আবিদ ইসলাম আশিক বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি
০৩:২১ পি.এম
ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের আওতায় দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণের লক্ষ্যে বরিশালের বাকেরগঞ্জে প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার প্রত্যয়ে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ অবহিতকরণ সভার আয়োজন করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২ টায় বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পালের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় প্রেস কনফারেন্সে রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি দানিসুর রহমান লিমন, সাংবাদিক বায়েজিদ বাপ্পি, তুহিন সিকদার, সুপারভাইজার মিনহাজুল ইসলাম সুজন, জসিম উদ্দিন নিক্সনসহ সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস কনফারেন্সে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পাল জানান, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা এবং দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের বিষয়গুলো তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছেন যে, "ভারতের জনগণ একদিকে, আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল অন্যদিকে অবস্থান করছেন।" তিনি এই মন্তব্যটি সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এক সংবাদ সম্মেলনে করেন।
রাহুল গান্ধী প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, "নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগে দিল্লিতে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন চলছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এ ইস্যুতে বিরোধী দলগুলো ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে।
তিনি জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, "জ্ঞানেশ কুমারকে যত বেশি আড়াল করা হবে, ততই এই প্রক্রিয়ার পেছনে কারা রয়েছেন, তা স্পষ্ট হবে।"
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে সোমবার বিরোধী দলগুলোর সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিল করার কর্মসূচি ছিল। মিছিলের মাধ্যমে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়, যাতে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বন্ধ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তোলা হবে।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সোমবার কেন্দ্রীয় দিল্লির ছয়টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের দিল্লিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের নতুন তারিখ নির্ধারণের জন্য পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির সহ-সমন্বয়ক আশুতোষ রানকা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই সময়ের মধ্যে পুলিশ যদি কোনো জবাব না দেয়, তবে তারা নিজেদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) সিজেপির আরেক সহ-সমন্বয়ক সৌরভ দাসকে সঙ্গে নিয়ে রানকা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যান। সেখানে তারা যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আয়োজনের নতুন তারিখ নির্ধারণের দাবি জানান।
রানকা বলেন, "যন্তর মন্তর বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থান। সেখানে তারা কবে বিক্ষোভ করতে পারবেন, তা জানতে পুলিশের কাছে এসেছেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশকে বিক্ষোভের তারিখ জানাতে হবে। অন্যথায় দলটি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে।"
গত ১০ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে সিজেপির প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। আয়োজকদের স্বল্প সময়ের নোটিশ, আগের বিক্ষোভে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং জননিরাপত্তা, যান চলাচল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রস্তাবিত বিক্ষোভের বিষয়ে তাদের ৭ অক্টোবর জানানো হয়েছিল। অর্থাৎ, কর্মসূচির মাত্র তিন দিন আগে আবেদন করা হয়। অথচ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, বিক্ষোভের জন্য অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন জমা দিতে হয়।
সিজেপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমে কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে দলটির চলমান আন্দোলনের অংশ এই কর্মসূচি।
দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, এর আগে সিজেপির একটি বিক্ষোভ নির্ধারিত সময়ের পরও চলেছিল এবং এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তবে দলটি যন্তর মন্তরে নতুন করে বিক্ষোভ করার অনুমতি পেতে চাপ অব্যাহত রেখেছে। তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী আবদুল এল-সাইদ। রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি, ট্রাম্পের বারবার এল-সাইদের নাম ভুলভাবে উল্লেখ করার কারণে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি একটি রাজনৈতিক কৌশল, যা মুসলিম পরিচয়কে সামনে এনে একজন প্রার্থীকে ‘ভিন্ন’ হিসেবে উপস্থাপন করে।
‘দ্য প্রেসিডেন্ট হু ক্যান্ট সে হিজ নেম’ শীর্ষক নিবন্ধে মিশিগানের সিনেট নির্বাচন, ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনগণের প্রতি বিতর্ক তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের বিতর্কের পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স সিনেট বিতর্কে ‘মোহাম্মদ এল-সাইদকে’ সম্পূর্ণভাবে ধরাশায়ী করেছেন। অথচ রজার্স ওই বিতর্কে অংশ নেননি।
ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ‘মোহাম্মদ একজন জিহাদি উন্মাদ, যিনি আমাদের দেশ ও ডেট্রয়েটের কৃষ্ণাঙ্গ জনগণের প্রতি ঘৃণা পোষণ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা দেখতে চান।’ তবে ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর নাম আবদুল এল-সাইদ। ‘মোহাম্মদ’ তার মধ্য নাম, যা তিনি মিসরীয় অভিবাসী বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন এবং সাধারণত তিনি এই নাম ব্যবহার করেন না।
ট্রাম্পের বারবার ওই নাম ব্যবহারকে নিছক ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ কম। বরং এটি এল-সাইদকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত জাতীয় পরিচয়ের বাইরে থাকা একজন ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। এল-সাইদ নিজেও বিষয়টি নিয়ে বিস্মিত নন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প জানেন তার নাম আবদুল, কারণ প্রেসিডেন্ট প্রতিদিনই তার নাম উল্লেখ করেন।
ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের আক্রমণের সমালোচনা করে বলেছেন, এগুলো বিদ্বেষমূলক বক্তব্য। তার ভাষ্য, ট্রাম্প যতই এমন আক্রমণ করুন না কেন, এল-সাইদ মিশিগানের পরবর্তী সিনেটর হওয়ার পথে রয়েছেন।
মিশিগানে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের প্রতিনিধি দাউদ ওয়ালিদও বিষয়টিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এল-সাইদের পুরো নাম বারবার উচ্চারণ করে তাকে এমন একজন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাভাবিক’ পরিচয়ের সঙ্গে খাপ খান না।
মিশিগানের সিনেট আসনটি ডেমোক্র্যাট গ্যারি পিটার্সের অবসরের কারণে শূন্য হয়েছে। বর্তমানে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি, আর ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়াতে হবে।
মিশিগানের আসনটি ইতোমধ্যে ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকায় সেখানে জয়ী হলেও সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণ সরাসরি বদলাবে না। তবে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্স জয়ী হলে দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরো বাড়বে এবং অন্য রাজ্যগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়বে। এ কারণেই মিশিগানের নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের এত মনোযোগ। বিশেষ করে অঙ্গরাজ্যটিতে তিনি দুইবার জয়ী হওয়ায় রিপাবলিকানদের কাছে আসনটি পুনরুদ্ধারের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।
জরিপে এগিয়ে এল-সাইদ
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের ৬ তারিখ পর্যন্ত রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকসের জরিপের গড় হিসাবে এল-সাইদ ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে ছিলেন। রজার্সের সমর্থন ছিল ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে মারিস্ট ও সাফোক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপেও এল-সাইদ সাত পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। এমনকি ফক্স নিউজের সর্বশেষ জরিপেও সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে তিনি এক পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। আগস্টে চিত্রটি ছিল উল্টো; তখন রজার্স চার পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন।
পলিমার্কেটের বাজির বাজারেও এল-সাইদের জয়ের সম্ভাবনা ৬৯ শতাংশ দেখানো হয়েছিল। তবে এসব জরিপ ও বাজির বাজারের হিসাব নির্বাচনের ফল নিশ্চিত করে না। এল-সাইদের পক্ষে জনমত জরিপে অগ্রগতি দেখা গেলেও নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে দুই দল। অক্টোবরের ১০ তারিখ পর্যন্ত রিপাবলিকানপন্থী পক্ষের ব্যয় ছিল ৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ডেমোক্র্যাটদের ব্যয় ছিল ৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
প্রচারের বড় অংশজুড়ে এল-সাইদকে ‘বিপজ্জনকভাবে উগ্র’ ও ‘অতিরিক্ত চরমপন্থী’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তাকে অনলাইন সম্প্রচারক হাসান পাইকারের সঙ্গে সম্পর্কিত করার চেষ্টাও চলছে। পাইকার একসময় বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ৯/১১ হামলার জন্য ‘যোগ্য ছিল’। সেই বক্তব্যের সঙ্গে এল-সাইদের নাম জুড়ে দিয়ে ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের অনুপস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ
নির্বাচনের এত কাছে এসেও ট্রাম্প মিশিগানে গিয়ে রজার্সের পক্ষে প্রচার চালাননি। বিষয়টি নিয়ে এল-সাইদও তাকে কটাক্ষ করেছেন। চলতি মাসে পোর্ট হুরনের এক সমাবেশে কালো ভি-নেক শার্ট পরে হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড, তুমি যদি দেখে থাকো, তাহলে কাপুরুষের মতো আচরণ করো না।’
এল-সাইদ রজার্সকে কাপুরুষ এবং ট্রাম্পকে ভীত বলে আক্রমণ করেছেন। তবে লেখকের মতে, ট্রাম্পের অনুপস্থিতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আক্রমণ নির্বাচনী প্রচারের বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্বেগেরই প্রতিফলন।
জাতীয় রাজনীতিতেও চাপে রিপাবলিকানরা
কংগ্রেসের সম্ভাব্য নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জাতীয় পর্যায়ের ভোটার সমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন। নেট সিলভারের চলমান গড় হিসাবে প্রতিনিধি পরিষদের সাধারণ ব্যালটে ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান প্রায় নয় পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা চলতি নির্বাচনী চক্রে তাদের সর্বোচ্চ ব্যবধান। বিভিন্ন পূর্বাভাসে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা ৮২ শতাংশ দেখানো হয়েছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার সম্ভাবনাও তাদের পক্ষে অর্ধেকের বেশি।
দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই হারালে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষ দুই বছর আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কারণ, তখন কংগ্রেসের তদন্ত ও তলব করার ক্ষমতা ব্যবহার করে তাঁর প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াতে পারবেন বিরোধীরা। এই রাজনৈতিক হিসাবও মিশিগানের একটি সিনেট আসনকে জাতীয় গুরুত্ব দিয়েছে।
এল-সাইদের জন্যও ঝুঁকি রয়েছে
তবে এল-সাইদের নির্বাচনী প্রচার পুরোপুরি বাধাহীন নয়। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় তার অবস্থান নিয়ে একটি ফাঁস হওয়া অডিওতে বিতর্ক তৈরি হয়। সেখানে তাকে ডিয়ারবর্নের শোকাহত ভোটারদের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে স্পষ্ট অবস্থান এড়িয়ে যেতে শোনা গেছে। রিপাবলিকানরা বিষয়টি প্রচারে ব্যবহার করছে।
মিশিগানের কয়েকজন ডেমোক্র্যাটও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দলের ভেতরে সংশয়ী ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে এল-সাইদের অনীহা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সিনেটর এলিসা স্লটকিন, যিনি দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে নিরপেক্ষ ছিলেন, পরে এল-সায়েদের পক্ষে দলকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
এল-সাইদের সমর্থকেরাও স্বীকার করেন, তার নির্বাচনী কৌশল মূলত নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করার ওপর নির্ভর করছে; প্রচলিত মধ্যপন্থী ভোটারদের কাছে পৌঁছানোই তার একমাত্র লক্ষ্য নয়। নির্বাচনের আগে তিন সপ্তাহ দীর্ঘ সময় রয়েছে। জরিপে সামান্য ব্যবধান যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে। মিশিগানে ১৯৯৪ সালের পর কোনো সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জয়ী হননি। ২০২৪ সালে রজার্স ডেমোক্র্যাট এলিসা স্লটকিনের কাছে এক শতাংশেরও কম ব্যবধানে হেরেছিলেন।
প্রতিপক্ষের নাম বারবার ভুলভাবে উচ্চারণ করে তাকে আক্রমণ করা কোনো প্রেসিডেন্টের শক্তিমত্তার পরিচয় নয়। বরং মিশিগানের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের উদ্বেগ এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি করছে এই ঘটনা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ভোট চুরির রাজসাক্ষী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস নেতা দাবি করেছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ২০০ কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই কর্মকর্তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা, গোয়েন্দা বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে বিস্তারিত তথ্য বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
সোমবার (১১ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছ থেকে নিয়মিত বার্তা পান। জ্ঞানেশ কুমারকে কী বার্তা দিয়েছেন- সে প্রসঙ্গে রাহুল বলেন, তাকে রাজসাক্ষী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, জ্ঞানেশ কুমার তার সংবাদ সম্মেলনও দেখছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাহুল বলেন, নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সামনে রেখে অন্যরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে নিজের যোগাযোগের বিষয়টি তুলে ধরে রাহুল বলেন, তদন্ত সংস্থা, গোয়েন্দা বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ২০০ কর্মকর্তা তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। তাদের কাছ থেকেই সরকারের ভেতরের নানা তথ্য জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে ওই কর্মকর্তাদের পরিচয় বা যোগাযোগের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি কংগ্রেস নেতা।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধের মধ্যে রাহুলের এ বক্তব্য সামনে এল। ভোট চুরির অভিযোগ তুলে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, এ আন্দোলন এখনই থামছে না। বিভিন্ন ধরনের চাপ ও বাধা এলেও বিরোধীরা আন্দোলনের পথ ছাড়বেন না বলে জানান তিনি। কংগ্রেসের সংবাদ সম্মেলনের পর বিরোধী জোটের নেতাদের দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। সেখান থেকে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল করার কর্মসূচিও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলনের পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টিও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।
রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর এখন কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রয়েছে। তাঁর অভিযোগের বিষয়ে সরকার বা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পক্ষ থেকে বক্তব্য এলে তা রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ