ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের নতুন নিয়ম, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ম্যানুয়াল ব্যবহার করা যাবে


মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের নতুন নিয়ম, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ম্যানুয়াল ব্যবহার করা যাবে

সরকার মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের নিয়মে পরিবর্তন এনেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এখন থেকে মোটরসাইকেলের নকশার ভিত্তিতে সামনের অংশে একাধিক মাপের নম্বরপ্লেট ব্যবহারের পাশাপাশি এক লাইনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখার অনুমতি দিতে পারবে। এ জন্য সড়ক পরিবহন বিধিমালা সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট লাগানো ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিগত জটিলতা দূর করার উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালায় নম্বরপ্লেটের নকশা, আকার, অক্ষরের উচ্চতা এবং নম্বর লেখার বিন্যাসে পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে মোটরসাইকেলের কাঠামো ও নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের নম্বরপ্লেট স্থাপন করা সহজ হবে।

রোববার প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর ৩৬ বিধি সংশোধন করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের সামনের অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি একটি আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শনের অনুমতি দিতে পারবে বিআরটিএ।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা শ্রমিক নয়: ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান

এছাড়া, মোটরসাইকেলের নকশা বিবেচনায় সামনের রেজিস্ট্রেশন চিহ্ন বিভিন্ন দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের বিপরীতমুখী রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেটে প্রদর্শনের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতাও থাকবে সংস্থাটির। সংশোধিত বিধিমালায় নম্বরপ্লেটের অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নাম নির্দেশক অক্ষরের মাপ, যানবাহনের শ্রেণি বোঝাতে ব্যবহৃত অক্ষরের উচ্চতা এবং প্লেটের বিভিন্ন অংশের ফাঁকা জায়গার পরিমাণ নির্ধারণের দায়িত্বও বিআরটিএকে দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে, দুটি সংখ্যার মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং দ্বিতীয় লাইনে নম্বর লেখার ক্ষেত্রে সংখ্যাগুলোর মাঝখানে ব্যবহৃত হাইফেনের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করতে পারবে সংস্থাটি। এক লাইনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশক অক্ষরের পর নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহারের বিধানও রাখা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন বিধিমালার ৩৬ বিধির উপবিধি (১০) থেকে ‘মোটরসাইকেল এবং’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

গত ২৮ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখা থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে স্বাক্ষর করেন উপসচিব আল-আমীন মো. নুরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: পাসপোর্ট সেবা প্রত্যাশিদের হয়রানি বন্ধে অভিযান, ৭ জনের কারাদণ্ড

এদিকে, মোটরসাইকেলের সামনের অংশে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজনের সময়সীমা বাড়িয়েছে বিআরটিএ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ নম্বরপ্লেট সংযোজন করা যাবে।

এর আগে এ কাজের জন্য ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলে নম্বরপ্লেট লাগানো সম্ভব হবে না বিবেচনায় সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বিআরটিএ।

সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে মোটরসাইকেলের পেছনে অনুমোদিত আরএফআইডি নম্বরপ্লেটের পাশাপাশি সামনের অংশেও ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট লাগানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এ জন্য ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নম্বরপ্লেট সংযোজনের নির্দেশনা দিয়ে সম্প্রতি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সংস্থাটি। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেল মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতাও দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন: শিক্ষা ব্যবস্থায় মেধাভিত্তিক মূল্যায়নে কাজ করছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা: কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ পি.এম


ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা: কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার আহ্বান

গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ সপ্তাহের ছুটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোটারদের কাছে তার শেষ মুহূর্তের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব হয়। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের রক্ষণাত্মক অবস্থান স্পষ্ট করে ট্রাম্প ফ্লোরিডা, আয়োভা এবং কানসাসে সমাবেশ করেন—যেসব অঙ্গরাজ্যে তিনি পূর্ববর্তী নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন।

জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে ভোটারদের ক্ষোভের মুখে ট্রাম্প সেই উদ্বেগগুলোকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। তিনি ডেমোক্র্যাটদের আক্রমণের দিকে নজর ঘুরিয়ে দিয়ে বলেন যে, ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচিত হলে পরিবারগুলোকে দেউলিয়া করে ছাড়বে।

জনমত জরিপগুলো আভাস দিচ্ছে যে, ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেসের অন্তত আংশিক নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ট্রাম্পের ক্ষমতার ওপর একটি লাগাম হিসেবে কাজ করবে এবং তার প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছরকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প দেশজুড়ে বিরতিহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন; এমনকি একসময় যেসব এলাকা নিরাপদ রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হতো, সেখানেও তিনি যাচ্ছেন।

নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে ট্রাম্প কানসাস, ফ্লোরিডা এবং আয়োভাতে সমাবেশের মাধ্যমে তার দলের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং মিশিগান, ওহাইও ও পেনসিলভেনিয়াসহ বিভিন্ন রাজ্যের প্রার্থীদের জন্য টেলি-সমাবেশে অংশ নেন।

বিগত বছরগুলোতে ট্রাম্প ফ্লোরিডা, আয়োভা ও কানসাসে সহজেই জয়লাভ করেছিলেন; যা একসময় নির্ভরযোগ্যভাবে রিপাবলিকান রাজ্য হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে তার নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনগুলোতে এই রাজ্যগুলোতে প্রেসিডেন্টের সফরই প্রমাণ করে যে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে এই রাজ্যগুলো এখন কতটা প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্প সমর্থকদের বলেন যে তিনি দেশকে বদলে দিয়েছেন। তার দাবি, ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘অন্ধকার যুগে’ রেখে গিয়েছিল। কিন্তু তার নেতৃত্বে আমেরিকা দ্রুত সুবর্ণ যুগে পরিণত হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ট্রাম্প এখন তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন। আট মাসেরও বেশি সময় আগে ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশেষ করে জ্বালানি তেল, নিত্যপণ্য এবং স্বাস্থ্যসেবার দাম বেড়ে গেছে। এই সমাবেশগুলোতে ট্রাম্পের দুটি লক্ষ্য ছিল বলে মনে হয়; এই সমস্যাগুলো থেকে আলোচনার বিষয়বস্তু ঘুরিয়ে দেওয়া এবং ভয় দেখানোর কৌশল ব্যবহার করে রিপাবলিকান ভোট বাড়ানো।

ফ্লোরিডা ও আয়োভার সমাবেশে ট্রাম্প বাণিজ্য ও অভিবাসন সংক্রান্ত তার নীতিগুলো তুলে ধরেন এবং বলেন যে ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতা দেওয়া হলে তারা ‘সীমান্ত খুলে দেবে’, ‘আপনার পরিবারকে দেউলিয়া করবে’, ‘আপনার বন্দুক কেড়ে নেবে’ এবং ‘আপনার সন্তানদের বিকলাঙ্গ করবে’।

তিনি ডেমোক্র্যাটদের আইসিই-এর সমালোচনা করা এবং ট্রান্সজেন্ডার অধিকারের পক্ষে সমর্থন দেওয়ার ভিডিও ক্লিপও প্রদর্শন করেন।

সমাবেশকক্ষে সমর্থকরা করতালি দিলেও, তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী ভোটারদের কাছে ট্রাম্পের এই ধরনের আহ্বানের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কিছু রিপাবলিকানদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা গেছে।

এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ সিনিয়র ডেমোক্র্যাটরা যখন ভোটারদের কাছে শেষ মুহূর্তের আহ্বান জানাচ্ছেন, তখন ডেমোক্র্যাটিক হাউস লিডার হাকিম জেফরিস বলেছেন যে তিনি খুবই আত্মবিশ্বাসী যে তার দল হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ নিতে চলেছে।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির একটি পূর্বাভাস মডেল, যা একাধিক জনমত জরিপ এবং ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি, সেটি আভাস দিচ্ছে যে ডেমোক্র্যাটদের হাউস পাওয়ার সম্ভাবনা ৯৬ ভাগ এবং সিনেট পাওয়ার সম্ভাবনা ৭৬ ভাগ।

এই সপ্তাহে প্রকাশিত এনবিসি নিউজ-এর একটি জাতীয় জরিপ ইঙ্গিত দেয় যে, নিবন্ধিত ভোটাররা ৭ পয়েন্টের ব্যবধানে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস পছন্দ করছেন, যেখানে ডেমোক্র্যাটরা ৫২ ভাগ বনাম ৪৫ ভাগ ভোটে রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

তবে শেষ মুহূর্তের এই প্রচারণার পাশাপাশি এই উইকেন্ডে মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে একটি নাটকীয় মোড় দেখা গেছে; যা বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা একটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন। হ্যালির স্টিভেনস নামে একজন দায়িত্বরত কংগ্রেসওম্যান, যিনি আব্দুল এল-সায়েদের কাছে ডেমোক্র্যাটিক সিনেট মনোনয়ন হারিয়েছিলেন, তিনি গত রবিবার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দিয়েছেন। এই পদক্ষেপটি সহকর্মী ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে ব্যাপক নিন্দার শিকার হলেও রিপাবলিকানদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে। স্বয়ং ট্রাম্প তাকে ‘খুব সাহসী’ বলে অভিহিত করেছেন।

আলাস্কায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচন হচ্ছে, সেখানে রবিবার একজন বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ব্যালটে একই নামের দুজন প্রার্থী থাকার কারণে যদি রিপাবলিকান বর্তমান সিনেটর হেরে যান, তবে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যয়ন করতে বিলম্ব করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই আবেদনটি করা হয়েছিল। নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে ট্রাম্প ও তার প্রশাসন বারবার ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্পের জন্য এই নির্বাচনের বাজি অনেক বেশি, কারণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে একজন প্রেসিডেন্টের পারফরম্যান্সের প্রতি আমেরিকানদের সন্তুষ্টির পরিমাপক হিসেবে দেখা হয়।

বেশিরভাগ মধ্যবর্তী নির্বাচনে হোয়াইট হাউসের দায়িত্বে থাকা দলটি সাধারণত বিরোধী দলের কাছে কংগ্রেসে আসন হারায়; যার অর্থ ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিরই এখানে হারানোর ভয় সবচেয়ে বেশি।

রিপাবলিকানরা বর্তমানে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেট উভয় কক্ষেই সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে, তারা কংগ্রেসে তাদের দলের এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে চায় না। কারণ যেকোনো আসন হারানো মানেই আইন পাস এবং নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হওয়া।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিতে মুখিয়ে আছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তারা ট্রাম্পের এজেন্ডাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে, তার প্রশাসনের ওপর তদন্ত করার ক্ষমতা পাবে এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আমেরিকার জন্য তাদের নিজস্ব রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ পাবে।

সূত্র : বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ দলের অস্থিতিশীলতা সফল হবে না: মাহদী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ দলের অস্থিতিশীলতা সফল হবে না: মাহদী আমিন

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অস্থিতিশীলতা তৈরির যেকোনো পরিকল্পনা সফল হবে না বলে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন।

আজ সোমবার, তিনি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের সূচনা হয়েছিল, যা নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক দিগন্ত উন্মোচন করে। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ও এই শিল্পের বিকাশ ও শ্রমিক কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রমবান্ধব সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাহদী আমিন গার্মেন্টস শিল্পের সাথে লাখ লাখ শ্রমিক ও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি জড়িত উল্লেখ করে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য ও প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতার বিষয় বিবেচনায় রেখে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

তবে, মজুরি নির্ধারণের ইতিবাচক উদ্যোগের পরেও একটি চিহ্নিত মহল গার্মেন্টস শিল্পকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের উসকানি ও নাশকতার মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতনের দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারখানায় আক্রমণ ও আগুন দেওয়া, পুলিশের গাড়ি ও স্থাপনায় হামলার মতো স্পর্শকাতর কর্মকাণ্ড শ্রমিকদের স্বার্থের পরিপন্থী। শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে পলাতক অপশক্তির অস্থিরতা সৃষ্টির তথ্য-প্রমাণ ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে।

তিনি মনে করিয়ে দেন, কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকরাই, বাড়বে বেকারত্ব ও ব্যাহত হবে দেশের অর্থনীতি। তাই একদিকে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের অধিকার যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি সন্ত্রাস, ভাঙচুর ও শিল্প ধ্বংসের কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না।

নাশকতায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।

সাধারণ শ্রমিকদের কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, গুজব বা উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, গার্মেন্টস খাত ও পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা বিবেচনায় যেকোনো যৌক্তিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় শ্রমবান্ধব এ সরকার সবসময় শ্রমিকদের পাশে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সুন্দর দেশ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সুন্দর দেশ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে একটি সুন্দর দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের সরকারের ধারাবাহিকতা পরিহার করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় সরকার।

মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণে রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিকসহ সকল ক্ষেত্রে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে ছাত্র-জনতাকে অগ্রসর হতে হবে।

আজ রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, ২০২৬) উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি যদি প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী ধীরে ধীরে জনগণের সকল চাহিদা পূরণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, একটি জাতির উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি। বর্তমান সরকার এই কাজটি করছে, কিন্তু পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে রেখে গেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আমরা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছি। দেশের বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেসব শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হবে না, তারা কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে প্রযুক্তিভিত্তিক, মেধানির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে চিরাচরিত শিক্ষার বাইরে গিয়ে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও মেধার বিকাশ ঘটানো অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্ভাবনী গবেষণা, আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির চর্চা ও মেধাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের স্বার্থে ও জনগণের কল্যাণে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেও জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা উচিত।

তিনি বলেন, আমাদের মূল নীতি হওয়া উচিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে জনগণ’। দেশ মানে শুধু ভূখণ্ড বা পতাকা নয়, এর পেছনে রয়েছে জনগণের স্বাধিকার ও মালিকানার মেলবন্ধন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, শহীদ নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুসহ অন্যান্য ছাত্রনেতাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐকান্তিক ইচ্ছায় ১৯৯৫ সালে এই প্রতিষ্ঠানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের মেয়াদে ২০০৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়।

বর্তমান ক্যাম্পাস ছাড়াও কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমির ওপর স্বতন্ত্র ও আধুনিক আবাসিক সুবিধা সংবলিত নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিদাওয়া পূরণের বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানান।

শিক্ষাব্যবস্থা ও উচ্চশিক্ষা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটি জাতি শুধুমাত্র সনদ বা জিপিএ-৫ অর্জনের মাধ্যমে উন্নত হতে পারে না। এর জন্য গুণগত পরিবর্তন ও গবেষণামুখী শিক্ষা অপরিহার্য। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল কর্মসংস্থানের জন্য নয়, বরং মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও উচ্চতর গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা উচিত।

কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে কেবল সাধারণ শিক্ষায় উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে বেকার না থেকে, আধুনিক বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।

সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তি-নির্ভর আধুনিক অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সনাতনী ব্যবস্থার পাশাপাশি ইনোভেটিভ আইডিয়া, প্রযুক্তি-নির্ভর জ্ঞান ও মেধানির্ভর জনবল সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও দেশপ্রেমকে ধারণ করে জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু ও মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, ২০২৬ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ র‌্যালি, চারুকলা প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


স্বাস্থ্যমন্ত্রীর রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রক্তের অভাবে মানুষের মৃত্যু রোধে পর্যাপ্ত রক্তের মজুত নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি মরণোত্তর চক্ষুদান কার্যক্রমকে জোরদার করার পাশাপাশি কর্নিয়া সংগ্রহে দেশকে স্বাবলম্বী করার গুরুত্বও তুলে ধরেন।

আজ জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে অনুষ্ঠিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "শুধু সেমিনার আয়োজন করে রক্তদান কর্মসূচির গতি বাড়ানো সম্ভব নয়। এ জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। চিকিৎসকদের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "মানুষকে বোঝাতে হবে, রক্তদান করলে দাতার শারীরিক ক্ষতি হয় না, বরং এক ব্যাগ রক্ত একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।"

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে রক্তদানকে মহৎ কাজ হিসেবে উল্লেখ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "একজন মানুষের জীবন বাঁচানো অনেক বড় দান। রক্তদানের মাধ্যমে অন্যের জীবন রক্ষা করা পরকালের জন্যও সওয়াবের কাজ। তাই এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে।"

থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কিত বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "যদি স্বামী-স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, তবে তাদের সন্তানের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়, যা রোগী ও পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তির কারণ। এ কারণে বিয়ের আগে বর-কনের থ্যালাসেমিয়া বাহক কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।"

তিনি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, "থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি রক্তের চাহিদা ও সংকট কমাতেও ভূমিকা রাখবে।"

রক্তের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণা ও কর্মসূচি গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সন্ধানীর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "রক্ত সংগ্রহের জন্য যেসব প্রকল্প ও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে।"

তিনি দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত সন্ধানীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, "সন্ধানী মূলত মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের সংগঠন। রক্ত ও কর্নিয়া সংগ্রহের জাতীয় কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "রক্ত সংগ্রহের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও কর্নিয়া সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে। দেশের বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় কর্নিয়া সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।"

ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, "ভবিষ্যতে রক্ত কিংবা কর্নিয়ার জন্য যেন অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভর করতে না হয়, সে লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।"

বিএমইউ ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, "২ নভেম্বরকে জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস হিসেবে ঘোষণার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা।"

তিনি আরও বলেন, "রক্তদানের বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও আগ্রহ বাড়লেও মরণোত্তর চক্ষুদানের ক্ষেত্রে এখনো কাঙ্ক্ষিত সচেতনতা তৈরি হয়নি।"

তিনি উল্লেখ করেন, "ধর্মীয় ও সামাজিক নানা ভুল ধারণা ও কুসংস্কারের কারণে অনেকে মরণোত্তর চক্ষুদানে আগ্রহী হন না। এ বিষয়ে গ্রামগঞ্জের মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম শাকিল, সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ফজলুল হক কাশেম, মহাসচিব ও উদযাপন উপকমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির হোসেন।

দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।

র‌্যালিটি বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের নিচতলার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

এতে অংশগ্রহণকারীরা রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%