মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৬ পি.এম
মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান হলে মধ্যপ্রাচ্যে সেনা ও গোয়েন্দা স্থাপনার সংখ্যা কমানোর বিষয়ে নীরব আলোচনা শুরু করেছেন। প্রায় দুই দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার পর নতুন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে তুলনামূলক ছোট পরিসরের উপস্থিতির দিকে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্প্রতি অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে, যা ছয়টি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এসব আলোচনা এখনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা সরাসরি নির্দেশের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বরং কর্মকর্তারা সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও সামরিক অবস্থান কী হতে পারে, তা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটাতে সফল হলে এ ধরনের পরিবর্তন বাস্তবায়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৯/১১-এর পর ব্যাপকভাবে বেড়েছিল মার্কিন উপস্থিতি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা অবকাঠামো ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়।
আল-কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন ও লিবিয়ায় সামরিক অভিযান এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে স্থায়ী ঘাঁটি, গোয়েন্দা স্থাপনা ও অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলে। তবে ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত এসব স্থাপনার দুর্বলতা প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা আক্রান্ত হয়েছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ফলে যুদ্ধ শেষে এত বড় সামরিক অবকাঠামো একইভাবে ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা ও ঝুঁকি—দুটিই নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। পাশাপাশি রয়েছে বিপুল সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধজাহাজ। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরি এবং এক ডজনেরও বেশি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলমান থাকায় এসব সামরিক সক্ষমতা এখনই সরিয়ে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে যুদ্ধ শেষ হলে কীভাবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি পুনর্বিন্যাস করা যায়, তা নিয়ে সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। এদিকে সংঘাতের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া কিছু সিআইএ কর্মকর্তাকে আবার মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে।
ঘাঁটি মাটির নিচে নেওয়ার পরিকল্পনা
মধ্যপ্রাচ্যে যে মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনাগুলো ভবিষ্যতেও থাকবে, সেগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা চলছে। দুটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কিছু সামরিক স্থাপনা মাটির নিচে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানের দীর্ঘমেয়াদি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এসব স্থাপনার ঝুঁকি কতটা বাড়িয়েছে, তা সাম্প্রতিক সংঘাতে স্পষ্ট হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের কিছু ঘাঁটি ভূগর্ভস্থ বা অধিক সুরক্ষিত স্থাপনায় রূপান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করে আসছিল। তবে যুদ্ধ শুরুর পর এই পরিকল্পনা নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এসব স্থাপনার দুর্বলতা আগে থেকেই জানা ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় তৎপরতা দেখায়নি।
ইরানের হামলায় যেসব মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, সেগুলোর সবগুলো পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং আলোচনার সঙ্গে পরিচিত আরও দুটি সূত্রের মতে, ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কিছু স্থাপনা হয়তো আর পুনর্নির্মাণই করা হবে না। এ বিষয়ে পেন্টাগন এখনও স্পষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি।
এপ্রিল মাসে পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জুলস ‘জে’ হার্স্ট তৃতীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি ও স্থাপনা মেরামতে কত ব্যয় হবে, তা তখনও পরিষ্কার ছিল না। তিনি বলেছিলেন, শুধু ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান ভবিষ্যতে কেমন হবে, সেটিও মূল্যায়ন করতে হবে। পরে হার্স্ট বলেন, বিদেশে মার্কিন স্থাপনাগুলোর মোট ক্ষয়ক্ষতির কোনও চূড়ান্ত হিসাব তখনও পাওয়া যায়নি। এসব স্থাপনা কীভাবে পুনর্নির্মাণ করা হবে—অথবা আদৌ করা হবে কি না—তার ওপর ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে।
পেন্টাগন তিনটি সূত্রের মতে, শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সেনার উপস্থিতি কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি করে আঞ্চলিক মিত্রদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে পুরোপুরি সামরিকভাবে সরে যাবে না; বরং তুলনামূলক কম সেনা রেখে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে।
তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ‘ফোর্স পোস্টার রিভিউ’ বা সামরিক অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বরং সামরিক বাহিনী ও সিআইএর বিভিন্ন অংশের কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্রুত পরিবর্তনশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা আলোচনার ধরন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রশ্ন তোলেন—এটি কি ভবিষ্যৎ কোনও নির্দেশের প্রস্তুতি, নাকি সংঘাতের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সামনের সারিতে সেনা ও সরঞ্জাম রাখা হচ্ছে?
মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে আসার পুরোনো প্রতিশ্রুতি নতুন নয়। ৯/১১-এর পর প্রায় ২৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার অঞ্চলটি থেকে সামরিকভাবে সরে আসার পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু প্রতিবারই নতুন কোনও সংকট, যুদ্ধ বা নিরাপত্তা হুমকি ওয়াশিংটনকে আবারও মধ্যপ্রাচ্যে ফিরিয়ে এনেছে। ১৯৯৮ সাল থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৭ হাজার সক্রিয় সেনা মোতায়েন ছিল। ৯/১১-এর পর আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ শুরু হলে সেই সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার সংখ্যা আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছিল। ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ওঠানামা করলেও কখনওই প্রায় ১ লাখের নিচে নামেনি।
ওবামার প্রত্যাহার, পরে আবার ফেরা
২০১১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তান যুদ্ধের বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘যুদ্ধের জোয়ার কমে আসছে’। তিনি সেখানে মোতায়েন করা অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তবে আফগানিস্তান থেকে পুরোপুরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে আরও এক দশক লেগে যায়। একই বছর ওবামা ইরাক থেকেও যুদ্ধরত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করেন। কিন্তু পরে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আবার ফিরিয়ে আনতে হয়। কারণ মার্কিন বাহিনীর শূন্যতার সুযোগে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসের উত্থান ঘটে। ২০১১ সালের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার সংখ্যা কমলেও তা সাধারণত ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজারের মধ্যে ছিল। একই সময়ে ইরান এবং ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হুমকি মার্কিন নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে ছিল। ইরাকে এসব গোষ্ঠীর হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাও নিহত হন।
ইরানের হামলায় বেড়েছে উদ্বেগ
বর্তমানে মার্কিন কর্মকর্তারা সেনা কমানোর বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করলেও ইরানের সঙ্গে সংঘাত অবসানের জন্য কোনও সমঝোতা এখনও হয়নি। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মার্কিন স্থাপনায় হামলা হয়েছে বলে মার্কিন সূত্র জানিয়েছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সিআইএ’র একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ইরানের হামলায় কার্যত ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা ও সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। এছাড়া বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোও ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
স্থায়ী ঘাঁটির বদলে ‘মিশনভিত্তিক’ উপস্থিতি? সিআইএ এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী কমান্ডের কিছু কর্মকর্তা এখন প্রশ্ন তুলছেন—মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী ঘাঁটি রেখেই কি সব ধরনের সংবেদনশীল অভিযান পরিচালনা করতে হবে? বিকল্প হিসেবে এমন একটি ব্যবস্থার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে প্রয়োজনীয় কর্মী ও সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্রেই রাখা হবে। এরপর নির্দিষ্ট কোনও অভিযান বা মিশনের প্রয়োজন হলে সেগুলো মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হবে এবং কাজ শেষ হলে আবার দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এতে স্থায়ী ঘাঁটির সংখ্যা ও সেখানে থাকা জনবল কমানোর পাশাপাশি ইরানি হামলার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা
তবে এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অনেকটাই নির্ভর করছে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত কীভাবে শেষ হয় এবং ট্রাম্প প্রশাসন পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য নীতি কীভাবে নির্ধারণ করে তার ওপর। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বাড়িয়ে তার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনা সীমিত। এর পরিবর্তে ট্রাম্প অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন, যাতে ইরানের সরকারকে চাপে ফেলা যায়। কিন্তু এই কৌশল কতদিনে ফল দেবে, তার কোনও স্পষ্ট সময়সীমা নেই। অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কয়েক মাসের অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতে প্রস্তুত এবং খুব শিগগির আত্মসমর্পণ বা বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
কিছু বড় ঘাঁটি থাকবে, তবে খরচ কে দেবে? পেন্টাগনের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু বড় ও স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি ভবিষ্যতেও রাখা হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এসব ঘাঁটি পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আরব দেশগুলো কতটা অর্থ দিতে প্রস্তুত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একটি সূত্রের মতে, বেশির ভাগ বড় মার্কিন সামরিক স্থাপনা যে দেশগুলোতে রয়েছে, সেসব দেশই মূল নির্মাণ ব্যয়ের বড় অংশ বহন করেছিল। ভবিষ্যৎ পুনর্নির্মাণেও আয়োজক দেশগুলোর আর্থিক অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বাহরাইনে ফিরছে না মার্কিন নৌবাহিনী
স্বল্পমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনা ও ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের হামলার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যদের ‘শিগগিরই’ ফেরানো হচ্ছে না। বাহরাইন ঐতিহ্যগতভাবে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কাউডল পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলেন, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যরা ‘অদূর ভবিষ্যতে’ ফিরছেন না।
সব মিলিয়ে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্নই তুলছে না; বরং ৯/১১-এর পর গড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী মধ্যপ্রাচ্য কৌশলও নতুন করে পর্যালোচনার মুখে পড়েছে। যুদ্ধ শেষ হলে ওয়াশিংটন কি সত্যিই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমাবে, নাকি নতুন কোনও সংকট আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চলে আরও গভীরভাবে টেনে নেবে—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন। সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ইয়াছিন এমপি’র মাতা আমেনা বেগম বার্ধক্যজনিত কারণে আজ দুপুরে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর।
আমেনা বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
আজ এক শোকবার্তায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘আমেনা বেগমের মৃত্যুতে তার শোকবিহব্বল পরিবারবর্গের মতো আমিও গভীরভাবে সমব্যাথী। মরহুমা আমেনা বেগম একজন পরহেজগার ও পরোপকারী নারী হিসেবে প্রতিবেশীদের কাছে সুপরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন। তিনি নীতিবান মহিলা হিসেবে তার সন্তানদের সুশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। দোয়া করি, মহান রাব্বুল আলামিন যেন তাকে বেহেস্ত নসিব এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদেরকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন।’
শোকবার্তায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আমেনা বেগমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারবর্গ, আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকার শ্যামপুরের ডিআইটি প্লট এলাকায় আফরা খানকে (১৬) আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় তার স্বামী রাহাত হোসেনের (২২) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ২১ আগস্ট শ্যামপুরের ডিআইটি প্লটের নিজ বাসা থেকে রাহাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ৮ মে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রাহাত ও আফরা। বিয়ের পর থেকেই রাহাত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করত। এর প্রতিবাদ করলে আফরাকে মারধর করা হতো। আফরাকে ভয়ভীতি, হুমকি ও মানসিক নির্যাতনসহ অপমান করে হয়রানি ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হতো।
গত ২০ আগস্ট আফরার শাশুড়ি সোনিয়া আক্তার ভুক্তভোগীর মাকে ফোন করে জানায়, আফরা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছে। তাকে সূত্রাপুরের একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান লিটন ব্যাপারী ও সাইফ। আফরার মা হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়ে মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। সেখান থেকে আফরাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট শ্যামপুর থানায় রাহাতসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার মা লাকী আক্তার।
অপর তিন আসামি হলেন— রাহাতের মা সোনিয়া আক্তার, বাবা লিটন ব্যাপারী ও বড় ভাই সাইফ হোসেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত নতুন সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন নির্বিঘ্ন করতে দেশের সব পর্যায়ে সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার প্রস্তাব করে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা চেয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির জন্য রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর মধ্যে থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে তাদের পদায়ন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫-এর ৭(১)(ক) অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক নিয়োগ উপজেলা ও থানাভিত্তিক হবে। ফলে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত নতুন শিক্ষকদের সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানায় নির্ধারিত শূন্য পদে পদায়ন করতে হবে।
তবে বর্তমানে শিক্ষক বদলি কার্যক্রম চলমান থাকায় কিছু উপজেলা ও থানায় নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পদ শূন্য নেই। এ অবস্থায় নতুন শিক্ষকদের পদায়নের আগে বদলি কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন উপজেলা ও থানায় পদায়ন নিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছে অধিদপ্তর।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ কারণে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পদায়নের সঙ্গে বদলি কার্যক্রমের সমন্বয় করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন শিক্ষকদের পদায়ন নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে সব পর্যায়ের সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের প্রস্তাব অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর পর থেকে ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত গঠিত কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত সব পর্যায়ের সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। অর্থাৎ নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পদায়ন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক বদলি কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মনে করছে, নির্ধারিত সময়ে নতুন শিক্ষকদের পদায়ন সম্পন্ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও থানায় প্রয়োজনীয় শূন্য পদ সংরক্ষণ করা জরুরি। বদলি কার্যক্রম চলতে থাকলে কোনো কোনো এলাকায় পদ শূন্য না থাকায় নতুন শিক্ষকদের পদায়ন আটকে যেতে পারে কিংবা নির্ধারিত পদায়ন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এ কারণে ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত সহকারী শিক্ষক বদলি স্থগিত রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির জন্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে অধিদপ্তর।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা জারির পর কার্যকর হবে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রায় এক মাসের জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রমে সাময়িক বিরতি পড়বে।
এ সময়ে মূল অগ্রাধিকার থাকবে ২০২৫ সালের নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত নতুন সহকারী শিক্ষকদের নির্ধারিত সময়ে যোগদান ও পদায়ন সম্পন্ন করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিঙ্গাপুর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের বেতনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভোগী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওংয়ের বার্ষিক বেতন প্যাকেজ ১.৪ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ১.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৮ লাখ ১৮ হাজার পাউন্ড) বাড়বে।
বেতন বৃদ্ধির ফলে তিনি যে অতিরিক্ত অর্থ পাবেন, তা আগামী পাঁচ বছর দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ওং জানিয়েছেন, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করার জন্য মন্ত্রীদের বেতন বৃদ্ধি অপরিহার্য।
সিঙ্গাপুর সরকার পূর্বে যুক্তি দিয়েছে যে, মন্ত্রীদের তুলনামূলকভাবে বেশি বেতন দুর্নীতি কমাতে সাহায্য করে।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সিঙ্গাপুরে সমালোচনা শুরু হয়েছে। দেশটিতে চাকরির নিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগের মধ্যে মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বেতন বাড়ানোর আগেই লরেন্স ওং বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভোগী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন।
বর্তমানে তিনি বছরে ২.২ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার পান। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে তার বার্ষিক বেতন ৬০ শতাংশের বেশি বেড়ে ৩.৬ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ২.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) হবে।
বেতন পাওয়ার দিক থেকে ওংয়ের পরেই রয়েছেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি, যিনি বছরে প্রায় সাত লাখ ১৯ হাজার মার্কিন ডলার পান। এরপর সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন রয়েছেন, যার বার্ষিক বেতন প্রায় ছয় লাখ ছয় হাজার ডলার।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বছরে ৪ লাখ মার্কিন ডলার বেতন পান। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বার্ষিক বেতন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং স্বীকার করেছেন যে, মন্ত্রীদের বেতন নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। কারণ তাদের বেতন দেশের অধিকাংশ নাগরিকের আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে সিঙ্গাপুরের মানুষের মধ্যম মাসিক আয় পাঁচ হাজার ৭৭৫ সিঙ্গাপুর ডলার। তবে ওং বলেন, ব্যবসায়ী নেতা ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে যোগ দিতে আগ্রহী করানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে ভালো বেতনের পেশা ছেড়ে রাজনীতিতে আসার ক্ষেত্রে আর্থিক বিষয়টি একটি বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সরকার এসব ব্যক্তির আগের আয়ের সমান বেতন দিতে পারবে না। তবে তাদের বর্তমান পেশা ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পথে অপ্রয়োজনীয় আর্থিক বাধা তৈরি করতে চায় না সরকার।’ ওং আরো বলেন, এই বেতন কাঠামো তাকে এবং ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রীদের যোগ্য সিঙ্গাপুরবাসীদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করতে এবং দেশের জন্য শক্তিশালী নেতৃত্বের দল গড়তে সহায়তা করবে।
বর্তমানে সিঙ্গাপুরের একজন মন্ত্রীর মূল বার্ষিক বেতন প্রায় ১.১ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার। নতুন কাঠামো অনুযায়ী তা বেড়ে প্রায় ১.২ মিলিয়ন ডলার হবে। তবে ওং আশা করছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বেশিরভাগ মন্ত্রী প্রায় ১.৩৫ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত বার্ষিক বেতন পেতে পারেন। কর্মক্ষমতার ভিত্তিতে তাদের বেতনের একটি অংশ বাড়ানো হবে।
মন্ত্রীদের বেতনের একটি অংশ দেশের অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। বেকারত্বের হার, মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির মতো নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে কি না, তার ভিত্তিতে এই অতিরিক্ত বেতন নির্ধারণ করা হবে।
সিঙ্গাপুরের মন্ত্রীদের উচ্চ বেতন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। দেশটির ক্ষমতাসীন দল পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিএপি) স্বাধীনতার পর থেকেই সরকার পরিচালনা করে আসছে। দলটির বিরুদ্ধে সমালোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হলো মন্ত্রীদের তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত উচ্চ বেতন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ