মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৩২ পি.এম
বাংলাদেশের অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ নিয়ে সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি (আইওসি) এর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে, অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬-এর ডাটা সেলস প্যাকেজ সহজলভ্য করা হয়েছে।
এছাড়া, বিড দাখিলের সময়সীমা ৩০ নভেম্বর ২০২৬ থেকে বাড়িয়ে ৩১ মার্চ ২০২৭ করা হয়েছে।
এই সময় বৃদ্ধি এবং ডাটা প্যাকেজের সহজলভ্যতা আইওসি কোম্পানিগুলোর বিডিং রাউন্ডে অংশগ্রহণের আগ্রহ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মুহাম্মদ আরিফ সাদেক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা জনরোষ একটি অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের বিতর্কিত প্রক্রিয়াটি বাতিলের দাবি এই অসন্তোষের সর্বশেষ প্রকাশ।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তালিকা থেকে ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে দিল্লিতে প্রতিদিন বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর ফলে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত শুক্রবার থেকে দিল্লি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। শহরটি ব্যারিকেড, রাস্তা বন্ধ এবং আধা-সামরিক বাহিনীর টহলের কারণে এক সামরিক এলাকায় পরিণত হয়েছে।
শনিবার ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে বিক্ষোভের আগে কর্তৃপক্ষ ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করে। দিল্লিতে আসা ২৪৫টি ট্রেন বাতিল করা হয়, ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়, শহরের প্রাণকেন্দ্রে ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং অনেক আন্দোলনকারীকে গৃহবন্দি করা হয়।
শনিবার দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই ‘ককরোচ পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতাদের এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়। বিরোধী দলের নেতাদের বিভিন্ন থানায় আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করা হচ্ছে, তাদের মারধর করা হচ্ছে এবং রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এমনকি কয়েকজন সাংবাদিককেও আটক করা হয়েছে। আটকদের আইনি সহায়তা দিতে আসা সুপ্রিমকোর্টের এক আইনজীবীকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায় এবং এ সময় তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়।
এ দমন-পীড়ন মুম্বাই পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীকে একটি স্থানীয় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে যায়। সোমবার দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল হিসাবে বাতিল ঘোষণা করে এবং এর পরিবর্তে তিনটি বিকল্প স্থানের সুপারিশ করে।
শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক হন রাজনৈতিক কর্মী যোগেন্দ্র যাদব। দমন-পীড়ন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমি চার দশক ধরে জনজীবনে ও রাজনীতির অঙ্গনে আছি। কিন্তু কোনো বিক্ষোভের জন্য এমন প্রস্তুতি আগে কখনো দেখিনি। কল্পনার সব সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া এক অসাধারণ ঘটনা ছিল এটি।’ তিনি এটিকে ‘রাষ্ট্রের সৃষ্ট আতঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তা সত্ত্বেও দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী উপেক্ষা করেই ছোট ছোট দল আকস্মিক বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ দমনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে এবার রাজধানীতে দমন-পীড়নের ব্যাপকতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ভারত-শাসিত কাশ্মীরে কেন্দ্রীয় সরকারের দমন-পীড়ন অবশ্য অনেক বেশি কঠোর ছিল—বিশেষ করে ২০১৯ সালে। তখন ৩৭০ ধারা বাতিলের পর সেখানে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের এ কঠোরতা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য উচ্চ রাজনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টিই তুলে ধরে। কারণ, সরকার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে ক্রমবর্ধমান প্রতিরোধের মুখে পড়েছে; নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানিয়েছেন যে, সউদী আরবকে সম্ভাব্য সামরিক সহায়তাসহ সকল ধরনের সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে, হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলার প্রেক্ষাপটে।
ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, মিশর সউদী আরবকে কোনো সামরিক সহায়তা দেবে কি না। তিনি তার জবাবে বলেন, "সউদী আরবের পক্ষ থেকে যা-ই চাওয়া হোক না কেন, আমরা অবশ্যই তাতে সাড়া দেব।"
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সম্মেলনের উপলক্ষে ব্যাংককে অবস্থানকালে, তিনি আনাদোলু সংস্থাকে আরও জানান, "কোনো দ্বিধাবোধ ছাড়াই আমরা সব ধরণের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।"
ইন্টারভিউ চলাকালীন, আবদেলাত্তি আরও প্রকাশ করেন যে, মিশর ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটে’ যোগ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, "বিষয়টি মিশরীয় পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনাধীন রয়েছে।"
এই বার্তা মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এসেছে, যখন সউদী আরবের ওপর হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সউদী আরামকো ২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাস বিক্রি ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি করার লক্ষ্য গ্রহণ করেছে, যা ২০২০-২০২১ সালের তুলনার ভিত্তিতে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে ছয় থেকে সাতটি গ্যাস ও তরলীকৃত গ্যাস (এলপিজি/এনএনজি) কেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনা করছে। এটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি কোম্পানি হিসেবে তাদের কৌশলের অংশ।
মঙ্গলবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত ২৫তম ডব্লিউপিসি এনার্জি কংগ্রেসে আরামকোর গ্যাস বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল করিম আল-গামদি এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সউদী আরব তাদের গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করছে, যা ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং জ্বালানি খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ভূমিকা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
আল-গামদি সউদী আরবের তেল উৎপাদন কেন্দ্র ও রপ্তানি অবকাঠামোর ভৌগোলিক বিস্তারের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই বৈচিত্র্যময় অবকাঠামো দেশের বিপর্যয় বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির দ্রুত এবং কার্যকর মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তিনি সউদী আরবের বিশাল গ্যাস নেটওয়ার্কের কথা উল্লেখ করেন, যা ‘মাস্টার গ্যাস সিস্টেম’ অন্তর্ভুক্ত করে এবং দেশের পূর্ব থেকে পশ্চিমে হাজার হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত।
আল-গামদি জানান, আরামকোর প্রয়োজনীয় উপকরণের ৯০ শতাংশেরও বেশি স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সংঘাত ও প্রতিকূলতার মধ্যে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তিনি অভ্যন্তরীণ সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যা সংকটের সময়ে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে।
আরামকো অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য শোধনাগার ও পাইপলাইন নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন প্রধান সুবিধাসমূহে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর নির্ভর করছে। আল-গামদির মতে, জ্বালানি খাতের স্থায়িত্ব বা সহনশীলতা সংকট ঘটার পর প্রতিক্রিয়া জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর জন্য প্রয়োজন সম্ভাব্য অনভিপ্রেত পরিস্থিতি আগে থেকে অনুধাবন করা এবং কার্যক্রম সচল রাখতে নিশ্চিত করা।
তিনি আরও যোগ করেন, কেন্দ্রগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে, অপারেশনাল ঝুঁকি কমাতে এবং যেকোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আরামকো সমন্বিত পরিচালনা পদ্ধতি, সংযুক্ত সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আধুনিক ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রকাশ্যে টাকা তোলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (সোশ্যাল মিডিয়া) ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। টাকা তোলার এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন তথ্য সংগ্রহকারী তালিকার ৯ নম্বরে থাকা মো. আলামিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রকাশ্যে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন আলামিন। ভিডিওতে টাকা লেনদেনের দৃশ্য ফুটে উঠলে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে এ ঘটনার বিচার ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সমবায় অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ধনপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান,
এদিকে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলামিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এক প্রকার স্বীকার করেন।
ঘটনাটির বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সখিনা আক্তারের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি ইতোমধ্যে অবগত হয়েছেন এবং লিখিত অভিযোগপত্রটি হাতে পেয়েছেন।
ইউএনও মিজ সখিনা আক্তার আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন সংক্রান্ত উপজেলা কমিটিকে ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ