ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কর্মসূচি বাতিল করে শুভেন্দুর হেলিকপ্টারের জরুরি অবতরণ


কর্মসূচি বাতিল করে শুভেন্দুর হেলিকপ্টারের জরুরি অবতরণ

ভারতের পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে একটি কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি হঠাৎ জরুরি অবতরণ করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের কোলাঘাটে হেলিকপ্টারটি সতর্কতামূলকভাবে অবতরণ করানো হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি বা কারো ক্ষতিও হয়নি। কেবলমাত্র আবহাওয়ার প্রতিকূলতা বিচার করেই কোলাঘাটে অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদ মাধ্যম হিন্দুনস্তান টাইমস জানিয়েছে, কলকাতার দমদম থেকে হেলিকপ্টারে করে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন অধিকারী। কিন্তু পথে আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় পাইলট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কোলাঘাটের একটি খোলা মাঠে হেলিকপ্টার অবতরণ করান।

আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

এর আগে মুক্তিযোদ্ধা ক্ষুদিরাম বসুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কেশপুর যাচ্ছিলেন অধিকারী। পরে সেখান থেকে তার বাঁকুড়া যাওয়ার কথা ছিল। তবে জরুরি অবতরণের পর, তিনি সড়কপথে যাবেন নাকি আকাশপথে যাত্রা করবেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

কলকাতার আঞ্চলিক আবহাওয়া দপ্তর সূত্র জানায়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষরেখা অবস্থান করছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপরে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গ ও উপকূলবর্তী অঞ্চলের আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাসিনা দেশের অর্থনীতি লুট করে শূন্যে নামিয়ে দিয়েছেন: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ পি.এম


হাসিনা দেশের অর্থনীতি লুট করে শূন্যে নামিয়ে দিয়েছেন: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলছেন, ‘এই সরকার শূন্য হাতে ক্ষমতায় এসেছে। হাসিনা দেশের অর্থনীতিকে লুট করে একেবারে শূন্যের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। ড. ইউনূস প্রায় ১৮ মাস ধরে সেটাকে একদমই সামনে আনতে পারেননি। শেষ মাসে তো তার কাছে বেতন দেওয়ার বিষয়ে কীভাবে ব্যবস্থা করবেন, সেটা নিয়েও চিন্তা করতে হয়েছিল।’

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী আরও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সঠিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড যাতে প্রতিটি যোগ্য ব্যক্তি পান, সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। আসন্ন ২-৩ মাসের মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কাজ শুরু হবে। এতে অনেক অর্থ ব্যয় হতে পারে। কিন্তু এই শূন্য অর্থনীতির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।

আহমেদ আযম খান আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু করেছেন, যা আমরা নির্বাচনের সময় বলেছিলাম। স্বাস্থ্য কার্ডও দেওয়া শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি ঘোষণা করেছেন, উপজেলার বাইরেও যেসব জায়গায় কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে, সেগুলোকে সচল করা হবে এবং যেখানে নেই, সেখানে নতুন করে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করার ব্যবস্থা করা হবে। যাতে মানুষের অসুখ-বিসুখের কারণে শহরে ছুটতে না হয় এবং এখানে ছোটোখাটো অসুখের চিকিৎসা করা সম্ভব হয়, সেজন্য আমরা কাজ করছি।’

বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি সৈয়দ মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন, বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টুসহ অন্যান্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা অব্যাহত: আইআইএমএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০০ পি.এম


রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা অব্যাহত: আইআইএমএম

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা এবং অন্যান্য বেসামরিক জনসংখ্যার ওপর চলমান সহিংসতা ও নিধনযজ্ঞ থামার কোন লক্ষণ নেই। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে বাড়িঘর, স্কুল, চিকিৎসাকেন্দ্র, ধর্মীয় স্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের শিবিরকে লক্ষ্য করে পরিচালিত বিমান হামলা সংঘটিত হয়েছে, যার ফলে মৃত্যুর, আহতের সংখ্যা এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ পাওয়া গেছে আন্তর্জাতিক তদন্ত ব্যবস্থা (আইআইএমএম) দ্বারা।

আইআইএমএমের দ্বারা পরিচালিত তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্যারামোটর এবং ড্রোনের সাফল্যজনক ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা করার জন্য আগাম সংকেত চিহ্নিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে হামলার প্রেক্ষিতে পালিয়ে যাওয়ার বা নিরাপদ আশ্রয়ে আশ্রয় নেয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে। আইআইএমএম এ হামলার জন্য দায়ী কিছু সামরিক ইউনিটকেও চিহ্নিত করেছে।

অন্যদিকে, সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত আটককেন্দ্রগুলোতে নির্বিচারে আটক, নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতার উল্লেখযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেছে আইআইএমএম। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের নির্বাচনের সমালোচনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইনে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঘটনার চিত্র।

ওই আইনের অধীনে অনেক মানুষকে আটক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনামূলক মন্তব্য পোস্ট করার জন্য তাদের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তবে আইআইএমএম-এর তদন্ত শুধু মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী এবং তাদের সহযোগী মিলিশিয়াদের কর্মকান্ড সংক্রান্ত নয়। সামরিক বাহিনীর বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কথিত নৃশংসতার অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

আইআইএমএম জানিয়েছে, তাদের তদন্ত ১ হাজার ৬০০টি অধিক উৎস থেকে প্রাপ্ত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পরিচালনা করা হচ্ছে। এই প্রমাণগুলোতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ৭৫০টিরও বেশি সাক্ষীর বক্তব্য, ছবি, ভিডিও, অডিও, নথি, মানচিত্র, ভূ-স্থানিক চিত্র, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টগুলি এবং ফরেনসিক প্রমাণ।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রমাণ ও বিশ্লেষণ শেয়ার করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে আইআইএমএম, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং আর্জেন্টিনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সংঘটিত অপরাধের জন্য তদন্তকারী অন্যান্য কর্তৃপক্ষের অনুরোধের সাড়া দিচ্ছে এই তদন্ত ব্যবস্থা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া নাজিব কে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া নাজিব কে?

সিরিয়ার সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ডের দণ্ডিত করেছেন দামেস্কের একটি আদালত। তাকে মৃত্যু দণ্ড দেওয়া হয়েছে ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় হত্যা, নির্যাতন ও জোরপূর্বক গুমের ঘটনার জন্য।

মঙ্গলবার, নাজিবের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত সিরীয় নেতা বাশার আল-আসাদ এবং তার ছোট ভাই মাহের আল-আসাদেরও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

এই রায় তাদের অনুপস্থিতিতে দেওয়া হয়েছে কারণ তারা বর্তমানে সিরিয়ার বাইরে অবস্থান করছেন। দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত জানিয়েছে, ২০১১ সালে দারা প্রদেশে আসাদ সরকারের দমন-পীড়নের ঘটনাগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর বাশার আল-আসাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা রাশিয়ায় পালিয়ে যান। অন্যদিকে, নাজিবকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সিরিয়াতে আটক রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিচারের সময় হত্যা, নির্যাতন ও গণহত্যাসহ অন্তত ১০টি অপরাধের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। ২০১১ সালে দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তার ভূমিকা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়।

নাজিব তখন দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান হিসেবে কাজ করছিলেন। সেই সময়, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর জন্য তাকে অন্যতম প্রধান দায়ী ব্যক্তি হিসেবে মনে করা হয়।

আতেফ নাজিব সম্পর্কে কিছু তথ্য:

৬৬ বছর বয়সী আতেফ নাজিব ছিলেন সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই এবং দারা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান পদে ছিলেন। ২০১১ সালে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার সময় এ তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করছিলেন। ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে স্কুল শেষ করে নাজিব হোমসের সামরিক একাডেমিতে প্রবেশ করেন, পরে তিনি দারায় রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান হন।

তবে সরকারি নথিতে ঠিক কবে তিনি এই কাঠামোতে প্রবেশ করেন, তা পরিষ্কার নয়। ২০১১ সালের মার্চে সিরিয়ায় গণ-অভ্যুত্থান শুরু হলে নাজিব তখনো এই পদে ছিলেন। সেসময়, দারায় এক স্কুলের দেয়ালে সরকারবিরোধী গ্রাফিতি লেখার অভিযোগে কয়েকজন কিশোরকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়। এই ঘটনাটি সিরিয়ায় বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।

২০১১ সালের এপ্রিলে নাজিবকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ওই বিক্ষোভটি দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে পরিণত হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের হাতে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের সময় আসাদ রাশিয়ায় পালিয়ে যান। শিশু নাজিবও এক পর্যায়ে সিরিয়া ছেড়ে পালিয়ে যান, কিন্তু পরে দেশে ফিরে আসেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে লাতাকিয়া প্রদেশে সাবেক সরকারের অনুগতদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। তাকে সাবেক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম বড় আটক হিসেবে দেখা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত তার মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে।

আদালতের সিদ্ধান্ত:

সিরিয়ার বিচার ব্যবস্থা সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং তাদের চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। আদালতের রায়ে নাজিব-এর বিপুল সংখ্যক বন্দিকে নির্যাতনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। আটক অবস্থায় অনেক বন্দির মৃত্যুর জন্যও তাকে দায়ী মনে করা হয়েছে।

মাঝের সরকারের অধীনে সাবেক আসাদ সরকারের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এটি সিরিয়ার আদালতের প্রথম রায়। আলজাজিরার প্রতিবেদক ওবাইদা হিত্তো উল্লেখ করেন, এটি সিরিয়ার জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, কারণ অভিযুক্তদের মধ্যে নাজিবই একমাত্র ব্যক্তি, যার সিরিয়ার ভেতরে সশরীরে বিচার হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতেই তাদের বিরুদ্ধে রায় প্রদান করা হয়েছে।

নাজিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ:

২০১১ সালে সিরিয়ায় গণঅভ্যুত্থানের সময় দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ছিল আতেফ নাজিবের বিরুদ্ধে। ওই দমন-পীড়নই পরবর্তীতে দীর্ঘ ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে রূপ নিয়েছে।

নাজিবের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন এবং ২০১১ সালে দারা প্রদেশে গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ সহ অন্তত ১০টি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেছে। আলজাজিরা মুবাশিরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, নাজিবের বিরুদ্ধে ৭৫ জন বাদী মামলা করেছেন এবং বিচার চলাকালে তাদের মধ্যে অনেকেই আদালতে সাক্ষ্যও দিয়েছেন।

বিচারটির গুরুত্ব:

আতেফ নাজিবের এই বিচার সিরিয়ার নতুন বিচারব্যবস্থা ও অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি শো করেছে বাশার আল-আসাদ সরকারের আমলে সংঘটিত নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য যাদের দায়ী করা হবে তাদের কতটা জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

যুদ্ধের পর আস্থা বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে দেরি হওয়ায় অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে। ১৪ বছরের এই যুদ্ধের ফলে আনুমানিক ৫ লাখ মানুষ প্রাণ হারান। সিরিয়ান নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটসের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধের সময় ১ লাখ ৮১ হাজারেরও বেশি মানুষ জোরপূর্বক নিখোঁজ বা বেআইনিভাবে আটক হয়েছিলেন। তাদের প্রায় ৯০ শতাংশের জন্য আসাদ সরকারকে দায়ী করা হয়েছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদক ওবাইদা হিত্তো জানান, এই মামলায় আদালতে যেসব আইনি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলো ভবিষ্যতে অন্যান্য অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। ফলে, নাজিবের রায়কে অনেকে দেখছেন, অতীতের অপরাধের বিচার করতে আহমেদ আল-শারার সরকার কতটা সক্ষমতা দেখাতে পারে, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে।

সিরিয়ান নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটসের প্রতিষ্ঠাতা ফাদেল আবদুলগানি বলেন, এই বিচারের গুরুত্ব শুধু নাজিবকে তার অপরাধের জন্য দায়ী করা হবে কিনা, এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং ভবিষ্যতের বিচার প্রক্রিয়ার জন্য এই মামলায় যে আইনি ভিত্তি তৈরি হবে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

রায় ঘোষণার সময় দামেস্কের আদালতের বাইরে অনেক মানুষ জড়ো হন; হিত্তোর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা এই বিচারের জন্য স্বস্তি প্রকাশ করেন। পরে অনেক সিরীয়কে রায় উদ্‌যাপন করতেও দেখা গেছে। হিত্তো জানান, গত প্রায় দেড় বছরে সিরিয়া আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের শাসন ও স্বৈরশাসনের উত্তরাধিকার কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেশার টাকা ও সম্পত্তির লোভে দাদিকে হত্যা, নাতির যাবজ্জীবন সাজা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


নেশার টাকা ও সম্পত্তির লোভে দাদিকে হত্যা, নাতির যাবজ্জীবন সাজা

নেশার টাকা জোগাড় করতে বাধা দেওয়ার কারণে এবং দাদির সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার বিরোধের মধ্যে দাদিকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে নাতি মো. খলিল মোড়ল, যিনি ইরফান নামে পরিচিত, তাকে (২১) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় ঘোষণা করেছিলেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী (উচ্চমান সহকারী) মো. মাজাহারুল ইসলাম।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইরফান খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার শ্রীকণ্ঠপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মো. কামরুল মোড়লের ছেলে। তিনি খুলনা বিএল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত নুর জাহান, যিনি খানো বিবি নামেও পরিচিত, ছিলেন আসামির দাদি। তার সম্পত্তি নাতি ইরফানের নামে লিখে দেওয়ার জন্য ইরফানের মা ফাতেমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে চাপ প্রয়োগ করতেন। এ বিষয়টি নিয়ে মা ও ছেলের পরিবারে প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো এবং ঝগড়া লাগতো। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেও এতে সফল হননি।

এর মাঝে ইরফান মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তিনি প্রায়ই দাদিকে মারধর করতেন এবং এমনকি তার মা-ও ছেলের নেশার টাকা জোগাতে অর্থ দিতেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। দাদি এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ইরফানের বাবা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন, কিন্তু পরে তার মা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর সকালে নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর শুরু করেন ইরফান। এসময় তার দাদি নুর জাহান তাকে বাধা দেন। এরপর ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে ডাব পাড়ার জন্য গাছে উঠতে গেলেও দাদি তাকে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি দুপুর দেড়টার দিকে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ধারালো দা দিয়ে দাদিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলে নুর জাহানের মৃত্যু ঘটে।

এদিকে, এই ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফুলি বেগম বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (অপারেশন) দেবাশীষ দাশ মো. খলিল মোড়ল, যিনি ইরফান নামে পরিচিত,কে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র দায়রা জজ মশিউর রহমান চৌধুরীর আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে আদালত আসামি ইরফানকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%