ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঈশ্বরদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন


ঈশ্বরদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে পাকশী ইউনিয়নের রুপপুর ফটু মার্কেট এলাকায় এ কর্মসূচিটি পালন করা হয়।

পাকশী ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক ও সর্বস্তরের এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা

মানববন্ধনের বক্তারা অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করছে একাধিক প্রভাবশালী চক্র। বালু উত্তোলনের ফলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এবং লালনশাহ সেতুর ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের কারণে নদীপাড়ের ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বক্তারা আরও বলেন,

তারেক রহমান নামে এক যুবক বলেন, "বেশ কিছুদিন যাবৎ একটি অসাধুচক্র ফটু মার্কেট সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। বালু উত্তোলনের ফলে নদী পাড়ের ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বালুবাহী ভারী গাড়ি চলাচলের ফলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিভিন্ন সড়ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড ধুলা বালুর কারণে এই অঞ্চলের মানুষের বসবাস করা খুব কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।"

রাসেল মৃধা নামে একজন বলেন, "দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এতে নদী ভাঙনের চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ অঞ্চলের বসতবাড়ি, ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। বালুভর্তি গাড়ি চলাচলের কারণে শিশুরা প্রতিনিয়ত রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।"

মানববন্ধনের বক্তারা জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি লিখিতভাবে প্রশাসনের কাছে জানানো হয়েছে। তারা অবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: বালিয়াডাঙ্গীতে পতিলাভাষা যুব সমাজের উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪০ পি.এম


লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি

লিবিয়ার বিভিন্ন বন্দিশালায় আটক ১৭২ বাংলাদেশি দেশে ফিরতে চলেছেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদের ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, লিবিয়ার মিসরাতা শহর থেকে বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে ১৭২ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদসংকুল পরিস্থিতিতে থাকা এই বাংলাদেশিরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরছেন।

দেশে ফেরার আগে, লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল হাবীব উল্লাহ মিসরাতা শহরে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

রাষ্ট্রদূত দেশে ফেরার আগে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি এবং এর শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তাদের সচেতন করেন। তিনি মানবপাচারকারী ও দালাল চক্রের প্রলোভনে পা না দিতে সতর্ক করেন।

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন বন্দিশালায় আটক বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের নিরাপদ ও মানবিক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দূতাবাস কাজ করে যাচ্ছে।

এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে, বেনগাজীর গানফুদা ও ত্রিপলীর তাজুরা বন্দিশালায় আটক বাংলাদেশিসহ অন্যান্য বিপদগ্রস্ত অভিবাসীদের দ্রুত দেশে ফেরাতে আইওএমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) লিবিয়ার বিভিন্ন বন্দিশালায় আটক ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীরা ১ জানুয়ারির বদলে ২৪ ডিসেম্বর নতুন পাঠ্যবই পাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪১ পি.এম


শিক্ষার্থীরা ১ জানুয়ারির বদলে ২৪ ডিসেম্বর নতুন পাঠ্যবই পাবে

দেশজুড়ে বহু বছর ধরে ১ জানুয়ারি ‘বই উৎসব’ উদযাপন করে শিক্ষার্থীদের নতুন পাঠ্যবই বিতরণের রীতি চলে আসছে। কিন্তু এবার সরকার একটি ভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২৪ ডিসেম্বর নতুন পাঠ্যবই পাবে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্যও ডিসেম্বরে শেষ সপ্তাহের মধ্যে নতুন বই বিতরণ করা হবে।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বুধবার (২৮ অক্টোবর) শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।

একই দিনে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জারি করা নোটিশে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম তৈফিকুর রহমানের সই করা বিজ্ঞপ্তি জাগো নিউজের হাতে এসেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফরিদপুর জেলাধীন সব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের জানানো হচ্ছে যে, আগামী ২৪ ডিসেম্বর সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা ও একই দিনে ২০২৭ সালের নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এদিকে, অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরের শেষের দিকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বা মূল্যায়ন থাকলে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকবেন। তাই ২৪ ডিসেম্বর বই বিতরণের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। পরে শিক্ষার্থীরা ক্রিসমাস ও নতুন বছরের ছুটিতে যাবে। ছুটি শেষে ক্লাসে ফিরে নতুন বই ও নতুন মলাট নিয়ে পড়াশোনা শুরু করবে।

কোন শ্রেণিতে পাঠ্যবই কত

এবার প্রাক-প্রাথমিকে ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে। প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৭ কোটি ৬২ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫৮ কপি বই ছাপানো হবে।

এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের ভাষায় লেখা বইয়ের প্রয়োজন ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৩২ কপি। প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মিলিয়ে মোট বইয়ের সংখ্যা ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি হবে। ইবতেদায়ি প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির বইয়ের সংখ্যা ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি।

নিম্নমাধ্যমিকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৬১ হাজার ৫৭৭ কপি, সপ্তম শ্রেণিতে ৪ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার ৬০১ কপি, অষ্টম শ্রেণিতে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৫ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে।

মাধ্যমিকে নবম শ্রেণিতে সবচেয়ে বেশি বই থাকবে। এ শ্রেণির জন্য ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল বইয়ের সংখ্যা হবে ৯ হাজার ৪ কপি।

পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের তথ্যমতে, চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবার নতুন চারটি বিষয় চালু হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণিতে নতুন দুটি বিষয় হলো- খেলাধুলা ও আমাদের সংস্কৃতি। এ দুই বিষয়ের বইয়ের সংখ্যা ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ২৮ কপি।

অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন দুই বিষয় হলো- আনন্দময় শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা। এ দুটি বইয়ের সংখ্যা ৭১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৯০ কপি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে।

বই ছাপাতে এবার সরকারের খরচ কত

আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য বই ছাপাতে মোট এক হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য বই ছাপাতে খরচ হবে ৪৬৯ কোটি ৫৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৬ টাকা। নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি মিলিয়ে ব্যয় হবে এক হাজার ৪২০ কোটি ৬২ লাখ ৯২ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪১ পি.এম


দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়

মার্কেটে দুধ, ডিম ও মাংসের দাম উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক বেশি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এক লিটার দুধ উৎপাদনে ৪৪ টাকা ৮০ পয়সা খরচ হয়। কিন্তু খুচরা বাজারে এটি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

একইভাবে, সোনালি ও ব্রয়লার মুরগি, ডিম এবং গরু ও খাসির মাংসের দামও উৎপাদন খরচের তুলনায় বেশি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন খরচ ও বাজারমূল্যের তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি সোনালি মুরগির উৎপাদন খরচ ২৫৩ টাকা, ব্রয়লার মুরগির ১৬১ টাকা ৫৫ পয়সা, একটি ডিমের ১০ টাকা ৮১ পয়সা, প্রতি কেজি গরুর মাংসের ৫৮৭ টাকা ৫০ পয়সা এবং খাসির মাংসের ৮৭৫ টাকা।

অন্যদিকে, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, প্রতিটি ডিম ১২ থেকে ১৩ টাকা, গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার তদারকির সুপারিশ

উৎপাদন খরচ ও খুচরা বিক্রয়মূল্যের এই ব্যবধানের কারণে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফা, কৃত্রিম সংকট এবং সরবরাহব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ যাচাইয়ের সুপারিশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বাজারভিত্তিক তদন্ত ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে একদিনের বাচ্চা ও ডিমের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ে একটি কৌশলপত্র পাঠিয়েছে বলে জানানো হয়।

কৌশলপত্রের আলোকে বাজারে একদিনের বাচ্চা ও ডিমের চাহিদা নিরূপণ করে উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উৎপাদন বৃদ্ধি ও সরবরাহব্যবস্থায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে মাছ ও প্রাণিজ পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করা, ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বাজার তদারকি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে খামারিদের সহায়তা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ অনুসন্ধান, মাছ আহরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে কমিটির কাছে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন সব অধিদপ্তর ও সংস্থার চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ করা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কমিটির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে বৈঠকে সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শেখ মো. রেজাউল ইসলাম, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, এম এ হান্নান, আলী আজম, আবু বকর ও আমির হামজা অংশ নেন। সভাপতির বিশেষ আমন্ত্রণে মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪২ পি.এম


সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার এবং বিপুল রেমিট্যান্সের উৎস। তবে, দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের নির্যাতন, শোষণ, রহস্যজনক মৃত্যু এবং আইনি জটিলতার অভিযোগ বারবার সামনে আসছে। সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা উদ্বেগকে আরও গভীর করেছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রের নেয়া উদ্যোগের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স উৎস হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। বিশেষ করে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সৌদি আরব বাংলাদেশিদের জীবনে নির্ভরতার আরেক নাম। কিন্তু এই দেশে প্রবাসী বাঙালিদের শোষণ ও নির্যাতনের তথ্যও বিস্ময়কর।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে, যার পরিমাণ ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় এটি ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্স আয়ের ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ এসেছে সৌদি আরব থেকে।

তবে রেমিট্যান্সের আড়ালে বিভিন্ন সময় সৌদিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর নানামুখী, নিষ্ঠুর, নির্মম ও কঠোর নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসে। এ নিয়ে আলোচনা বা প্রতিকার নেই বললেই চলে। নতুন করে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের অজ্ঞতা প্রশ্ন তুলেছে। প্রবাসীদের নিরাপত্তা বিষয়ে রাষ্ট্রের উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সৌদিতে নারী কর্মীদের শোষণের বিষয়টি শুধু শারীরিক নির্যাতনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কর্মক্ষেত্রে শোষণ, বেতন আটকে রাখা, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, খাবার না দেয়া, পাসপোর্ট কেড়ে নেয়া, নিয়োগকর্তার হুমকি এবং আইনি প্রতিকার পেতে জটিলতার মতো নানা অভিযোগ।

তবে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি শোষণের শিকার হন নারী কর্মীরা। মানবাধিকার কর্মী ও অভিবাসী অধিকার বিশেষজ্ঞ এম রায়হান কবির বলেন, "এক নারী সন্তান কোলে দেশে ফিরে জানান তার গর্ভে সন্তান ধারণ করেছেন ঠিকই, কিন্তু তিনি জানেন না ওই সন্তান আসলে কার। সৌদি মালিকের, মালিকের ছেলের, মালিকের বন্ধুদের, নাকি মালিকের গাড়ি চালকের?" তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে।

ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের প্রধান শরিফুল হাসানের অভিযোগ, সৌদি আরব থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে শত শত নারী দেশে ফিরছেন। অনেকে ফিরেছেন লাশ হয়ে। কিন্তু এসব ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, তদন্ত, দায় নির্ধারণ কিংবা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেই বললেই চলে।

শরিফুল আরও বলেন, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের মতো দেশ নারী কর্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন কঠোর অবস্থান বা কার্যকর প্রতিবাদের নজির নেই। এক দশকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনসহ নানা ধরনের সহিংসতায় শিকার হয়ে ১০ হাজার নারী দেশে ফিরেছেন বলেও জানান তিনি।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে অন্তত ৭০ হাজার নারী বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। তাদের একটি অংশ নিপীড়নের শিকার। একই সময়ে বিদেশ থেকে দেশে এসেছে নারী কর্মীদের অন্তত ৮০০ মরদেহ।

রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপই প্রশ্নবিদ্ধ

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য বলছে, এ বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এই ৯ মাসে সৌদিতে মারা গেছেন প্রায় ২ হাজার কর্মী। অন্যদিকে ২০২৫ সালে সৌদি আরবে সাত লাখ ৫০ হাজারের বেশি কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। দেশটিতে বসবাস করছেন আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ লাখ বাংলাদেশি।

এত বড় শ্রমবাজার, বিপুলসংখ্যক কর্মী এবং বিপুল রেমিট্যান্সের বিপরীতে প্রবাসীদের সুরক্ষায় নেয়া রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ, দূতাবাসের জনবল, সক্ষমতা ও জবাবদিহিতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, "প্রবাসী শ্রমিকেরাই তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখেন। অথচ তাদের অনেককেই দূতাবাসে গিয়ে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের মুখোমুখি হতে হয়।" তার অভিযোগ, কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল থাকলেও সাধারণ শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে সেই দক্ষতার যথাযথ প্রয়োগ নেই।

এদিকে প্রবাসীদের নিরাপত্তা বিষয়ে রাষ্ট্রের নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, রেমিট্যান্সকে বাংলাদেশ প্রায়ই জাতীয় অর্থনীতির শক্তি হিসেবে উদ্‌যাপন করে। সেই অর্থ পাঠানো মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষাও রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব। তাই নজরুল ও সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রবাসীরা যখন বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি হন, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানো কি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়? বিশাল শ্রমবাজারের বিষয় বিবেচনা রাখাই কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, না কি প্রবাসীদের প্রাণেরও মূল্য আছে?

প্রবাসীদের নিরাপত্তায় দূতাবাসকে হতে হবে আন্তরিক।

প্রবাসীদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রকে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বিদেশে বিপদে পড়ার পরই কেবল কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু নয়, বরং আগেই গড়ে তোলা জরুরি কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা। প্রবাসীর পাঠানো অর্থের হিসাব যখন রাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তখন প্রবাসীর জীবনের হিসাব সামান্য নয়।

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা তাই কেবল দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, কূটনৈতিক সক্ষমতা এবং প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি ঘিরে বড় প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু রেমিট্যান্সের প্রবাহ ধরে রাখাই নয়, পেছনে থাকা মানুষগুলোর জীবন ও অধিকার রক্ষায়ও কার্যকর ও প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাষ্ট্রে স্থাপিত দূতাবাস এবং কর্মীদের আন্তরিক হওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%