শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:০৪ পি.এম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনায় আগামীকাল রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাধারণ শোক’ ঘোষণা করা হয়েছে। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস এবং পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অপ্রতিমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীর শোক ও স্তব্ধতায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একই সঙ্গে, তারা মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাধারণ শোক’ ঘোষণা করা হয়েছে। ওই দিন সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবগতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস এবং পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষাসমূহ স্থগিত থাকবে। স্থগিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ নোটিশের মাধ্যমে জানাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে আফগানিস্তান। দলের এমন হতাশাজনক বিদায়ের পর টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে রশিদ খানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে ওপেনিং ব্যাটার ইব্রাহিম জাদরানকে নিয়োগ দিয়েছে। অধিনায়ক পদ থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে সাবেক এই অধিনায়ক মুখ খুলেছেন। তিনি জানান, বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি।
রেড বুলের সৌজন্যে ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রশিদ খান বলেন, ‘সে সময় আসলে কী ঘটেছিল তা আমিও জানি না। বোর্ড যখন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে, তখনই আমি অধিনায়কত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি জানতে পারি।’
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে দলের খারাপ পারফরম্যান্স সত্ত্বেও, রশিদের অধীনে আফগানিস্তানের সামগ্রিক রেকর্ড ছিল সন্তোষজনক। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছানো। তিনি মোট ৪৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যেখানে আফগানিস্তান ২৬টি ম্যাচে জয় এবং ২২টি ম্যাচে পরাজয় বরণ করেছে।
আফগান অধিনায়কদের মধ্যে সাফল্যে কেবল আসগর আফগানই রশিদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তবে আসগরের অধিনায়কত্বের সময় আফগানিস্তান বেশিরভাগ ম্যাচই খেলেছে র্যাংকিংয়ের নিচের সারির দলের বিরুদ্ধে।
রশিদ খান আরও বলেন, ‘আমার অধিনায়কত্বে আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছি, আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছি, কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু জিনিস আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না।’
তবে এখন আমি সেই অধ্যায় পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে গেছি। অধিনায়ক থাকি আর না থাকি, আমি গর্বিত যে আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করছি এবং আমার যে দক্ষতা রয়েছে, তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। দেশের জন্য নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে দলকে জেতানো লক্ষ্য বলেও যোগ করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদক ছেড়ে মাঠে চলো এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পিরোজপুরের কাউখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দিনব্যাপী ৮ দলীয় হাডুডু টুর্নামেন্ট ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের পূর্ব বেতকা প্রগতি যুব সংঘের আয়োজনে বেতকা মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে এ হাডুডু টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।
টুর্নামেন্টে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মোট আটটি দল অংশ নেয়। সকাল থেকে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতায় দিনভর টানটান উত্তেজনাপূর্ণ খেলা উপভোগ করেন বিপুলসংখ্যক দর্শক। বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা। এতে বান্নাকান্দা দলকে পরাজিত করে ভরতকাঠি দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
খেলা শেষে বিজয়ী ভরতকাঠি দলের হাতে চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা এবং রানার্সআপ বান্নাকান্দা দলের হাতে ৩০ হাজার টাকা প্রাইজমানি তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত তালুকদার, বিএনপি নেতা সায়েম তালুকদার, গিয়াস উদ্দিন অলি, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান তালুকদার, যুবদল নেতা মাওলাদ হোসেন মইন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহিদুর রহমান ফিরোজ, সদস্য সচিব রাকিব তালুকদার, সমাজসেবক ওসমান গনি, কাজী আবদুল্লাহ আল মামুন এবং স্থানীয় প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুন।
প্রধান অতিথি এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক ও বিভিন্ন অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজ শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার পাশাপাশি সমাজের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। কাউখালীতে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
আয়োজকরা জানান, যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানো এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলাকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যেই এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও কালিমান্তান (বোর্নিও) দ্বীপে সৃষ্ট ভয়াবহ দাবানল এবং কৃষি জমি পরিষ্কার করার জন্য বন পোড়ানোর কারণে পুরো মালয়েশিয়া বিষাক্ত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।
জনজীবনে স্বস্তি প্রদান করতে এবং ধোঁয়াশার প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে কৃত্রিম বৃষ্টি নামানোর জন্য শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এবং আগামীকাল ক্লাউড সিডিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই অভিযানটি জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (নাদমা), মালয়েশীয় আবহাওয়া বিভাগ (মেটমালয়েশিয়া), মালয়েশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএএম) এবং রয়্যাল মালয়েশিয়ান এয়ার ফোর্স (আরএমএএফ)-এর সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হবে।
নাদমার মহাপরিচালক দাতুক মেওর ইসমাইল মেওর আকিম জানিয়েছেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের (ডিওই) প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পিএম২.৫-এর মাত্রা ১৫০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় এই ক্লাউড সিডিং কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।
এই অভিযানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অংশগ্রহণ করবে এবং মেঘ বপন কার্যক্রমের প্রধান উপকরণ হিসেবে আরএমএএফ-এর একটি সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান ব্যবহার করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, তবে, এই কার্যক্রমটি আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং ক্লাউড সিডিং প্রক্রিয়ার জন্য উপযুক্ত মেঘের উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।
তিনি আরও জানান, ধোঁয়াশার প্রভাব কমাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বায়ুর মান উন্নত করতে সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলোর মধ্যে এই অভিযানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
পরিবেশ দপ্তরের বায়ু দূষণ সূচক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (এপিআইএমএস) অনুযায়ী, আজ দুপুর ১টা পর্যন্ত পুত্রজায়া, কুয়ালালামপুর এবং সেলাঙ্গরের বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোসহ মোট ১৭টি কেন্দ্রে অস্বাস্থ্যকর এপিআই মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
পুত্রজায়ার এপিআই রিডিং ছিল ১১১, অন্যদিকে চেরাস এবং বাতু মুদার রিডিং ছিল যথাক্রমে ১৩৯ এবং ১২৪। সেলাঙ্গরের শাহ আলমের এপিআই রিডিং ছিল ১৫৪।
যেসব বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে অস্বাস্থ্যকর এপিআই (API) রিডিং রেকর্ড করা হয়েছে, তার মধ্যে সাতটি সারাওয়াকে অবস্থিত। সেরিয়ানে সর্বোচ্চ রিডিং ১৭৬ রেকর্ড করা হয়েছে, এরপর কুচিং-এ ১৭২, শ্রী আমানে ১৬৬, সামারাহানে ১৬৫, সিবুতে ১৫৮, সারিকাই-এ ১৫০ এবং বিন্টুলুতে ১০৩।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন যে, একজন ভালো আইনজীবী হওয়ার জন্য শ্রম, অধ্যবসায় এবং নিয়মিত পড়াশোনার বিকল্প নেই। যদিও শর্টকাট পথে অর্থবিত্ত অর্জন করা সম্ভব, তবুও তা একজন ভালো আইনজীবী হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
আজ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ল' ফেস্টে আইন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘একজন ধনী ল’ইয়ার হওয়ার শর্টকাট পথ আছে, সেটি হলো ফিক্সিং অ্যান্ড ফক্সিং। কিন্তু ভালো ল’ইয়ার হতে গেলে পড়ালেখার বিকল্প কোনো পথ নেই।’
আইনজীবীদের ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজ বিভিন্ন ধরনের ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। আইনজীবীরা আইনগত দিকনির্দেশনা দিয়ে সমাজকে সঠিক পথে পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই একজন আইনজীবীর প্রতিটি বক্তব্য ও শব্দচয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইনমন্ত্রী বলেন, একজন চিকিৎসক রোগী দেখার সময় মূলত তার নিজের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে চিকিৎসা প্রদান করেন। কিন্তু একজন আইনজীবী যখন আদালতে দাঁড়ান, তখন তাকে বিচারক, বিপক্ষের আইনজীবী, নিজের মক্কেল এবং আদালতে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট সবার বিষয় বিবেচনায় রেখে বক্তব্য দিতে হয়। সঠিকভাবে আইন উপস্থাপন, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং মামলার বিষয়গুলো যথাযথভাবে আদালতের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব একজন আইনজীবীর।
তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে একদিন আদালতে দাঁড়িয়ে ‘মাই লর্ড’ বলে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন।
আইনজীবীদের পেশাগত জীবনের বিভিন্ন ধাপের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, শুরুতে অনেক আইনজীবীকেই কোনো আয় ছাড়াই দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। পরে ধীরে ধীরে কাজ ও আয় বাড়ে। এক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার কারণে এমন অবস্থায় পৌঁছানো সম্ভব হয়, যখন আইনজীবীর উপস্থিতিই তার পেশাগত সাফল্যের বড় ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
নিজের পেশাগত জীবনের একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ কর মামলায় তার সিনিয়রের নির্দেশে তিনি দীর্ঘদিন আদালতের যুক্তিতর্কের নোট নিয়েছিলেন। পরে তার সিনিয়র আইনজীবী আদালতে বড় কোনো বক্তব্য না দিয়েও মামলার শুনানিতে অংশ নেন। মামলায় জয় পাওয়ার পর ওই সিনিয়র আইনজীবী বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক পান। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, দীর্ঘদিনের অধ্যয়ন ও অভিজ্ঞতা একজন আইনজীবীর পেশাগত মূল্য তৈরি করে।
দেশে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী থাকলেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হচ্ছে। কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের সুযোগ না রেখে মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে আইন পেশায় দক্ষ, যোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, একজন আইনজীবী একই সঙ্গে তার মক্কেলের প্রতি দায়িত্বশীল এবং আদালতের একজন কর্মকর্তা। মক্কেল তার বিপদের সময়ে আইনজীবীর ওপর আস্থা রেখে নিজের বিষয় তুলে দেন। তাই মক্কেলের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আদালতকে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করাও আইনজীবীর দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ‘টাকাই সবকিছু নয়। একজন আইনজীবীর উচিত তার সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনে বিনা পারিশ্রমিকে মামলা পরিচালনা করা।’
নিজের পেশাগত জীবনের আরেকটি ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক অসহায় ভূমিহীন নারীর জমি-সংক্রান্ত মামলা তিনি কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই পরিচালনা করেছিলেন। পরে ওই নারী তার সামর্থ্য অনুযায়ী সামান্য অর্থ পারিশ্রমিক হিসেবে দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করেন এবং সেই অর্থই তার মেয়ের পরীক্ষার খরচ হিসেবে তাকে ফিরিয়ে দেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ওই নারীর দোয়া ও সন্তুষ্টি তার কাছে কোটি টাকার পারিশ্রমিকের চেয়েও মূল্যবান ছিল। এ ধরনের মানবিকতাই একজন আইনজীবীর পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পেশাগত জীবনে ভালো-মন্দ ও নানা ধরনের প্রলোভনের মুখোমুখি হতে হবে। তবে তাদের সত্য ও সঠিক পথ বেছে নিতে হবে। সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারলে একজন আইনজীবী সফল হতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, আইন পেশায় কাজ করতে গিয়ে অনেক হাস্যরসাত্মক অভিজ্ঞতারও মুখোমুখি হতে হয়।
এসব অভিজ্ঞতা পেশাটিকে উপভোগ্য করে তোলে।
শিক্ষার্থীদের আইন সংস্কারে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত কোনো আইনে অসংগতি বা পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে মনে হলে তারা সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব ও খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারেন।
সরকার সেসব প্রস্তাব বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের চিন্তা ও ভাবনাকে ধারণ করে দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা করতে হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা দেশের পরিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতেও গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার এবং একটি উন্নত বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং এ কাজে তরুণ প্রজন্মের সহযোগিতা কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ