১১:০৯ পি.এম
ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কুদানকুলামকে ঘিরে স্পর্শকাতর তথ্য বিভিন্নভাবে ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত হয়েছে, এমন দাবি করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে কেন্দ্রটির অবকাঠামোগত নকশা, যন্ত্রপাতির বিস্তারিত এবং অনুমোদিত সরবরাহকারীদের নথির বিভিন্ন তথ্য উপস্থিত রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামে পরিচিত একটি র্যানসামওয়্যার গোষ্ঠী এই সমস্ত তথ্য ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করেছে। কেন্দ্রটির অন্যতম ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স গ্রুপের পক্ষ থেকে আংশিক তথ্য ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করে জানানো হয়েছে যে, এই বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তামিলনাড়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, যা ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা গবেষক রাকেশ কৃষ্ণান রয়টার্সকে বলেন, গত ১১ জুন থেকে ‘কেকেএনপি’ (কুদানকুলাম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট) নামসংবলিত প্রায় ১৯ হাজার ফাইল ডার্ক ওয়েবে উন্মুক্ত হয়ে রয়েছে, যার আকার প্রায় ১৪ দশমিক ৩ গিগাবাইট।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সংঘাতের কারণে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাইলগুলোর সময়কাল ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও রয়টার্স এসব নথি পর্যালোচনা করেছে, তবে তা স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রিলায়েন্স গ্রুপ থেকে জানানো হয়েছে, ফাঁস হওয়া প্রায় সাড়ে আট লাখ নথির মধ্যে কুদানকুলাম বিদ্যুৎ কেন্দ্রসংক্রান্ত তথ্যগুলো সবচেয়ে সংবেদনশীল।
রিলায়েন্স গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, একটি তৃতীয় পক্ষের তথ্যকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইওটা’র সার্ভারে তাদের কিছু তথ্য আংশিকভাবে হ্যাক করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইওটা জানিয়েছে, মে মাসের শেষের দিকে সার্ভারে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করে তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে জুনের শেষের দিকে রিলায়েন্স তাদের জানায়, বহিরাগত হ্যাকাররা তথ্য ফাঁস করার দাবি করছে।
ঘটনাটি বর্তমানে তদন্ত করছে ভারতের প্রধান সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সার্ট-ইন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া। তবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত নথিগুলো সাধারণ সেবা-সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা পারমাণবিক নিরাপত্তা বা মূল পারমাণবিক ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।
ফাঁস হওয়া নথিতে বরং রাশিয়ার রোসাটমের সরবরাহ করা মূল পারমাণবিক চুল্লির ব্যবস্থার তথ্য নেই। তবুও, নির্মাণাধীন ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটের বায়ুচলাচল ও শীতলীকরণ ব্যবস্থার নকশা, নিয়ন্ত্রণকক্ষের ফ্লোর পরিকল্পনা, বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ছবি, অনুমোদিত সরবরাহকারীর তালিকা এবং ১১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের একটি সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত বীমা পলিসির তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি নিরাপত্তায় মাইলফলক: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব
নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের জ্যেষ্ঠ পরিচালক নিকোলাস রথ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের তথ্যের প্রকাশ কেন্দ্রটির নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তিনি মনে করেন, বিদ্বেষপূর্ণ কোনো পক্ষ এসব নথিগুলি বিশ্লেষণ করে স্থাপনাটির সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত করার চেষ্টা করতে পারে। একই সঙ্গে, এই ঘটনা ভারতের করপোরেট খাতের সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতার বিষয়টিও সামনে এনেছে।
এর আগে ২০১৯ সালে কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রশাসনিক নেটওয়ার্কে উত্তর কোরীয় হ্যাকারদের ব্যবহৃত ম্যালওয়্যার শনাক্ত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সার্ফশার্কের উপাত্ত অনুযায়ী, সাইবার হামলার শিকার হওয়া দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে ভারতের অবস্থান বিশ্বের তৃতীয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন