ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ভ্যালেন্সিয়াকে উড়িয়ে রিয়াল বার্সেলোনার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে


ভ্যালেন্সিয়াকে উড়িয়ে রিয়াল বার্সেলোনার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে

টানা সাত ম্যাচে গোলের দেখা পেয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফরাসি এই তারকার জাদুকরী পারফরম্যান্সের সঙ্গে ফেদেরিকো ভালভের্দে ও আর্দা গুলেরের গোলে ভর করে প্রতিপক্ষের মাঠে ভ্যালেন্সিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়ে লা লিগার টেবিলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে লস ব্লাঙ্কোরা।

মেস্তায়া স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল জোসে মরিনহোর শিষ্যরা। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় এটি রিয়ালের টানা অষ্টম জয়।

প্রথমার্ধে ভালভের্দে ও আর্দা গুলেরের গোল রিয়ালকে চালকের আসনে বসিয়ে দেয়। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান আরো বাড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। দীর্ঘ চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ম্যাচেও দলের অন্যতম সেরা তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল রিয়াল। তবে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের অনুপস্থিতিতেও দারুণ ছন্দে রয়েছে দলটি, যার প্রমাণ মিলেছে গত ২৫ অক্টোবর ক্যাম্প ন্যুতে ক্লাসিকোয় বার্সেলোনাকে হারানোর ম্যাচসহ সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে।

আরও পড়ুন: মাইনজকে ২–১ গোলে হারিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখল বায়ার্ন

ম্যাচের শুরুতেই ফুটবল বিশ্ব এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হয়। গত মঙ্গলবার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো তেনেরিফে ফরোয়ার্ড হেসুস দে মিগেলের স্মরণে নবম মিনিটে খেলা থামিয়ে খেলোয়াড় ও সমর্থকরা শ্রদ্ধা জানান।

প্রথম দিকে ভ্যালেন্সিয়া দারুণ প্রতিরোধের চেষ্টা করে। রিয়ালের অরেলিয়ান চুয়ামেনির ভুল পাসে বল পেয়ে স্বাগতিকদের অ্যারন মায়োল শট নিলেও রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া দারুণ দক্ষতায় তা প্রতিহত করেন। এ ছাড়া গুইদো রানিগুয়েজের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মরিনহোর দল।

ভ্যালেন্সিয়ার প্রাথমিক চাপ সামলে দ্রুতই ম্যাচের লাগাম টেনে ধরে রিয়াল। এমবাপের ফ্রি-কিক ভ্যালেন্সিয়ার দেয়ালে বাধা পেয়ে বক্সের বাইরে এসে পড়লে সেখান থেকে দুর্দান্ত এক শটে রিয়ালকে এগিয়ে নেন উরুগুয়ের মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভের্দে। এর কিছুক্ষণ পর জুড বেলিংহামের বাড়ানো একটি ক্রস ডিফেন্ডারদের পায়ে লেগে সৌভাগ্যজনকভাবে পেয়ে যান আর্দা গুলের। নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই তুর্কি মিডফিল্ডার।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে রিয়াল। গুলের ও বেলিংহামের একের পর এক আক্রমণ রুখে দেন ভ্যালেন্সিয়া গোলরক্ষক স্টোল দিমিত্রিভস্কি। এমবাপ্পের করা একটি চমৎকার চিপ শট এবং পরবর্তীতে করা ওভারহেড কিকও দারুণভাবে রুখে দেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগে গুলেরের নিখুঁত ও বিপজ্জনক পাস থেকে বল পেয়ে দিমিত্রিভস্কিকে কাটিয়ে চমৎকার শটে বল জালে জড়ান এমবাপ্পে। চলতি লিগে এটি তার ১৩তম গোল।

আরও পড়ুন: মার্টিন ওডেগারের গোলে আর্সেনালের স্বস্তির ১-০ জয়

সব মিলিয়ে সব প্রতিযোগিতায় শেষ ১৬ ম্যাচে ১৭ গোল পূর্ণ করলেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। রিয়ালের জার্সিতে টানা সাত ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়লেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে এমবাপ্পেকে বিপজ্জনক ফাউল করার দায়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ভ্যালেন্সিয়ার অধিনায়ক হোসে গায়া। এরপর আর কোন গোল না হলে ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল।

মৌসুমের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রবিবার তিনে থাকা অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে খেলতে নামবে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান এককভাবে ধরে রাখাই এখন কাতালানদের মূল লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে টিকে থাকার লড়াই পাকিস্তান ও ভুটানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৮ এম


আজ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে টিকে থাকার লড়াই পাকিস্তান ও ভুটানের

আজ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় স্টেডিয়ামে বেলা সাড়ে তিনটায় পাকিস্তান-মালদ্বীপ এবং রাত আটটায় ভুটান ও শ্রীলংকা একে অপরের মুখোমুখি হবে। এই চার দলের মধ্যে পাকিস্তান ও ভুটান একটি করে ম্যাচ খেলেছে। প্রথম ম্যাচে উভয় দলই পরাজিত হয়েছে। পাকিস্তান ভারতের কাছে ৩-২ গোলে এবং ভুটান বাংলাদেশের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে। তাই গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে টিকে থাকার জন্য লড়াই করছে তারা। এই ম্যাচে জয়ী হলে পাকিস্তান ও ভুটান টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্বে যাওয়ার আশা ধরে রাখতে পারবে। অন্যদিকে, পরাজিত হলে তাদের সাফের মিশন আজই শেষ হয়ে যাবে। অপরদিকে, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ এখনও সাফে কোনো ম্যাচ খেলেনি। আজ তারা টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অংশগ্রহণ করবে। উভয় দলই জয় নিয়ে সাফের মিশন শুরু করতে চাইবে।

সাফের উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তান চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে এই ম্যাচে ভারতের দ্বিতীয় সারির দলের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সেরা ফুটবল খেলতে পারেনি। প্রথমার্ধেই তারা ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে। তাদের রক্ষণভাগ ছিল দুর্বল। গোল খাওয়ার পাশাপাশি পেনাল্টি মিসও পাকিস্তানের হতাশা বাড়িয়েছে। তবে ম্যাচের শেষদিকে পাকিস্তান দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে তারা দুই গোল করে স্কোরলাইন ৩-২ করে। শেষের দিকে যে ফুটবল তারা খেলেছে, সেটিই মালদ্বীপ ম্যাচে প্রত্যাশা বাড়িয়েছে পাকিস্তানের।

মালদ্বীপ প্রতিপক্ষ হিসেবে অতটা শক্তিশালী নয়। চলতি বছরে ফুটবলে তারা হতাশার মধ্যে কাটাচ্ছে। এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে তিমুর-লেস্তের বিরুদ্ধে ২-১ গোলের জয়ই তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। গত জুনে ডায়মন্ড জুবেলি টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে মালদ্বীপ। সর্বশেষ তিনটি প্রীতি ম্যাচে তারা ১৪ গোল খেয়েছে। এই দলের বিরুদ্ধে জয় আশা করছে পাকিস্তান। অন্যদিকে, বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়ে ঠাসা শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ভুটানকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হতে পারে। তবে জয়ের অভিন্ন লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে ভুটান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ বিরোধী দলের হাতে, বিজেপি আত্মরক্ষায় ব্যস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ এম


ভারতের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ বিরোধী দলের হাতে, বিজেপি আত্মরক্ষায় ব্যস্ত

দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে নরেন্দ্র মোদিকে অপরাজিত মনে করা হতো। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিরোধীদের আক্রমণের বিরুদ্ধে নিরাপদ মনে হতো। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন নিয়ে বিতর্ক উঠেছে, কিন্তু রাফাল চুক্তির দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘমেয়াদে বিজেপির ক্ষতি করতে পারেনি। বিরোধীদের দাবিগুলো পরপর ভেস্তে যাচ্ছিল। তবে পরিস্থিতি হঠাৎ পরিবর্তিত হতে শুরু করেছে। ক্ষমতায় ১২ বছর উদ্‌যাপনের কয়েক মাসের মধ্যেই বিজেপি এখন আত্মরক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বিরোধী দলের আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকার করবে, এমনটা খুব কম মানুষই ভাবতে পেরেছিল। কিন্তু গত জুনে ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

সেই আন্দোলন ছিল কেবল শুরু। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এর মতো দলগুলো সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়। তাদের অভিযোগ ছিল, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিরোধী ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

বিরোধী দলগুলো এই সুযোগটি হাতছাড়া করেনি। তারা এসআইআর বাতিল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছে। পরিবর্তনের এই হাওয়া সামলাতে বিজেপি এখন হিমশিম খাচ্ছে। তাদের সামনে এমন এক আন্দোলন দাঁড়িয়েছে, যার কোনো একক নেতা নেই, আক্রমণ করার মতো সুনির্দিষ্ট কোনো সংগঠনও নেই। পুরোনো কৌশলগুলো কাজ করছে না। পরিস্থিতি দেখে আন্না হাজারের আন্দোলনের কথা মনে পড়ে যায়। মনে হচ্ছে বড় কোনো সংকটে রূপ নিতে যাচ্ছে সবকিছু।

কেন্দ্রবিহীন এক আন্দোলন

তরুণ আন্দোলনকারীরা যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন, তা নতুন নয়। কংগ্রেসও কয়েক মাস ধরে এসআইআরের বিরোধিতা করে আসছে। তবে এবারের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি অনেক বেশি। আন্দোলনের মাঠে ছাত্র, কৃষক, বুদ্ধিজীবী এবং সিজেপির নেতাকর্মীরা একসঙ্গে দাঁড়িয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিরজা চৌধুরী একটি বিষয়ে নির্দেশ করেছেন। তার মতে, কোনো কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা না থাকা সত্ত্বেও নানামুখী দলের অংশগ্রহণে এই আন্দোলন আরো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। একেক শহরে একেক পতাকার নিচে প্রতিবাদ ফেটে পড়ছে। সিজেপি নেতারা গ্রেপ্তার হলে অন্য দলগুলো মাঠ দখলে নিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, মুম্বাইয়ের কথা। ২ অক্টোবরের সিজেপির কর্মসূচির পর মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা এক বিশাল সমাবেশের আয়োজন করে। এভাবে আন্দোলন বারবার রূপ বদলাচ্ছে। ১২ অক্টোবর রাহুল গান্ধী এই পুরো বিষয়টিকে সবার জন্য এক উন্মুক্ত আহ্বান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চৌধুরী আরো যোগ করেন, বড় সাফল্য পেতে হলে কংগ্রেসকে ছোট ছোট দলগুলোর সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে।

মতাদর্শগত পার্থক্য কিন্তু এই আন্দোলনকে দুর্বল করতে পারেনি। সিজেপির মূল লক্ষ্য জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। অন্যদিকে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ কষছে। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সংসদ সদস্য রাজীব রাই বলেন, ভেতরের ছোটখাটো মতভেদের চেয়ে আমাদের যৌথ লক্ষ্যটাই এখন বড়।

এসআইআর-সংক্রান্ত সমস্যাটি সবাইকে এক ছাতার নিচে এনে দাঁড় করিয়েছে। রাষ্ট্রীয় জনতা দলের সংসদ সদস্য মনোজ ঝা স্পষ্ট করে বলেন, প্রশাসনিক জালিয়াতির বিরুদ্ধে এখন সব দল এক কণ্ঠে কথা বলছে।

বিজেপির দ্বিধাদ্বন্দ্ব

বিজেপি তাদের চিরচেনা কৌশলে পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তারা বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোটব্যাংকের রাজনীতি এবং মেরূকরণের অভিযোগ তুলেছে। কিন্তু এই অভিযোগগুলো জনগণের মনে তেমন দাগ কাটতে পারেনি। দলটির এখন ভয় হচ্ছে, বেশি পুলিশি পদক্ষেপ নিলে সরকারকে স্বৈরাচারী মনে হবে। এতে জনগণের রাগ আরো বাড়তে পারে।

কঠোর হাতে আন্দোলন দমনের চেষ্টা উল্টো প্রভাব ফেলেছে। মুম্বাইয়ে গান্ধী জয়ন্তীর আন্দোলন শান্তভাবে সামলানো হয়েছিল, তাই পরিস্থিতি বাড়েনি। কিন্তু দিল্লিতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে এবং ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের আটকানোর চেষ্টা করে। পুলিশ প্রহার করছে এবং আন্দোলনকারীদের টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে—এমন দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আন্দোলনের দিকেই চলে গেছে।

সরকার ঘনঘন প্রেস ব্রিফিং করছে। কিন্তু অনবরত জবাব দিতে গিয়ে তারা বিষয়টি গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে রেখে দিচ্ছে। তাছাড়া দলের শীর্ষ নেতারাও গোপনে স্বীকার করছেন, জনগণের এই ক্ষোভের পেছনে রয়েছে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও বেকারত্ব।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জিল ভার্নিয়ার্স একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তার মতে, সরকারের প্রতিক্রিয়া কেমন হচ্ছে, তার ওপরই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। কঠোর দমনপীড়নের মাধ্যমে সরকার মূলত আন্দোলনকারীদের অভিযোগগুলোকেই সত্যি বলে প্রমাণ করে দিচ্ছে।

আটক এবং আইনি জটিলতা সরকারের ওপর চাপ আরো বাড়িয়েছে। ১১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের অবৈধভাবে আটক করা বন্ধ করতে হবে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি রামাসুব্রামানিয়ানের বেঞ্চ জানান, জনগণের চলাচলে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে চলতে হবে। আদালত আগের নির্দেশনা অমান্য করার কারণে অবমাননার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

১২ অক্টোবর কর্তৃপক্ষ যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর জবাবে দলগুলো বারখাম্বা রোডে প্রতিবাদ সরিয়ে নেয়। এক জায়গায় বাধা দিয়ে আন্দোলন থামানো গেল না। এটি প্রমাণ করে পরিস্থিতি অনুযায়ী রূপ বদলাতে এই আন্দোলন কতটা পারদর্শী।

নেতৃত্বে কংগ্রেস

বিজেপির দ্বিধাদ্বন্দ্বের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী ছোট দলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় না গিয়ে সহযোগিতার পথ বেছে নেন। তিনি সিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের এই লড়াইকে একটি যৌথ লড়াই হিসেবে অভিহিত করেন। বিভিন্ন খবরে জানা যায়, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে রাহুল গান্ধীর বাড়িতে একটি বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, বারখাম্বা রোডের সমাবেশের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় জ্যেষ্ঠ বিরোধী নেতাদের সঙ্গে ছাত্রনেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের পদক্ষেপগুলো বিরোধীদের হাতে নতুন রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিয়েছে। গত জুলাইয়ের প্রতিবাদের পর রাহুল গান্ধী ছাত্রদের ওপর পুলিশের সহিংসতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। পেলেট গানের আঘাত পাওয়া ভুক্তভোগীদের তিনি গণমাধ্যমের সামনে নিয়ে আসেন। নিজে ধর্নায় বসে প্রশ্ন তোলেন, পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশ কে দিয়েছে? এর ফলে একটি প্রাতিষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়, যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পর্যন্ত পৌঁছায়। সাম্প্রতিক লাঠিচার্জের ঘটনার পর একই কৌশল গ্রহণ করেন তিনি।

এই কৌশলের কারণে আন্দোলন দিন দিন বড় হচ্ছে। বারখাম্বা রোডের সমাবেশে আসা ছাত্ররা জানান, বড় কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কারণে তারা নিরাপদে প্রতিবাদ জানাতে পারছেন। তবে আন্দোলনকারীদের মূল লক্ষ্য কিন্তু একটাই—জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ।

রাহুল গান্ধী আড়ালে থেকে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলোকে একত্র করার কাজ করছেন। আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী করতে চায় কংগ্রেস।

ভার্নিয়ার্সের মতে, রাহুল গান্ধী নিজেকে বিরোধী জোটের প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্য নেতারাও তার সঙ্গে সুর মেলাচ্ছেন। শোনা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জিও জোটে রাহুলের নেতৃত্ব মেনে নিতে সম্মতি প্রকাশ করেছেন।

আগামীর পথ

কয়েক বছরের ব্যর্থ চেষ্টার পর বিরোধী দলগুলো এখন বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। প্রথাগত রাজনীতির বাইরের ঘটনাগুলো তাদের কর্মী-সমর্থকদের চাঙা করে তুলেছে।

তবে শুধু ভোটার তালিকার বিষয়টি নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। চৌধুরী মনে করিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের এই সমর্থনকে বাস্তবে ভোটে রূপান্তর করতে হবে। তাই যেসব ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তা পুনর্বহাল করা অত্যন্ত জরুরি। ভার্নিয়ার্স জোর দিয়ে বলেন, ভোটার তালিকা থেকে অন্যায়ভাবে বাদ পড়া মানুষদের ফিরিয়ে আনতে পারলে বিরোধী দলগুলো বড় ধরনের জনসমর্থন পাবে।

সমাজবাদী পার্টি নেতা রাজীব রাই মনে করেন, এই আন্দোলনকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ অনেক ভোটার এসআইআরের মতো জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ঠিকমতো বোঝেন না। বিরোধীদের কাজ হবে এই বিষয়গুলোকে সরাসরি বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং স্থবির উন্নয়নের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া।

বর্তমানে এই আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট কোনো সাংগঠনিক কাঠামো নেই, এমনকি প্রাথমিক দাবির বাইরে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনাবৃত্তও নেই। এর চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করবে এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রামের সঙ্গে কতটা মিশে যেতে পারছে, তার ওপর। বিরোধী দলগুলোর সামনে এখন সুযোগ এসেছে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার।

আউটলুক ইন্ডিয়া থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর জুলফিকার হায়দার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় আজ বিভিন্ন কর্মসূচি, আলোচনা সভা ও বিচারিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০০ এম


ঢাকায় আজ বিভিন্ন কর্মসূচি, আলোচনা সভা ও বিচারিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে

ঢাকায় প্রতিদিন বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের কোনো না কোনো কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। তাই সকালে বের হওয়ার আগে কোথায় কোন কর্মসূচি রয়েছে, তা জেনে নেওয়া ভালো।

রোববার (৮ নভেম্বর) দিনের শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু কর্মসূচির তালিকা নিম্নরূপ:

বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে হোটেল হলিডে ইন, ঢাকা সিটি সেন্টারে ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত এবং ইউএনডিপির সহযোগিতায় অনুষ্ঠিতব্য এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা শেষে খাদ্যমন্ত্রীর ব্রিফিং

খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভা শেষে আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।

রিহ্যাবের সংবাদ সম্মেলন

দুপুর ১২টায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘শেয়ারের নামে অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধের দাবি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। এই সংবাদ সম্মেলনে আবাসন খাতের সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হবে।

আইডিইবির প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী ও গণপ্রকৌশল দিবস

বেলা ১১টায় রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) ৫৬তম প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী ও গণপ্রকৌশল দিবসের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

আন্তর্জাতিক কেয়ারারস দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডে সুইড কনভেনশন সেন্টারে আন্তর্জাতিক কেয়ারারস দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিন্নমতের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহিংসতা: সরকারের দায়িত্বের প্রতিফলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০১ এম


ভিন্নমতের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহিংসতা: সরকারের দায়িত্বের প্রতিফলন

একটি সরকারের গণতন্ত্রের প্রতি কতটা অঙ্গীকারবদ্ধতা রয়েছে, তা বিরোধী মতের মানুষের প্রতি তার আচরণে প্রতিফলিত হয়। বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, ছাত্রসংগঠক কিংবা সাধারণ নাগরিক—প্রত্যেকেরই ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করার অধিকার থাকতে হবে, যাতে তারা শারীরিক আক্রমণ, ভয়ভীতি ও প্রতিহিংসার আশঙ্কা থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। সমালোচনা করলেই যদি হামলার শিকার হতে হয়, তাহলে মানুষের স্বাধীনতা কার্যত রাজনৈতিক আনুগত্যের শর্তে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পরও একই আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটলে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রত্যাশা দুর্বল হয়ে যায়।

সম্প্রতি আমার দেশ-এর ছাপাখানার সামনে বোমা হামলার ঘটনা এই উদ্বেগকে আরো গভীর করেছে। একটি সংবাদপত্রের ছাপাখানার সামনে এমন হামলা মানুষের জীবন ও সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। সরকারের একজন উপদেষ্টাকে সম্প্রতি দেখা গেছে, তিনি আমার দেশ পত্রিকার একটি কপি ছিঁড়ে ফেলছেন এবং তা ভিডিওর মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করছেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক! ধারণা করা হচ্ছে, কোনো মহল থেকে পরিকল্পিতভাবে এই আঘাতের চেষ্টা করা হচ্ছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং দেশের বিভিন্ন মহল থেকে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। বিষয়টি কোনো একটি পত্রিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সহিংসতার মাধ্যমে একটি সংবাদপত্রের প্রকাশনা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা সম্ভব হলে সম্পাদক, সাংবাদিক, মুদ্রণকর্মী ও সংবাদপত্র পরিবেশক—সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন। কোনো পত্রিকার সম্পাদকীয় অবস্থান কিংবা সরকারের সঙ্গে তার সম্পর্ক যা-ই হোক, সেটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

একইভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলা, হয়রানি ও বিদ্বেষমূলক প্রচারের অভিযোগগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। প্রতিটি অভিযোগ যাচাই এবং প্রতিটি ঘটনায় ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণ জরুরি। প্রমাণ ছাড়া কোনো হামলার দায় সরকার বা কোনো রাজনৈতিক দলের ওপর চাপানো সমীচীন নয়। তবে সহিংসতা প্রতিরোধ, অভিযোগের তদন্ত এবং হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। অপরাধীরা সরকারবিরোধী কোনো গোষ্ঠীর সদস্য হলেও এই দায়িত্বের পরিবর্তন হয় না।

বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা এ দায়িত্বকে আরো গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্তে চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত নিপীড়নের প্রমাণ উঠে আসে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাবেক সরকার, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহিংস গোষ্ঠীর ভূমিকা সম্পর্কেও গুরুতর তথ্য তুলে ধরা হয়। রাজনৈতিক ক্ষমতা ও বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কার্যকর জবাবদিহিতার বাইরে চলে গেলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই অনুসন্ধান তার সাক্ষ্য বহন করে।

জুলাইয়ের আত্মত্যাগ রাষ্ট্রের ওপর একটি স্থায়ী নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব অর্পণ করেছে। নিপীড়নের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়িয়েছিলেন, তারা বর্তমান সরকারের সমালোচনা করলেও নিরাপদে কথা বলতে, সংগঠিত হতে এবং জনজীবনে অংশ নিতে পারবেন—এ নিশ্চয়তা দিতে হবে। আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শিক্ষাসহায়তা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বচ্ছ আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা থাকা উচিত। তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন। সরকারি সহায়তা বা নিরাপত্তা পাওয়ার শর্ত হিসেবে কোনো দল বা সরকারের প্রতি আনুগত্য দাবি করা গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে জুলাইয়ের অংশগ্রহণকারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়েই আইনের দৃষ্টিতে সমতার নীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ পরবর্তী কোনো অপরাধের দায়মুক্তি দিতে পারে না; আবার তাদের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত কোনো হামলার বৈধতা সৃষ্টি করে না। সবার অধিকার রক্ষা, নির্দিষ্ট অপরাধের তদন্ত এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ ও ন্যায়সংগত বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায় নির্ধারণ—এই নীতিই সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া প্রয়োজন।

ভিন্নমতের ওপর সহিংসতা শুধু সরাসরি আক্রান্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না; এর প্রভাব পড়ে গোটা সমাজের আস্থার ওপর। একজন আক্রান্ত নাগরিক যদি থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন, অথবা প্রভাবশালী কোনো সন্দেহভাজনকে তদন্তের ঊর্ধ্বে থাকতে দেখেন, তাহলে আইনগত প্রতিকারের ওপর তার বিশ্বাস কমে যায়। কেউ ভয়ে নীরব হয়ে যান, কেউ রাজনৈতিক আশ্রয় খোঁজেন। উভয় পরিস্থিতিই নাগরিক অধিকার দুর্বল করে এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও দলীয় পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভরতা বাড়ায়। তদন্তের আগেই কোনো ঘটনাকে ‘ব্যক্তিগত বিরোধ’, ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ কিংবা ‘ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিলে অবিশ্বাস আরো বাড়ে। তদন্তে এসবের কোনোটি প্রাসঙ্গিক হিসেবে উঠে আসতে পারে; কিন্তু তার জন্য প্রমাণ প্রয়োজন। আগাম রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ভুক্তভোগীদের মনে এই ধারণা সৃষ্টি করতে পারে যে, ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত।

সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রথমেই স্পষ্ট ঘোষণা আসা দরকার—শান্তিপূর্ণ সমালোচনা, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতাদেরও তাদের অনুসারীদের কাছে একই নির্দেশনা পৌঁছে দিতে হবে। প্রভাবশালী ব্যক্তির হুমকিমূলক বক্তব্যের জন্য সাংগঠনিক জবাবদিহিতা থাকা প্রয়োজন। রাজনৈতিক যোগাযোগসম্পন্ন অপরাধীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি নিন্দা ও আশ্বাস বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।

আমার দেশ-এর ছাপাখানার সামনে হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকা উচিত সিসিটিভির রেকর্ড সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা, আহতদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা। যারা সরাসরি হামলা চালিয়েছে, তাদের বাইরে পরিকল্পনা, অর্থায়ন বা সহযোগিতার কোনো প্রমাণ আছে কি না, তাও অনুসন্ধান করতে হবে। সাক্ষীদের নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থ রক্ষা করে কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তথ্যভিত্তিক অগ্রগতি জানানো প্রয়োজন। দ্রুত গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি যেন সঠিক অপরাধী শনাক্ত করার দায়িত্বকে আড়াল না করে।

বিরোধী রাজনৈতিক সমাবেশ, ছাত্রসংগঠক কিংবা অন্য সমালোচকদের ওপর হামলার ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হতে হবে। প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাবমুক্ত তদারকির ব্যবস্থা প্রয়োজন। পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছে কিংবা তদন্তে বাধা দিয়েছে—এমন অভিযোগও পরীক্ষা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায়িত্ব ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই দায় নির্ধারণ করতে হবে।

জনআস্থা পুনরুদ্ধারে পুলিশের পেশাগত নিরপেক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক যোগাযোগসম্পন্ন সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গিয়ে কোনো কর্মকর্তা যেন শাস্তিমূলক বদলি, পদোন্নতি আটকে যাওয়া কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির আশঙ্কায় না ভোগেন। নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতিতে দক্ষতা, সততা এবং জনসেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি পেশাগত স্বাধীনতার সঙ্গে কার্যকর তদারকিও থাকতে হবে। দুর্নীতি, প্রমাণ সাজানো, বেআইনি বলপ্রয়োগ ও দায়িত্বে অবহেলার জন্য বাস্তব জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সহজ এবং তার অগ্রগতি অনুসরণযোগ্য হতে হবে। হুমকির অভিযোগকারীকে অভিযোগ গ্রহণের স্বীকৃতি, একটি শনাক্তকরণ নম্বর এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে তথ্য দিতে হবে। থানা ব্যবস্থা না নিলে কোথায় অভিযোগ করা যাবে, তার সুস্পষ্ট পথ থাকা প্রয়োজন। তাৎক্ষণিক ও বিশ্বাসযোগ্য হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে দ্রুত ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। নাগরিক যে পর্যায়ে সরাসরি রাষ্ট্রের মুখোমুখি হন, সেখানেই রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতা দৃশ্যমান হওয়া দরকার।

সাক্ষী সুরক্ষা ও ভুক্তভোগীদের সহায়তাও বিশেষ গুরুত্ব দাবি করে। প্রতিশোধের ভয়, বারবার হাজিরার কারণে আয়হানি কিংবা মামলা প্রত্যাহারের চাপ অনেক তদন্ত ও বিচারকে দুর্বল করে দেয়। সংবেদনশীল তথ্যের গোপনীয়তা, আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা এবং ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী নিরাপত্তা সাক্ষীদের অংশগ্রহণ সহজ করতে পারে। সহায়তা শুধু পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; আহত শ্রমিক, নিরাপত্তাকর্মী, দোকানি ও পথচারীর কাছেও তা পৌঁছাতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের সাংগঠনিক আচরণের দায় নিতে হবে। হামলা, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি এবং তদন্তে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কার্যকর নির্দেশনা প্রয়োজন। গুরুতর অসদাচরণের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে ন্যায়সংগত অনুসন্ধান চলাকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা যেতে পারে। দলীয় শাস্তি এবং ফৌজদারি বিচার ভিন্ন উদ্দেশ্য পূরণ করে; একটিকে অন্যটির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব যেন সংবাদপত্র, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিংবা রাজনৈতিক সভাকে হুমকি দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি না করে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সমালোচনা ও ভয়ভীতির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট রাখা প্রয়োজন। জনপরিচিত ব্যক্তিরা অভিযোগের জবাব দিতে পারেন, ভুল সংবাদ চ্যালেঞ্জ করতে পারেন, সংশোধন চাইতে পারেন এবং উপযুক্ত আইনগত প্রতিকার গ্রহণ করতে পারেন। নাগরিকেরও জুলাইয়ের নেতা, বিরোধী রাজনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তার সমালোচনার অধিকার আছে। অন্যদিকে শারীরিক ক্ষতির হুমকি, অনুসরণ করে হয়রানি, আক্রমণের উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ এবং সহিংসতায় উসকানি মানুষের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে। এই পার্থক্য অনুসরণ করেই কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

নিরাপত্তাহীনতার জবাবে নির্বিচার গ্রেপ্তার, ঢালাও অভিযোগ কিংবা শান্তিপূর্ণ বক্তব্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা থেকে সরকারকে বিরত থাকতে হবে। এতে নিরপরাধ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, মামলা দুর্বল হতে পারে এবং পুরোনো নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। কার্যকর জননিরাপত্তা নির্ভর করে সঠিক গোয়েন্দা তথ্য, দক্ষ তদন্ত, আইনসম্মত ও পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পুলিশি ব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচারের ওপর। মানুষ কতটা নিরাপদ হচ্ছে এবং তদন্ত আদালতের পরীক্ষায় কতটা টিকছে—এসব দিয়েই সাফল্য বিচার করা উচিত।

সুশাসনের জন্য এমন প্রতিষ্ঠানও প্রয়োজন, যার মাধ্যমে সমালোচনা সংশোধনের সুযোগ তৈরি করে। জননিরাপত্তায় গুরুতর ব্যর্থতা নিয়ে সংসদীয় কমিটিগুলোর অনুসন্ধান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা চাওয়া উচিত। বিরোধী প্রতিনিধিদের সরকারি নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কার্যকর সুযোগ থাকতে হবে। স্বাধীন তদারকি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় জনবল, অর্থ এবং অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী সংগঠন ও সাংবাদিকেরা যেন কোনো ব্যর্থতা তুলে ধরার কারণে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত না হন।

বাস্তব পদক্ষেপ এখনই শুরু করা সম্ভব। প্রথম এক মাসে সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী ও হুমকির মুখে থাকা সমালোচকদের ওপর অনিষ্পন্ন হামলার অভিযোগ পর্যালোচনা, জরুরি নিরাপত্তার প্রয়োজন চিহ্নিত করা এবং প্রতিটি মামলার অগ্রগতি অনুসরণের দায়িত্ব নির্ধারণ করা যেতে পারে। পরবর্তী তিন মাসে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য প্রদান, অভিযোগ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং সংবাদমাধ্যম ও ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়ে পরামর্শের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। দীর্ঘ মেয়াদে পুলিশের ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনার সক্ষমতা, বিচারিক বিলম্ব এবং স্বাধীন তদারকির সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা করতে হবে।

এসব অঙ্গীকারের ফল পরিমাপযোগ্য হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ গ্রহণে কত সময় লাগছে, কতটি ঘটনায় কার্যকর তদন্ত হচ্ছে, ভুক্তভোগীরা কী সহায়তা পাচ্ছেন এবং বিচারপ্রক্রিয়ার ফল কী—এসব প্রাসঙ্গিক সূচক। শুধু গ্রেপ্তারের সংখ্যা দিয়ে ন্যায়বিচারের মান বোঝা যায় না। প্রকাশিত তথ্যেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ বিবেচনার নীতি রক্ষা করতে হবে।

সরকারের সামনে রাজনৈতিক আচরণের উন্নত মান প্রতিষ্ঠার সুযোগ রয়েছে। সমালোচনার জবাব যুক্তি দিয়ে দেওয়া হবে, অভিযোগের পর তদন্ত হবে এবং রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে দায়মুক্তি দেবে না—এটি কাজের মাধ্যমে দেখাতে হবে। সমর্থক, বিরোধী এবং কোনো রাজনৈতিক শিবিরে যুক্ত নন এমন নাগরিক—সবার জন্য একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া প্রয়োজন।

জুলাইয়ের আত্মত্যাগের স্থায়ী মর্যাদা তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত হবে, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে কথা বলবেন এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই ন্যায়বিচার চাইতে পারবেন। একজন হুমকির মুখে থাকা সংগঠক, আহত দোকানি, সংবাদপত্রকর্মী কিংবা বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একই রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ। রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতেও সেই দায়িত্ব ধারাবাহিকভাবে পালন করার মধ্য দিয়েই সরকার মানুষের স্থায়ী আস্থা অর্জন করতে পারে।

[email protected]

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%