বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৮ পি.এম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৮ম অধিবেশন উপলক্ষে রাজধানীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ৯ নভেম্বর রবিবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে এবং অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৯ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৮ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই উপলক্ষে সংসদ ভবন ও তার আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে নিষেধাজ্ঞাটি জারি করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এলাকাগুলো হলো— ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত। বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত। পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত। মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে আসাদগেট পর্যন্ত। এছাড়া খামারবাড়ি থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এসব সীমানার মধ্যে অবস্থিত সড়ক ও গলিপথও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময় থেকে এসব এলাকায় কোনো ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন করা যাবে না। একই সঙ্গে সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনও নিষিদ্ধ থাকবে। সংসদের ৮ম অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেলের আনোয়ারা প্রান্তের গোলচত্বর এলাকায় সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্টেশন। যাত্রী ওঠানামার জন্য সড়কের ওপর যত্রতত্র অটোরিকশা দাঁড় করানোর ফলে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এর পাশাপাশি, বেপরোয়া চলাচল ও নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহনের কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্টেশন পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা চালকদের লাইসেন্স ও গাড়ির বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টানেলের আনোয়ারা প্রান্তের গোলচত্বরসংলগ্ন সড়কের একটি অংশ দখল করে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এসব গাড়ির জন্য একটি নিজস্ব সিরিয়াল ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সিরিয়াল নির্দিষ্ট চক্রের নিয়ন্ত্রণে চলে। টাকা দিয়ে সিরিয়াল না পেলে বৈধ কাগজপত্র থাকা অন্য অটোরিকশাও সেখানে যাত্রী ওঠানামার সুযোগ পায় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা কিছু অটোরিকশাও সিরিয়ালের মাধ্যমে চলাচল করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের ওপর এভাবে অটোরিকশা স্টেশন গড়ে ওঠায় টানেলমুখী ও আনোয়ারাগামী যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে একদিকে যানজট, অন্যদিকে বেপরোয়া অটোরিকশার চলাচল পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে টানেল মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে তিনজন নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হন। দুর্ঘটনায় আটটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পরও টানেলসংলগ্ন এলাকায় সড়ক দখল, অব্যবস্থাপনা ও যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ে উদ্বেগ কমেনি। স্থানীয়দের দাবি, প্রায়ই এখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
সচেতন মহলের দাবি, কর্ণফুলী টানেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার প্রবেশমুখে এ ধরনের অবৈধ স্টেশন ও বিশৃঙ্খল যান চলাচল কোনোভাবেই কাম্য নয়। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্টেশন উচ্ছেদ, চালকদের লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র যাচাই এবং কথিত সিরিয়াল ব্যবস্থার আড়ালে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করা জরুরি। অন্যথায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে চাতরী চৌমুহনী বাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আশিকুর রহমান বলেন, "সড়ক দখল করে সিএনজি স্টেশন করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে গাড়ি জব্দ করি। কিন্তু অভিযান শেষে আবারও সড়ক দখল করে সিএনজি স্টেশন গড়ে ওঠে। আমাদের ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা মাত্র পাঁচজন। এর মধ্যে চাতরী চৌমুহনী বাজারের যানজট নিয়ন্ত্রণে বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অদ্য ৫ নভেম্বর ২০২৬ খ্রি. বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলন (বিজিএমএ) ও কৃষক সমিতির যৌথ উদ্যোগে “৫ দফা দাবিতে জমায়েত” অনুষ্ঠিত হয়।
জমায়েতের গণদাবী সমূহ হলো:
১. আন্দোলনরত সকল শ্রমিকের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তি চাই।
২. তৈরি পোশাক শিল্পে ন্যূনতম মজুরী ৩০,০০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
৩. এলপিজি সিলিন্ডার বাজারে সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দাও।
৪. শীতকালীন সবজির লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
৫. গ্রাহকের কার্ডধারী টিসিবির পণ্য চালু রাখুন।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলন (বিজিএমএ) এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফ আলী হাওলাদার—এর সভাপতিত্বে জমায়েতে বক্তব্য রাখেন জুলাই বিপ্লবের সংগঠক কৃষক সমিতির সভাপতি চাষী মাসুম, বাংলাদেশ ন্যায় বিচার পার্টির সভাপতি হোসেন মোঃ লিটন, দেশ দরদী পার্টি বাংলাদেশ—এর আহ্বায়ক ক্বারী মাওলানা বোরহান উদ্দিন চিশতি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলন (বিজিএমএ) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মোঃ তোজামেল হক তাজেম, যুগ্ম মহাসচিব মোঃ মনজুর হোসেন, মহিলা সম্পাদিকা সালমা আক্তার লিজা প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের উখিয়া থাইংখালীতে অভিযান চালিয়ে পাহাড়ি বালুভর্তি দুটি ডাম্পার জব্দ করেছে বন বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়া রেঞ্জের থাইংখালী বিটের ঘোনারপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান শেষে জব্দ করা ডাম্পার দুটি উখিয়া রেঞ্জ কার্যালয়ের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে থাইংখালী বিট কর্মকর্তা আরাফাত মাহমুদসহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। পাহাড়ি বালু পরিবহনের বিরুদ্ধে বন বিভাগের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পরিবেশ ও বনসম্পদ রক্ষায় পাহাড়ি বালুর অবৈধ উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধে নিয়মিত নজরদারি এবং কার্যকর অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নদীর ওপর প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোটি বর্তমানে ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। এর মাঝের অর্ধেক অংশ সম্পূর্ণরূপে ভেঙে গেছে। কিছু মানুষ বুকসমান পানির মধ্যে দিয়ে নদী পার হওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ কেউ সাঁতার কেটে পার হচ্ছেন। ভাঙা অংশের ওপর দিয়ে পার হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও কিছু মানুষ চেষ্টা করছেন।
এটি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী এলাকায় অবস্থিত বারোমাসিয়া (বাণিদাহ) নদীর ওপরের সাঁকো। প্রায় তিন মাস ধরে সাঁকোটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে, কিন্তু সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই কারণে নদীর দুই তীরে অবস্থিত আট গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আগে তারা নিজেদের উদ্যোগে সাঁকোটি মেরামত করতেন, কিন্তু এবারে তা করা হয়নি। এর ফলে বাঁশের পাটাতন ও কাঠামো দুর্বল হয়ে গেছে। প্রায় তিন মাস আগে সাঁকোটির মাঝামাঝিতে অর্ধেক অংশ ভেঙে যাওয়ার পর এলাকার হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
সূত্রে জানা যায়, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার কারণে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী, চরগোরকমন্ডল, ঝাউকুটি, পশ্চিম ফুলমতি, নাওডাঙ্গা ও শিমুলবাড়ী এলাকার হকবাজার এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চরখারুয়া ও খারুয়া গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মিনতি রানী বলেন, "মাথায় বাদামের বোঝা নিয়ে বুকসমান পানি মাড়িয়ে নদী পার হচ্ছি। খালি ছবি তোলেন বাহে। দুই-তিন মাস ধরে এত কষ্ট করে নদী পারাপার হচ্ছি, কিন্তু কেউ আমাদের খোঁজ নিতে আসেনি। ছেলে-মেয়েদেরও অনেক কষ্ট করে নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। আমরা আর এ দুর্ভোগ সহ্য করতে পারছি না। দ্রুত সাঁকোটি মেরামত করা হোক।"
স্থানীয় মুদি দোকানি আকাশ মাহমুদ জানান, "এলাকার দেড়-দুই শ শিক্ষার্থী নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বালারহাট আদর্শ স্কুল, বিভিন্ন মাদরাসা ও ফুলবাড়ী কলেজে পড়াশোনা করে। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় তাদের প্রতিদিন অনেক কষ্ট করে নদী পার হতে হচ্ছে।"
বিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী সুমন মিয়া, শাকিব ও সবুজ মিয়া এবং কলেজ শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার ও মঈনুদ্দিন জানান, সাঁকোটির অবস্থা করুণ। স্কুল-কলেজে যেতে খুব কষ্ট হয়। বিকল্প সড়কও নেই। কখনও সাঁতার কেটে, কখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সাঁকো পার হতে হচ্ছে। পারাপারের সময় অনেকেই পড়ে গেছে। বড়রাও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ হাসান বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার কারণে স্থানীয়দের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত সেখানে একটি টেকসই বাঁশের সাঁকো নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ