা নিয়ে এখন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কমিটি এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রতিনিধি জন ক্রুশ উয়েল।

বৈঠক শেষে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকে বিদ্যমান সংবিধান পর্যালোচনা, জুলাই সনদে থাকা সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাব, বিএনপির দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত যেসব দফা ছিল সেগুলো পর্যালোচনা করার পাশাপাশি অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়।

পরবর্তী বৈঠকগুলোতে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, নারী নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও সংগঠন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও আইনজীবী, শিক্ষক এবং শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুলির ক্ষত সারাতে খাঁটি মধু ব্যবহার করেছেন লস্কর কমান্ডার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৯ পি.এম


গুলির ক্ষত সারাতে খাঁটি মধু ব্যবহার করেছেন লস্কর কমান্ডার

ভারতীয় গণমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) কমান্ডার মোহাম্মদ আসিফ, যিনি হাশিম মুসা নামে পরিচিত, গুলির ক্ষত সারাতে খাঁটি মধু ব্যবহার করেছিলেন।

আজ রবিবার টাইমস অব ইন্ডিয়া একটি প্রতিবেদনে জানায়, মৃত্যুর পূর্বে হাশিম মুসা ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় গুলির ক্ষত সারাতে খাঁটি মধু ব্যবহার করেছিলেন। নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার ফলে মুসা তার ক্ষতস্থানে মধু লাগিয়েছিলেন।

গত মাসের শেষের দিকে কাশ্মীরের বুদগামের ইউসমার্গে ‘অপারেশন শেরুওয়ালি’ নামের একটি উচ্চতর অভিযানে সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হন তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসা ২০২৫ সালে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এবং এই অঞ্চলে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান অপারেশনাল কমান্ডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

এছাড়া, ভারতের এই গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লস্করের এই কমান্ডার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের (এসএসজি) একজন প্রাক্তন কমান্ডো বলেও মনে করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%