০১:৫২ এম
ভারতের মুম্বাইয়ে একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিদেশি নাগরিকত্ব এবং ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ড সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের কারণে অভিনেতা ইমরান খানকে বোম্বে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে তীব্র ভর্ৎসনা করা হয়েছে। আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, ওসিসি কার্ডধারীরা ভারতে বসবাসের সময় কোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা বিক্ষোভে অংশ নিতে পারবেন না।
মুম্বাইয়ে গত মাসে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর ইমরান খানকে দেশ ছাড়ার নোটিশ প্রদান করে কর্তৃপক্ষ। এই নোটিশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন।
সোমবার (০২ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত পরবর্তী শুনানিতে আদালত তার অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার মেয়াদ ০৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ালেও, এই ঘটনায় তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, শুধুমাত্র একটি সাধারণ হলফনামা জমা দিলেই চলবে না, তাকে পরিষ্কারভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক আদালত
শুনানির সময় আদালত মন্তব্য করে বলেন, ‘কোনো ভারতীয় নাগরিক যদি বিদেশে গিয়ে এ ধরনের কাজ করতেন, তবে তাকে পরের ফ্লাইটে সোজা ভারতে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হতো।’
আদালত আরও উল্লেখ করে, ‘আপনি এত বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন, অথচ এতদিন কখনো কোনো প্রতিবাদে অংশ নেননি। এত দিন এখানে থাকার পর হঠাৎ এখন কেন একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন?’
বিচারপতিরা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করুন, এমনকি সেখানে গিয়ে ভোটও দিতে পারেন; কিন্তু আমাদের এখানে আপনাদের কোনো বিক্ষোভ সহ্য করা হবে না।’
তবে এর পাশাপাশি ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ (বিশ্ব একটি পরিবার) নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আদালত আশা প্রকাশ করেন যে, একসময় সবাই উদারতা দেখিয়ে এই মানুষটিকে ভারতেই থাকার সুযোগ দেবেন।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মেনে নিতে প্রস্তুত ট্রাম্প
মামলার শুনানিতে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল যুক্তি দেন যে, ইমরান খান একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনি ভারতের ওসিসি কার্ডধারী হওয়ায় তার অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা একজন পূর্ণ ভারতীয় নাগরিকের চেয়ে সীমিত।
তিনি জানান, ইমরান খান জনসাধারণের ওপর যথেষ্ট প্রভাব রাখেন এবং ইনস্টাগ্রামে তিনি বেশ জনপ্রিয়। বিক্ষোভের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য জানার পর তিনি তাতে অংশ নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, অভিনেতা ইমরান খান আদালতকে জানান যে, গত দুই বছর আমেরিকায় কাটানো বাদে তার পুরো জীবনটাই ভারতে কেটেছে। ভারতই তার আসল ঠিকানা। তার সন্তান, পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন—সবকিছুই ভারতে অবস্থিত এবং তার শিকড় এই দেশেই গাঁথা।
উল্লেখ্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত সিজেপি-র প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার পর মুম্বাইয়ে আটক হন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। মার্কিন নাগরিক এবং ওসিসি কার্ডধারী হওয়ায় পরবর্তীতে তাকে গত ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: হালুয়াঘাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন