০৯:৩৯ এম
ফুটবল ম্যাচ চলাকালে প্রায়ই দেখা যায়, খেলোয়াড়রা যখন বোতল থেকে এক চুমুক পানি বা স্পোর্টস ড্রিংক মুখে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড কুলি করেন, তখন তা গিলে না ফেলে মাঠেই ফেলে দেন। যদিও অনেকেই বিষয়টিকে পানি অপচয় মনে করেন, কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে ক্রীড়াবিজ্ঞানে স্বীকৃত একটি বিশেষ কৌশল।
এই কৌশলের নাম 'কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স'। এর মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় কয়েক সেকেন্ড মুখে রেখে পরে তা ফেলে দেওয়া হয়। এটি শুধুমাত্র ফুটবলারদের জন্য নয়, বরং সাইক্লিস্ট, ম্যারাথন দৌড়বিদ এবং দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রার পরিশ্রম করা অন্যান্য অনেক ক্রীড়াবিদের জন্যও কার্যকর।
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মুখের ভেতরে কিছু বিশেষ রিসেপ্টর রয়েছে, যা কার্বোহাইড্রেটের উপস্থিতি শনাক্ত করতে সক্ষম। যখন মুখে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় রাখা হয়, তখন সেই সংকেত দ্রুত মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। এর ফলে মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে এমন ধারণা করে যে শরীরে নতুন শক্তির জোগান আসছে।
আরও পড়ুন: গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ১,৮১০ মামলা
ফলে খেলোয়াড়ের মনোযোগ, সতর্কতা ও কর্মক্ষমতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যদিও পানীয়টি শরীরে প্রবেশ করে না।
এদিকে, ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড়দের বিরতির সময় খুবই সীমিত থাকে। এই সময়ে বেশি পানি বা স্পোর্টস ড্রিংক পান করলে পেট ভারী লাগতে পারে এবং দৌড়ানোর সময় অস্বস্তি সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে পানীয় গিলে ফেললে তা হজম হয়ে শরীরে কাজ করতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু মুখে কয়েক সেকেন্ড কুলি করলেই মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় সংকেত দ্রুত পৌঁছে যায়, যা অধিকাংশ খেলোয়াড়কে এই কৌশলটি অধিক কার্যকর বলে মনে হতে সহায়ক হয়।
যদিও এই কৌশল বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে এটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সে সময় ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন এবং পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ বেশ কয়েকজন ফুটবলারকে ম্যাচ চলাকালে এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি একেবারেই নয় যে, কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সক্ষম। ঘামের মাধ্যমে হারানো পানি এবং ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করতে নিয়মিত পানি বা ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় পান করতেই হয়।
আরও পড়ুন: ১৭ কোটি টাকার বিল অনুমোদন, টেন্ডার ব্যবস্থাপনা ও সম্পদের উৎস নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে মাহবুবুল হক চৌধুরীর
সাধারণত ম্যাচ শুরুর আগে, বিরতির সময়, ম্যাচ শেষে এবং গরম আবহাওয়ায় নির্ধারিত হাইড্রেশন ব্রেকের সময় ফুটবলাররা পর্যাপ্ত পানি পান করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলটি মূলত দীর্ঘ সময়ের উচ্চমাত্রার ব্যায়াম বা প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার জন্য কার্যকর। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজ বা হালকা ব্যায়ামে এর তেমন প্রয়োজন নেই।
অতএব, মাঠে ফুটবলারদের মুখে পানি কিংবা স্পোর্টস ড্রিংক নিয়ে কুলি করে ফেলে দিতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটি পানি অপচয় নয়; বরং পারফরম্যান্স বাড়াতে ব্যবহৃত ক্রীড়াবিজ্ঞানে স্বীকৃত একটি কার্যকর কৌশল।
সূত্র: সেইস ডটকম
আরও পড়ুন: মজলুম থেকে জালিম হলে আবার গণমাধ্যমের কাছে বলবেনÑ বাঁচান: মাসুদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন