০১:৪৮ এম
গরমের সময় বাসাবাড়িতে ফ্যানের ব্যবহার বিদ্যুতের চাহিদাকে ৫ হাজার ২১২ মেগাওয়াটে নিয়ে যায়। যদি সাধারণ ফ্যানের পরিবর্তে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বিএলডিসি ফ্যান ব্যবহার করা হয়, তাহলে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এর ফলে বছরে ৬ হাজার ৯১৩ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, যা আর্থিকভাবে ৮ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকার সমান। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ এড়ানো সম্ভব হবে।
এই তথ্যগুলো ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) একটি গবেষণা প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত ‘হাউসহোল্ড স্পেস কুলিং ইন বাংলাদেশ: রোল অব এনার্জি-এফিশিয়েন্ট ফ্যানস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি আইইইএফএর বাংলাদেশ বিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। গবেষণাটি দেশের ২৬ জেলার ৪৩৫টি পরিবারের ওপর পরিচালিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: কাল থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে তিনটি জাহাজ চলাচল শুরু
গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ব্যবহৃত মোট ফ্যানের মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ বিএলডিসি প্রযুক্তির। এই ফ্যানগুলো চালাতে ৩৫ ওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়, যেখানে সাধারণ ফ্যানের জন্য ৭০ ওয়াট বা তার বেশি বিদ্যুৎ লাগে। গ্রীষ্মকালে রাত ৯টার দিকে বাসাবাড়িতে ফ্যানের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়, যা বিদ্যুতের চাহিদার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।
শফিকুল আলম মন্তব্য করেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) জন্য বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুতের চাহিদা কমবে এবং বিপিডিবির ওপর চাপও হ্রাস পাবে।
তবে, এসব ফ্যানের দাম বেশি হওয়ায় তাদের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে না। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৫ শতাংশ পরিবার জানে না যে বাজারে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যান পাওয়া যায়। অথচ, এসব ফ্যানের সুবিধা জানার পর ৯৬ শতাংশ পরিবার তা ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একটি সাধারণ ফ্যানের দাম প্রায় ২ হাজার টাকা, যেখানে বিএলডিসি ফ্যানের দাম ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে।
দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ পরিবারের মাসিক আয় ২৫ হাজার টাকা বা তার কম। এসব পরিবারের গ্রীষ্মকালীন গড় মাসিক বিদ্যুৎ বিল ৬৬৩ টাকা। আর্থিক সহায়তা ছাড়া বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় করে ফ্যানের বাড়তি দাম পুষিয়ে নিতে ৭ দশমিক ৭ থেকে ৯ দশমিক ৬ বছর লাগতে পারে। তবে, বড় পরিসরে একসঙ্গে ফ্যান কেনা এবং কার্বন ক্রেডিট বিক্রির অর্থ কাজে লাগালে এ সময় কমে ৪ দশমিক ৮ বছরে আসবে।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনে ভস্মীভূত বেদে সম্প্রদায়ের ৪ বসতঘর
এই পরিস্থিতিতে, আইইইএফএ বিএলডিসি ফ্যানের দাম কমানোর জন্য সরকারের কাছে বড় পরিসরে একসঙ্গে ফ্যান কেনার উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি, স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য বিশেষ অর্থায়ন এবং বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে কিস্তিতে ফ্যানের দাম পরিশোধের সুযোগ চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ফ্যানের মান নির্ধারণ ও বিদ্যুৎ খরচের তথ্যসংবলিত লেবেলিং ব্যবস্থা চূড়ান্ত করতে হবে। এই দায়িত্ব পালন করতে পারে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)। পাশাপাশি, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের সুবিধা সম্পর্কে প্রচার চালানোর প্রয়োজন রয়েছে।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য একটি জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। কর্মসূচি পরিচালনার জন্য সরকারি উদ্যোগে বিশেষায়িত জ্বালানি সেবা প্রতিষ্ঠান (সুপার ইএসসিও) গঠন এবং ফ্যানের মান নিয়ন্ত্রণ ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, জ্বালানি খাতের সংকটের মধ্যে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা কমাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের ব্যবহার বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে। এসব ফ্যান ব্যবহারের শুরুতেই বিদ্যুতের চাহিদা কমতে থাকবে।
আরও পড়ুন: লিম্ফোমায় আক্রান্ত মহাসিনের চিকিৎসায় প্রয়োজন ৭ লাখ টাকা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন