মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:২০ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইউরোপ সেরার খেতাব থেকে বঞ্চিত রয়েছে ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা। তাই চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়কে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে পাঁচবারের শিরোপাধারীরা। ক্লাব প্রেসিডেন্ট হোয়ান লাপোর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ক্যাম্প ন্যুতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আসবে— এই প্রতিজ্ঞা ২০১৮ সালে বার্সেলোনা সমর্থকদের সামনে করেছিলেন লিওনেল মেসি। সেই প্রতিজ্ঞার পর কেটে গেছে ৮টি বছর। মেসি ২০২১ সালে বার্সেলোনা ছেড়েছেন এবং ২০২৩ সালে ইউরোপও ত্যাগ করেছেন। কিন্তু ন্যু ক্যাম্পে ইউরোপ সেরার মুকুট ফিরে আসেনি।
গত এক দশকে ক্লাব ফুটবলে স্পেনের শাসন করেছে বার্সেলোনা। এই সময়ের মধ্যে তারা পাঁচটি করে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপের পাশাপাশি, কোপা দেল রে চারবার জয়লাভ করেছে। তবে ইউরোপ সেরার দৌড়ে নামলেই তাদের ছন্দ হারিয়ে যায়। সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদ তারা পেয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর এক দশক পার হলেও সেই অপেক্ষার অবসান হয়নি। তবে বর্তমান দল নিয়ে ক্লাব প্রেসিডেন্ট বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি মন্তব্য করেছেন, হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে বার্সা তাদের ষষ্ঠ ইউসিএল শিরোপা জয় করবে।
তিনি বলেন, ‘যদি আমাকে বলা হয়, আমাদের প্রধান লক্ষ্য কোনটা, তাহলে আমি বলব, অবশ্যই চ্যাম্পিয়নস লিগ। আমরা এই বছরই শিরোপাটা জিততে চাই।’
ফ্লিকের অধীনে গড়া তরুণ প্রতিভা ও অভিজ্ঞতার মিশেলে তৈরি দলটির আক্রমণভাগে বড় ভরসা লামিন ইয়ামাল ও রাফিনিয়া। মাঝমাঠে রদ্রি, পেদ্রি ও গাভির মতো খেলোয়াড়রা দলকে আরও গতিশীল করেছে। রক্ষণভাগে কুন্দে, আলেহান্দ্রো বালদে ও পাও কুবার্সির মতো তরুণরা রয়েছেন। গোলপোস্টে হোয়ান গার্সিয়াও বড় ভরসার নাম। তাই শুধু চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নয়, মৌসুমের প্রতিটি শিরোপাতেই নজর রয়েছে ক্লাবটির।
লাপোর্তা বলেন, ‘আমাদের দারুণ একটা দল আছে, খুব ভালো খেলোয়াড় এবং অত্যন্ত দক্ষ কোচ রয়েছে। খেলোয়াড়রাও ভীষণ অনুপ্রাণিত। আমাদের লক্ষ্য সব শিরোপার জন্য লড়াই করা।’
গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে খেলে কাতালান ক্লাবটি। তবে ইন্টার মিলানের কাছে হেরে সেবারও তাদের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এবার সেই বাধা টপকানোর লক্ষ্য তাদের। এর আগে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে দলটিকে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পার্ক দে প্রিন্সেসে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির বিপক্ষে মাঠে নামবে ফ্লিকের শিষ্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুর অঞ্চলে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়া কোথাও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি, এমন তথ্য জানিয়ে এসআরবি-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নেয়ামুল হালিম খান বলেছেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমী উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর উত্তরায় মীর মুগ্ধ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নেয়ামুল হালিম খান আরো বলেন, বিজয়া দশমী উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জোরদার করতে মোটরসাইকেল ও পিকআপ ব্যবহার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে উৎসবের পরিবেশ বিঘ্নিত করার চেষ্টা প্রতিরোধ করতে এসআরবির সাইবার মনিটরিং টিম ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করছে।
সর্বসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহীতে আগমনের উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও স্বাগত মিছিল আয়োজন করেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে শুরু হয়ে এই শুভেচ্ছা মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
মিছিল চলাকালীন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছার স্বাগতম/রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে, লাল গোলাপ শুভেচ্ছা/রাবি শাখার পক্ষ থেকে, লাল গোলাপ শুভেচ্ছা/ছাত্রদলের পক্ষ থেকে, লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহীতে আগমন করবেন। তার এই আগমনকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানাই।"
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠুসহ বিভিন্ন হল ও অনুষদ শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাভার ও আশুলিয়ার সাধারণ মানুষ বিএনপি সরকারের ৮ মাস পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন না। তারা অভিযোগ করছেন, নির্বাচনের পূর্বে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
অবৈধ অটোরিকশার দাপট, ফুটপাত দখল করে হকারদের ব্যবসা, ভাঙাচোরা সড়ক, তীব্র যানজট এবং নাগরিক দুর্ভোগের নানা সমস্যায় প্রতিদিন তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও কর্মজীবী মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, কারণ সরকার পরিবর্তনের পর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশা এখনো পূর্ণ হয়নি।
সাভার বাসস্ট্যান্ড, বাজার বাসস্ট্যান্ড, হেমায়েতপুর, উলাইল, গেন্ডা, পাকিজা মোড় ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় যানজট একটি সাধারণ দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবৈধ অটোরিকশার চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং সড়কের বিভিন্ন অংশ দখল করে রাখার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পোশাকশ্রমিকদের দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে মাঝে মাঝে উদ্যোগ দেখা গেলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। কিছু সময় অটোরিকশা চলাচল বন্ধ থাকলে সড়কে স্বস্তি ফিরে আসে, কিন্তু কিছুদিন পর আবারও আগের পরিস্থিতি ফিরে আসে। এতে যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও ধারাবাহিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, "নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া স্থানীয় সংসদ সদস্য গ্রিন সাভার ক্লিন সাভার কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এই ৮ মাসে আমরা কিছুই পাইনি। বরং দিন দিন সাভারের পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে।"
গেন্ডা এলাকার বাসিন্দা লুৎফর রহমান বাদল বলেন, "প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অটোরিকশা যেখানে-সেখানে দাঁড়ায়, যাত্রীর জন্য রাস্তার মাঝখানে থেমে থাকে। যানজটের কারণে অল্প দূরত্ব যেতেও অনেক সময় লাগে। আমরা চাই, শুধু অভিযান নয়, স্থায়ীভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক।"
আশুলিয়ার মুদি দোকানদার আব্দুল হান্নান বলেন, "আমরা অনেক আশা নিয়ে বিএনপিকে ভোট দিয়ে বিজি করেছিলাম কিন্তু বর্তমান সাভার আসরের অবস্থা দেখে হতাশ হয়ে পড়েছি।"
ব্যাংক কলোনির বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, "আমরা বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাভার ও আশুলিয়ায় যে পরিবর্তনের আশা করেছিলাম তা কিছুই হয়নি বরং আগের মতই ফুটপাত দখল করে হকারদের ব্যবসা, বিভিন্ন এলাকায় জুট ব্যবসা নিয়ে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, অনিয়ন্ত্রিত যোগাযোগ ব্যবস্থা সবকিছুই আগের মত আছে।"
অন্যদিকে সড়কের পাশের ফুটপাত দখল করে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার কারণে হাঁটার জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সাভার বাজার ও আশপাশের ব্যস্ত এলাকায় অনেক পথচারীকে ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে দুর্ভোগ বেশি হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
সাভার বাজার এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, "ফুটপাত মানুষের হাঁটার জন্য। কিন্তু অধিকাংশ জায়গায় দোকানপাট ও পণ্যের দখলে থাকায় রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়। সরকার পরিবর্তনের পর ভেবেছিলাম, এসব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন পরিবর্তন চোখে পড়ছে না।"
এদিকে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন সড়কের ভাঙাচোরা অবস্থা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে এলাকাবাসীর। খানাখন্দ, পিচ উঠে যাওয়া এবং কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মোটরসাইকেল ও অটোরিকশাচালকদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সড়ক সংস্কারে ধীরগতি এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগীরা।
আশুলিয়ার এক পোশাক শ্রমিক লুৎফর নাহার বলেন, "সকালে কাজে যাওয়ার সময় যানজট, আবার ফেরার সময়ও একই অবস্থা। রাস্তা খারাপ থাকলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। আমাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগও কমে যায়। আমরা চাই, সরকার মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলোর দিকে নজর দিক।"
স্থানীয় নাগরিকদের মতে, সাভার ও আশুলিয়ার সমস্যা শুধু যানজট বা সড়ক সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিকল্পিত নগরায়ণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবার মান উন্নয়নেও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এ অঞ্চলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের চলাচল হয়। কিন্তু সেই তুলনায় সড়ক ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুবিধা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারের ৮ মাসের অগ্রগতি মূল্যায়নে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কী পরিবর্তন এসেছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। অবৈধ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত উদ্ধার, ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার এবং যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে সাভার ও আশুলিয়ার মানুষের প্রত্যাশা, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুফল যেন শুধু প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের চলাচল, নিরাপত্তা ও নাগরিক জীবনে প্রতিফলিত হয় এমনটাই চান তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ