০১:৪৮ এম
রাজধানীর পল্লবী থানায় করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তা কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও দেবাশীষ নারায়ণ পালকে (৪৭) সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংস উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এই আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ চার দিনের রিমান্ড শেষে দুই আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আরও পড়ুন: ফুটপাত পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, ছাত্রলীগ নেতা তানভীর গ্রেফতার
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামিদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। রিমান্ডে তাদের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাদের ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করার জন্য আরও রিমান্ড চাওয়া হবে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের জেলহাজতে রাখা আবশ্যক।
এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাওসার আহমেদ জামিনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু ও মো. মশিউর রহমান জামিনের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত তাদের চার দিনের রিমান্ড নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর আগে, ১১ অক্টোবর রাতে পল্লবী জোনাল টিমের একটি দল অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাসা থেকে লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত আড়াইটার দিকে বনানীর বাসা থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা রাজধানীর পল্লবীতে কাজী গুলশান আরার বাসায় অবস্থান করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টার্স আলফা ১’ এবং ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থেকে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ ও সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করতেন। এছাড়া, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার অ্যান্ড পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে সাত, হাসপাতালে ভর্তি ১,৩৭৩ জন
‘আজকাল ডটকম’ নামে একটি পেজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট প্রচার করা হতো। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজী গুলশান আরার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রচার ও পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে আনুগত্য প্রকাশ করেন কাজী গুলশান আরা। পরে সহযোগীদের নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টকশোতে সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও অবজ্ঞা ছড়ানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আসামিরা সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গুপ্তচরের যোগাযোগ রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব ঘটনায় দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা, সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইনে পল্লবী থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আলী আকবার মামলা করেন।
আরও পড়ুন: গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চাওয়া আঁখির পাশে প্রধানমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন