ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

মুসলিম প্রতিপক্ষের নাম ভুল বলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নতুন বিতর্ক


মুসলিম প্রতিপক্ষের নাম ভুল বলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নতুন বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী আবদুল এল-সাইদ। রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি, ট্রাম্পের বারবার এল-সাইদের নাম ভুলভাবে উল্লেখ করার কারণে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি একটি রাজনৈতিক কৌশল, যা মুসলিম পরিচয়কে সামনে এনে একজন প্রার্থীকে ‘ভিন্ন’ হিসেবে উপস্থাপন করে।

‘দ্য প্রেসিডেন্ট হু ক্যান্ট সে হিজ নেম’ শীর্ষক নিবন্ধে মিশিগানের সিনেট নির্বাচন, ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনগণের প্রতি বিতর্ক তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের বিতর্কের পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স সিনেট বিতর্কে ‘মোহাম্মদ এল-সাইদকে’ সম্পূর্ণভাবে ধরাশায়ী করেছেন। অথচ রজার্স ওই বিতর্কে অংশ নেননি।

ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ‘মোহাম্মদ একজন জিহাদি উন্মাদ, যিনি আমাদের দেশ ও ডেট্রয়েটের কৃষ্ণাঙ্গ জনগণের প্রতি ঘৃণা পোষণ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা দেখতে চান।’ তবে ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর নাম আবদুল এল-সাইদ। ‘মোহাম্মদ’ তার মধ্য নাম, যা তিনি মিসরীয় অভিবাসী বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন এবং সাধারণত তিনি এই নাম ব্যবহার করেন না।

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নেভাতে গিয়ে প্রাণ গেল ৪ জনের

ট্রাম্পের বারবার ওই নাম ব্যবহারকে নিছক ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ কম। বরং এটি এল-সাইদকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত জাতীয় পরিচয়ের বাইরে থাকা একজন ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। এল-সাইদ নিজেও বিষয়টি নিয়ে বিস্মিত নন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প জানেন তার নাম আবদুল, কারণ প্রেসিডেন্ট প্রতিদিনই তার নাম উল্লেখ করেন।

ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের আক্রমণের সমালোচনা করে বলেছেন, এগুলো বিদ্বেষমূলক বক্তব্য। তার ভাষ্য, ট্রাম্প যতই এমন আক্রমণ করুন না কেন, এল-সাইদ মিশিগানের পরবর্তী সিনেটর হওয়ার পথে রয়েছেন।

মিশিগানে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের প্রতিনিধি দাউদ ওয়ালিদও বিষয়টিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এল-সাইদের পুরো নাম বারবার উচ্চারণ করে তাকে এমন একজন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাভাবিক’ পরিচয়ের সঙ্গে খাপ খান না।

মিশিগানের সিনেট আসনটি ডেমোক্র্যাট গ্যারি পিটার্সের অবসরের কারণে শূন্য হয়েছে। বর্তমানে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি, আর ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুন: জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ নার্স রীপা গোমেজের পাশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

মিশিগানের আসনটি ইতোমধ্যে ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকায় সেখানে জয়ী হলেও সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণ সরাসরি বদলাবে না। তবে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্স জয়ী হলে দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরো বাড়বে এবং অন্য রাজ্যগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়বে। এ কারণেই মিশিগানের নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের এত মনোযোগ। বিশেষ করে অঙ্গরাজ্যটিতে তিনি দুইবার জয়ী হওয়ায় রিপাবলিকানদের কাছে আসনটি পুনরুদ্ধারের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।

জরিপে এগিয়ে এল-সাইদ

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের ৬ তারিখ পর্যন্ত রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকসের জরিপের গড় হিসাবে এল-সাইদ ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে ছিলেন। রজার্সের সমর্থন ছিল ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে মারিস্ট ও সাফোক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপেও এল-সাইদ সাত পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। এমনকি ফক্স নিউজের সর্বশেষ জরিপেও সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে তিনি এক পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। আগস্টে চিত্রটি ছিল উল্টো; তখন রজার্স চার পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন।

পলিমার্কেটের বাজির বাজারেও এল-সাইদের জয়ের সম্ভাবনা ৬৯ শতাংশ দেখানো হয়েছিল। তবে এসব জরিপ ও বাজির বাজারের হিসাব নির্বাচনের ফল নিশ্চিত করে না। এল-সাইদের পক্ষে জনমত জরিপে অগ্রগতি দেখা গেলেও নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে দুই দল। অক্টোবরের ১০ তারিখ পর্যন্ত রিপাবলিকানপন্থী পক্ষের ব্যয় ছিল ৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ডেমোক্র্যাটদের ব্যয় ছিল ৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

আরও পড়ুন: জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা নতুন রেকর্ড ৪২ লাখ ৮১ হাজার ২৬

প্রচারের বড় অংশজুড়ে এল-সাইদকে ‘বিপজ্জনকভাবে উগ্র’ ও ‘অতিরিক্ত চরমপন্থী’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তাকে অনলাইন সম্প্রচারক হাসান পাইকারের সঙ্গে সম্পর্কিত করার চেষ্টাও চলছে। পাইকার একসময় বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ৯/১১ হামলার জন্য ‘যোগ্য ছিল’। সেই বক্তব্যের সঙ্গে এল-সাইদের নাম জুড়ে দিয়ে ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের অনুপস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ

নির্বাচনের এত কাছে এসেও ট্রাম্প মিশিগানে গিয়ে রজার্সের পক্ষে প্রচার চালাননি। বিষয়টি নিয়ে এল-সাইদও তাকে কটাক্ষ করেছেন। চলতি মাসে পোর্ট হুরনের এক সমাবেশে কালো ভি-নেক শার্ট পরে হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড, তুমি যদি দেখে থাকো, তাহলে কাপুরুষের মতো আচরণ করো না।’

এল-সাইদ রজার্সকে কাপুরুষ এবং ট্রাম্পকে ভীত বলে আক্রমণ করেছেন। তবে লেখকের মতে, ট্রাম্পের অনুপস্থিতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আক্রমণ নির্বাচনী প্রচারের বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্বেগেরই প্রতিফলন।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের সঙ্গে টানাপোড়েন, ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে উদ্বেগ

জাতীয় রাজনীতিতেও চাপে রিপাবলিকানরা

কংগ্রেসের সম্ভাব্য নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জাতীয় পর্যায়ের ভোটার সমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন। নেট সিলভারের চলমান গড় হিসাবে প্রতিনিধি পরিষদের সাধারণ ব্যালটে ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান প্রায় নয় পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা চলতি নির্বাচনী চক্রে তাদের সর্বোচ্চ ব্যবধান। বিভিন্ন পূর্বাভাসে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা ৮২ শতাংশ দেখানো হয়েছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার সম্ভাবনাও তাদের পক্ষে অর্ধেকের বেশি।

দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই হারালে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষ দুই বছর আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কারণ, তখন কংগ্রেসের তদন্ত ও তলব করার ক্ষমতা ব্যবহার করে তাঁর প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াতে পারবেন বিরোধীরা। এই রাজনৈতিক হিসাবও মিশিগানের একটি সিনেট আসনকে জাতীয় গুরুত্ব দিয়েছে।

এল-সাইদের জন্যও ঝুঁকি রয়েছে

আরও পড়ুন: দিল্লিতে সিজেপির পতাকা মিছিল ঘিরে ২৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মীর মোতায়েন

তবে এল-সাইদের নির্বাচনী প্রচার পুরোপুরি বাধাহীন নয়। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় তার অবস্থান নিয়ে একটি ফাঁস হওয়া অডিওতে বিতর্ক তৈরি হয়। সেখানে তাকে ডিয়ারবর্নের শোকাহত ভোটারদের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে স্পষ্ট অবস্থান এড়িয়ে যেতে শোনা গেছে। রিপাবলিকানরা বিষয়টি প্রচারে ব্যবহার করছে।

মিশিগানের কয়েকজন ডেমোক্র্যাটও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দলের ভেতরে সংশয়ী ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে এল-সাইদের অনীহা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সিনেটর এলিসা স্লটকিন, যিনি দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে নিরপেক্ষ ছিলেন, পরে এল-সায়েদের পক্ষে দলকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

এল-সাইদের সমর্থকেরাও স্বীকার করেন, তার নির্বাচনী কৌশল মূলত নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করার ওপর নির্ভর করছে; প্রচলিত মধ্যপন্থী ভোটারদের কাছে পৌঁছানোই তার একমাত্র লক্ষ্য নয়। নির্বাচনের আগে তিন সপ্তাহ দীর্ঘ সময় রয়েছে। জরিপে সামান্য ব্যবধান যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে। মিশিগানে ১৯৯৪ সালের পর কোনো সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জয়ী হননি। ২০২৪ সালে রজার্স ডেমোক্র্যাট এলিসা স্লটকিনের কাছে এক শতাংশেরও কম ব্যবধানে হেরেছিলেন।

প্রতিপক্ষের নাম বারবার ভুলভাবে উচ্চারণ করে তাকে আক্রমণ করা কোনো প্রেসিডেন্টের শক্তিমত্তার পরিচয় নয়। বরং মিশিগানের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের উদ্বেগ এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি করছে এই ঘটনা।

আরও পড়ুন: বিরোধীদল ‘বেহেশতের লোভ দেখিয়ে’ দায়িত্বহীন আচরণ করছে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাহুলের সিইসি জ্ঞানেশকে ভোট চুরির ‘রাজসাক্ষী’ হওয়ার পরামর্শ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ পি.এম


রাহুলের সিইসি জ্ঞানেশকে ভোট চুরির ‘রাজসাক্ষী’ হওয়ার পরামর্শ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ভোট চুরির রাজসাক্ষী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস নেতা দাবি করেছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ২০০ কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই কর্মকর্তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা, গোয়েন্দা বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে বিস্তারিত তথ্য বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

সোমবার (১১ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছ থেকে নিয়মিত বার্তা পান। জ্ঞানেশ কুমারকে কী বার্তা দিয়েছেন- সে প্রসঙ্গে রাহুল বলেন, তাকে রাজসাক্ষী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, জ্ঞানেশ কুমার তার সংবাদ সম্মেলনও দেখছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাহুল বলেন, নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সামনে রেখে অন্যরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে নিজের যোগাযোগের বিষয়টি তুলে ধরে রাহুল বলেন, তদন্ত সংস্থা, গোয়েন্দা বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ২০০ কর্মকর্তা তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। তাদের কাছ থেকেই সরকারের ভেতরের নানা তথ্য জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে ওই কর্মকর্তাদের পরিচয় বা যোগাযোগের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি কংগ্রেস নেতা।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধের মধ্যে রাহুলের এ বক্তব্য সামনে এল। ভোট চুরির অভিযোগ তুলে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, এ আন্দোলন এখনই থামছে না। বিভিন্ন ধরনের চাপ ও বাধা এলেও বিরোধীরা আন্দোলনের পথ ছাড়বেন না বলে জানান তিনি। কংগ্রেসের সংবাদ সম্মেলনের পর বিরোধী জোটের নেতাদের দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। সেখান থেকে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল করার কর্মসূচিও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলনের পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টিও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।

রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর এখন কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রয়েছে। তাঁর অভিযোগের বিষয়ে সরকার বা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পক্ষ থেকে বক্তব্য এলে তা রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলের হুমকিতে অবস্থান বদলাবে না তুরস্ক, ফিলিস্তিনিদের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ পি.এম


ইসরাইলের হুমকিতে অবস্থান বদলাবে না তুরস্ক, ফিলিস্তিনিদের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন

ইসরাইল সরকারের উসকানি, হুমকি ও অপপ্রচার সত্ত্বেও তুরস্কের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না, এমনটি জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্টের যোগাযোগবিষয়ক অধিদপ্তরের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান।

তিনি রোববার তুরস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এনসোশ্যাল-এ একটি পোস্টে এ কথা বলেন। এই প্রতিক্রিয়া তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান এবং ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে এসেছে।

দুরান মন্তব্য করেন, কাৎজের ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য’ ইসরাইল সরকারের রাজনৈতিক হতাশার প্রতিফলন। তিনি বলেন, অক্টোবরের শেষের দিকে অনুষ্ঠেয় ইসরাইলের নির্বাচনের আগে এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গাজায় ইসরাইল সরকারের কর্মকাণ্ড এবং তাদের অব্যাহত আগ্রাসী নীতি আড়াল করতে তুরস্কের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা যাবে না। গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে তিনি গণহত্যামূলক যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেন।

শান্তি ও যুদ্ধবিরতি আলোচনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে কাৎজের প্রকাশ্য মৃত্যুর হুমকির প্রসঙ্গ টেনে দুরান বলেন, এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করার মানসিকতার প্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ আন্তর্জাতিক জনমতের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা। প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের নেতৃত্বে তুরস্ক ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকার, ন্যায়বিচার এবং স্থায়ী শান্তির পক্ষে অবস্থান অব্যাহত রাখবে।

দুরান পুনর্ব্যক্ত করেন, ইসরাইল সরকারের হুমকি, উসকানি ও অপপ্রচার তুরস্ককে ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান থেকে সরাতে পারবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেরোবির ১৮ বছর পূর্তিতে ১৮টি নিমগাছ রোপণ ছাত্রদলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি প্রতিনিধি

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


বেরোবির ১৮ বছর পূর্তিতে ১৮টি নিমগাছ রোপণ ছাত্রদলের

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের (বেরোবি) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ক্যাম্পাসে ১৮টি নিমগাছ রোপণ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মাসুদ রানা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মুখতার ইলাহী হলসংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখা এবং ক্যাম্পাসের সবুজ পরিবেশ সমৃদ্ধ করার ভাবনা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানান আয়োজক মাসুদ রানা। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হলসংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে নিমগাছের চারা রোপণ করেন।

এ বিষয়ে বেরোবি শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, ‘বেরোবির ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্মরণীয় করে রাখতে মুসলিম বিশ্বে জিয়া ট্রি খ্যাত নিমগাছ রোপণের কর্মসূচি পালন করেছি। বিগত চার বছর ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছি। কিছুদিন পর হয়তো শিক্ষাজীবন শেষ হবে, কিন্তু ক্যাম্পাসের স্মৃতিগুলো রয়ে যাবে। সেই স্মৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করতেই মূলত আজকের এই বৃক্ষরোপণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক বছর পর যখন আবার ক্যাম্পাসে আসব, তখন এই গাছগুলোর সামনে দাঁড়ালে মনে পড়ে যাবে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের দিনগুলোর কথা। আমাদের রোপণ করা গাছগুলো বড় হবে, আর এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে ক্যাম্পাসজীবনের অসংখ্য স্মৃতি।’

২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এ বছর প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পূর্ণ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকলায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


নকলায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন

“শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়” এই প্রতিপাদ্যকে ধারন করে শেরপুর নকলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে বর্নাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এউপলক্ষ্যে সোমবার উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এসব অনুষ্ঠিত হয়।

র‌্যালিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলম-এর নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ইউএনও মো. জাহাঙ্গীর আলম-এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা করা হয়।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানি, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হক (চাঁন মিয়া তালুকদার) ও পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক কামরুল আলম লিটন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, “বাল্যবিবাহ সামাজিক অবক্ষয়ের একটি নমুনা তথা আইনি বিবেচনায় দন্ডনীয় অপরাধ বটে। কন্যা সন্তানরা পরিবারের বোঝা নয়, বরং সঠিক দিকনির্দেশনা ও সার্বিক সুযোগ-সুবিধা পেলে তারা দেশের সম্পদ হয়ে উঠে। কন্যাশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের এগিয়ে নিতে বাল্যবিবাহ রোধ করা আবশ্যক। তাই বাল্যবিবাহ বন্ধের ক্ষেত্রে কেবল আইনের প্রয়োগ নয়, এটি প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। গ্রাম-গঞ্জে ব্যাপকভাবে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তবেই বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক অপরাধ গুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

র‌্যালি ও আলোচান সভার পরে দিবসটি উপলক্ষে কন্যাশিশুদের মধ্য আয়োজিত চিত্রাঅঙ্গন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে অতিথিবৃন্দ পুরষ্কার ও সনদপত্র তুলেদেন।

এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আনোয়ার হোসেন শামীম, উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কর্মকর্তা সাইমুন শাহানাজ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নকলা উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আমীর শরিফুল ইসলাম ও উপজেলা মহিলা বিএনপির আহবায়ক আসমা আক্তারসহ উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, পৌর এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%