মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৪৩ পি.এম
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি সবসময় রাজপথে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, দলের নেতাকর্মীরা জনগণের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের ওপর যাতে কেউ আঘাত করতে না পারে এবং পরিকল্পিতভাবে কেউ যাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মীকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো থাকতে হবে।’
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আয়োজিত ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে’ সমাবেশ ও মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমান উল্লাহ আমান আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারেক রহমানের উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। সেই ভোটের অধিকার ফিরে এসেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য জানান, বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে বেছে নিয়েছে। জনগণ তারেক রহমানের ওপর আস্থা রেখেছে এবং ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার গঠনের পর সেগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ এবং খাল কাটা কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে আমান উল্লাহ আমান জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী দুটি ব্যাগ, এক জোড়া জুতা, ইউনিফর্ম ও মধ্যাহ্নভোজ পাবে- এ কর্মসূচিও শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেমন উপবৃত্তি চালু করেছিলেন, তেমনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি দেওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।
আমান উল্লাহ আমান উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশে জনগণের কথা বলার অধিকার ও সাংবাদিকদের কথা বলার অধিকার ফিরে এসেছে। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত একদলীয় শাসন চালু ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বন্ধ করা হয়েছিল। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাংবাদিকদের লেখনীর স্বাধীনতা ও সংবাদপত্র প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন।
তিনি আরও বলেন, গণআন্দোলনে স্বৈরাচার পালিয়ে গেলে তারা আর ফিরে আসতে পারেনি এবং পারবেও না।
আমান উল্লাহ আমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণের সেবায় মাঠে-ঘাটে, গ্রামে-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায়, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানায় বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মীকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো থাকতে হবে। যাতে করে কেউ গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এবং পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে।
পালিয়ে যাওয়া এবং দেশে লুকিয়ে থেকে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করার চেষ্টা করছে এমন ব্যক্তিদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘নিজেরা আইন হাতে তুলে নেবেন না।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘যারা খুন করেছে, হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে, যারা আমার ভাই আবু সাঈদ, ওয়াসিম, রিয়াজকে হত্যা করেছে- সেই খুনিদের জায়গা এই বাংলাদেশে হতে পারে না।’
সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যয়, ধীরতা ও দেশের প্রতি মমতা অনুসরণ করে সবাইকে কাজ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করা এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নকে সামনে রেখে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মাসিক সভা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম মান্নান।
তিনি সভায় বিদ্যালয়ের মেধাবী ও অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের ৩০ জন মেধাবী ও অসহায় শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবেন। তার এ ঘোষণায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়।
বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আলহাজ মোহাম্মদ খোরশেদ আলম মান্নান বলেন, মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়কে একটি কলেজে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে আসেননি। বরং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে প্রয়োজন হলে নিজের অর্থ ব্যয় করে বিদ্যালয়ের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে শিক্ষক, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও স্থানীয়দের সম্মিলিত সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. রুবেল হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের বিএসসি। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম, বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক এবং নিউইয়র্ক সফরের সার্বিক বিষয় তুলে ধরার জন্য সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
এই সংবাদ সম্মেলন আগামীকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী হলে’ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব হাসান শিপলু এই তথ্য জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির নিয়ম-কানুন পরিবর্তিত হতে যাচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সম্প্রতি ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নতুন খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছে। এই নীতিমালা বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
খসড়া নীতিমালার আওতায়, সরকারি স্কুলগুলোতে ছয়টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১৪ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কোটার পরিধি কিছুটা বাড়িয়ে একটি ক্যাটাগরি বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
যদি সবকিছু ঠিকঠাক হয়, তবে আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে এ নতুন কোটা নীতি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করতে পারে।
মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল মন্তব্য করেছেন, "খসড়া নীতিমালা অনুমোদন দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় চাইলে নীতিমালায় একাধিক পরিবর্তন আনতে পারে।"
খসড়া নীতিমালার তথ্য অনুযায়ী, সরকারি স্কুলে মুক্তিযোদ্ধা অথবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন কোটা থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা আসন নির্ধারণের জন্য আবেদনপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্রের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা সনদ যথাযথভাবে যাচাই করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা অথবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা পাওয়া না গেলে সাধারণ কোটা থেকে ওই আসনে ভর্তি করতে হবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ন্যূনতম যোগ্যতা থাকার শর্তে ভর্তির ক্ষেত্রে ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। তবে ভর্তির সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন দাখিল করতে হবে। ওই আসনে কোন শিক্ষার্থী পাওয়া না গেলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে শূন্য আসন পূরণ করতে হবে।
নীতিমালায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তান ভর্তির জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে এবং তফশিল-ক এ বর্ণিত অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। তবে, মন্ত্রণালয়ের জন্য সংরক্ষিত ১ শতাংশ আসনে ভর্তিযোগ্য সন্তান না পাওয়া গেলে তা তফশিল-ক এ বর্ণিত অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তান কোটা থেকে পূর্ণ করা যাবে। একইভাবে, তফশিল-ক এ বর্ণিত অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানের জন্য সংরক্ষিত ১ শতাংশ আসনে যোগ্য সন্তান না পাওয়া গেলে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগ্য সন্তান কোটা থেকে পূর্ণ করতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান ভর্তির আবেদনের সময় সংশ্লিষ্ট অফিস প্রধানের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে।
যদি কোন প্রতিষ্ঠানে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর যমজ ভাই-বোন পূর্ব থেকে অধ্যয়নরত থাকে অথবা নতুন আবেদনকারী যমজ ভাই-বোনদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। তবে, এ সুবিধা কোনো দম্পতির মোট তিন সন্তান পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে যমজ ভাই-বোনের আবেদন পাওয়া না যায়, তবে ওই ২ শতাংশ আসন সহোদর-সহোদরার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
অন্যদিকে, আবেদনকারী শিক্ষার্থীর সহোদর-সহোদরা যদি পূর্ব থেকে অধ্যয়নরত থাকে অথবা নতুন আবেদনকারী সহোদর-সহোদরাদের জন্য ৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। তবে এ সুবিধা কোনো দম্পতির মোট তিন সন্তান পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে সহোদর-সহোদরার আবেদন পাওয়া না যায়, তবে ওই ৩ শতাংশ আসন যমজ ভাই-বোনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
খসড়া নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, সহোদর-সহোদরার জন্য নির্ধারিত কোনো আসন শূন্য থাকলে যমজ সন্তানদের ভর্তির মাধ্যমে আসন পূরণ করতে হবে। অনুরূপভাবে যমজ ভাই-বোনের জন্য নির্ধারিত কোনো আসন শূন্য থাকলে সহোদর-সহোদরা দ্বারা পূরণ করা যাবে। কোনো অবস্থায় আসন শূন্য রাখা যাবে না। কোটাভুক্ত আসন পূরণ না হলে সাধারণ কোটা থেকে উক্ত আসনে ভর্তি করতে হবে।
বেসরকারি স্কুলে এই ১৪ শতাংশের বাইরে আরও এক শতাংশ কোটা থাকবে। লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিশুদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে তাদের জন্য এই কোটা রাখবে প্রতিষ্ঠানগুলো। নিকটস্থ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে তারা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয় সংলগ্ন ক্যাচমেন্ট এরিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা মহানগরীর সব সরকারি বিদ্যালয়ের আওতাধীন ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করবে।
৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির মোট আসনের ১০ শতাংশ আসন স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন রেজিস্ট্রেশনধারী শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়ে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করবেন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ড নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্যাদি হালনাগাদ করবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক কর্মস্থল থেকে অন্য কর্মস্থলে বদলি হলে তাদের সন্তানদের জন্য সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্ত সাপেক্ষে আবেদন করা যাবে। (ক) ভর্তির জন্য প্রমাণকসহ ভর্তি কমিটির সভাপতি বরাবর বদলির আদেশের তারিখ থেকে ১০ (দশ) মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে; সব মহানগরী/সিটি করপোরেশন/বিভাগীয় শহরের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থল ১০ (দশ) কিলোমিটারের (google map অনুযায়ী) অধিক হলে তার সন্তান কর্মস্থলের নিকটতম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।
জেলা/উপজেলা/থানার ক্ষেত্রে বদলিকৃত কর্মস্থলের নিকটতম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তার সন্তান ভর্তির সুযোগ পাবে। (ঘ) বদলিজনিত কারণে সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীর সন্তানদের ভর্তির জন্য প্রতি শ্রেণি শাখায় মোট আসনের ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত থাকবে; সরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী অগ্রাধিকার পাবে; সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীরা তার পূর্বতন কর্মস্থলে পুনরায় বদলি হয়ে আসলে তাদের সন্তানদের পূর্বতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুনরায় ভর্তির সুযোগ পাবে।
সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটির আওতাধীন কোনো শিক্ষার্থীকে একই শ্রেণিতে উভয় বিদ্যালয়ের সম্মতির ভিত্তিতে পারস্পরিক বদলিভিত্তিক ভর্তি করা যাবে। এজন্য শিক্ষার্থী/অভিভাবককে সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটির সভাপতির নিকট আবেদন করতে হবে এবং এ নীতিমালার আলোকে ওই কমিটি ভর্তির বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভর্তির উপযুক্ত সন্তান সংখ্যার সমসংখ্যক অতিরিক্ত আসন স্ব স্ব বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে। তবে শিক্ষক-কর্মচারী মাধ্যমিক বালক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকলে এবং তার ভর্তি উপযুক্ত সন্তান বালিকা হলে নিকটতম সরকারি বালিকা-সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত রাখতে হবে। শিক্ষক-কর্মচারী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকলে এবং তার ভর্তি উপযুক্ত সন্তান বালক হলে নিকটতম সরকারি বালক/সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত রাখতে হবে। একইভাবে শিক্ষক-কর্মচারী যদি সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকে তাহলে তার ভর্তি উপযুক্ত সন্তানের ভর্তির জন্য কর্মরত বিদ্যালয়েই অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত রাখতে হবে। তবে কর্মরত বিদ্যালয়ে ভর্তির উপযুক্ত কাঙ্ক্ষিত শ্রেণি না থাকলে নিকটতম বালক/বালিকা/সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভর্তি কমিটিকে অবহিত করবেন। তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের ভর্তিচ্ছু প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে অবহিত করতে হবে এবং অনলাইনে ভর্তির আবেদন করতে হবে।
খসড়া নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, তবে তার সন্তান যে এলাকায় স্থায়ী হবে সে এলাকার সরকারি স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাবে। সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটি এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া, কোনো সরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী যার পিতা-মাতা নেই, এমন শিক্ষার্থী যদি কোনো কারণে বাসস্থান পরিবর্তন করে, তবে পরিবর্তিত এলাকার সরকারি স্কুলে সে সমশ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে। সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিভাবে এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে, এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি, গঠনপ্রক্রিয়া ও রূপরেখা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব ও গঠনমূলক পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে। প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে জাতির জন্য সবচেয়ে উপযুক্তটিকে বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় সংসদে পর্যালোচনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও ধাপ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি। জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কিছু স্পষ্ট প্রস্তাবের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতও রয়েছে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় কিংবা চতুর্থ—কোন ধাপে কীভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামো রূপ পাবে, সে বিষয়ে একাধিক বিকল্প উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
সংসদ ও সংসদের বাইরে সর্বজনীন আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি সর্বসম্মত কাঠামোয় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গণমাধ্যমের মতামত নিয়েছে কমিটি
বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠকে গণমাধ্যম খাতের বিস্তৃত প্রতিনিধি দলের মতামত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। এতে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও বার্তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা অংশ নেন।
এর আগে রোববার সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতামত নেওয়া হয়। দীর্ঘ আলোচনার সুযোগ দিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন দুই ধাপে করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পরামর্শ পাওয়া গেছে। অন্যদেরও দ্রুত লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে সংবিধান সংশোধনের আলোচনা শুধুমাত্র গণমাধ্যমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে জানান কমিটির সভাপতি। পর্যায়ক্রমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বিশিষ্টজন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাবেক ও বর্তমান বিচারক এবং গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বঞ্চনা ও নিপীড়নের শিকার পরিবারগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তরুণ অংশীদার ও শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও সরাসরি মতামত নেওয়া হবে। সবশেষে দেশের শীর্ষ সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে।
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ নিয়েও আলোচনা
সংবাদ সম্মেলনে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রাসঙ্গিকতার বিষয়টিও উঠে আসে। বাংলাদেশের মতো এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের যৌক্তিকতা নিয়ে মতভেদ থাকলেও জুলাই জাতীয় সনদের ঐকমত্যকে গুরুত্ব দিয়ে এ পথেই এগিয়ে যেতে চায় বিশেষ কমিটি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনসভা বা সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভিন্ন কোনো উপযুক্ত সংশোধনী প্রস্তাব এলে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সেটিও বিবেচনার সুযোগ থাকবে।
বৈঠকে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়।
বিরোধী দলকে আলোচনায় আসার আহ্বান
সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে বাদ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ কারণে বিরোধী দলসহ সব পক্ষকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করে সব পক্ষ যাতে সক্রিয় সংলাপে অংশ নেয়, সে বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। একটি পূর্ণাঙ্গ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংশোধন আইন প্রণয়নই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বিএনপির পক্ষ থেকে উত্থাপিত ‘একক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর বা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না’—সংক্রান্ত নীতিগত প্রস্তাবের বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন রোধে তাদের অবস্থান অনড়। তবে সংসদে সব রাজনৈতিক পক্ষের বিকল্প প্রস্তাব আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ