মোঃ শরীফ উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
০৪:১০ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫ হাজার পিস ট্যাপেন্টাডল (Tapentadol) ট্যাবলেট, একটি টাটা পিকআপ এবং তিনটি মোবাইল ফোনসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের রতনপুর-নাসিরনগর সড়কের শ্রীঘর বাজারে আরটিএফ (RTF) কনফেকশনারি দোকানের সামনে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে এই অভিযানটি পরিচালনা করে নাসিরনগর থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে, নাসিরনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব আলম সরকার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীঘর বাজার এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করেন। এসময় রতনপুর দিক থেকে আসা একটি টাটা পিকআপের তল্লাশি চালিয়ে ৫ হাজার পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একসঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটি এবং তিনটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নতুন গোদিগাঁও এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে মো. আবুল হোসেন (২৬) এবং অন্যজন হলেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার এরুয়াখাই (লক্ষীপুর) এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে মো. রাশেদ মিয়া (৩০)।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত দুইজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২–৩ জনকে আসামি করে নাসিরনগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটের উৎস, সরবরাহকারী চক্র এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার করার কথা জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানে আলজাজিরাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের ঘটনায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। যদিও পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি, তবুও ব্যবহারকারীরা দাবি করছেন যে তারা কাতারভিত্তিক আলজাজিরার ইংরেজি সংস্করণের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারছেন না।
পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ না করলেও কাশ্মির নিয়ে আলজাজিরার প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করেছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আলজাজিরার বিরুদ্ধে হলুদ সাংবাদিকতার অভিযোগ তুলে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, আলজাজিরার পক্ষপাতমূলক এবং বাছাই করা রিপোর্টিংয়ের কারণে কাশ্মিরের নির্বাচন এবং ভোটপ্রক্রিয়াকে ভুলভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সরকার যুক্তি দিয়েছে যে, এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতা কায়েমি স্বার্থান্বেষী বহিরাগত শক্তির এজেন্ডাকে নিশ্চিত করে। তারা নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে অবৈধ প্রমাণের চেষ্টা করছে। এই ক্ষোভ এবং অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা নতুন নয়। গত ৫ জুন থেকে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর সরকার অনেক ধরনের দমননীতি নিয়েছে। আয়োজনে খাদ্য, জ্বালানি ও জীবনরক্ষাকারী পণ্যের প্রবেশও সীমিত করা হয়েছে।
ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং এবং এটিএম সেবা অচল হয়ে পড়েছে।
গণমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে এবং কারফিউ জারি করে সরকার কাশ্মীরকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। আলজাজিরার পূর্বে একাধিক স্থানীয় ও আঞ্চলিক ডিজিটাল নিউজ পোর্টালের ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়াও কাশ্মীরের সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করায় কিছু ইউটিউব চ্যানেলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান সরকার বিদেশি সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। লাহোর, করাচি এবং ইসলামাবাদ ছাড়া দেশের অন্য যেকোনো অঞ্চলে রিপোর্টিংয়ের জন্য সাংবাদিকদের সরকারের কাছ থেকে বিশেষ অনাপত্তিপত্র নিতে হয়। ফলে স্বাধীনভাবে কাশ্মীরে তথ্য সংগ্রহ করা বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবুও নির্বাচনকে সামনে রেখে বিবিসি ও আলজাজারাসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিশেষ অনুমতি নিয়ে কাশ্মিরে রিপোর্টিং করেছে।
গত জুন মাস থেকে মোবাইল ইন্টারনেট এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ব্ল্যাকআউটের কারণে স্থানীয় সাংবাদিকরা তাদের অনলাইন সংস্করণ আপডেট করতে পারছেন না।
কমিটির টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস-সিপিজে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক প্রেস ফ্রিডম ওয়াচডগগুলো পাকিস্তানের সকল পদক্ষেপকে ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে।
কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে জানায়, ‘পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অবনতিশীল পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সিপিজে। সাংবাদিকদের ওপর দমনপীড়ন বন্ধ করতে হবে।’
সংস্থাটি লেখে, ‘রাজী তাহির এবং মুহাম্মদ সাইফ ১ আগস্ট থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাদের রাষ্ট্রীয় হেফাজতে রেখেছে বলে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছে।’
এছাড়া সাংবাদিক রাজা ইকরাম, যাকে ১ আগস্ট ইসলামাবাদে আটক করা হয়েছিল, তাকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সিপিজে আরও দাবি করে যে মিডিয়া সেন্সরশিপের এই প্রভাব আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়েছে। তারা উল্লেখ করে, ‘আলাদাভাবে জানা গেছে যে, ১ আগস্ট কাশ্মীর থেকে সংবাদ প্রচারের পর আলজাজিরার অ্যাক্সেস সীমিত করা হয়েছে।’
গত ৫ জুন ৩৮ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন বাহিনীর গুলিতে একশো জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। নির্বাচনের শুরুতে মারা গেছেন ৫০ জনের বেশি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধা, ৪ অগাস্ট, ২০২৬ : জেলার সুন্দরগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আব্দুল হামিদ (৭০) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক রামিম মিয়া (১৭) আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকালের দিকে উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের জহুরুলের মোড় এলাকার স'মিলের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল হামিদ বেলকা ইউনিয়নের পশ্চিম বেলকা গ্রামের কলেরকুয়া এলাকার মৃত খুজিয়া মাহমুদের পুত্র। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আজ সকাল দশটার দিকে আব্দুল হামিদ যখন জহুরুলের মোড় এলাকায় রাস্তা পারাপারের চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখন একটি মোটরসাইকেল তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের ফলে মোটরসাইকেল চালক রামিম মিয়াও আহত হয়ে যান। পরে স্থানীয়রা আহত দুইজনকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করলে আব্দুল হামিদ ওই পথে মারা যান। আহত রামিম মিয়ার চিকিৎসা এখনও চলমান রয়েছে। সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেছেন, মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। এই ঘটনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৪ আগস্ট ২০২৬ : আব্দুল্লাহ শফিকের সেঞ্চুরির সাথে অধিনায়ক বাবর আজমের হাফ-সেঞ্চুরির কারণে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৪৪ রানের জবাবে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ৬৬ ওভার খেলে ২ উইকেটে ২৬৬ রান করতে সক্ষম হয়েছে পাকিস্তান। সফরকারীরা ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ৭৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে। আব্দুল্লাহ শফিক ১০৭ রানে এবং বাবর আজম ৮৬ রানে অপরাজিত আছেন।
পোর্ট অব স্পেনে টস জয় করে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে, প্রথম দিন শেষে ৭৪ ওভারে ৫ উইকেটে ২৩৯ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখানে জাস্টিন গ্রেভস ৬৪ ও অধিনায়ক রোস্টন চেজ ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।
দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তানের স্পিনার আলি উসমানের শিকার হয়ে গ্রেভস ব্যক্তিগত ৭৩ রানে আউট হয়ে যান। তিনি ১৫০ বল খেলে ৯টি চারের সহায়তায় এ রান করেন। ষষ্ঠ উইকেটে চেজের সাথে ১৮৯ বল খেলে ৯৬ রান যোগ করেন গ্রেভস।
দলীয় ২৬৯ রানে গ্রেভস ফেরার পর, টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২তম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করে চেজ দলের রান ৩০০ পার করে থেমে যান। পাকিস্তান পেসার উবাইদ শাহের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১২৬ বল খেলে ১১টি চারে ৭০ রান করেছিলেন তিনি।
সপ্তম ব্যাটার হিসেবে দলীয় ৩০৪ রানে চেজও ফিরে যান। এরপর পাকিস্তান স্পিনার সাজিদ খানের ঘূর্ণির টার্গেটে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাকী ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৪৪ রানে অলআউট হয়। প্রতিপক্ষের শেষ ৩ উইকেট নিয়ে ইনিংসে ৪ ব্যাটারকে শিকার করেন সাজিদ। মোহাম্মদ আলি-উবাইদ ও উসমান ২টি করে উইকেট নেন।
নিজেদের ইনিংস শুরু করে পাকিস্তান দলীয় ৩৪ রানে প্রথম উইকেট হারায়। পাকিস্তান ওপেনার ইমাম উল হক ব্যক্তিগত ১৪ রানে ফিরে যান।
দ্বিতীয় উইকেটে ৬৪ রান যোগ করেন অন্য ওপেনার আজান আওয়াইস ও শফিক। টাইস্টে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে ৫৫ রানে থামেন আজান।
৯৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর, শফিক ও বাবর জুটি বাঁধেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের দারুণভাবে সামাল দিয়ে দিনের শেষে ২৭৪ বলে ১৬৮ রান পারস্পরিক সহযোগিতায় গঠন করেন তারা। এরমধ্যে দুই বছর পর টেস্ট ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ সেঞ্চুরি করেন শফিক। ১০টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৮৫ বলে ১০৭ রানে অবিচল আছেন তিনি।
টেস্টে ৩৩তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে ১০টি চার ও ১টি ছক্কায় ১২৬ বল খেলে বাবর অনবদ্য ৮৬ রান করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোমেল ওয়ারিকান ও শামার জোসেফ ১টি করে উইকেট নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে বিএনপির নেতাকর্মীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
গত ৩ আগস্ট সোমবার সকাল ১১টার দিকে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান স্বপন, সহ-সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন মেনু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম ফুলু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান মিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান খলিল, পৌর যুবদলের সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল হান্নান, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. তাসরিফুল হাসিব ও হাজী মাসুদুল ইসলাম বাবুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা দাবি করেন, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর উপজেলার আলোচিত তিনটি হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ জুলাই রোববার সকালে কিশোরগঞ্জ শহরের আখড়াবাজার এলাকায় কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম কার্যালয়ে কটিয়াদী উপজেলার উত্তর ঝিড়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা ও দীর্ঘদিনের প্রবাসী মো. শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার তদন্তে পক্ষপাতিত্ব, গাফিলতি এবং প্রভাবশালী আসামিদের আড়াল করার অভিযোগ তুলে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, মামলার মূল আসামিদের নাম-পরিচয় বারবার জানানো হলেও কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তাদের গ্রেপ্তার করছেন না। বরং একতরফাভাবে তদন্ত পরিচালনা করছেন।
এ অবস্থায় হত্যা মামলাটি কটিয়াদী মডেল থানা থেকে প্রত্যাহার করে পিবিআই, সিআইডি অথবা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একজন দক্ষ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন তারা।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করে নিহতের স্বজন নয়ন মিয়া জানান, দীর্ঘদিনের প্রবাসী জীবন শেষ করে মো. শফিকুল ইসলাম দেশে ফিরে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তার মোবাইল ফোনে একটি কল আসে।
ফোনে তাকে জরুরি ভিত্তিতে রসুলপুর ঈদগাহ মাঠের পাশে যেতে বলা হয়। সেখানে যাওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন বেগম বাদী হয়ে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ বাবুল মিয়া নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, তারা জানতে পেরেছেন বাবুল মিয়ার পাশাপাশি বাদশা মিয়া, আমির হোসেন, হারুন মিয়া, মজিবুর রহমান, শুভ মিয়া ও জয় আহম্মেদ বকুলসহ আরও কয়েকজন এ হত্যাকাণ্ডে সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। পারিবারিক জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তারা দীর্ঘদিন ধরে শফিকুল ইসলামকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।
এসব ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা একাধিকবার ওসিকে জানানো হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে নিহতের মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। তারা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরাফেরা করছেন এবং মামলা চালিয়ে গেলে নিহতের পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এছাড়া ঘটনার দিন শফিকুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে কে ডেকে নিয়েছিল, সেটি শনাক্ত করার অনুরোধ জানানো হলেও পুলিশ তা অনুসন্ধান করেনি বলেও দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধনের উদ্যোগ নিলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। পাশাপাশি ওসির সঙ্গে অভিযুক্তদের পূর্বপরিচয় ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি তাদের পক্ষ নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা। এসময় নিহতের মা আনোয়ারা বেগম, বোন কামরুন্নাহার, সাবিকুন্নাহার এবং হত্যা মামলার বাদী বেগম উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক মো. রাজু আহমেদ এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ওসি সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি জেনে উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, কিশোরগঞ্জ নয়, ঢাকা প্রেসক্লাবে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে বলেন।
এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল, অনলাইন টিভি ও পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত এসব সংবাদ ও বিভিন্ন অপপ্রচারের প্রতিবাদে গত ৩ আগস্ট সকালে কটিয়াদীতে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বিএনপির নেতা কর্মীরা।
অপর দিকে জানা যায়, কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান হত্যা মামলার প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ। তাদের দাবি, দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় মামলাটি পরবর্তীতে পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এছাড়াও লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামে প্রকাশ্যে শতাধিক মানুষের সামনে আনোয়ার হোসেন নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর বিনা চিকিৎসায় পাঁচ ঘণ্টা বৃষ্টির পানিতে পড়ে থেকে মৃত্যুর ঘটনায় মানববন্ধন করা হয়েছিল।
অন্যদিকে জানা যায়, ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর মাদকবিরোধী অভিযানে একাধিক মাদক কারবারি ও মাদকসেবীকে গ্রেফতার করে সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা পেলেও এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সফলতা দেখাতে পারেননি।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রবাস ফেরত মো. শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি বাবুল মিয়া নামে একজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি করিয়েছি। বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। কটিয়াদী বাজারের ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান হত্যা মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে। আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলার আসামি মহররম আলীকে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছি। অপর আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। এসব হত্যার মরদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ