০৯:০৭ এম
ভারতের তরুণরা মানসিক স্বাস্থ্য এবং নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে কথা বলার কারণে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার শিকার হন—এমন অভিযোগ জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক জিনা রোমেরো করেছেন, যা ভারত প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারত সরকারের দাবি, এ অভিযোগ বেনামি ও যাচাই না করা বক্তব্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটির ৮১তম অধিবেশনে ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি অনুজ স্বরূপ এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতা নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন।
অনুজ স্বরূপ বলেন, "ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, সংগঠন, কথা বলা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, মুক্ত গণমাধ্যম এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এসব অধিকার রক্ষায় কাজ করে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তার বক্তব্য প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানালো তুরস্ক
জিনা রোমেরোর প্রতিবেদনে ভারতের তরুণদের হয়রানির শিকার হওয়ার যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তার ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্বরূপ। তিনি বলেন, "প্রতিবেদনে কয়েকটি নাম-পরিচয়হীন বক্তব্যের উল্লেখ থাকলেও সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের প্রমাণ দেওয়া হয়নি।"
তিনি আরও বলেন, "বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তরুণের বসবাস ভারতে। সেই দেশের তরুণদের নিয়ে এত বড় অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।" স্বরূপ জানান, বেনামি ও যাচাই না করা বক্তব্যকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না এবং তার প্রতিনিধিদল এসব অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছে।
প্রতিবেদনে ভারতের তরুণদের নাগরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ নিয়ে করা মূল্যায়নেরও সমালোচনা করেন স্বরূপ। তিনি রাজনৈতিক আন্দোলনে তরুণদের অংশগ্রহণ এবং সরকারের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তাদের আলোচনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, "প্রতিবেদনে ভারতের তরুণদের একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।" এই আন্দোলনের তরুণেরা সরকারকে প্রশ্ন করেন, রাজধানীতে মিছিল করেন এবং পরে দেশের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। স্বরূপের প্রশ্ন, "এমন সুযোগ কোনো দমনমূলক রাষ্ট্রে পাওয়া সম্ভব কি না।"
আরও পড়ুন: মার্কিন সাংবাদিকের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি রাষ্ট্রদূত হাকাবির
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের একটি বক্তব্যও তুলে ধরেন তিনি। স্বরূপ বলেন, "গত মাসে মানবাধিকার পরিষদে হাইকমিশনার বলেছিলেন, ভারতে তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনের ক্ষেত্রে তরুণ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা বেশি কার্যকর।" তবে বিশেষ প্রতিবেদকের প্রতিবেদনে বিষয়টি যথাযথভাবে উঠে আসেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের উদাহরণও দেন স্বরূপ। তিনি বলেন, "এ বছরের গ্রীষ্মে পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনা করে।" কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পার্লামেন্টে সরকারি পরীক্ষা আইন সংশোধন করা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের শাস্তি দ্বিগুণ করা হয় এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনা হয়। এ ছাড়া পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য প্রতিটি রাজ্যে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা হয়।
স্বরূপের দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার তরুণদের অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে। তার মতে, এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কার্যকারিতার উদাহরণ। ভারতের উন্নয়নে তরুণদের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে স্বরূপ ‘বিকশিত ভারত ইয়াং লিডার্স ডায়ালগ’-এর উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ আয়োজনে ৫০ লাখের বেশি তরুণ অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে তারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার নির্ধারণে ভূমিকা রাখেন।
স্বরূপ বলেন, "তরুণেরাই ভারতের শক্তি ও ভবিষ্যৎ।" প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের অন্য মন্ত্রীরা সরাসরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে নিয়মিত তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকের প্রতিবেদন তৈরিতে আরো সতর্কতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান ভারতের এই কূটনীতিক। তিনি বলেন, "১৪০ কোটি মানুষের একটি দেশ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে বেনামি বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।" কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার আগে তা যাচাই করা এবং প্রতিবেদনে প্রমাণ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: লাতিন আমেরিকার দেশগুলো ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে
এর আগে বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জিনা রোমেরো বলেন, "পরদিন তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তার নতুন প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন।" তিনি আরও বলেন, "তরুণেরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও অনেক রাষ্ট্র তাদের দমন করে, সামাজিকভাবে হেয় করে এবং সমাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।"
জিনা রোমেরো কলম্বিয়ার একজন মানবাধিকারকর্মী। তিনি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতাবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন