১০:০১ এম
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াশিংটন নতুন একটি নিষেধাজ্ঞা অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা করেছে, যা তেহরানের আয় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যিক যোগাযোগের পথ সংকুচিত করবে। এই অভিযানের নাম রাখা হয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের তেল খাতসহ দেশটির আয়ের সব উৎসের ওপর নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হবে।
বেসেন্ট এই উদ্যোগকে ‘অর্থনৈতিক চূড়ান্ত আক্রমণের দিন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, তেহরানের অর্থনৈতিক স্বার্থে আঘাত হানাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমিয়ে দেশটিকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ঢাকায় জরুরি অবতরণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে গেল, রোগীর মৃত্যু
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এক বিবৃতিতে বেসেন্ট জানান, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার পথগুলো বন্ধ করাই ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, যতক্ষণ না ইরান অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, ততক্ষণ এই চাপ অব্যাহত থাকবে।
বেসেন্ট ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা অন্যান্য দেশগুলোর প্রতিও কঠোর বার্তা পাঠান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো এক পক্ষ বেছে নিতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ইরানের সঙ্গে লেনদেন সহজ করা, দেশটির অর্থনীতিকে সহায়তা করা কিংবা তেল বিক্রির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষ করে, ইরানের বাণিজ্য সহযোগীদের ওপর দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ইরানের সঙ্গে সরাসরি ব্যবসা না করলেও, দেশটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে।
বেসেন্টের বক্তব্যে আরও বলা হয়, ইরানের তেল আয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ যাতে তেহরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ব্যবহার না হয়, সে লক্ষ্যেই নজরদারি জোরদার করা হবে।
আরও পড়ুন: রাহুল গান্ধীর পদযাত্রা: ভারতের গণবিক্ষোভে যুবদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে মিত্রবাহিনীর ঐতিহাসিক ‘ডি-ডে’ অভিযানের সঙ্গে তুলনা করে বেসেন্ট তার নতুন কর্মসূচিকে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযানের রূপ দিয়েছেন।
তবে সোমবার ঘোষিত কর্মসূচিতে বড় কোনো আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। ফলে এটিকে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর মাধ্যমে তেহরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করাই বর্তমানে ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য।
সূত্র:আল জাজিরা
আরও পড়ুন: গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের আদেশ স্থগিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন