০৫:৪৭ পি.এম
চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকায় মোহাম্মদ সাকিব (২২) হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মো. ইমনসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। মামলার বিভিন্ন আসামিদের গ্রেপ্তারের এই অভিযানটি হয়েছে হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে। চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত একটি দেশীয় তৈরি চায়নিজ কুড়াল ও একটি সুইচগিয়ার ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন প্রধান আসামি মো. ইমন (২২), মো. রায়হান (২৫), মো. শাহেদ সালমান (২২), মোহাম্মদ হোসেন (২২), হাসান মোহাম্মদ রবিউল (২১), মো. সাকিব হোসেন (১৮), মো. আছমান (২৩) এবং মো. ফয়সাল (২৩)।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৩টায় র্যাব-৭-এর চান্দগাঁও মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৭-এর কম্পানি কমান্ডার তৌহিদুল ইসলাম।
র্যাব কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৃত সাকিব চান্দগাঁও বিসিক এলাকার একটি ময়দার মিলে চাকরি করতেন। ঘটনার ৮ থেকে ১০ দিন আগে ইমন আদনান নামের এলাকার এক যুবকের মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়েছেন। সাকিব এর প্রতিবাদ করেন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় ফোনটি আদনানকে ফিরিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইমন ও তাঁর সহযোগীরা সাকিবের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন।
গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে সাকিব প্রতিবেশী নাবিল হাসান জিসানকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন।
অটোরিকশাটি চান্দগাঁও থানার মোহরা কামাল বাজার এলাকার লায়লা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেখানে অবস্থান নেওয়া ইমন ও তাঁর সহযোগীরা রিকশাটির গতিরোধ করেন।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
এ সময় ইমন সাকিবের শার্টের কলার ধরে তাঁকে অটোরিকশা থেকে টেনে নামিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। এরপর তাঁর সহযোগীরাও সাকিবের শরীরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত সাকিবকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সাকিবের বাবা মো. নজুম উদ্দিন বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরো ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
ঘটনার পর র্যাব-৭ ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরে চট্টগ্রাম মহানগর, জেলা ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় ১, ২ ও ৩ নম্বর আসামিসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের এবং উদ্ধার করা আলামত পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চান্দগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন