ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

প্যারিসের কাছে ৭ বিলিয়ন ডলারের থিম পার্ক বানাবে ফ্রান্স-সৌদি আরব


প্যারিসের কাছে ৭ বিলিয়ন ডলারের থিম পার্ক বানাবে ফ্রান্স-সৌদি আরব

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কাছে প্রায় ৬ বিলিয়ন ইউরো বা ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি বিশাল বিনোদনকেন্দ্র বা থিম পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ফ্রান্স ও সৌদি আরব।

সোমবার প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

দুই দেশের অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে আয়োজিত বৈঠকের পর জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিমান চলাচল, পরিবহন, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা সই হয়।

আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কার যুদ্ধবিধবা ও নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে নারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা

ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, প্যারিসের প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সেরজি-পন্তোয়াজ এলাকায় তিনটি থিম পার্ক নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে একটি পার্ক মাঙ্গা বা জাপানি কমিকভিত্তিক হতে পারে। প্রকল্পটির নেতৃত্ব দেবে সৌদি আরবের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের বিনিয়োগ শাখা কিদ্দিয়া।

প্রকল্পটি প্রায় ২২ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ম্যাক্রোঁ প্রকল্পটিকে ‘অসাধারণ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এটি ডিজনিল্যান্ড প্যারিসের মতো বৈশ্বিক পর্যায়ের একটি নতুন পর্যটন গন্তব্য তৈরি করবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে তার ‘চুজ ফ্রান্স’ উদ্যোগের সাফল্য হিসেবেও তিনি প্রকল্পটিকে তুলে ধরেন।

ম্যাক্রোঁ বলেন, বিশ্বের সামনে চমক দেখানো এখনও শেষ হয়নি। সৌদি আরব ও কিদ্দিয়া ফরাসি দক্ষতার ওপর যে আস্থা রেখেছে, তার জন্যও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

আরও পড়ুন: দিল্লির বায়ুদূষণ মোকাবেলায় নতুন কড়াকড়ি কার্যকর

মাঙ্গা ও ‘ড্রাগন বল জেড’ থেকে প্রকল্পের ভাবনা
ফরাসি প্রেসিডেন্টের এক উপদেষ্টা জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রিয়াদে ম্যাক্রোঁ ও মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠক থেকেই প্রকল্পটির ধারণার সূত্রপাত। ওই বৈঠকে দু’জনের মাঙ্গা এবং বিশেষ করে জনপ্রিয় জাপানি অ্যানিমে সিরিজ ‘ড্রাগন বল জেড’-এর প্রতি আগ্রহের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

এরপর সেই আগ্রহ থেকেই প্যারিসের কাছে মাঙ্গাভিত্তিক একটি বিনোদন পার্ক নির্মাণের ধারণা সামনে আসে।

তবে শুধু বিনোদন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না দুই দেশের সহযোগিতা। সোমবারের অনুষ্ঠানে জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিমান চলাচলে অর্থায়ন, পরিবহন ও স্বাস্থ্য খাতে বেশ কয়েকটি চুক্তি সই হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতায়ও জোর
দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের জন্য একটি ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ বা অভিপ্রায়পত্রও সই হয়েছে। এর আওতায় সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রশিক্ষণ ও সামরিক প্রশিক্ষণে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে ঘন কুয়াশা ও বজ্রবৃষ্টির কারণে ‘রেড ও অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি

ফ্রান্সের জন্য সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবও ঐতিহ্যগত অংশীদারদের বাইরে নতুন কৌশলগত অংশীদার খুঁজছে। ফলে রিয়াদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে প্যারিস।

সৌদি যুবরাজের সফরকালে ফরাসি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আরও দুটি বড় চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ফরাসি সামুদ্রিক লজিস্টিকস কোম্পানি সিএমএ সিজিএম সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের জেদ্দা ইসলামিক বন্দর উন্নয়নে সহায়তার জন্য ৪৩৪ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে।

এছাড়া রেল পরিবহন কোম্পানি আলস্টম রিয়াদ মেট্রোর জন্য ট্রেন সরবরাহ করতে ৫৮০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে।

সৌদি যুবরাজের তৃতীয় ফ্রান্স সফর
মোহাম্মদ বিন সালমানের এবারের সফর ফ্রান্সে তার তৃতীয় সরকারি সফর। ঐতিহ্যগত অংশীদারদের পাশাপাশি নতুন নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলার সৌদি প্রচেষ্টার মধ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হলো।

আরও পড়ুন: কোর্ট মার্শালে দোষী সাব্যস্ত, বরখাস্ত লে. কর্নেল ফারুখ হোসেন

চলতি মাসের শুরুতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের পর এটি ছিল সৌদি যুবরাজের প্রথম বিদেশ সফর।

অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষার পাশাপাশি ম্যাক্রোঁ ও মোহাম্মদ বিন সালমান আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকট নিয়েও যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ও হরমুজ নিয়ে আহ্বান
যৌথ বিবৃতিতে ফ্রান্স ও সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আলোচনার মাধ্যমে অবসানের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এই পথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় ৩ নভেম্বর শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬

দুই দেশ হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তিকেও স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে তারা।
ফ্রান্স ও সৌদি আরব ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

এছাড়া সৌদি আরব ও বাণিজ্যিক জাহাজে ইয়েমেনের হুথিদের হামলারও নিন্দা জানিয়েছে দুই দেশ। পাশাপাশি সিরিয়ার স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে তারা।

সব মিলিয়ে, প্যারিসের কাছে বিলিয়ন ডলারের থিম পার্ক নির্মাণের চুক্তির পাশাপাশি ফ্রান্স-সৌদি সম্পর্ককে অর্থনীতি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষার বিস্তৃত অংশীদারত্বে নিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছে ম্যাক্রোঁ ও মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠক। সূত্র: আল-জাজিরা

আরও পড়ুন: ৩৬ ভিলার মালিক আমলা দম্পতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১। এই আসামি বর্তমানে পলাতক ছিলেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সালাউদ্দিন নেকবর আলী প্রামাণিক, বয়স ৫৮ বছর। তিনি উপজেলার পৌর করিমপুর এলাকার হাজী ওয়াসিম উদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ির লোকমানের ছেলে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তার গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালিত হয় পৌর করিমপুর এলাকা থেকে।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় আদালত সালাউদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে। সাজা ঘোষণার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে র‍্যাব। পরে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে পৌর করিমপুর এলাকায় হাজী ওয়াসিম উদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ির সামনের পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বেগমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিটি বিভাগে মডেল খাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে : দুর্যোগমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


প্রতিটি বিভাগে মডেল খাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে : দুর্যোগমন্ত্রী

ঢাকা, ২৫ আগস্ট, ২০২৬  : বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার অংশ হিসেবে প্রতিটি বিভাগে মডেল খাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি।

সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি আজ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আগামী বছর পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ২০টি খালকে ‘মডেল খাল’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এসব খালে শুধু পানি নিষ্কাশন ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নয়, খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ, মাছ চাষ ও হাঁস পালনের মতো সমন্বিত কার্যক্রমও যুক্ত করা হবে। পরবর্তী সময়ে এই মডেল দেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বভার গ্রহণের পর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে পানি সম্পদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং কৃষিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, গত বছর তার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে আগাম বৃষ্টি ও দায়িত্ব গ্রহণে বিলম্বের কারণে পুরো লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ সময়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘গত বছর আমাদের ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আমরা প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার খনন করতে পেরেছি। বর্ষার কারণে কিছু কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এ বছর আমরা নতুন করে পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি।’

তিনি জানান, চলতি বছর দেশের সব উপজেলায় খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে উপজেলা ভিত্তিক প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবিত খালগুলোর তালিকা এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে অক্টোবরের মধ্যে খাল খননের প্রাক্কলন বা এস্টিমেট প্রস্তুত করা হবে। এরপর বরাদ্দ দিয়ে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।

দুর্যোগমন্ত্রী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে খাল খননের কাজ করলে একদিকে কাজের মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে বর্ষা শুরুর আগেই খননকাজ শেষ করা যাবে। তাই নভেম্বর থেকে কাজ শুরু করে ফেব্রুয়ারির মধ্যে খাল খননের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নভেম্বরে যখন পানি কমে যাবে, খাল শুকনা থাকবে, তখন আমরা খননকাজ শুরু করব। ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করতে চাই। কারণ এরপর বর্ষা চলে এলে খাল খননের কাজ সঠিকভাবে করা সম্ভব হয় না। অতীতে বর্ষার মধ্যে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে।’

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০০টি খালকে মডেল খাল হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব পাওয়া গেছে। তবে সব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে না। যাচাই-বাছাই শেষে সেখান থেকে ২০টি খালকে নির্বাচন করা হবে। প্রতিটি বিভাগ থেকে মডেল খাল নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রত্যেক বিভাগে আমরা মডেল খাল করব। এগুলো পাইলট স্কিম হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে।

মডেল খাল প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, শুধু পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল খনন করলেই হবে না। খালকে গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সে জন্য খালের পাড়ে গাছ লাগানো, খালে মাছ চাষ এবং হাঁস পালনের ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ‘খালের পাড়ে গাছ লাগাবো, মাছ চাষ করব, হাঁস চাষ করব। মাছে-ভাতে বাঙালি এই বিষয়টিকে খালের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে চাই। একটি খালকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে কীভাবে কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি করা যায়, সেটিই হবে মডেল খাল প্রকল্পের লক্ষ্য।’

খাল খননের বহুমুখী সুফলের কথা তুলে ধরে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। অপরিকল্পিতভাবে খাল ভরাট ও খালের নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে না। এতে কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, খালগুলো পুনঃখনন করা হলে বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি ধরে রাখা যাবে। সেই পানি ব্যবহার করে কৃষকরা সেচ সুবিধা নিতে পারবেন। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও বাড়বে।

মন্ত্রী বলেন, ‘খাল খননের মাধ্যমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন হবে। আবার শুকনা মৌসুমে পানি ধরে রাখা হবে। সারফেস ওয়াটারের মাধ্যমে কৃষকদের সহযোগিতা দেওয়া যাবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যাও কমবে।’

তিনি আরও বলেন, খাল খননের সঙ্গে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের বিষয়টিও যুক্ত রয়েছে। খনন কাজে স্থানীয় শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করার ফলে হতদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ছে।

খাল খনন কর্মসূচি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি বড় উদ্যোগ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এর ফলে কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে এবং জিডিপিতেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

খাল খনন কর্মসূচির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খাল খনন কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল। ওই সময় বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতির মধ্যে ছিল। খাল খননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটিয়ে খাদ্য উৎপাদনে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি সে সময় দেশের কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন এ কর্মসূচি বন্ধ থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় খালগুলো ভরাট হয়ে যায় বা নাব্যতা হারায়। এর ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।

দুর্যোগমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খাল খনন বিপ্লব শুরুর পর খাদ্য উৎপাদন বেড়েছিল এবং এক পর্যায়ে খাদ্য রপ্তানিও হয়েছিল। দীর্ঘ বছর এই যুগান্তকারী কর্মসূচি বন্ধ ছিল।

তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পাশাপাশি কৃষিজমি রক্ষার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে কৃষক সময়মতো রোপা লাগাতে পারেন না, সেখানে খাল পুনঃখনন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, গোটা বাংলাদেশই দীর্ঘদিন অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনায় দেশের সব অঞ্চলকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুলেছে উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৬ পি.এম


‘কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুলেছে উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা

ঢাকা, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। 

তিনি মঙ্গলবার বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সিরিয়া বহু বছরের একটি ‘কালো দাগ’ থেকে মুক্ত হলো এবং দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের নতুন পথ খুলে গেল।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

শারা এক ভাষণে বলেন, ‘আজ সিরিয়া একটি কালো দাগ ঝেড়ে ফেলেছে এবং তার অতীতের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় পেছনে ফেলে উন্নয়ন, পুনর্গঠন ও পুনর্নির্মাণের পথে যাত্রা শুরু করেছে।’

সোমবার ওয়াশিংটন কয়েক দশক ধরে বহাল থাকা সিরিয়ার এই তকমা প্রত্যাহার করে। এর ফলে দেশটির ওপর আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিলের পথ তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালে দীর্ঘদিনের সিরীয় শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও সিরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার ধারাবাহিকতায় এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

একই সঙ্গে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে।

শারা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এবং আমাদের পাশে থাকা সব বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগী দেশকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আল-নুসরা ফ্রন্টের ওপর থাকা বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমাও প্রত্যাহার করেছে। সংগঠনটি পরবর্তীতে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) নামে পরিচিত হয়।

শারা একসময় এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা দ্রুতগতির সামরিক অভিযানে এইচটিএস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আল-নুসরা ফ্রন্ট আগে সিরিয়ায় আল-কায়েদার শাখা হিসেবে কাজ করত। তবে ২০১৬ সালে সংগঠনটি আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে।

সিরিয়ার নতুন সরকার দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধে দেশের অবকাঠামোর বড় অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র জুলাই মাসেই সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। সে সময় এই পদক্ষেপকে শারার সরকারের প্রতি আস্থার প্রকাশ হিসেবে দেখা হয়।

সোমবারের সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিরিয়ার জন্য ‘সমৃদ্ধির পথ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ ‘সিরিয়ায় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে থাকা শেষ বড় বাধাগুলো দূর করবে এবং দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পুনঃএকীভূত হওয়ার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবে।’

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি ওয়াশিংটনের তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি নতুন সিরীয় রাষ্ট্রের অঙ্গীকার’ প্রতিফলিত করে।

সরকারি সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বারনিয়েহ এই পদক্ষেপকে ‘সিরীয় কূটনীতির সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ ‘সিরিয়াকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা, বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তি আকর্ষণ এবং উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘপ্রতীক্ষিত একটি বড় দরজা খুলে দিয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতীয় আগ্রাসনের শিকার হলে আরও বেশি সজাগ থাকব: পানিসম্পদমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ পি.এম


ভারতীয় আগ্রাসনের শিকার হলে আরও বেশি সজাগ থাকব: পানিসম্পদমন্ত্রী

পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্তব্য করেছেন, ভারতকে চিন্তা করতে হবে যে বাংলাদেশ একটি বন্ধু দেশ। তাদের উচিত বন্ধুত্বের সম্পর্ক কতটুকু ইতিবাচক হওয়া দরকার তা দেখা। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে ভারত এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সজাগ থাকবে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ভালো সম্পর্ক বজায় রাখবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ যেন কোনো ধরনের আগ্রাসনের শিকার না হয়, সেজন্য আমরা আরো বেশি সজাগ থাকব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশবাসীও সজাগ থাকবে।’

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ফেনীর পরশুরামে ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ট্রেন্ড ছিল। এখন জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে, আমরাও দায়িত্ব নিয়ে দেশ পরিচালনা করছি। এ মুহূর্তে জিরো টলারেন্সে চলে যাব বলব না। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই চ্যালেঞ্জটুকু আমরা হাতে নিয়েছি।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমিও বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান, সেই হিসেবে এ প্রকল্পসহ দেশের সব প্রকল্প যথাযথভাবে শেষ করা, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা এবং দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করা আমার নিজেরও দায়িত্ব। আমি দায়িত্বটুকু পালন করছি খুব সতর্কতার সঙ্গে। কোনো ধরনের প্রভাবশালীর প্রভাব, দুর্নীতি বা কেউ যেন ক্ষতি করতে না পারে সেই বিষয়ে আমরা সজাগ থাকব।’

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্প নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে অধিগ্রহণ নেই।

দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছু জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে সেটির জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্যটুকু দিয়েই কাজ করা হবে। সবমিলিয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধের ভাঙন ও বন্যায় মানুষজন যে ক্ষতির মুখে পড়েন তা থেকে রক্ষা পাবেন। সামগ্রিকভাবে এ বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষ এটির সুফল পাবেন।

তিনি আরো বলেন, আগামী মাসের যেকোনো সময় বা মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী ফেনী এসে এ প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করবেন। তিনি এখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে।

এ সময় ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এমএ খালেক, জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেকে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ এখনো শুরু হয়নি।

এ প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%