০৪:০৫ পি.এম
চীন এবং রাশিয়া চলতি মাসেই তাদের যৌথ বার্ষিক নৌ-মহড়ার আয়োজন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পাশাপাশি, প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েকটি এলাকায় যৌথ টহল পরিচালনারও পরিকল্পনা রয়েছে। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
মস্কো এবং বেইজিংয়ের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ওয়াশিংটনকেন্দ্রিক বৈশ্বিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিরোধিতার ক্ষেত্রে দু’দেশের অভিন্ন অবস্থানের ফলে তাদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বেইজিং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন এবং রাশিয়া নিয়মিতভাবে যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করে আসছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশসহ অন্যান্য কয়েকটি দেশের কাছে এই সামরিক অংশীদারীত্ব সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে হত্যা মামলায় কারাগারে আটক রাখার আবেদন
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের নৌবাহিনী 'জয়েন্ট সি-২০২৬' মহড়ায় অংশগ্রহণ করবে। এটি চীনের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বন্দর ও সমুদ্র উপকূলীয় পর্যটন শহর ছিংদাওয়ের উপকূলসংলগ্ন জলসীমা এবং আকাশসীমায় অনুষ্ঠিত হবে।
বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে, 'মহড়া শেষে উভয় পক্ষের কিছু বাহিনী প্রশান্ত মহাসাগরের সংশ্লিষ্ট এলাকায় যৌথ সামুদ্রিক টহল পরিচালনা করবে।'
এতে এই বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে, 'এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে যৌথভাবে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।'
তবে মহড়ায় কত সংখ্যক সেনা বা যুদ্ধজাহাজ অংশগ্রহণ করবে, সে সম্পর্কে কোন তথ্য জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে ত্রিপল হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চীন সফরের প্রায় দুই মাসের মাথায় এ মহড়ার ঘোষণা দেয়া হলো। সফরের সময় পুতিন বলেছিলেন, দুই দেশের সম্পর্ক 'অনন্য উচ্চতায়' পৌঁছেছে। অন্যদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং এই অংশীদারত্বকে 'অটুট' বলে অভিহিত করেছেন।
চীন এবং রাশিয়া ২০১২ সাল থেকে 'জয়েন্ট সি' নামে যৌথ নৌ-মহড়া আয়োজন করছে। গত বছরের মহড়া রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ভ্লাদিভস্তকের কাছে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর পরে প্রশান্ত মহাসাগরে দুই দেশ যৌথ টহল পরিচালনা করে।
চীন কখনোই ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার নিন্দা জানায়নি, তবে বেইজিং বরাবরই দাবি করে এসেছে যে, তারা এ সংঘাতে নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত শান্তি আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে তারা।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনের বহু পশ্চিমা মিত্রের বিশ্বাস, মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টায় বেইজিং সমর্থন দিয়ে আসছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদলে সম্পর্ক পুনর্গঠনের আশা জেলেনস্কির
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন